সমুদ্রপথে নাবিক ও জাহাজিদের দিকনির্দেশনার জন্য জিপিএসের বিকল্প হিসেবে এক নতুন প্রযুক্তি তৈরির কাজ করছে নৌবাহিনী। নতুন এ প্রযুক্তির নাম কসমিক রে মিউয়ন। সম্প্রতি এ বিষয়ে অফিস অব নেভাল রিসার্চ (ওএনআর) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, কসমিক রে মিউয়ন বিকিরণের প্রাকৃতিক উৎস। এ আলোকরশ্মি পাথর, বাড়ি ও মাটি ভেদ করেও বিকিরণে সক্ষম। পৃথিবীর সর্বোত্তরে সুমেরু বৃত্তে যেখানে জিপিএস অকার্যকর, মিউয়ন সেখানেও উপযোগী।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওএনআর ও মার্কিন আর্মি ডেভেলপমেন্ট কমান্ড যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল গঠন করে। গবেষণার বিষয় জিপিএসের বিকল্প হিসেবে মিউয়নের ব্যবহার। এর জন্য নয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গবেষণাটি সফল হলে তা সেনাবাহিনীর জন্য যুগান্তকারী আবিষ্কার হবে।
এ বিষয়ে ওএনআর গ্লোবাল সায়েন্স মিউয়ন গবেষণার প্রধান পরিচালক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করবে। আগামীতে সে পথে সামরিক ও বাণিজ্যিক অভিযানের জন্য পথনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। এ গবেষণায় কসমিক আপেক্ষিক কণা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভূপৃষ্ঠকে ক্রমাগত আঘাত করে। ফলে পথনির্দেশনা সহজ হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। অন্যদিকে উচ্চ অক্ষাংশে জিপিএস কাজ করে না।
ন্যাশনাল ডিফেন্স ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ ও উড়োজাহাজ পরিচালনা, বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন কাজে জিপিএস ব্যবহার করে সেনাবাহিনী। তবে জ্যামার ও স্পুফার দিয়ে খুব সহজেই জিপিএস সিগন্যালকে প্রভাবিত করা সম্ভব।
গত বছর নেচার সাময়িকীতে মিউয়ন সম্পর্কে গবেষকদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। তারা বলেন, কসমিক রে মিউয়ন সর্বজনীন ও সর্বত্র বিদ্যমান। এর সর্বজনীনতা ও আপেক্ষিকতা বিচারে মাটির নিচে এমনকি সমুদ্রের গভীরেও যথাযথভাবে গ্রাহক ডিটেক্টর স্থাপন করা সম্ভব।
নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠিত মিউয়ন গবেষণা দলের প্রধান ডা. ক্রিস স্টির জানিয়েছেন, ইকোলোকেশনের (শব্দতরঙ্গ দিয়ে বস্তুর অবস্থান নির্ণয়) মতো ডিটেক্টর থেকে ডিটেক্টরে উিক্ষপ্ত মিউয়ন সিগন্যালের সময়ের ব্যবধান ব্যবহারকারীকে এক-দুই ডিটেক্টরের দূরত্ব বলে দেবে।
এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে গবেষকরা একটি সুবৃহৎ পানির ট্যাংকে এ পদ্ধতির প্রয়োগ করেছে। ওএনআরের বিবৃতি অনুযায়ী, এরপর ফিনল্যান্ডে বরফ আবৃত উত্তর মেরুর একটি হ্রদে এ পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ওএনআর জানায়, প্রচলিত জিপিএসের কাক্ষিক বাধার কারণে এ রকম অক্ষাংশে কাজ করে না জিপিএস।










