তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান গ্লোবান্টে হামলার মাধ্যমে ৭০ জিবির বেশি তথ্য হাতিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে ল্যাপসাস হ্যাকার গ্রুপ। বিশ্বের বেশকিছু প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম ক্লায়েন্ট। খবর গ্যাজেটস নাউ।

চুরিকৃত তথ্যের বিষয়ে ল্যাপসাস যে স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কেবল নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সি-স্প্যান, ফ্রেঞ্চ ব্যাংক বিএনপি পারিবাসসহ বেশকিছু বৈশ্বিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম দেখা গেছে। এছাড়া তালিকায় মেটা ও অ্যাপলের নামও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে অ্যাপল হেলথ অ্যাপের নামসংক্রান্ত একটি ফোল্ডারেরও সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দ্য ভার্জের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।

হ্যাকারদের হামলার বিষয়টি স্বীকার করে এক বিবৃতিতে গ্লোবান্ট জানায়, সম্প্রতি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত কোডে অনধিকার প্রবেশের বিষয়ে জানতে পেরেছি। তথ্য পাওয়ার পর পরই আমরা আমাদের নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু করে দিয়েছি এবং সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছি।

বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, বর্তমান তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জানতে পেরেছি হ্যাকাররা যেসব তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে, সেগুলো সীমিত কিছু সোর্স কোড এবং অল্প কিছু গ্রাহকের প্রকল্পসংক্রান্ত নথি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো কিছুর সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা আমাদের অন্যান্য অবকাঠামো ব্যবস্থা অথবা আমাদের গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিকর।

টেলিগ্রামে চুরিকৃত তথ্যসংবলিত টরেন্ট লিংক শেয়ারের মাধ্যমে ল্যাপসাস গ্রুপ এক বার্তায় ছুটি শেষে কার্যক্রমে ফিরে আসার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে। কার্যক্রমে ফিরে আসার বিষয়ে তাদের ঘোষণা সত্যি হলে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে আটক সন্দেহভাজন সাত সদস্যের ঘটনাকে অসত্য প্রমাণ করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আটলান্টিকের অন্য প্রান্তে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোয় ল্যাপসাস গ্রুপের হামলার বিষয়ে তদন্ত করছে। ল্যাপসাস গ্যাংটি বিশ্বের অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠানে হামলা পরিচালনায় সক্ষম হয়েছে। এর আগে হ্যাকার গ্রুপটি এনভিডিয়া, স্যামসাং, মাইক্রোসফট ও ভোডাফোনের মতো প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজে প্রবেশের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।