অনুমতি ছাড়া তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন টুইটার প্রধান ইলোন মাস্ক। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘টুইটারের তথ্য ব্যবহার করে তারা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছে।’ খবর বিবিসি।
অন্যদিকে বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম থেকে টুইটারকে সরিয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছিল মাইক্রোসফট। এর প্রতিক্রিয়ায় ইলোন মাস্ক এ হুমকি দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি, এমনকি নিজের দাবি সমর্থনে কোনো প্রমাণ দেননি।
এক বিজ্ঞপ্তিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, ২৫ এপ্রিল থেকে তাদের বিজ্ঞাপনী প্লাটফর্মে টুইটার আর সমর্থন করবে না। এর ফলে বিজ্ঞাপন ক্রেতারা আর মাইক্রোসফটের সোশ্যাল ম্যানেজমেন্ট টুলের মাধ্যমে নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। মাইক্রোসফট জানায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও লিংকডইনের মতো অন্যান্য সামাজিক প্লাটফর্ম এখনো পাওয়া যাবে।
আলাদা এক টুইটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির তথ্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মাস্ক বলেন, ‘তিনি সব ধরনের আইডিয়া গ্রহণে প্রস্তুত। তবে তিনি বলেন, টুইটারের ডাটাবেজে প্রবেশ করে তথ্য হাতিয়ে নেয়া, মনিটাইজেশন বন্ধ কের দেয়া ও অন্যদের কাছে তথ্য বিক্রি করে দেয়া জয় পাওয়ার মতো কোনো সমাধান নয়।’
ফেব্রুয়ারিতে নিজস্ব প্লাটফর্মে কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যর জন্য আর্থিক ফি নিতে শুরু করে টুইটার। মাসে ১০০ ডলার দেয়ার মাধ্যমে এ পরিষেবার ব্যাসিক ভার্সন শুরু হয়। মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটির তথ্যানুযায়ী, এ তথ্য ব্যবহারকারীকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের উপস্থিতির প্রতিটি দিক পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের সুবিধা দেয়।
২০২২ সালের অক্টোবরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার পর থেকে কোম্পানির কর্মশক্তির প্রায় ৮০ শতাংশ ছাঁটাই করেছেন বর্তমান নির্বাহী মাস্ক। এর পাশাপাশি কোম্পানির আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নীল রঙের টিক চিহ্নের জন্য আর্থিক ফি চার্জ করার মতো বেশকিছু পদক্ষেপ নেন তিনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের মতো বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি সামাজিক সাইটটির কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর ফলে প্লাটফর্মটিতে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নভেম্বরে মাস্ক বলেন, ‘টুইটার নিজের আর্থিক আয়ে “বিশাল’’ পতন দেখেছে। আর বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ দেয়ার জন্য অধিকারকর্মীদের দায়ী করেন তিনি। গত সপ্তাহে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে মাস্ক বলেন, ‘তিনি যখন টুইটারের দায়িত্ব নেন, তখন মাত্র কয়েক মাস টিকে থাকার মতো পরিস্থিতিতে ছিল এটি।’
তিনি আরো বলেন, প্রায় সব বিজ্ঞাপনদাতাই টুইটারে ফিরে এসেছেন বা ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। মাস্ক আরো যোগ করেন, ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে লাভের মুখ দেখতে পারে টুইটার। আর উপযুক্ত ব্যক্তি পেলে তিনি এটি বিক্রি করতেও ইচ্ছুক বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।










