কভিড-১৯-এর সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধে চীন সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেটি সার্বিক উৎপাদন ও সরবরাহে বাধা দেবে। ফলে চলতি বছর ভারতে কম্পিউটার বিক্রি কমতে পারে। ক্যানালিসের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর আইএএনএস।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতের কম্পিউটার বাজার ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ডেস্কটপ, নোটবুক ও ট্যাবলেট ডিভাইস বিক্রির পরিমাণ ১ কোটি ৮৬ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে। ক্যানালিস জানায়, ২০২১ সালে দেশটির কম্পিউটার বাজার অগ্রসর হলেও ২০২২ সালে তেমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

রিসার্চ অ্যানালিস্ট জাশ শাহ বলেন, ভোক্তাবাজারে বিশেষ করে নোটবুক ও ট্যাবলেট খাতে আমরা বড় ধরনের সংশোধন দেখতে পাব। তবে মাঝারি, ক্ষুদ্র ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিভাইস কেনার বিপুল চাহিদা আসবে বলেও জানা গেছে। কেননা বর্তমানে দেশটিতে কভিড-১৯ সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। পাশাপাশি ভ্যাকসিন গ্রহণের হারও বাড়ছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুল-কলেজ তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

জাশ শাহ আরো বলেন, এ সময় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি চাহিদা পূরণে কম্পিউটার উৎপাদন অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি কভিড-পরবর্তী সময়ে অফিসে ফেরত আসা ও হাইব্রিড কার্যক্রমের জন্য ডিভাইস পরিবর্তন বা আপডেটের বিষয়টিও মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। কম্পিউটার বাজারে সংকটাবস্থা ফিরে আসা শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব বিস্তার করবে। পাশাপাশি ২০২১ সালকে একমাত্র সফল বছর হিসাব করলে হবে না। এর সঙ্গে ২০২০ সালও যুক্ত।

২০২০ সালে বিশ্বে কভিড-১৯ মহামারী আঘাত হানলে কম্পিউটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভারত তথা এশিয়ার দেশগুলোয় সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিল। ২০২০ সালে ভারতে কম্পিউটার বিক্রি ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা গোপন চাহিদা তৈরি করেছিল। ২০২১ সালের প্রথমার্ধে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সে চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ কম্পিউটার বিক্রি হয়েছে।

২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ভারতে কম্পিউটার বিক্রি ৫৩ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এ সময় নোটবুক বিক্রির হার ৪০ শতাংশ বেড়ে ৩৩ লাখ ইউনিটে পৌঁছে। অন্যদিকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেড়ে ৭ লাখ ইউনিটে পৌঁছে।