ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো মেটা নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ থেকে কোনো ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করলে মূল কোম্পানি ওই ওয়েবসাইটে নতুন কোড ‘ইনজেক্ট’ করে ব্যবহারকারীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখে বলে অভিযোগ এক গবেষকের। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্য যেকোনো দৃশ্যপটে ব্যবহারকারীদের ওপর নজর রাখার এ কৌশল ‘ম্যালিশিয়াস অ্যাটাক’ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা একটি সাইবার অপরাধ। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপে কোনো লিংকে ক্লিক করলে সাফারি বা ফায়ারফক্সের মতো কোনো ব্রাউজারের বদলে ‘ইন-অ্যাপ ব্রাউজার’-এর একটি ওয়েবপেইজে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যবহারকারীদের। আর ব্যবহারকারীদের অনলাইন গতিবিধির ওপর নজর রাখতে মেটা এ প্রক্রিয়ারই সুযোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাটা গোপনীয়তা-বিষয়ক গবেষক লিক্স ক্রাউস।

তিনি বলেন, যতগুলো ওয়েবসাইট দেখানো হয় তার সবক’টিতেই ট্র্যাকিং কোড ইনজেক্ট করে দেয় ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ, বিজ্ঞাপনী পোস্টের লিংকও আছে এর মধ্যে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখার সুযোগ পায় তারা। প্রতিটি বাটন ও লিংকে ট্যাপ, টেক্সট নির্বাচন, স্ক্রিনশট এবং সব ধরনের ইনপুট; যেমন পাসওয়ার্ড, ঠিকানা এবং ক্রেডিট কার্ড নম্বর পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা থাকে তাদের।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধারে ডাটা গোপনীয়তা নিয়ে গবেষণা ছাড়াও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট টুলও বানান ক্রাউস। ২০১৭ সালে তার নির্মিত একটি ডেভেলপমেন্ট টুল কিনে নিয়েছিল গুগল। ক্রাউসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে মেটা বলেছে, ওয়েবপেইজে ট্র্যাকিং কোড জুড়ে দেয়ার কাজটি ব্যবহারকারীর পছন্দ-অপছন্দ মেনেই করা হচ্ছে এবং সংগৃহীত ডাটা কেবল বিজ্ঞাপন দেখাতেই ব্যবহূত হচ্ছে।

বিবৃতিতে মেটা আরো জানায়, প্লাটফর্মে মানুষের পছন্দ-অপছন্দকে অগ্রাধিকার দিতে আমরা ইচ্ছা করেই কোডটি তৈরি করেছি। বিজ্ঞাপন দেখানোর আগে ডাটা সংগ্রহ করে বিজ্ঞাপন নির্বাচনের সুযোগ করে দেয় কোডটি। কোড ঢুকিয়ে দেয়া হয় যেন আমরা পিক্সেল থেকেই আলোচনার সূত্রপাত করতে পারি। ইন-অ্যাপ ব্রাউজার থেকে কেনাকাটার সময় লেনদেনের তথ্য সেভ করে রাখার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুমতিও নিই আমরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি ব্রাউজার ওয়েবসাইটে যত বাড়তি কমান্ড জুড়ে দেয়, তার তালিকা করতে সক্ষম একটি টুল বানাতে গিয়ে মেটার এ ‘টুল ইনজেকশন’ কৌশল আবিষ্কার করেছেন ক্রাউস। সাধারণ ব্রাউজার এবং বেশির ভাগ অ্যাপে সন্দেহজনক কিছু পায়নি টুলটি। কিন্তু ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ ওয়েবপেইজে ১৮ লাইন কোড জুড়ে দিচ্ছে বলে আবিষ্কার করেছেন ক্রাউস।

কোডের লাইনগুলো প্রথমে ওয়েবসাইটে একটি ক্রস-প্লাটফর্ম ট্র্যাকিং টুলের উপস্থিতি খোঁজে। ওই ট্র্যাকিং টুলটি ইনস্টল করা না থাকলে মেটার নিজস্ব ট্র্যাকিং টুল ‘মেটা পিক্সেল’ ইনস্টল করে নেয়। আর এ ট্র্যাকিং টুল দিয়েই ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীর সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখার সক্ষমতা পায় কোম্পানিটি। কিন্তু ওয়েবপেইজের কোডে পরিবর্তন আনার বিষয়টি ব্যবহারকারীদের কাছে গোপন রাখে মেটা। অবশ্য মেটা নিয়ন্ত্রিত মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের বেলায় এমন কোনো কোড খুঁজে পায়নি ক্রাউসের টুল।