নতুন এক অভিযোগে সম্প্রতি চীনের বিশ্বখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিটিই করপোরেশনকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০১৭ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ইরানে পাচার করার অপরাধের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যে শর্তারোপ করা হয়, তা ভঙ্গের কারণেই তাদের আদালতে তলব করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।

টেক্সাস ফেডারেল আদালতে ৪ মার্চ দায়ের করা  মামলার তথ্য অনুসারে, সম্ভাব্য শর্ত লঙ্ঘন ভিসা জালিয়াতির একটি ‘কথিত’ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গত বছর মার্চে প্রকাশ করা একটি অভিযোগপত্রে নিউ জার্সির সাবেক জিটিই গবেষণা পরিচালক এবং জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একজন অধ্যাপককে জে-১ ভিসা দিয়ে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়; যা জর্জিয়া টেকের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ ও অধ্যয়নের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর চীনা নাগরিকরা নিউ জার্সিতে জিটিইর জন্য কাজ করতে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অধ্যাপক জি-কুং চ্যাং দোষী নন বলে দাবি করেছেন। জিটিইর গবেষণা পরিচালক জিয়ানজুন ইউয়ের অবস্থান অস্পষ্ট। মামলায় জিটিইকে অভিযুক্ত করা হয়নি। 

জর্জিয়ার নর্দান ডিস্ট্রিক্টে মার্কিন অ্যাটর্নির এক মুখপাত্র মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ওয়াশিংটনে মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র তাত্ক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে জিটিইর এক আইনজীবীও এ বিষয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

যদি জিটিই তাদেরকে দেয়া শর্তগুলো লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে এর প্রভাব সুস্পষ্ট নয়। কিন্তু অতীতে জিটিই মার্কিন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য ব্যাপক জরিমানাসহ অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্ত হয়।

২০১৭ সালে টেক্সাসে মার্কিন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জিটিই ৮৯২ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়; কারণ আইন অনুযায়ী ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্রযুক্তি বিক্রির ওপর তখন নিষেধাজ্ঞা ছিল।

পাঁচ বছরের তদন্ত শেষে বলা হয়, জিটিই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটির যন্ত্রাংশ কিনে সেগুলো জিটিই সরঞ্জামে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে অবৈধভাবে ইরানে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করে। তদন্তকারীরা উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের ২৮৩টি চালানের সন্ধান পান।

সে সময় জিটিই তিন বছর সময়কালের শর্ত, একটি কমপ্লায়েন্স প্রোগ্রাম ও একটি করপোরেট মনিটরের জন্য সম্মত হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ জানায়, জিটিই ভুল কাজের সঙ্গে জড়িত নির্বাহীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে এবং জিটিইকে মার্কিন সরবরাহকারীদের সঙ্গে ব্যবসা করা থেকে বিরত রাখতে নিষিদ্ধ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য জিটিই ১ বিলিয়ন ডলার প্রদান, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং পরবর্তী ১০ বছর মনিটরিংয়ের জন্য সম্মত হয়। ফৌজদারি মামলা ও পর্যবেক্ষণ থেকে কোম্পানির সময়সীমা আরো দুই বছরের জন্য পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন টেক্সাসের আদালত।