হ্যাকারদের আক্রমণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে প্রযুুক্তি জায়ান্ট গুগলের ক্লাউড সেবা। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ের জন্য দুর্বল ক্লাউড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে হ্যাকাররা। এ কারণে ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর ইটি টেলিকম।
ব্যবহারকারীরা যেন সহজে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন, সেজন্য গুগল ক্লাউড পরিষেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক অ্যাকশন টিম (জিসিএটি) মাইনিংয়ের জন্য ক্লাউড অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ করেছে ও সতর্কবার্তা দিয়েছে।
ক্রিপ্টো মাইনিং হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রিপ্টোগ্রাফিক পাজল সমাধানের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি আয় করা। এখানে ডাটা ব্লক যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্লকচেইনে লেনদেনের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে। লেম্যানের সংজ্ঞানুযায়ী, ক্রিপ্টো মাইনিং মানে কাজ শেষ করার পুরস্কার হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ করা।
মাইনিং-সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে গুগল জানায়, সম্প্রতি তাদের ক্লাউড সার্ভারে যে ৫০টি আক্রমণ হয়েছে, তার ৮০ শতাংশই ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য পরিচালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, হ্যাকাররা দুর্বল ক্লাউড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রিপ্টো মাইনিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সম্প্রতি ক্লাউড প্লাটফর্মে আক্রমণের শিকার ৫০টির বেশি অ্যাকাউন্ট মাইনিংয়ে ব্যবহূত হয়েছে। অর্থ আদায় বা আয়ের জন্য ক্লাউডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। এ কার্যক্রমে হ্যাকাররা সাধারণত সিপিইউ/জিপিইউর তথ্য ব্যবহার করে থাকে।
প্রতিবেদনে গুগল আরো জানায়, ক্লাউড প্লাটফর্মে যেসব অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে বা দুর্বল দিক খুঁজে পেতে ১০ শতাংশ ও ৮ শতাংশ অন্যদের আক্রমণে পরিচালিত হয়েছে। এক ব্লগপোস্টে গুগল জানায়, ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহারের সময় গ্রাহকরা যখন হুমকির মুখে পড়েন, তখনই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হ্যাকাররা আক্রমণের সুযোগ পেয়ে থাকে।
গুগলের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক অ্যাকশন টিম (জিসিএটি) জানায়, অনেক আক্রমণের পেছনে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল। মাইনিংয়ের পাশাপাশি প্লাটফর্মের অন্য দুর্বল দিক খুঁজে পেতেও হ্যাকাররা তাদের চেষ্টা চালিয়েছে। ক্লাউড প্লাটফর্মের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা থার্ড পার্টি সফটওয়্যারের ব্যবহার আক্রমণকে সহজ করে দিয়েছে।
আক্রমণের গতির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গুগলের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দুর্বল অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে হ্যাকাররা মাত্র ২২ সেকেন্ডে মাইনিং সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পেরেছে। গুগল জানায়, এ ধরনের হামলা পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত ও এটি নিয়ন্ত্রণে কোনো হিউম্যান কমান্ডের প্রয়োজন হয় না। সেই সঙ্গে এটি একবার চালু হয়ে গেলে আর থামানোর উপায় নেই।
অন্যদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গত অক্টোবরে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন। বিনিয়োগ নিষিদ্ধের তালিকায় এ মুদ্রা যুক্ত করেছে দেশটির প্রশাসন। এ মুদ্রার মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি। ভার্চুয়াল মুদ্রা নিষিদ্ধের বিষয়ে চীন জানায়, এটি অর্থ পাচার এবং কালো টাকা বিনিয়োগের সহজ মাধ্যম। এরই মধ্যে দেশটি পরীক্ষামূলকভাবে তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভার্চুয়াল মুদ্রার বাজার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে চীন।










