২০২১ সাল শেষে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ কোটি ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) প্রকাশিত প্রান্তিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর গিজমোচায়না ও আইডিসি।

সরবরাহ সংকট ও বৈশ্বিক চিপ সংকটের মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে আইডিসির কোয়াটারলি সেলফোন ট্র্যাকার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি যেরূপ আশা করেছিল, তৃতীয় প্রান্তিকে তার চেয়েও কম স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। কেননা এ সময় স্মার্টফোন খাত যন্ত্রাংশ সংকটের মুখে পড়েছিল। ফলে উৎপাদনকারীদের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছিল।

প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ সমস্যা অব্যাহত থাকবে। ফলে ২০২২ সালে স্মার্টফোনের বিক্রি বৃদ্ধির বিষয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, তা কমিয়ে ৩ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। আইডিসির তথ্যানুযায়ী ২০২১ সাল শেষে ৭ দশমিক ৪ শতাংশের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটিও কমিয়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে।

আইডিসির মবিলিটি অ্যান্ড কনজিউমার ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেন, স্মার্টফোন বিক্রির হার হ্রাসে আমাদের যে পূর্বাভাস ছিল, তৃতীয় প্রান্তিকে তা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে সরবরাহ সংকট ও পরিচালনগত সমস্যার কারণে বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ফাইভজির পরিবর্তে ফোরজি প্রযুক্তি উপাদাননির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান ফাইভজি স্মার্টফোন উৎপাদন করে, তাদের তুলনায় ফোরজি ডিভাইস উৎপাদনকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আইডিসি জানায়, পরিচালনা ও যন্ত্রাংশ-সংক্রান্ত যে সংকট, তা ধীরে ধীরে কেটে গেলে আগামী পাঁচ বছর স্মার্টফোন বিক্রিতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থাকবে। গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, ফিচারফোন থেকে স্মার্টফোনে স্থানান্তর ও গড় বিক্রি মূল্য কমে গেলে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক ডাটা করপোরেশন আরো জানায়, যন্ত্রাংশের সংকট ফোরজির বাজারে মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান ফোরজি ডিভাইসের মাধ্যমে বাজারে টিকে থাকতে চাইছে, তারা সংকটে পড়বে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠানটি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে।

বছরের শেষ প্রান্তিকে জাপান ও চীন ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্মার্টফোন বিক্রিতে এক অংকের পতন হতে পারে। এছাড়া অপারেটিং সিস্টেমের ভিত্তিতে স্মার্টফোনের দামে পরিবর্তন দেখা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের দাম সর্বোচ্চ ২৬৫ ডলারে ও আইওএস ডিভাইসের মূল্য সর্বোচ্চ ৯৫০ ডলারে পৌঁছবে।

অন্য এক প্রতিবেদনে করোনা মহামারী, চিপ সংকটসহ নানা বিপর্যয় কাটিয়ে চলতি বছর ভারতের স্মার্টফোন বাজার এক অংকের প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের স্মার্টফোন বাজার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ কমেছে। টানা চার মাস প্রবৃদ্ধির মধ্যে থাকলেও তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে মাত্র ৪ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। যদিও এ অবনমনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যন্ত্রাংশ সংকট এবং গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অস্বাভাবিক বাজারকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। চিপস্বল্পতার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উৎসব মৌসুমকে সামনে রেখে ডিভাইস মজুদ করেছিল। কিন্তু এর পরও ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনের বাজার মাত্র ৩ শতাংশ বেড়েছে।