চীনা প্যারেন্ট কোম্পানি বাইটড্যান্সের কাছে মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্য হস্তান্তর করে না টিকটক। সম্প্রতি এমনই আশ্বাস দিয়েছে শর্ট ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটির মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের অবস্থান ট্র্যাক করার পরিকল্পনা করেছিল। শেষ পর্যন্ত প্লাটফর্মটি তথ্য সংগ্রহ করেছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি ফোর্বস। তবে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য বিজ্ঞাপনের মতো সাধারণ বাণিজ্যিক বিষয় ছিল না বলে মনে করে ম্যাগাজিনটি।
অন্যদিকে অভিযোগ স্বীকার না করে সংবাদমাধ্যমটির সততা ও পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিকটক। প্লাটফর্মটি বলছে, মার্কিন সাধারণ নাগরিক, সরকার বা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে কখনো অ্যাপটি ব্যবহার হয়নি। টিকটক অবস্থান ও পদবি নির্বিশেষে সবাইকে একই অভিজ্ঞতা দিতে চায়। তবে কেউ যদি টিকটকে কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়মিত দেখে থাকে তা তাদের আগ্রহ, সার্চ হিস্ট্রি ও অন্যান্য অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে।
টিকটক জোর দিয়ে বলে, মার্কিন ব্যবহারকারীদের লোকেশন ট্র্যাক বা অবস্থান অনুসরণের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। ব্যবহারকারীদের জিপিএস ট্র্যাক করে না তারা। এ কারণে তাদের পক্ষে কোনো মার্কিন নাগরিকের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ সম্ভব নয়।
ফোর্বসও নিজেদের প্রতিবেদন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, তাদের সূত্রগুলো পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত। টিকটকের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে জানিয়ে ফোর্বস জানায়, ২০২০ সালে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে অ্যাপটির আমেরিকান ইউনিট বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত তা না করে চীনে স্থানান্তর করেছে।
টিকটক নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগ এই প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করেন, টিকটক ব্যবহারকারীদের সব তথ্য শেষ পর্যন্ত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হাতে গিয়ে পড়তে পারে। অবশ্য টিকটক শুরু থেকেই বলে আসছে, ব্যবহারকারীর কাছ থেকে যেসব তথ্য তারা সংগ্রহ করে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ইউরোপসহ কয়েকটি দেশে টিকটকের নীতিনির্ধারণ-বিষয়ক প্রধান থিও বেরট্রাম বলেছেন, ব্যবহারকারীরা চীনা কমিউনিস্ট সরকারের আঙুলের নিচে চলে যাবে, এ ধারণা ভুল।










