টুইটারের ভেরিফিকেশন নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে। অর্থের বিনিময়ে ব্লু টিক দেয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্রমেই বাড়ছে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঘটনা। ফলে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। এভাবে চলতে থাকলে প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো টুইটার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেবে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
গত ২০ এপ্রিল টুইটার নতুন নীতিমালা কার্যকর করে। ব্লু টিক নীতি অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টের পাশে ভ্যারিফিকেশন চিহ্ন পাওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণে ফি দিতে হবে ব্যবহারকারীকে। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্ররা। প্রতিবেদন বলছে, সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড করে মিথ্যা ও ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করছে একদল প্রতারক। উদ্বিগ্ন প্রতিষ্ঠানের অনেকেই সত্যিকার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে এরই মধ্যে। তাদের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ), এটি অ্যান্ড টি ইনকরপোরেশন ও ফক্সওয়াগনের নাম।
মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্কের টুইটার অধিগ্রহণের পরই বিপুল হারে কমে যেতে থাকে বিজ্ঞাপন। যদিও গত মাসে তিনি দাবি করেছিলেন, অধিকাংশ বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান ফিরে এসেছে। তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি এত সহজে আগের অবস্থায় ফিরবে না। ইনসাইডার ইনটেলিজেন্সের প্রধান বিশ্লেষক জেসমিন এনবার্গ বলেন, টুইটারের ব্লু টিক নীতিমালা ছিল যাচ্ছেতাই। যেসব প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন, সিদ্ধান্তটি তাদের ফেলে দিয়েছে বিশৃঙ্খলা ও দ্বিধার মধ্যে। তারা নিশ্চয়ই এমন কোনো প্লাটফর্মে থাকবে না, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
২০২২ সালের অক্টোবরে টুইটার অধিগ্রহণ করেন টেসলা প্রধান ইলোন মাস্ক। পরেই দ্রুত পরিবর্তন আসে পরিষেবায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টুইটারে বিজ্ঞাপন দেয়া নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। ব্লু টিক সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত অনেক প্রতিষ্ঠানকেই প্ররোচিত করেছে প্লাটফর্মটি ত্যাগ করতে। সম্প্রতি একটা ফেইক অ্যাকাউন্ট ‘ডিজনি জুনিয়ার ইউকে’ হয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিল।
ব্লু টিকও বাগিয়ে নিয়েছিল সহজে। ওয়াল্ট ডিজনি পরবর্তী সময়ে টুইটারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ও অ্যাকাউন্টটিকে সাসপেন্ড করা হয়। তার মধ্যে টুইটারের গৃহীত নতুন পদক্ষেপ তৈরি করেছে বাড়তি দ্বিধা। গত ২২ এপ্রিল হাই প্রোফাইল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ব্লু টিক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১১০টি প্রতিষ্ঠান ব্লু টিক পেয়েছে তখন। স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে ধাঁধা, কে কোন বিবেচনায় ব্লু টিক পাচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মাস্ক বা টুইটারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। জাল অ্যাকাউন্টের কারণে কোম্পানিগুলোর জন্য তৈরি হয়েছে পরিচয় ঝুঁকি।










