গত বছর ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য ছিল জয়জয়কার বছর। যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যেসব ব্যক্তি ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয় করেছেন, তাদের অর্ধেকের জন্য ছিল এটা প্রথম ডিজিটাল অ্যাসেট ক্রয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ জেমিনির সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর বেশ ভালো গেলেও নতুন বছর ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য অপয়া হিসেবে দেখা দিয়েছে। টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লোকসান হয়েছে ৬৯৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বেশ কয়েকটি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় লোকসানে পড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ২০ দেশের ৩০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ জেমিনি। জরিপে অংশ নেয়া দেশগুলোর ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিকদের প্রায় অর্ধেকই ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গবেষণা বলছে, মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নানা বিচারে ২০২১ ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য ব্লকবাস্টার বছর। বিভিন্ন দেশের জাতীয় মুদ্রার মূল্যহ্রাসের ফলে তৈরি মূল্যস্ফীতি ক্রিপ্টোকারেন্সির দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি গতি যোগ করেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে দেশ হিসেবে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটির যত মানুষ জরিপে অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশের ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিকানা রয়েছে। সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিকদের হার ছিল ২০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ১৮ শতাংশ।

জেমিনির জরিপে বলা হয়, ২০২১ সালে যারা ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনেছেন, তাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ বিষয়টিকে দেখছেন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব দেশে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাতীয় মুদ্রার মূল্য কমেছে, সে দেশগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার কৌশল হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা পাঁচ গুণ বেশি বলে বেরিয়ে এসেছে জরিপে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৪ শতাংশের মত হলো, মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় ভালো কৌশল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একই মত দিয়েছেন ১৬ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে এ হার ১৫ শতাংশ। গেল বছরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম কমেছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় মুদ্রার দাম কমেছে ৫০ শতাংশ।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ইউরোপীয়দের মধ্যে ১৭ শতাংশের মালিকানায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল ২০২১ সালে। আর ভবিষ্যতে কোনো সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন ৭ শতাংশ। তবে ক্রিপ্টোকারেন্সির এ ঊর্ধ্বমুখী জনপ্রিয়তা ২০২২ সালেও বহাল থাকবে কিনা, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

গেল বছরের নভেম্বরেই সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার ডলার দামের মাইলফলক ছুঁয়েছিল বাজারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন। এতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের আকার ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে চলতি বছরে এসে ভাটা পড়েছে বিটকয়েন উন্মাদনায়। ২০২২ সালে ৩৪ হাজার থেকে ৪৪ হাজার ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে বিটকয়েনের দাম।

গত সপ্তাহেই বড় আকারের সাইবার হামলার শিকার হয় অ্যাক্সি ইনফিনিটির রোনিন নেটওয়ার্ক। এতে তাদের ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি বেহাত হয়। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের শিকার হয় ওয়ার্মহোল। এতে তাদের ৩২ কোটি ডলার মূল্যের ১ লাখ ২০ হাজার ইথারিয়াম বেহাত হয়। ইমিউনিফাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাকিং কিংবা প্রতারক চক্রের মাধ্যমে সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ১২৩ কোটি ডলার খুইয়েছে ওয়েবথ্রি ইকোসিস্টেম। ২০২১ সালের একই প্রান্তিকের ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের লোকসানের চেয়ে যা ৬৯৫ শতাংশ বেশি।