সামনের দিনগুলোয় ডিজিটাল মুদ্রানির্ভরতা বাড়বে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সাল নাগাদ বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার ২০ শতাংশ বাড়বে। তবে এতে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগকারীদের উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। বিভিন্ন লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করবে। এছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন নীতিমালার আওতায় আসতে বাধ্য হবে। খবর টেক রিপাবলিক।

কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গার্টনারের বিশ্লেষক অ্যাভাইভাহ লাইটান জানান, বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবে স্ট্যাবলকয়েন্স ও সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সিজ (সিবিডিসি) ব্যবহার করবে।

সিবিডিসি নকটা নতুন কনসেপ্টের ডিজিটাল মুদ্রা। ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এটাও ব্লকচেইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাতে মধ্যস্থতায় কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পড়ে না। সিবিডিসির মান ইচ্ছেমতো বাড়ানো-কমানো যাবে না। বিটকয়েন ও ইথারিয়ামের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির মান যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে বা কমে, সে রকম কোনো সম্ভাবনা নেই সিবিডিসির বেলায়। কারণ এ ডিজিটাল মুদ্রার মান কোনো দেশের স্থানীয় মুদ্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে তা পুরোপুরি ডিজিটাল মুদ্রা।

সিবিডিসি অনেকটা ডিজিটাল ক্যাশের মতো। ধরেন কোন সিবিডিসি মার্কিন ডলারের মান কাগজে ডলারের সমান থাকবে। এটা মার্কিন ডলারের মতো ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এর মালিকানা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্লকচেইনের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে। গার্টনারের ফাইন্যান্স চিফ অব রিসার্চ আলেক্সান্ডার ব্যান্ট জানান, নিত্য পরিবর্তনশীল ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে লেনদেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা শঙ্কায় থাকবে, এটা সহজেই অনুমেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত ডিজিটাল মুদ্রা প্রচলনের ফলে বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও তাতে লেনদেনের সাহস পাবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা হয়তো ক্রিপ্টোকারেন্সি বিপ্লবের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তখনই তা গ্রহণ করবে যখন এটা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে এবং বাজারে এর অস্থিতিশীলতা কমবে।

গার্টনার মনে করছে, ডিজিটাল মুদ্রার ভার্চুয়াল মানে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি তা আরো সহজলভ্য করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তখন হয়তো অনেক প্রতিষ্ঠানকে দেখা যাবে তারা তাদের আংশিক লেনদেন এসব মুদ্রায় পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যৎ বাজারের দিকে তাকিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গার্টনারের সুপারিশ, তারা যেন ধীরে ধীরে ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেনে অভ্যস্ত হয়। এটা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধিতে এবং বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল মুদ্রা পছন্দ করেন কিংবা না করেন, এটাই ভবিষ্যতের শক্তিশালী লেনদেন মাধ্যম হতে যাচ্ছে।

গার্টনারের আলেকজান্ডার ব্যান্ট মনে করেন, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মুখ্য আর্থিক কর্মকর্তা বা সিএফওদের মধ্যে ডিজিটাল মুদ্রা ও ব্লকচেইন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।

২০২৪ সালের মধ্যে ডিজিটাল মুদ্রার বিস্তৃত ব্যবহারে বেশ কয়েকটি ইস্যু প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করে গবেষণা সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার পরিবেশ ও বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত সংকট নিরসনের সহজ ব্যবস্থা। বর্তমানে যেভাবে ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেন হচ্ছে, তাতে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানকে আগামী কাস্টমাইজ ব্লকচেইন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হবে না।

লাইটান বলেন, বৃহৎ ব্যাংক, পেম্যান্ট প্লাটফর্ম, প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল অ্যাসেট তত্ত্বাবধায়ক ও ওয়ালেট প্রোভাইডাররা এরই মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। এতে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যূনতম পরিশ্রমে নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা অ্যাপ্লিকেশন চালু করতে পারবে।