ওয়েব ব্রাউজারে কাজের সুবিধার্থে অনেক ধরনের এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এসব এক্সটেনশনের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলার বিষয় জড়িত থাকে। ২০২২ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের প্রায় ১৩ লাখ ব্যবহারকারী এক্সটেনশন ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এ কথা জানিয়েছেন। খবর আইএএনএস।

২০২১ সালে যে পরিমাণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল চলতি বছর তার পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। রাশিয়ার বহুজাতিক সাইবার নিরাপত্তা ও অ্যান্টিভাইরাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির গবেষকরা সাধারণ এক্সটেনশনের আড়ালে থাকা বিভিন্ন হুমকি এবং সাইবার অপরাধীদের আক্রমণের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন এক্সটেনশনের মধ্যে গুগল ট্রান্সলেটর, পিডিএফ কনভার্টার অথবা যেকোনো ভিডিও ডাউনলোডার এক্সটেনশন যেকোনো ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে বিজ্ঞাপন প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে। কিংবা ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং হিস্ট্রি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি লগইন ক্রেডেনশিয়ালও হাতিয়ে নিতে সক্ষম।

সিনিয়র নিরাপত্তা গবেষক অ্যান্টন ইভানভ বলেন, যেসব ব্রাউজার এক্সটেনশনে ক্ষতিকর পেলোড নেই সেগুলো ব্যবহার করাও ক্ষতিকর। উদাহরণস্বরূপ যখন এসব এক্সটেনশনের কোনো ডেভেলপার ব্যবহারকারীদের সংরক্ষিত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে থাকে, তখন তথ্যগুলো এমন কারো হাতে চলে যায় যাদের এ বিষয়ে জানার কোনো অধিকার নেই বা প্রয়োজন নেই।

ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর যে কাজটি হয়ে থাকে সেটা হলো অ্যাডওয়্যার। অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডিজাইনের মাধ্যমে ডিভাইসের স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন দেখানো। মূলত ব্রাউজারের হিস্ট্রি থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয়ে থাকে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ক্যাসপারস্কির বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান যে প্রায় ৪৩ লাখ ব্যবহারকারী ব্রাউজার এক্সটেনশনের আড়ালে থাকা অ্যাডওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্ত ৭০ শতাংশ ব্যবহারকারী এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। অ্যাডওয়্যার ব্যবহারকারীর সার্চ রেজাল্ট থেকে সবকিছু অনুসরণ করতে পারে এবং পরে সার্চ ইঞ্জিনে অনুমোদিত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সেগুলো প্রচার করে থাকে।

২০২০ সালে গুগল তার ক্রোম ওয়েব স্টোর থেকে ১০৬টি ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন অপসারণ করেছে। সামগ্রিকভাবে এসব ক্ষতিকর এক্সটেনশনগুলো ৩ কোটি ২০ লাখ বারের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে। ফলে বিশ্বের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হুমকির মুখে পড়েছে প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। মূলত থার্ড পার্টি রিসোর্সের কাছ থেকেই ক্ষতিকর এক্সটেনশন বা ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে থাকে।