সফটওয়্যার সেবা খাতে দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম)। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক দশক পূর্ণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) এ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। বিআইটিএম মনে করে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে না পারলে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব। জনশক্তি দক্ষতাসম্পন্ন হলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সহজেই আকৃষ্ট হন। তথ্যপ্রযুক্তিতে মানবসম্পদ তৈরিতে ২০১২ সালে বিআইটিএম প্রথম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৩ সালে ভুটান সরকারের আমন্ত্রণে সেখানে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে।

বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইটিএম) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক তালুকদার মোহাম্মাদ সাব্বির বলেন, তরুণরা আসলে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কাউন্সিলরের অভাব বোধ করেন। সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে তারা অনেক সময় দক্ষতার সঠিক ব্যবহার করতে পারেন না।

তিনি বলেন, বিআইটিএম থেকে আমরা তরুণদের সহযোগিতা করতে চেষ্টা করি। আমাদের কাউন্সিলিং আওয়ারে যে কেউ এসে তাদের ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত পরামর্শ পেতে পারেন। পরামর্শ গ্রহণে আমাদের প্রশিক্ষণার্থী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সফটস্কিলে দক্ষতা অর্জনেও আমরা তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে থাকি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইটিএমের পরিচালক ও বেসিস সভাপতি আলমাস কবীর বলেন, এখান থেকে ট্রেনিং নেয়া শিক্ষার্থীদের ৭১ শতাংশ বর্তমানে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাতে চাকরি করেন বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি আমরা ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা শুরু করেছি। এছাড়া ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটির সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে বিআইটিএম।

বিআইটিএমের পরিচালক ফারহানা এ রহমান বলেন, বিআইটিএম তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এল আইসিটি প্রকল্পের সঙ্গে যৌথভাবে দেশে প্রথমবারের মতো সার্টিফিকেশনের কাজ শুরু করেছে। বিআইটিএম পাবলিকেশনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন থেকে নিয়মিত আইটি ও প্রোগ্রামিং-সংক্রান্ত বই ও জার্নাল বের হবে। ডিপ্লোমা প্রোগাম ও বিশেষ অনলাইন ট্রেনিংও শুরু হবে।