ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউবে জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ প্রচারণা বন্ধে গুগলের কাছে দাবি জানিয়েছে মস্কো। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ভূখণ্ডে প্লাটফর্মটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনাডজর জানায়, প্লাটফর্মে প্রকাশিত বেশকিছু বিজ্ঞাপনে রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে রেলপথ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এটি যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর রাশিয়াবিরোধী অবস্থানের উদাহরণ, সেটিও জানানো হয়। তবে কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সংস্থাটি কিছু জানায়নি।

রসকমনাডজর জানায়, ইউটিউব প্রশাসনের কার্যক্রম আক্রমণাত্মক এবং তা রাশিয়ার অধিবাসীদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সংস্থাটি ক্যাটাগরির মাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন প্রচারের বিরোধিতা করে এবং যত দ্রুত সম্ভব গুগলকে এ ধরনের সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানায়। এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, রাশিয়া সরকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গুগল সম্প্রতি এ রকম একটি বিজ্ঞাপন অপসারণ করেছে। তবে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর ইউটিউব দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একাধিক গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে রাশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদদের ক্রমাগত চাপের মুখে রয়েছে প্লাটফর্মটি।

ইউটিউবের আগে ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা কয়েকটি দেশের ব্যবহারকারীদের রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট দেয়ার সুযোগ দিয়েছিল। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের হেট স্পিচ নীতিমালায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। নামবিহীন সূত্রের বরাত দিয়ে রাশিয়ার গণমাধ্যম আরআইএ ও স্পুটনিক জানায়, চলতি বা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইউটিউবের কার্যক্রমও বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া।

অন্যদিকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিদেশী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কার্যক্রম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। লিখিত বিবৃতিতে তিনি রাশিয়ায় মেটা ও ইউটিউবের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। টেলিগ্রামে এক বার্তায় রাশিয়ার সিকিউরিটি কাউন্সিলের বর্তমান ডেপুটি সেক্রেটারি মেদভেদেভ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচালক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্লাটফর্মে রাশিয়ান সৈন্যদের মৃত্যু কামনা করে পোস্ট দেয়ার সুযোগ দিয়েছে।

দিমিত্রি বলেন, নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরিতে রাশিয়ার প্রয়োজনীয় টুলস ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমা দেশগুলোর যে আধিপত্য তা বেশিদিন না থাকার আভাসও দেন তিনি। মেটা, ইউটিউবসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যদি পুনরায় তাদের কার্যক্রম চালু করতে চায়, তাহলে রাশিয়া ও এর অধিবাসীদের প্রতি তাদের স্বাধীন ও ভালো অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে হবে।

অন্যদিকে ফেসবুকের কার্যক্রম বন্ধের পর রাশিয়ার নিজস্ব প্লাটফর্ম ভিকনটাক্টে নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। ইউক্রেনকে সামরিক শক্তি শূন্য করতে স্পেশাল অপারেশন পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের পর দুই সপ্তাহে তিন লাখের বেশি ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ায় যেদিন ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দেয়া হয়, সেদিন ভিকনটাক্টে তাদের দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছিল।