যৌন সম্পর্কের সময় এক ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে স্থানান্তরিত হওয়া ব্যাকটেরিয়া ফরেনসিক পরীক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে এবং যৌন নিপীড়ক শনাক্ত করতে তা সাহায্য করতে পারে বলে অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বিজ্ঞান সাময়িকী আইসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, অন্ত্রের জীবাণুগুলোর মতোই প্রতিটি ব্যক্তির যৌনাঙ্গের ব্যাকটেরিয়ার গঠন ভিন্ন হয়। গবেষকরা দেখেছেন, যৌন সম্পর্কের সময় এই ব্যাকটেরিয়া সঙ্গীর শরীরে স্থানান্তরিত হয় এবং নির্দিষ্ট জৈবিক স্বাক্ষর রেখে যায়, যা পরে শনাক্ত করা সম্ভব।

গবেষণাটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক, মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ব্রেনডন চ্যাপম্যান বলেন, যৌন মাইক্রোবায়োমকে গবেষকরা ‘সেক্সোম’ নামে অভিহিত করে থাকেন। একজন ব্যক্তির সেক্সোমকে চিহ্নিত করার এই পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে এমন যৌন নিপীড়নের মামলাগুলোতে ব্যবহার করা যেতে পারে যেখানে কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ায় ৯৭ শতাংশ যৌন নিপীড়কই পুরুষ এবং ১৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি পাঁচজন নারীর একজন এই ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

চ্যাপম্যান বলেন, বীর্যপাত যদি না ঘটে অথবা ব্যারিয়ার কন্ট্রাসেপ্টিভ (যেমন কনডম) ব্যবহার করা হয়, কিংবা পুরুষটি ভাসেকটমি (গর্ভনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি) করিয়ে থাকেন, তখন এই পদ্ধতিটি বিকল্পভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকরা ১৬এস আরআরএনএ নামে একটি ব্যাকটেরিয়াল জিনকে চিহ্নিত করেছেন, যা মানুষের শরীরে থাকে না। বিভিন্ন মানুষের শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এর জিনগত বিন্যাস ভিন্ন হয়।

গবেষণার জন্য যৌন সম্পর্কের আগে ও পরে ১২টি একগামী এবং বিষমকামী দম্পতির যৌনাঙ্গের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, যৌন সম্পর্কের পর এক ব্যক্তির ব্যাকটেরিয়ার স্বাক্ষর (ব্যাকটেরিয়াল সিগনেচার) তাদের সঙ্গীর শরীরে শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষকরা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত ব্যাকটেরিয়ার স্বাক্ষর যৌন সম্পর্কের পাঁচ দিন পরেও সঙ্গীর শরীরে রয়ে গিয়েছিল।

গবেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিটি প্রচলিত ডিএনএ বিশ্লেষণের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ দিতে পারে। প্রচলিত ডিএনএ বিশ্লেষণে, যৌন নিপীড়নের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রাণু শনাক্ত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

তবে চ্যাপম্যান বলেন, এই পদ্ধতিটি এখনই আদালতে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ ব্যাকটেরিয়ার স্বতন্ত্র স্বাক্ষর শনাক্তকরণ পদ্ধতি আরো উন্নত করতে হবে। যৌন সম্পর্ক না হলে সেক্সোম কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং এটি নারীদের মাসিক চক্রের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয় সেটা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গবেষকরা।

সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ফরেনসিক জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডেনিস ম্যাকনেভিন বলেছেন, ডিএনএ প্রমাণ অনুপস্থিত বা অপর্যাপ্ত হলে যৌন নিপীড়নের মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণকে সমর্থন বা খণ্ডন করতে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত বিশ্লেষণ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা সবসময়ই অগ্রাধিকার পাবে। ব্যাকটেরিয়াল বিশ্লেষণকে তিনি শেষ অবলম্বন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি বেশি সময় নেবে, ব্যয়বহুল এবং বিশেষায়িত পরীক্ষা।