যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কভিড-১৯-এর উত্পত্তি নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন সুইডেনের জীববিজ্ঞানী উইলসন এডওয়ার্ডস। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিল চীনের একটি নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি ভুল তথ্য প্রচারে ব্যবহূত এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে মেটা। খবর রয়টার্স।

এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, সুইস বিজ্ঞানীর ভুল তথ্যের প্রচারে যে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছিল, তা সফল হয়নি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, তাইওয়ান, হংকং ও তিব্বতের অধিবাসীদের লক্ষ্য করে এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছিল।

গত জুলাইয়ে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সুইস জীববিজ্ঞানী উইলসনের দাবির বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করে। আগস্টে বেইজিংয়ে অবস্থিত সুইডেনের দূতাবাস থেকে বিজ্ঞানীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কোনো তথ্য না পাওয়ায় চীনের সংবাদপত্রগুলো দাবি-সংবলিত আর্টিকেল ও কমেন্ট সরিয়ে ফেলে। মেটা জানায়, গত আগস্টে ফেসবুক উইলসনের অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছে। এর পর থেকে প্লাটফর্মটি তদন্ত সাপেক্ষে এখন পর্যন্ত ৫২৪টি অ্যাকাউন্ট, ২০টি পেজ, চারটি গ্রুপ ও ৮৬টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। পাশাপাশি এসব অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ, পেজে প্রকাশিত কনটেন্টও সরিয়ে দিয়েছে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি।

রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে মেটার গ্লোবাল থ্রেট ডিজরাপশন বিভাগের প্রধান ডেভিড আগ্রানোভিচ বলেন, চীনের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত সিচুয়ান সাইলেন্স ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানির কিছু কর্মীর পাশাপাশি অন্য অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আমরা অপপ্রচারের বিষয়টির মিল পেয়েছি। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও মিলেছে।

এ বিষয়ে সিচুয়ান সাইলেন্স ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারনেট রেগুলেটর সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না কর্তৃপক্ষও তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মেটা জানায়, তারা সিচুয়ান সাইলেন্স ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি ও চীন সরকারের মধ্যে কোনো যোগসূত্রের সন্ধান পায়নি।

ওয়েবসাইটে সাইলেন্স ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি নিজেদের নেটওয়ার্ক ও তথ্যনিরাপত্তা পরিষেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইমারজেন্সি রেসপন্স টেকনিক্যাল টিমকে নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত নিরাপত্তা সেবা দিয়ে থাকে।

গত ২৪ জুলাই উইলসন এডওয়ার্ডসের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, কভিড-১৯-এর উত্পত্তি যাচাইয়ে চীনের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যেসব বিজ্ঞানী কাজ করছেন, তাদের যোগ্যতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহ প্রকাশ করছে এবং তিনি এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন। মেটা জানায়, এডওয়ার্ডের অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারের মাধ্যমে আসল পরিচয় গোপন করেছে। এডওয়ার্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া পোস্টে ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইক দেয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের ২০টি দেশে থাকা চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা এটি ছড়িয়ে দেয় বলেও জানায় মেটা।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেটা জানায়, এই প্রথম আমরা এমন একটি কার্যক্রমের ব্যাপারে জানতে পেরেছি, যেখানে রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের একটি সমন্বিত গোষ্ঠী কর্মরত ছিল। জুলাইয়ে এডওয়ার্ডের দাবি-সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়না ডেইলি, টেলিভিশন নিউজ সার্ভিস সিজিটিএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়ে যে রাজনীতি করতে চেয়েছিল প্রকাশিত সংবাদ ও তথ্য সেটির প্রমাণ।