চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক নোটবুক বিক্রি লক্ষণীয় পরিমাণে কমেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নোটবুক বিক্রি প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে নোটবুক বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের। তাইওয়ানভিত্তিক ডিজিটাইমস রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।
চীনের পূর্বাঞ্চলে লকডাউনের ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে নোটবুক উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং লকডাউনের কারণে চাহিদা কমার ফলে শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোরও নোটবুক উৎপাদন কমে গিয়েছে।
ডিজিটাইমস রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে বৈশ্বিক নোটবুক বিক্রি প্রান্তিকওয়ারি যথাক্রমে ১২ ও ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নোটবুক নির্মাতা ব্র্যান্ডগুলো দ্বিতীয়ার্ধে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিপণনে জোর দেয়ার কারণে এমনটা হবে বলে পূর্বাভাস তাদের।
আসুসটেক কম্পিউটার বাদে শীর্ষ ছয়টি নোটবুক ব্র্যান্ডেরই প্রান্তিকওয়ারি বিক্রি বাড়বে বলে পূর্বাভাস ডিজিটাইমস রিসার্চের। শীর্ষ ব্র্যান্ড হলেও লেনোভোর বিক্রি তুলনামূলক কম থাকবে। তৃতীয় প্রান্তিকে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে এইচপি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি কম হওয়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির অংক বেশি থাকবে। চীনে কভিড লকডাউনের কারণে আইসি-স্বল্পতার কারণে নোটবুক উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমেছে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে এ সংকট থাকছে না বিধায় প্রায় সব ব্র্যান্ডের বিক্রি বাড়বে।
চীনের লকডাউনে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ততটা প্রভাবিত হয়নি ডেলের বিক্রি। তৃতীয় প্রান্তিকে অবশ্য এক অংকের প্রবৃদ্ধি দেখবে মার্কিন কোম্পানিটি। চীনা লকডাউনে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নোটবুক বিক্রিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি অ্যাপল। তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের নোটবুক বিক্রি প্রান্তিকওয়ারি ৪০ শতাংশ বাড়বে। এম২ চিপের তৈরি ম্যাকবুক ও ম্যাকবুক এয়ার উন্মোচনের মাধ্যমে বাজারে শক্তিশালী অবস্থান থাকবে ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক কোম্পানিটির।
শীর্ষ ছয় ব্র্যান্ডের মধ্যে তাইওয়ানভিত্তিক আসুসটেকের বিক্রি দ্বিতীয়ার্ধে কমতে পারে। ইউরোপ ও উদীয়মান বাজারগুলোয় তাদের পণ্য সরবরাহ যথেষ্ট থাকায় নতুন বিক্রি ততটা বাড়বে না। তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাসারের বিক্রিও প্রান্তিকওয়ারি কিছুটা বাড়তে পারে।
গত মাসে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বৈশ্বিক নোটবুক বিক্রি ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা খাতে নোটবুকের চাহিদা কমার ফলে টানা তৃতীয় প্রান্তিক নোটবুক বিক্রি কমেছে। প্রায় সব সেগমেন্টে বিক্রি কমলেও ডেস্কটপ বিক্রি বেড়েছে। গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ডেস্কটপ বিক্রি দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ইউনিটে। ধীরে ধীরে অর্থনীতি চালু হওয়ায় ডেস্কটপ পিসির বাণিজ্যিক চাহিদা বেড়েছে। সার্বিক পিসি বাজারে প্রিমিয়াম বাণিজ্যিক পিসি সেগমেন্ট ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। স্পষ্টত অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালুতে প্রিমিয়াম পিসির চাহিদা বেড়েছে।
ক্যানালিসের বিশ্লেষক এমা সু জানান, চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দুই মাসের বেশি লকডাউনে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্পোৎপাদন ও পিসি রফতানি ব্যাহত হয়েছে। সাংহাই, কুনশান ও জিয়াংশুর কারখানা ও বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রধান পিসি বিক্রেতাদের পণ্য ডেলিভারিতে সমস্যা হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে উৎপাদন ও সমন্বয় স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরলেও পুরো দ্বিতীয় প্রান্তিকের উৎপাদনে তেমন প্রভাব রাখতে পারেনি।










