আইফোন ১৪ নির্মাণের যন্ত্রাংশ চীন থেকে ভারতীয় কারখানায় পাঠানো শুরু করেছে অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বেইজিংয়ের জিরো কভিড নীতির কারণে বিকল্প হাব খুঁজছে ম্যানুফ্যাকচারিং জায়ান্টরা। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের পর পছন্দের গন্তব্য হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ভারত। টেক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন থেকে আইফোন ১৪ তৈরির যন্ত্রাংশ চেন্নাই কারখানায় পাঠানো এবং সেখানে অ্যাসেম্বল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে অ্যাপলের অন্যতম সরবরাহকারী ফক্সকন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চীনের বিকল্প ম্যানুফ্যাকচারিং হাব খোঁজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো কোম্পানির।

চলতি মাসের শুরুতে জাপানভিত্তিক নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েতনামে ২০২৩ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ তৈরি করবে স্যামসাং। নিজেদের শিল্পোৎপাদন খাতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানিটি। ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় থাই এনগুইয়েন প্রদেশে স্যামসাংয়ের ইলেকট্রো-মেকানিকস কারখানায় বল গ্রিড অ্যারে বা বিজিএ হিসেবে পরিচিত চিপ ক্যারিয়ার নির্মাণের পরীক্ষা চলছে। শিগগিরই পুরোদমে উৎপাদনে যাবে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। ভিয়েতনাম কারখানায় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন হবে স্যামসাংয়ের তৃতীয় পণ্য। এর আগে স্মার্টফোন ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদন হয়ে আসছিল স্যামসাংয়ের বৃহত্তম কারখানায়।

২০২২ সালের শুরুতে চীনে চিপ নির্মাণসামগ্রী বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে বেইজিং যেন বিশেষ সুবিধা না পায় সেজন্য এ নীতি গ্রহণ করে ওয়াশিংটন। শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং চীনের কঠোর কভিড পলিসির কারণে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র জরুরি হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইফোন উৎপাদনকাজ চীনের বাইরে নিয়ে যেতে চাচ্ছে অ্যাপল। এক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার ভারত হতে পারে তাদের অন্যতম পছন্দ। অ্যাপলের চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে ভিয়েতনাম ও মেক্সিকোর মতো দেশও।

বিষয়সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছে, ভারতে আইফোন ১৪ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। ভারতে অক্টোবর বা নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম আইফোন ১৪ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রয়টার্সের অনুরোধ সত্ত্বেও তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি মাকিন এ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান। 

গত সপ্তাহে নিক্কেইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারীরা ভিয়েতনামে প্রথমবারের মতো অ্যাপল ওয়াচ ও ম্যাকবুক উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপল ওয়াচ তৈরি শুরু করেছে অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লাক্সশেয়ার প্রিসিজন ইন্ডাস্ট্রি ও ফক্সকন। প্রথমবারের মতো চীনের বাইরে অ্যাপল ওয়াচ তৈরি করল চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয় সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র নিক্কেই এশিয়াকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চীনের বাইরে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আগে থেকেই আস্থা অর্জন করেছে ভিয়েতনাম। এতদিন ভিয়েতনাম কারখানাগুলোয় আইপ্যাড ট্যাবলেট ও এয়ারপড ইয়ারফোন তৈরি হয়ে আসছিল।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাপল ওয়াচ তৈরিতে আরো দক্ষতা ও সতর্কতার দাবি রাখে। কারণ ছোট্ট একটি কেসে অনেকগুলো যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করতে হয়। এমনতর ডিভাইস উৎপাদনের মাধ্যমে ভিয়েতনাম বিশ্ববাজারে আরো আস্থা অর্জন করবে। প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে পরিণত হতে ভিয়েতনামের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় রসদ জোগাবে অ্যাপলের এ সিদ্ধান্ত।