কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরিধি দিন দিন বাড়ছে। প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও ব্যবহার হচ্ছে এ প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোও এতে প্রভাবিত হচ্ছে। ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা অগমেন্টেড রিয়েলিটিনির্ভর মেটাভার্স তৈরিতে কাজ করছিল। তবে এবার নিজস্ব চ্যাটজিপিটি চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি প্রকাশ্যে আসবে বলে সূত্রে জানা গেছে। খবর গিজচায়না।
কোম্পানিটি বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা চালানোর জন্য এআই ব্যবহার করতে চাইছে। এর মাধ্যমে আয়ও বাড়বে এবং মেটাভার্স সম্পর্কে সবাইকে জানানো সম্ভব হবে। টেসলা ও টুইটারের প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্কসহ বেশকিছু গবেষক ও প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রধান এআইয়ের উন্নয়ন স্থগিতের কথা জানিয়েছেন, কিন্তু মেটার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু বসওর্থ এ সিদ্ধান্তের বিরোধী ছিলেন।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগে মেটা জেনারেটিভ এআইয়ের বাণিজ্যিকীকরণ করতে চায়। এজন্য নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। যারা গ্রুপটি নতুন প্লাটফর্মের জন্য সৃজনশীল ও ব্যাখ্যামূলক টুল তৈরিতে কাজ করছে।
বসওর্থের তথ্যানুযায়ী, বিজ্ঞাপন খাতে জেনারেটিভ এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি এখন মেটার প্রধান ব্যবসা ক্ষেত্র। এ প্রযুক্তি যেকোনো বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিসরে ছবি তৈরি করা যাবে ও গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অনলাইন অ্যাডভারটাইজিংয়ের কার্যক্রম বাড়াতে চাইছে, যা থেকে মোট আয়ে ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ আসবে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মেটাভার্সের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেননা মেটা এটি ব্যবহারের মাধ্যমে মেটাভার্সকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাইছে। এ প্লাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল বা অগমেন্টেড রিয়েলিটিতে ডিজিটাল স্পেস তৈরি করতে পারবে।
ব্যবহারকারীদের নেতিবাচক মন্তব্য ও শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনার মধ্যে মেটাভার্সের স্বপ্ন মাটিচাপা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠাতার তত্ত্বাবধানে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সবদিক পর্যালোচনা করবে। সম্প্রতি নিজস্ব এআই প্লাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে প্রবেশের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে মেটার এআই কি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় গবেষক ও বিশ্লেষকরা।
চ্যাটজিপিটি হলো একটি বড় ল্যাংগুয়েজ মডেল, যার উন্নয়ন করেছে ওপেনএআই। যেটি কথোপকথনের সময় মানুষের মতো উত্তর ও সমাধান দিতে সক্ষম। ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহীত তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে এটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর তৈরিতে ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে মেটার এআই প্লাটফর্ম এখন উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গ্রাহকরা যেন কোম্পানির পণ্য ও পরিষেবা আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য এটি তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা জানান, একটি বিষয় জানা জরুরি। সেটা হলো চ্যাটজিপিটির মতো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য মেটা নিজস্ব এআই প্লাটফর্ম তৈরি করছে না। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে মেটার এআই চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে কিনা। উত্তর না, অন্তত একই ক্ষেত্রে তেমন সম্ভাবনা নেই। মেটার এআই প্লাটফর্ম ব্যবহারকারী ব্যক্তির অভিজ্ঞতার উন্নয়ন করবে।
মেটার এআই প্লাটফর্মের বেশকিছু দিক রয়েছে, যেগুলো অনেক কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ ব্যবহারকারীর পছন্দানুযায়ী এটি বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেবে। এছাড়া এটি কোম্পানিটির বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা উন্নয়নে সহায়তা করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কনটেন্ট মডারেশনে এটি আরো ভালো অ্যালগরিদম তৈরি করবে।










