নেটফ্লিক্স ও অ্যালফাবেটের গুগল পের মতো বিশ্বব্যাপী কনটেন্ট সরবরাহকারীদের ফি প্রদান প্রশ্নে দক্ষিণ কোরিয়ায় আইন হচ্ছে। নেটওয়ার্ক ফি দেয়ার প্রস্তাবিত আইন নিয়ে সম্প্রতি দেশটির সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভিডিও স্ট্রিমিং ও অন্যান্য ডাটা ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ায় ইউরোপের কিছু দেশ ইউরোপীয় কমিশনকে এমন কিছু আইনে নিয়ে আসতে চায় যাতে বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো থেকে টেলিকম খাতে অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়। খবর রয়টার্স।
আইনটি সংস্কারে সমর্থকরা কোম্পানিগুলো যাতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ন্যায্য ফি প্রদান করে সেদিকে জোর দিয়েছেন। সম্প্রতি আদালতে এ নিয়ে শুনানি হয়। যদিও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। শুনানির সময়ে আইনজীবী হয় সুক-জুন বলেছিলেন, বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট ট্রাফিকের এক-তৃতীয়াংশই গুগল ও নেটফ্লিক্সে। এজন্য বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ফি আরোপ করলে তারা দেশটিতে তাদের নিজস্ব ফি ও গ্রাহক ফি বাড়াতে পারে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিষয়টি তত্ত্বাবধানকারী সংসদ কমিটির প্রধান জুং চুং-রাই বলেছেন, অল্পসংখ্যক দেশীয় ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দেশীয় কনটেন্ট সরবরাহকারীদের ঝুঁকি তৈরি হবে।
অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ ওপেনেটের মতে, গুগলের ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম ইউটিউব বিলটির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে এবং যাতে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮২৪ জনেরও বেশি লোক আইনটির বিরোধিতা করে পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে। গুগল দক্ষিণ কোরিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর কিয়ং হুন-কিম বলেছেন, এ ধরনের আইন চালু হলে ব্যবসা পরিচালনার কৌশলটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
নেটফ্লিক্সের দক্ষিণ কোরিয়ান ইউনিটের একজন পরিচালক লিজ চুং বলেছেন, তার কোম্পানি ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক পরিচালনার উপায় খুঁজছে। আমরা নেটওয়ার্কগুলোতে ট্রাফিক বৃদ্ধিতে দক্ষতার সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করেছি।
ইউরোপে গুগল, মেটা ও নেটফ্লিক্স দেশটির টেলিকম নেটওয়ার্ক খরচ বহন করবে, নিয়ন্ত্রকদের এমন পরিকল্পনা বৃহৎ টেলিকম অপারেটররা স্বাগত জানালেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করেছে যে এটি টেলিকম বাজারকে অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে এবং প্রতিযোগিতার ক্ষতি করবে।
ডাটা প্রোভাইডার মোবাইল ইনডেক্সের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ান ইউটিউব ব্যবহারকারীরা প্লাটফর্মটিতে ১৩৮ কোটি ঘণ্টা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে ৫ কোটি ১৬ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে সক্রিয় ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ১৮ লাখ।










