কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনার ক্ষেত্রে খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবেলায় সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বায়োমেট্রিক নজরদারি ও কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে নীতিমালায়। গুরুত্ব পেয়েছে জনগণের জন্য নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ। 

রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আইনপ্রণেতাদের ভোট শেষে এআইয়ের নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিলটি দ্রুতই আইনে পরিণত হবে বলে আশাবাদী বিশ্লেষকরা।

মাইক্রোসফটের পৃষ্ঠপোষকতায় ওপেনএআই থেকে চ্যাটজিপিটি সামনে আসার পর আশঙ্কা তৈরি হয় বিজ্ঞানীদের একটা মহলে। এআই বট নিয়ে জন্ম নেয়া বর্ধমান প্রতিযোগিতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবেলার প্রসঙ্গ এসেছে। শঙ্কা প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছে টেসলাপ্রধান ইলোন মাস্ক ও ওপেন এআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান। প্রয়োজন তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়নের। 

প্রস্তাব উত্থাপনকারীদের একজন হিসেবে ব্র্যান্ডো বেনিফেই বলেন, ‘‌বড় কোম্পানিরা তাদের নিজেদের আবিষ্কার নিয়ে সতর্ক ঘণ্টা বাজাচ্ছেন। এগিয়ে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রতিক্রিয়ায়।’ 

ইইউর নীতিনির্ধারকরা চান, কোনো কোম্পানি জেনারেটিভ টুলগুলোর মাধ্যমে যেন কারো কপিরাইট অধিকার লঙ্ঘন না করে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার সময়ই যেন উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সচেতন থাকা হয় মৌলিক ও পরিবেশগত অধিকার সুরক্ষা নিয়ে। এআইতে তৈরি কনটেন্ট চিহ্নিত, সত্যিকার ছবি থেকে ডিপফেক ছবি আলাদা ও অনৈতিক কনটেন্ট থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে যেন প্রাধান্য দেয়া হয়। 

মাইক্রোসফট ও আইবিএম ইইউর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে প্রস্তাবের আরো পরিমার্জন ও পর্যালোচনার দরকার মনে করা হচ্ছে। মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্র জানান, এআইকে একটা আইনি নিরাপত্তার ভেতরে আনা জরুরি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজন ও তাৎপর্য অনুসারে কাজের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। খসড়া প্রস্তাবকে আইনে পরিণত করার আগে পরিচালনাকারীদের এখন ইইউর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলতে হবে। 

এআই নিয়ে কাজ করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছে। যদিও মেটার মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে। এমনকি মেটার নিয়ন্ত্রণে থাকা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বিপর্যয় মানতে নারাজ। মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রধান বিজ্ঞানী ইয়ান লেকান সম্প্রতি প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দাবি করেছেন, এআই দুর্দান্ত। কারণ এ প্রযুক্তির প্রভাবেই মানুষ আরো স্মার্ট হয়ে উঠবে।   

ইইউর বর্তমান খসড়া আইন অনুসারে, যেসব এআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের কিংবা ভোটের ফলকে প্রভাবিত করা যায়, সেসব এআইকে রাখা হয়েছে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। তালিকার প্রথম সারিতেই রয়েছে মেটা ও টুইটার। ইইউর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থিয়েরি ব্রেতো দাবি করেছেন, এআই সামাজিক, নৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে অনেক। তার পরও সবকিছু থামিয়ে দেয়ার সময় হয়নি, বরং দ্রুত কাজ করা উচিত। দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত। 

ব্রোতো পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সফর করার কথা বলেছেন। সেখানে ইইউর ড্রাফট নিয়ে মার্ক জাকারবার্গ ও স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন। ইউরোপীয় কমিশন দুই বছর আগে খসড়া প্রস্তাবতৈরি করেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বৈশ্বিক নীতিমালা ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে। কেবল ইউরোপ নয়, আমেরিকা ও চীনের এআইতে নেতৃত্ব দেয়া বিজ্ঞানীদেরও সম্মত করা জরুরি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা দেয়ার জন্য।