অস্ত্র কর্মসূচির সহায়তায় সাইবার দুনিয়ায় বড় ধরনের আক্রমণাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে উত্তর কোরিয়া। এতে উদ্বগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। সম্প্রতি তিনটি দেশ সম্মিলিতভাবে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। খবর রয়টার্স ও গিজচায়না।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও মিত্র দেশগুলো জানায়, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র প্রোগ্রামের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু দেশটির হ্যাকাররা ক্রিপ্টোকারেন্সি ফান্ড চুরির মাধ্যমে এ প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে।
চলতি সপ্তাহেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। সেখানে বলা হয় উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের অবৈধ আয় হস্তান্তরে ও পাচার করতে ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স (ডেফি) পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এটি ক্রিপ্টো খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। তবে উত্তর কোরিয়া হ্যাকিংসহ সব ধরনের সাইবার হামলার বিষয় অস্বীকার করেছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মধ্যে, দক্ষিণ কোরিয়া চলতি সপ্তাহে সিউলে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানি মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছে। সম্মিলিত বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করছি যে বিদেশী ডিপিআরকের আইটি কর্মীরা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য তহবিল সংগ্রহে জাল পরিচয় ব্যবহার করছে। উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে চলার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ডিপিআরকে কীভাবে সাইবার হামলার মাধ্যমে তথ্য চুরি করছে ও অর্থ পাচার করছে সে বিষয়ে আমরা অবগত। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অস্ত্র কর্মসূচিকে সহায়তার চেষ্টা করছে দেশটি। এসব বিষয়ে কোরিয়া উপদ্বীপেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় ফোনকলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার একর্ত্রীকরণ মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়া কেন উত্তর দেয়নি সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রণালয় বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে।
মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্মিলিতভাবে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে আসছে। এ মহড়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে উত্তর কোরিয়া এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহে তারা সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে। একটি নতুন, ছোট পারমাণবিক ওয়্যারহেড উন্মোচন করেছে তারা। এছাড়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।
বিভিন্ন দেশে চলমান সামরিক মহড়া উত্তপ্ত বাক্যও ছড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি সামরিক মহড়ার মাধ্যমে উত্তেজনাকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে অভিযুক্ত করেছে উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক আলোচক কিম গুন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা একটি আত্ম-ধ্বংসাত্মক বুমেরাং ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি তাদের”অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে কিম বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া তার জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। দেশটি সব সমস্যার সমাধান হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রকে জাদুর কাঠি হিসেবে সবার সামনে উপস্থাপন করতে চাইছে।’ অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে মানবিকসহ বিভিন্ন কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়িয়েছে জাপান।










