লাইভ স্ট্রিমিংয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে টিকটক। এর অংশ হিসেবে আগামী মাস থেকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে যুক্ত হওয়ার বয়সসীমা ১৬ থেকে ১৮ বছর কার্যকর করতে যাচ্ছে প্লাটফর্মটি। খবর বিবিসি।
এক তদন্তে বিবিসি নিউজ দেখতে পায়, সিরিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে কয়েকশ অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসা হচ্ছে, যেখানে শিশুরা বিশ্ববাসীর কাছে অনুদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। কেউ কেউ ঘণ্টায় ১ হাজার ডলার পেলেও সেটি উত্তোলনের সময় টিকটক থেকে ৭০ শতাংশেরও বেশি নিয়ে নেয়া হচ্ছে। এক বিবৃতিতে প্লাটফর্মটি জানায়, ভবিষ্যতে শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই ভার্চুয়াল গিফট পাঠাতে পারবে অথবা মনিটাইজেশন ফিচারে প্রবেশ করতে পারবে।
সামনের সপ্তাহগুলোতে প্লাটফর্মটি লাইভ স্ট্রিম চালানোর জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের অনুমতি দেবে। তবে এসব পরিবর্তন ও বিধিনিষেধ কবে নাগাদ কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায়নি। মেটা মালিকানাধীন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও গুগলের ইউটিউবে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৩ নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাশাপাশি কোনো কনটেন্ট নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরে হলে সেটিকে রেস্ট্রিক্ট বা নিষিদ্ধ করে দেয়ার সুবিধা রয়েছে।
পাঁচ মাস ধরে বিবিসি গ্লোবালের ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য তদারকি ইউনিট, বিবিসি অ্যারাবিয়া ও বিবিসি আই উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ৩০০-এর বেশি টিকটক অ্যাকাউন্টের লাইভ স্ট্রিমিং অনুসরণ করেছে। টিকটকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, কেউ সরাসরি কোনো গিফট বা অর্থ প্রদানের জন্য অনুরোধ করতে পারবে না। সেই সঙ্গে প্লাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সব ধরনের ক্ষতি ও বিপদ থেকে রক্ষা করতে হবে। বিবিসি যখন ইন-অ্যাপ সিস্টেমের মাধ্যমে ৩০ অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে শিশুদের অনুরোধের বিষয়টি রিপোর্ট করে তখন টিকটক জানিয়েছিল যে তারা এগুলোতে নীতিমালা ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পায়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বক্তব্যের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটি সব অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে দেয়।
টিকটক জানায়, তাদের প্লাটফর্মে এ ধরনে কনটেন্ট প্রকাশের অনুমোদন নেই। সেই সঙ্গে ডিজিটাল গিফট থেকে প্রতিষ্ঠানটি যে কমিশন নেয় তা ৭০ শতাংশেরও কম। তবে অর্থের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। যাদের অন্তত এক হাজার অনুসারী আছে এবং বয়স ১৬ বছরের বেশি তারা প্লাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম করতে পারে। অন্যদিকে যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি তারা কনটেন্ট নির্মাতাদের টিপস পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারে। এটি টিকটক থেকে অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম।
ভার্জ প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও প্লাটফর্মটির জন্য লাইভ স্ট্রিম ক্রমেই অর্থ আয়ের উ?স হিসেবে টিকটকের মূল অংশ হয়ে উঠছে। গত মাসেই টিকটকের মালিক কোম্পানি বাইটড্যান্স বিভিন্ন প্রভাব বিস্তারকারী সংস্থার সঙ্গে জোট বাঁধছে বলে রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।। এসব সংস্থা নির্মাতাদের লাইভ স্ট্রিম উপস্থাপনের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি দর্শকের কাছ থেকে টিপস নেয়ার উপায়ও শেখায়।
প্লাটফর্মের বিভিন্ন গিফট থেকে আয় করা অর্থ ভাগ হয় নির্মাতা, টিকটক ও মধ্যস্থতাকারী সংস্থাটির মধ্যে। ভার্জ জানায়, লাইভ স্ট্রিমের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় দর্শকরাও টিপিং ব্যবস্থার সুবিধা নেয়ার বিষয়টি জেনে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ টিপিং ব্যবস্থা ভিক্ষাবৃত্তির উপায় হয়ে উঠেছে।
নতুন সুরক্ষা আপডেটের পাশাপাশি প্লাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম উপস্থাপন করা নির্মাতাদের জন্য বেশ কয়েকটি নতুন টুল আনার ঘোষণা দিয়েছে টিকটক। বিভিন্ন লেআউট অপশন ব্যবহার করে এখন সর্বোচ্চ পাঁচজন পর্যন্ত অতিথি নিয়ে লাইভ স্ট্রিম শুরু করতে পারবেন নির্মাতারা।










