ইরাকের শাসক সাদ্দাম হোসেনকে উত্খাত করতে রাসায়নিক অস্ত্র মজুদের মিথ্যা অভিযোগে হামলা করেছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। আক্রমণ শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ। নতুন সহস্রাব্দে আগ্রাসনের প্রথম দগদগে ক্ষত। সাদ্দামকে সহজে পরাস্ত করা যাবে না—এমন ধারণা মনে রেখেই কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিল এই আগ্রাসনবিরোধী মানুষ। কিন্তু এ যুগ তার ঝুলিতে রাখা রূপকথার মতো বিধ্বংসী প্রযুক্তিগুলো বের করে আনছিল—মার্কিনদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টেকেনি সভ্যতার দোলনার উত্তরাধিকারীদের প্রতিরোধ। মাত্র ২১ দিনের হামলাতেই ভেঙে গিয়েছিল সাদ্দামের বাহিনীর ব্যূহ।
মার্কিন হামলার হুমকির মুখে সে বছর ফেব্রুয়ারিতে সাদ্দাম তার জেনারেলদের উদ্দেশে এক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেদিনের বক্তব্যে তিনি নিজেকে গিলগামেশের সঙ্গে তুলনা করেন। ‘রাজা তার রাজত্ব ছেড়ে গিয়েছিলেন এবং তার ফেরার আগ পর্যন্ত সিনেটকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন রাষ্ট্র শাসনের’—সাদ্দামের কথাগুলো চমকে দিয়েছিল তার সেনাপতিদের। যদিও সাদ্দাম তার সেদিনের পরিকল্পনা অনুসরণ করেননি, কিন্তু গিলগামেশের সঙ্গে নিজের তুলনার ঘটনাটি কোনো আকস্মিক উক্তি ছিল না। কারণ, গিলগামেশ ও তার সময় নিয়ে সাদ্দামের ব্যক্তিগত আগ্রহ ছিল। আগের বছর বসন্তে নিনেভে আসুরবানিপালের গ্রন্থাগার পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন, পরিকল্পনা করেছিলেন মূল গ্রন্থাগারের অনুকরণে এখানে প্লাস্টারে তৈরি মাটির ফলক থাকবে। এ কাজের জন্য তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তিতেও পৌঁছেছিলেন। এ ধরনের ২৫ হাজার ফলক তৈরির কথা হয়েছিল। এ গ্রন্থাগার হতো সাদ্দাম ইনস্টিটিউট অব কিউনিফর্ম স্টাডিজের মূল আকর্ষণ, এটিকে ইরাকের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
দুই সহস্রাব্দ ধরে গিলগামেশকে সবাই ভুলে ছিল। এখন তার মাতৃভূমিতে আবার তাকে পড়া হয়, দুনিয়াজুড়ে নানা ভাষায় গিলগামেশ মহাকাব্য অনূদিত হয়েছে। আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, জাপানি, ফারসি, রুশ, স্প্যানিশ, বাংলাসহ আরো অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়ে গিলগামেশের গল্প সারা দুনিয়ার পাঠকদের হাতে পৌঁছে গেছে। আমেরিকার বিভিন্ন বিদ্যায়তনে সাহিত্যের কোর্সে এই মহাকাব্য এখন আবশ্যিক পাঠ্য। আধুনিক দুনিয়ার অনেক লেখকদের এই কাব্য প্রেরণা দিচ্ছে। আমেরিকার আভাগার্দে থিয়েটারগুলোর একটি দল নিজেদের ‘দ্য গিলগামেশ গ্রুপ’ নামে অভিহিত করে। অস্ট্রেলিয়ার ঔপন্যাসিক জোয়ান লন্ডনের উপন্যাসের নাম গিলগামেশ। ২০০১ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে এক সিঙ্গেল মাদারের খোঁজের আখ্যান বিধৃত হয়েছে, যিনি তার প্রেমিকের সন্ধানে অস্ট্রেলিয়ার গ্রামাঞ্চল থেকে সোভিয়েত আর্মেনিয়ায় যাত্রা করেন। ফিলিপ রথের দ্য গ্রেট আমেরিকান নভেল প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে কাল্পনিক এক টুর্নামেন্টের একটি বেসবল দলকে কেন্দ্র করে। এ দলে আছে গিলগামেশ নামে এক খেলোয়াড়, যার বংশচরিত ছিল ব্যাবিলন থেকে আসা। ১৯৩৩ সালের প্যাট্রিয়ট লিগে খেলার সময় গিলগামেশ বিশ্বাস করত, সে কখনো হারতে পারে না। কারণ, ‘আমি গিলগামেশ! আমি অমর!’
ফিলিপ রথের উপন্যাসটির সঙ্গে ইরাকের সাদামাটা এক লেখকের একখানা উপন্যাসের তুলনা করা যায়। তবে এই সাদামাটা লেখক আবার বেশ ডাকসাইটে নেতা, রাজনীতিবিদ। হ্যাঁ, তিনি সাদ্দাম হোসেন। ১৯৯২ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পর তিনি অমরত্বের সন্ধান করেছিলেন—না, এজন্য তিনি গোপন, রহস্যময় জাদু, ওষুধের খোঁজ করেননি; তিনি চেয়েছিলে গিলগামেশের অমরত্ব। গিলগামেশ সাহিত্যের মাধ্যমে অমরত্ব পেয়েছিল। এবার সাদ্দামও চাইলেন সাহিত্য রচনা করতে। একে একে চারটি উপন্যাস লিখেছিলেন। কিন্তু মার্কিন আগ্রাসনে তার ক্ষমতা, জীবনের সঙ্গে সঙ্গে তার লেখকজীবনেরও ইতি ঘটল। তার শেষ উপন্যাসটির নাম ছিল বি গন ডেমনস! আমেরিকা যখন আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নাকি সাদ্দাম প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব তার ছেলের হাতে দিয়ে নিজে শেষ উপন্যাসটি নিয়ে কাজ করছিলেন। আটক হওয়ার পর তিনি বন্দিদশায় আরেকটি উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন। সাদ্দামের প্রথম উপন্যাসটিই আমাদের বর্তমান লেখার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কারণ, এ উপন্যাসে তিনি গিলগামেশ ও আরব্য রজনীর রস যুক্ত করেছেন। উপন্যাসটিতে লেখক রূপকের মাধ্যমে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধকে তুলে ধরেছেন। ২০০০ সালে অজ্ঞাতনামা লেখকের পরিচয়ে প্রকাশিত হয় জাবিবাহ ওয়াল-মালিক বা জাবিবাহ এবং রাজা; গল্পের ঘটনাস্থল প্রাচীন অ্যাসিরিয়া। গল্পে পাওয়া যায় অজ্ঞাতনামা এক রাজাকে, যে ভালোবাসে জাবিবাহকে। জাবিবাহ সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। সে প্রাসাদে এসে রাজাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নানা নির্দেশনা দেয়। ২০০৪ সালে বইটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। তবে তখনো তা ইংরেজি অনুবাদ হয়নি। বইয়ের একজন প্রকাশক ভূমিকা লিখতে গিয়ে অজ্ঞাতনামা এক সিআইএ এজেন্টকে উদ্ধৃত করেছেন। এই সিআইএ এজেন্ট ছিলেন একটি দলের সদস্য, যারা তিন মাস ধরে উপন্যাসটি পড়েছিলেন সাদ্দামের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য। সেই এজেন্টের কথা ছিল এ রকম—‘যতবার আমি উপন্যাসটি পড়েছি, ততবারই আমি রাজার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছি এবং সাদ্দাম এটাই চেয়েছিলেন। উপন্যাসটির মাধ্যমে তিনি তার দেশের নাগরিকদের তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চমত্কারভাবে লেখা, সূক্ষ্মবুদ্ধির বই—বইটি আপনাকে শেষ পাতা পর্যন্ত আটকে রাখবে।’ এ উক্তি বইয়ের পেছনের কভারে ব্লার্ব হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরাকের ইতিহাসের প্রতি সাদ্দামের গভীর আকর্ষণ ছিল। সেই ইতিহাসে তার নিজের স্থান নিয়েও তিনি আগ্রহী ছিলেন। ১৯৮০ সালে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, ‘চলুন, আমরা আমাদের পেছনের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাই। কারণ, এটা সবসময় আমার চোখের সামনে থাকে।’ সাদ্দাম ক্রুসেডের মুসলিম বীর সালাদিনের ভক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ইরাকের প্রাক-ইসলামী ইতিহাসের প্রতিও তার প্রশংসাপূর্ণ মনোভাব ছিল। তার নিদর্শন হিসেবে বলা যায়, সাদ্দাম নিজেকে নেবুচাদনেজার, গিলগামেশের সঙ্গে তুলনা করতেন। সাদ্দামের এই দৃষ্টিভঙ্গি তার বাথ পার্টির ভিত্তি, যাদের আদর্শ ছিল জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে প্যান-আরব জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৭৮ সালে সাদ্দাম একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন—অন রাইটিং হিস্ট্রি। এতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আরব জাতির ইতিহাস প্রচীনকাল থেকে বিস্তৃত। এখানে যত সভ্যতা বিকশিত হয়েছে, সেগুলো সবই এখানকার মানুষের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন।’
গিলগামেশ মহাকাব্য যেমন প্রাচীনকালের মহাকবি হোমারকে প্রভাবিত করেছিল, তেমনি বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন রাইনার মারিয়া রিলকেও উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন গিলগামেশ মহাকাব্য পড়ে। ১৯১৬ সালে প্রথমবার গিলগামেশ পড়ে রিলকের অনুভূতি ছিল এ রকম—
‘Gilgamesh is stupendous! I... consider it to be among the greatest things that can happen to a person... I have immersed myself in [it], and in these truly gigantic fragments I have experienced measures and forms that belong with the supreme works that the conjuring Word has ever produced.’
গিলগামেশ মহাকাব্য আধুনিককালে উদ্ধার ও তার মর্মোদ্ধার করার গল্প আরব্য রজনীর মতোই অবিশ্বাস্য, চমকপ্রদ! ১৮৪০ সালের এপ্রিলে তরুণ ব্রিটিশ ট্রাভেলার অস্টিন হেনরি লেয়ার্ড ইরাকের মসুলে পা রাখেন। অস্টিন লেয়ার্ড উচ্চাকাঙ্ক্ষী, অস্থির মানুষ, কিন্তু জীবনে ঠিক কী করবেন, তা তিনি তখনো ঠিক করে উঠতে পারেননি। অস্টিন বেশ কয়েক মাস কাটিয়েছেন গ্রিস ও তুরস্কে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করে। ভূমধ্যসাগরের পূর্ব দিকে গ্রিক ও রোমানরা তাদের স্থাপনার যেসব অবশেষ ইতিহাসের জন্য রেখে গেছে, সেগুলো অস্টিনকে মোহিত করেছিল। তিনি শুনেছিলেন, ইরাকের মসুলের মাটির তলায় বহু প্রাচীন নিদর্শন চাপা পড়ে আছে। তাই প্রবল আগ্রহ নিয়ে তিনি হাজির হয়ে গেলেন মসুলে। লেয়ার্ড যেখানে এসেছিলেন, সেখানে সচরাচর ইউরোপীয়দের পা পড়ত না। তবে এখানেই ছিল নিনেভে এবং অন্য অ্যাসিরীয় শহরগুলোর ধ্বংসস্তূপ। পরিস্থিতি সম্পর্কে লেয়ার্ড যা শুনেছিলেন, তা একই সঙ্গে সত্য ও মিথ্যা। সবকিছুই ছিল, কিন্তু কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার টিকে থাকা নিদর্শন বলতে রয়েছে কেবল কাদার স্তূপ। ৩০-৪০ ফুট উঁচু, মাইলজুড়ে বিস্তৃত মাটির স্তূপ। কোথাও কোনো মন্দির, ভাস্কর্য কিংবা নিদেনপক্ষে সেই প্রাচীন রাজাদের প্রাসাদের একটা স্তম্ভও নেই কোথাও। এ পরিস্থিতি অবশ্য লেয়ার্ডকে হতাশ না করে তার কল্পনার দুনিয়াকে জাগিয়ে দিয়েছিল। লেয়ার্ড এবং আরো কয়েকজন প্রত্নতাত্ত্বিক মিলে ১৮৪৪ সালে শুরু করলেন আধুনিক কালের সবচেয়ে নাটকীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযানের একটি। দুটি ভিন্ন সাইটে বিস্ময়কর আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিলেন। সভ্যতার দোলনায় উন্মোচন করলেন তিন হাজার বছরের ইতিহাস। দক্ষিণ মসুলে তিনি উদ্ধার করলেন অনেকগুলো খোদাই করা সুন্দর ফলক এবং এক জোড়া অসাধারণ মানুষের মাথাওয়ালা, ডানাওয়ালা ষাঁড়ের ভাস্কর্য, যা ব্রিটিশ জাদুঘরের মাস্টারপিস হয়ে আছে। তিনি নিনেভের ধ্বংসস্তূপ খুঁজে পান। সেখানে তিনি অ্যাসিরীয় রাজা সেনাচেরিবের বিরাটাকার প্রাসাদ আবিষ্কার করেন। তবে লেয়ার্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল অক্ষরে। লেয়ার্ড ও তার সহকারী স্থানীয় হরমুজদ রাসাম বিখ্যাত অ্যাসিরীয় রাজা আসুরবানিপালের গ্রন্থাগার উন্মোচন করেন। লেয়ার্ড ও রাসাম কয়েক লাখ ফলক ব্রিটিশ মিউজিয়ামে নিয়ে যান। এই ফলকগুলোই ছিল এখানকার স্থানীয় প্রাচীন ইতিহাস ও সমৃদ্ধ সাহিত্য আবিষ্কারের মূল চাবিকাঠি। লেয়ার্ড ও রাসাম যেসব লিখিত দলিল উদ্ধার করেছিলেন, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে দি এপিক অব গিলগামেশ। বিশ্বসাহিত্যের প্রথম মাস্টারপিস।
দি এপিক অব গিলগামেশ জানায় সেই ধূসর অতীতে সাম্রাজ্যের দ্বন্দ্ব, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে আদান-প্রদান। গিলগামেশ পূর্ব ও পশ্চিম দুনিয়া, প্রাচীনকাল ও আধুনিক সময়, কাব্য ও ইতিহাসের মধ্যে একটি সংযোগ সূত্র। গিলগামেশের প্রতিধ্বনি শোনা যায় বাইবেলে, হোমারের মহাকাব্যে, এমনকি আরব্য রজনীতেও। একই সংস্কৃতি, মানুষের চেতনায় যে দ্বন্দ্ব সেই শুরু থেকেই বর্তমান, তা এই কাব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গিলগামেশ ছিলেন রাজা লুগালবান্দা ও দেবী নিনসুনের ঔরসে জন্ম নেয়া এক রাজা, সভ্যতার নায়ক। গিলগামেশ ছিলেন উরুকের প্রথম রাজবংশের পঞ্চম রাজা এবং তার শাসনকাল সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ২৭৫০ অব্দের কাছাকাছি। দেবীর গর্ভে জন্ম নিয়েও গিলগামেশ অমর ছিলেন না। তবে অমরত্ব পেতে তিনি দুঃসাহসিক সব অভিযান চালিয়ে গেছেন। কোথাও ভীত হয়ে নিজেকে সমর্পণ করেননি। কিন্তু সব ঝড় ঠেলে, দুর্গম যাত্রার শেষে গিলগামেশ আবিষ্কার করলেন, মৃত্যুকে তিনি এড়াতে পারবেন না। তখন গিলগামেশের চিন্তার ধরন বদলাল। এবার তিনি নিজের রাজকীয় কীর্তি দিয়ে অমর হতে চাইলেন। মরণজয়ী মানুষ উতা-নাপিশতির কাছে হাজির হলেন অনেক বিপদ অতিক্রম করে। নাপিশতির কাছে পাঠ নিলেন জীবন-মৃত্যুর রহস্য, রাজার কর্তব্য বিষয়ে। কিন্তু কোনো কাজেই কিংবা কোনো বিপদেই গিলগামেশ দেবতাদের সামনে মাথা নোয়াননি, তাদের সাহায্যও প্রার্থনা করেননি। গিলগামেশ যেন দুনিয়ার আদিতম মানবতাবাদের ঘোষক। গিলগামেশ কাব্যে সেই অজ্ঞতানামা কবির কণ্ঠে আমরা শুনতে পাই নায়কের কীর্তি। গিলগামেশ মানুষের জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছিলেন, পার্বত্য এলাকায় পানির জন্য খনন করেছিলেন কুয়া। এ রকম অনেক কীর্তির মধ্যে গিলগামেশের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল সেই মহাপ্লাবনের পর সুমেরীয় সভ্যতাকে আবার গড়ে তোলা। তাই তো কবি গিলগামেশকে নিয়ে লিখেছেন—
‘who s’(Pick) up the tablet of Lapis lazuli and read out the travails of Gilgamesh, all that he went through.’
‘Surpassing all other kings, heroic in stature, brave scion of Uruk, wild bull on the rampage!’
(অ্যান্ড্রু জর্জের অনুবাদ)
গিলগামেশ শুধু নায়কই নন, তার চরিত্রে অন্ধকার দিকও ছিল। সেসবও কবি লিপিবদ্ধ করেছেন। তারুণ্যে অনিয়ন্ত্রিত কামাচার, প্রজা উত্পীড়নের মতো কাজও তিনি করেছিলেন। কিন্তু দিনের শেষে শত বিপদ-বাধা অতিক্রম করে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পৌঁছানো গিলগামেশ সুমেরীয় সভ্যতা তথা মানবসভ্যতাকে নতুন করে নির্মাণের কীর্তি দিয়ে রক্তমাংসের নায়ক হিসেবেই পরিগণিত হবেন।
রচনার পর হাজার বছর ধরে এই কাব্য আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমায় পঠিত হয়েছে। তারপর নতুন নতুন সাম্রাজ্যের ঘোড়ার খুরের ধ্বনিতে ধীরে ধীরে মাটি চাপা পড়তে থাকে প্রাচীন সংস্কৃতি। মেসোপটেমিয়ার সমস্ত লিখিত দলিলের সঙ্গে চাপা পড়ে যায় গিলগামেশের কীর্তিও।
অপ্রত্যাশিতভাবে উনিশ শতকে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের দ্বন্দ্বের পটভূমিতে আবার হাজির হয় গিলগামেশ মহাকাব্য। অটোমান সাম্রাজ্যের অস্তগামী সূর্যের ক্ষীণ আলোয় ঘনিয়ে আসা আঁধারে জমে ওঠে আরব, তুর্কি, পারসিক, কুর্দি, চেচেন, ইহুদি, ইংরেজ, রুশ এবং আরো অনেকের সংঘাত। লেয়ার্ড ও রাসাম আসুরবানিপালের সেই বিরাট লাইব্রেরি পুনরাবিষ্কার তো করেছিলেন, কিন্তু সেখানকার বই বা মাটির ফলকে কী লেখা আছে, সেটা তারা জানতেন না। কারণ, তখন দুনিয়ায় কেউই কিউনিফর্মে লেখা লিপি পড়তে পারতেন না। উদ্ধারের পর দুই দশক একদল অসামান্য প্রতিভাবান ভাষাবিদ কিউনিফর্ম লিপির মর্মোদ্ধারের চেষ্টা করেন। এসব লেখা বেশির ভাগই ছিল আক্কাদীয় ভাষায়। অবশেষে ১৮৭২ সালে তরুণ কিউরেটর জর্জ স্মিথ গিলগামেশ মহাকাব্য পড়ার রহস্য উন্মোচন করেন।
আসুরবানিপালের কাছে গিলগামেশ মহাকাব্যের প্রাচীন সুমেরীয় সংস্করণটি ছিল। তিনি রাজত্ব করতেন নিনেভে খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দে। লেয়ার্ড গিলগামেশ কাব্যের যে সংস্করণটি পেয়েছিলেন, সেটা আসুরবানিপালের আমলে তৈরি করা মূল গ্রন্থের আক্কাদীয় সংস্করণ। সুমেরীয় ভাষায় মূল কাব্য রচিত হয়েছিল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব আড়াই হাজার বা তার কিছু বেশি সময় আগে। আর সুমেরীয়দের কাছে গিলগামেশ পরিচিত ছিল বিলগামেশ নামে। মূল রচনা কোন কবি করেছিলেন, তা আর উদ্ধার করা যায়নি। প্রথম রচনার অন্তত শ-পাঁচেক বছর পর দক্ষিণ ব্যাবিলনের উরুক নগরের সিন-লিক-উন্নিনি নামের একজন কবি গিলগামেশ কাব্যকে পরিমার্জন ও বিবর্ধন করেন। এটিকেই বিবেচনা করা হয় কাব্যটির আদর্শ সংস্করণ হিসেবে এবং আধুনিক সব অনুবাদই এই সংস্করণ থেকে করা হয়েছে। আমাদের কাছে দি এপিক অব গিলগামেশ হলেও উন্নিনির তৈরি করা কাব্যের আদর্শ রূপটির নাম আক্কাদ ভাষায় শা নাকবা ইমরু বা He who saw the Deep। ধারণা করা হয়, এই মহাকাব্য খ্রিস্টপূর্ব ২১০০/২০০০ অব্দ নাগাদ মৌখিক রীতি থেকে লিখিত রূপ পায়। সে সময় উর নগরের তৃতীয় রাজবংশের রাজা ছিলেন শুলগি। এই রাজা নিজেকে বীর গিলগামেশের বংশধর মনে করতেন। তাই তার দরবারে নিয়মিত এই কাব্য গীত বা পঠিত হতো।
কিন্তু স্মিথ যত অনুবাদ করতে লাগলেন, মানুষের আগ্রহ ও বিতর্ক তত ঘনিয়ে উঠতে থাকল। পশ্চিমের পাঠকরা দেখতে লাগলেন, সেই সুদূর প্রাচ্যের গ্রন্থটি তাদের সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি বাইবেল সম্পর্কে অনেক কিছু বলছে। স্মিথ দেখলেন, গিলগামেশের পূর্বপুরুষ উতা-নাপিশতিম যেন বিবলিকাল নোয়ার প্রাথমিক সংস্করণ। তার বর্ণনা করা মহাপ্লাবনের সঙ্গে বাইবেলের মহাপ্লাবনের অনেক মিল আছে। স্মিথের স্মৃতিচারণে পাওয়া যায়—‘তৃতীয় কলামে তাকিয়ে আমার চোখ একটি বিবরণীতে আটকে গেল। সেখানে বলা হচ্ছে, নিজির পর্বতে জাহাজ ভিড়ল...আমি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম, এটা মহাপ্লাবনের বিবরণ।’
১৮৭২ সালের ৩ ডিসেম্বর সদ্য প্রতিষ্ঠিত সোসাইটি অব বিবলিকাল আর্কিওলজির সামনে স্মিথ ঘোষণা করেন, তিনি অ্যাসিরীয় ফলকে মহাপ্লাবনের বিবরণী খুঁজে পেয়েছেন। এর পর পরই নিনেভে এবং আশপাশের শহরের ধ্বংসস্তূপ থেকে গিলগামেশ কাব্যের আরো কয়েকটি ফলক উদ্ধার করা হয়।
স্মিথের এই অনুবাদ প্রকাশিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকীয় পাতায় জমে ওঠে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিতর্ক: মহাপ্লাবনের ব্যাবিলনীয় সংস্করণ কী প্রমাণ করে—বাইবেলে বর্ণিত ইতিহাসের সত্যতা, নাকি গিলগামেশের অনুকরণ? ভিক্টোরীয় যুগের বিতর্কের উত্তপ্ত বিষয়—সৃষ্টিতত্ত্ব, বিবর্তন, ধর্ম ও বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় গিলগামেশ মহাকাব্য। বলে রাখা ভালো, গিলগামেশের রচনাকাল বাইবেল আবির্ভূত হওয়ার এক হাজার বছর আগে।
জর্জ স্মিথ সম্পর্কে এই সুযোগে দুই কথা না বললে সেটা অকৃতজ্ঞের মতো কাজ হবে। স্মিথের জন্ম হয়েছিল ১৮৪০ সালের ২৬ মার্চ ভিক্টোরীয় ইংল্যান্ডের এক শ্রমজীবী পরিবারে। কিশোর বয়স থেকেই অ্যাসিরীয় সভ্যতা নিয়ে তার দুর্নিবার আকর্ষণ গড়ে ওঠে। এ বিষয়ে যা কিছু পেতেন, তা-ই পড়ে ফেলতেন। এক প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় তিনি দুপুরের খাওয়ার সময়টা কাটাতেন ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। সেখানে সদ্য উদ্ধার করা কিউনিফর্ম ফলকগুলো ছিল তার মূল আকর্ষণ, যেগুলো লেয়ার্ড ও রাসাম মসুল থেকে উদ্ধার করে পাঠিয়েছিলেন। এরপর ব্রিটিশ মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ শিগগিরই তার প্রতিভাকে বুঝতে পেরেছিল। ১৮৭২ সালে স্মিথ যখন সোসাইটি অব বিবলিকাল আর্কিওলজির সামনে মহাপ্লাবনের অংশের অনুবাদ উপস্থাপন করেছিলেন, তখন দর্শক সারিতে ছিলেন স্বয়ং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম গ্লাডস্টোন। ১৮৭৬ সালের মার্চে ব্রিটিশ মিউজিয়াম ট্রাস্টি বোর্ড আসুরবানিপালের গ্রন্থাগারের অবশিষ্ট অংশে খনন চালানোর জন্য স্মিথকে আবারো মধ্যপ্রাচ্যে প্রেরণ করে এবং সে বছরই আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে ১৯ আগস্ট আলেপ্পোয় মারা যান। এই অকালমৃত্যুর পর ব্রিটেনের রানী স্মিথের পরিবারের জন্য বার্ষিক ১৫০ পাউন্ড বরাদ্দ দেন।
কাদামাটির ফলকে লেখা আরো অনেক সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সাহিত্যকর্মের মতো গিলগামেশ কাব্যও পুনর্নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে অস্তিত্বমান ফলকগুলো এসেছে প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থানীয় মানুষের অনুসন্ধান-আবিষ্কারের মাধ্যমে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ফলক কোনোটাই গিলগামেশ কাব্যের মূল সুমেরীয় সংস্করণ নয়। মূল কাব্যের কিছু খণ্ডাংশই কেবল উদ্ধার হয়েছে। তবে অনেক ফলক সরাসরি গিলগামেশ কাব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। তাই সেগুলো হারিয়ে গেলেও কাব্যের মূল গল্পটি উদ্ধারে গুরুতর সমস্যা হয়নি। গবেষকরা মনে করেন, এখনো মূল কাব্যের ২০ শতাংশ উদ্ধার বাকি আছে।
লেয়ার্ড ও রাসাম গিলগামেশ কাব্যের অস্তিত্বমান ফলকগুলোর সব উদ্ধার করতে পারেননি। বিশেষত প্লাবনের ইতিহাস, কাহিনীসংক্রান্ত ফলকগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন জর্জ স্মিথ। ২০ বছর আগে রাসাম যে খোঁড়াখুঁড়ি করেছিলেন, সেগুলোতে চিরুনি তল্লাশি চালান স্মিথ। রাসাম আসুরবানিপালের প্রাসাদ ও গ্রন্থাগার উদ্ধার করেছিলেন ১৮৫৩ সালে। রাসাম গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। কারণ, খননকাজ চালানোর জন্য তার অনুমতি ছিল না।
১৮৫১ সালে ল্যুভরের পক্ষ থেকে মসুলের ফরাসি কনসাল ভিক্তর প্লা খনন শুরু করেন। প্লা বাগদাদের ব্রিটিশ কনসাল হেনরি রলিনসনের সঙ্গে একটি ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’ করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে খননের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ব্রিটিশ ও ফরাসিরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এ চুক্তির ফলে রাসাম তার কাজের অধিকার হারান। কোয়ুনজিক নামের জায়গাটি ছিল নিনেভের প্রাচীন কেন্দ্র। এ শহরের ওপর অনেক জায়গায় ৯০ ফুট উঁচু ঢিবি তৈরি হয়েছিল। রাসাম কোয়ুনজিককে নিজের এলাকা বিবেচনা করতেন। তিনি নিজে ছিলেন মসুলের মানুষ। লেয়ার্ড তাকে ১৮৪৫-৪৭ ও ১৮৪৯-৫১ সালে চালানো খননের জন্য সহকারী হিসেবে ভাড়া করেছিলেন। তারা দুজন মিলেই কোয়ুনজিকে অ্যাসিরীয় রাজা সেনাশেরিবের প্রাসাদ উদ্ধার করেছিলেন। এটা ছিল কোয়ুনজিকের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। তখনই রাসামের মনে হয়েছিল, উত্তর দিকেও খনন করায় মনোযোগ দেয়া উচিত। ১৮৫২ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়াম ট্রাস্টিরা লেয়ার্ডকে তৃতীয় দফায় খননকাজ চালাতে অনুরোধ করে। কিন্তু লেয়ার্ড ততদিনে ব্রিটিশ রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে গেছেন। তাই তিনি ট্রাস্টিকে বললেন রাসামকে এ কাজে নিয়োগ করতে। ১৮৫২ সালে রাসাম ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে কোয়ুনজিকে খনন চালাতে গিয়ে হতাশ হন। কারণ, কোয়ুনজিকে খননের অধিকার নিয়ে নিয়েছে ফরাসি কনসাল ভিক্তর প্লা। পরের বছর রাসাম নানা কায়দা-কৌশল করে প্লাকে ফাঁকি দিয়ে খনন চালান আর এক্ষেত্রে তার খুব কাজে লেগেছিল স্থানীয়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। ১৮৫৩ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে রাসাম তার দলকে তিন ভাগে ভাগ করে কাজে লাগিয়ে দেন। এক রাতে এক দল এসে রাসামকে প্রাচীন কোনো ভবনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার খবর দিল। নমুনা দেখে উত্তেজিত রাসাম লন্ডনে টেলিগ্রাফ করলেন। রাতের বেলা গোপন খননের খবর প্লার কানে একসময় পৌঁছে যাবেই, সে কথা তিনি ভালোই জানতেন। তাই তিনি আরো বেশি লোক নিয়োগ করলেন। তার এ উদ্যোগ ফল দিল। খননে বেরিয়ে এল রথে দাঁড়িয়ে থাকা আসুরবানিপালের মূর্তি। আরো কিছু খননের পর ১৫ ফুটজুড়ে জায়গা ধসে পড়ে। বেরিয়ে পড়ে ভাস্কর্য খোদাই করা আস্ত দেয়াল। রাসামের কথায়, “শ্রমিকদের উচ্ছ্বাস স্বাভাবিকভাবেই সীমার বাইরে চলে গিয়েছিল। ‘ছবি’ শব্দটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছুটে এল। সবার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। তার সবাই নতুন আবিষ্কার দেখে নাচানাচি শুরু করে আমার প্রশস্তি গাইতে শুরু করল।”
১৮৯৪ সালে লেয়ার্ডের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে রাসামের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের মধ্যকার চালাচালি হওয়া চিঠিপত্র সেই বিস্ময়কর সব আবিষ্কারের কাহিনীর নির্ভরযোগ্য দলিল। রাসামের জীবন রোমাঞ্চকর। একই সঙ্গে মসুলের সন্তান এবং ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদী অভিযানের অংশীদার হয়ে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক খননে অসামান্য ভূমিকার রেখে ইতিহাসে তার স্থান অমর করে রেখেছেন। রাসাম মারা যান ১৯১০ সালে।
আসুরবানিপালের আমলেই গিলগামেশের মহাকাব্য প্রাচীন হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন নাবুর মন্দিরে অধ্যয়ন করছেন, তখনই গিলগামেশ কাব্যের বয়স হাজার বছরের বেশি হয়ে গেছে এবং এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্যবার এর অনুলিপি তৈরি হয়েছে। শাসকের দৃষ্টিভঙ্গিসংক্রান্ত আলাপ এবং কাব্যিক সৌন্দর্যের কারণে অ্যাসিরীয় ও ব্যাবিলনের দরবারে গিলগামেশের কাব্যের আবেদন ছিল। আসুরবানিপালের মতো গ্রন্থপ্রেমী, জ্ঞানপিপাসু রাজার কাছে গিলগামেশ কাব্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বভাবতই তিনি এ কাব্যের একটি অনুলিপি তার গ্রন্থাগারে রাখতে চেয়েছিলেন। ৬৪৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি গিলগামেশ কাব্যের একটি অনুলিপি গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করেন। এরপর মিডিয়া ও কালডিয়ার যৌথ আক্রমণে অ্যাসিরিয়া সাম্রাজ্যের পতন হয়। গিলগামেশও চাপা পড়েন মাটির তলায়।






