১৮৯০ দশকে বাংলার মোট জনসংখ্যার ৫ দশমিক ৪৬ ভাগের বসতি ছিল বাকেরগঞ্জ জেলায়। আর খুনখারাবির চোখ ধাঁধানো পরিসংখ্যানটি হচ্ছে ১৮৯১-৯৬-এর মধ্যে খুনের হিসাবে এ জেলা শীর্ষে ওঠে, বাংলার মোট খুনের ২০ ভাগই সংঘটিত হচ্ছিল বাকেরগঞ্জে।

সে সময় বাংলা সরকারের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য সচিব ছিলের ৪৬ বছর বয়সী চার্লস ওয়াল্টার বোল্টন (জন্ম ১৮৫০)। বাকেরগঞ্জে বন্দুক ব্যবহার করে খুনোখুনিতে তিনি এতই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে জেলায় বন্দুকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ফরমান জারি করতে বাধ্য হন।

২২ আগস্ট ১৮৯৬ চার্লস বোল্টনের স্বাক্ষরে যে প্রজ্ঞাপনটি প্রচারিত হয় তার ভাষ্য নিম্নরূপ:

যেহেতু বন্দুকের গুলিতে বাকেরগঞ্জ জেলায় অসংখ্য খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং যেহেতু এ ধরনের অপরাধ দমন জরুরি মনে করা হচ্ছে এবং জেলাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যাবে না। ভারতীয় অস্ত্র আইনের ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে লেফটেন্যান্ট গভর্নর অস্ত্র উৎপাদন, আগ্নেয়াস্ত্রে পরিবর্তন আনয়ন, গোলাবারুদ বিক্রয়, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অধিকার ১ সেপ্টেম্বর ১৮৯৬ থেকে রহিত করা হলো। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্সধারীর অস্ত্র নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে জমা প্রদানের জন্য যুক্তিসংগত সময় নির্ধারণ করে দেবেন। তবে বন্যপ্রাণীর হাত থেকে বাঁচার জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে কেবল চৌকিদারি পঞ্চায়েত প্রধান সদস্যদের বন্দুক সরবরাহ করা হবে।

                                                                                          

                                                                                           সি ডব্লিউ বোল্টন

                 দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ সেক্রেটারি, বাংলা সরকার।

 

চার্লস বোল্টন জমিদারদেরও সতর্কবার্তাসহ একটি পত্র প্রদান করেন:

 

গত কয়েক বছরে বন্দুকের গুলিতে বা অন্য কোনো পন্থায় বাকেরগঞ্জে যে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, তার প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। এ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ অবস্থানে, ভয়ংকর সব অপরাধ দমনে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ব্যর্থ হয়েছে। এর একটি প্রধান কারণ কর্তৃপক্ষকে জনগণের যে সহায়তা প্রদান করা উচিত, তা না করা—এ ধরনের অসহযোগিতার কারণে খুনিরা অধিকাংশ মামলায় শনাক্তই হচ্ছে না, যদি শনাক্ত হয়ে থাকে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিচ্ছে; অথবা যথোপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ম্যাজিস্ট্রেট বা জজের কাছ থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে যাচ্ছে। খুন এবং খুনিদের বিচার না হওয়ার কারণে বাকেরগঞ্জ জেলায় যে সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা আর চলতে দেয়া যায় না। লেফটেন্যান্ট গভর্নর এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলায় সব আগ্নেয়াস্ত্র প্রত্যাহার করে নেবেন; এতে সুফল মিলবে বলে আশা করা যায়। এটাও আবশ্যক যে জমিদার এবং সব শ্রেণীর সম্মানিত ব্যক্তিরা অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সহযোগিতা করবেন। ফৌজদারি আইনের চতুর্থ অধ্যায়ে জমিদার, চৌকিদারের অন্য সবার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা আছে যে তারা অপরাধের সংবাদ জানিয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করবেন, অন্যথায় দণ্ডবিধি অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

আরো দীর্ঘ এ পত্রের শেষে বলা হয়েছে, অপরাধ ও সহিংসতা দমনে প্রত্যাশিত সাহায্য যদি পাওয়া না যায়, তাহলে সরকার আরো কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।

খুনখারাবিতে বাকেরগঞ্জ বাংলার অন্য যেকোনো জেলা থেকে কুখ্যাত এবং চিফ সেক্রেটারির কাছ থেকে এ ধরনের পত্রপ্রাপ্তি নিতান্ত অগৌরবের।

বোল্টনের সময়ই শুধু বাকেরগঞ্জের খুনখারাবি অত্যধিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং তিনি কঠোর হতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করার কারণ নেই। জেলার সব বন্দুক প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্তের ঠিক ১৩০ বছর আগে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার নবাবকে লিখে জানিয়েছেন নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং দস্যুতার সঙ্গে বাকেরগঞ্জের জমিদারের যোগসাজশ রয়েছে। এ ধরনের জমিদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি নির্দেশ দেন। বলা হতো বাকেরগঞ্জের প্রতিবেশী জেলার জনগণ তাদের শয়তানের বংশধর বিবেচনা করে।

১৮৬৮ সালে বাকেরগঞ্জে অপরাধকর্ম এত বেড়ে যায় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত অবনতি ঘটে যে পুলিশের ডিআইজি জেএইচ রেনি ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার এফ সিমনকে যৌথভাবে বিশেষ তদন্ত করতে হয়। সে বছর আগস্টে তারা সুপারিশ করেন সরকার যেন জেলার সব আগ্নেয়াস্ত্র প্রত্যাহার করে নেয়। বাকেরগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাদারল্যান্ড দেড় দুই হাজার অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেন, ধ্বংস করেন ও গভীর নদীতে নিক্ষেপ করেন।

আইনের প্রয়োগ এ জেলায় এত কম ছিল এবং তা এমন অপরাধ রাজত্বে পরিণত হয় যে বাকেরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই স্বীকার করেন যে এর সমতুল্য অপরাধপ্রবণ আর কোনো জেলা বাংলায় নেই। ১৮৮০-৮১ সালের আয়ারল্যান্ডের কোনো কোনো জেলার সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। বাংলার পুলিশ প্রশাসনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—১৮৮৭ সালে বাংলায় খুন ২৫০, যার মধ্যে বাকেরগঞ্জে ১৩ (৫ দশমিক ২০ শতাংশ); ১৮৮৯ সালে বাংলার পরিসংখ্যান ৩১৬, আর বাকেরগঞ্জে ২৭ (৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ); ১৮৯৩ সালে বাংলায় খুন ৩৫৬, আর বাকেরগঞ্জে ৫৮ (১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ); ১৮৯৫ সালে বাংলায় খুন ৩৮৯, আর বাকেরগঞ্জে ৭৬ (১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ)। এমনকি ১৯০৩ সালের হিসাবেও খুনের শীর্ষ জেলা বাকেরগঞ্জ। বলা বাহুল্য, যেসব খুনের মামলা হয়েছে কেবল তার ওপর ভিত্তি করেই এ পরিসংখ্যান। কিন্তু প্রকৃত হিসাব যদি তুলে আনা সম্ভব হতো বাকেরগঞ্জে খুনের সংখ্যা আরো বাড়ত, আরো আতঙ্কজনক একটি চিত্র সামনে আসত।

তখনকার বাকেরগঞ্জ জেলা সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা থাকা দরকার। এখনকার বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলা জেলা নিয়ে তখনকার বাকেরগঞ্জ জেলা। জেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর (ভোলা) বাদে অন্যান্য মহকুমায় খুন ও খুন প্রচেষ্টার হার অনেক বেশি। বাকেরগঞ্জের অধীন থানাগুলো ছিল: সদর মহকুমায় বরিশাল, নলছিটি, ঝালকাঠি, বাকেরগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ ও গৌরনদী; পিরোজপুর মহকুমায় পিরোজপুর, ভাণ্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, স্বরূপকাঠি; পটুয়াখালী মহকুমায় পটুয়াখালী, আমতলী, বাউফল, গলাচিপা; ভোলা মহকুমায় ভোলা ও বোরহানউদ্দিন।

১৯৬০ দশকের বাকেরগঞ্জের অপরাধ সমীক্ষক আরএইচ রেলি সহিংসতা বিশেষ করে খুনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, সেখানকার মানুষ সামাজিক বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করে না এবং নিজেদের অধিকারে টাকা-পয়সা রেখে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে।

পটুয়াখালী মহকুমায় আমতলী, গলাচিপা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর মহকুমার মঠবাড়িয়া এবং পিরোজপুরে নারী ও পুরুষের জনসংখ্যার বৈষম্যমূলক হার ক্রমবর্ধমান ঈর্ষা ও নারীর দিক থেকে অবিশ্বস্ততা অনেক ক্ষেত্রে খুনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার দক্ষিণাঞ্চলের জমি উর্বরতার জন্য প্রসিদ্ধ, সেখানে অধিকতর লাভজনক উৎপাদন কৃষিতে উত্তেজনা ও সহিংসতার সৃষ্টি করেছে।

ভোলায় খুনের হার কম হওয়ার একটি কারণ এ দ্বীপে মূলত সমমনা মানুষ বসতি স্থাপন করেছে। আধিপত্যের লড়াই এখানে তীব্র ছিল না।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে আক্রমণের জন্যই হোক কিংবা প্রতিরক্ষার জন্য—আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো ব্যবহার ছিল না। ব্যবহূত অস্ত্র ছিল বল্লম, তীর, ধনুক, টেঁটা, হুক লাগানো বাঁশের লাঠি, রামদা, মুগুর ইত্যাদি। উনবিংশ শতাব্দীতের মাঝামাঝি আগ্নেয়াস্ত্রের বিপুল সমারোহ দেখা গেল। তা কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, ব্যবহারও চলতে লাগল। ১৮৭৬ সালে ভারপ্রাপ্ত সেশন জজ সাদারল্যান্ড মিয়া খান ও অন্যদের মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আগের দিনগুলোতে জমিদাররা তাদের পোষ্য গুণ্ডাপাণ্ডাদের অস্ত্র সরবরাহ করত। তারা গোলাগুলি করত, খুন করত, খুনও হতো। কিন্তু এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক এখন সামান্য জমি বা সম্পদের অধিকার অর্জনের জন্য পরস্পরবিরোধী দুটি পক্ষ পুরোপুরি অস্ত্রসজ্জিত হয়ে যুদ্ধে নামে, পরস্পরের প্রতি নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে, আত্মীয়স্বজন এসবের পরোয়া করে না। আর এমনভাবে গুলি চালায় যেন বন্য শূকর শিকার করছে। একালে (১৮৭০ দশক) একটি বুলেট কেনার পয়সা নেই এমন রায়তের কাছেও একটি বন্দুক পাওয়া যায়। বন্দুক খুব উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। জমিদারের বীরত্ব প্রকাশের জন্য, রায়তের ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের জন্য ১৮৮০ দশক থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে খুনোখুনিও। ১৮৯৫ সালে যেখানে ঢাকা জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কোনো রিপোর্ট নেই, বাকেরগঞ্জে ৪৮ ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহূত হয়েছে বলে পুলিশ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাদারল্যান্ড প্রকারান্তরে উল্লেখ করেছেন আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকার বাকেরগঞ্জবাসীর আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বন্দুক ব্যবহার করে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ‘পালোয়ান’ নিয়োগ করা হয়েছে। পালোয়ান মানে এখানে কুস্তিগির নয়, পালোয়ান হচ্ছে বন্দুক চালাতে দক্ষ পেশাদার খুনি। জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ই সি রাইল্যান্ড লিখেছেন, খুনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিজন পালোয়ানের প্রাপ্য ছিল ১০০ টাকা। একটি টার্গেটের জন্য সাধারণত দু-তিনজন পালোয়ান নিয়োজিত হতো। কিন্তু অপরাধ বাজারে পালোয়ানের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় তাদের কেউ ৫০ টাকায় নেমে আসে। কিছুকাল পর তা আরো কমে ২৫ টাকায় ধার্য হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পালোয়ান শনাক্ত না হওয়ায় এবং ধরা না পড়ায় এটা শাস্তিহীন, দায়হীন একটি পেশায় পরিণত হয়। একটি খুনের জন্য ১৫ টাকায় চুক্তি হয় এবং ৫ টাকা আগাম দেয়া হয় এবং সাফল্য অর্জনের পর বাকি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

জেলার অবস্থাপন্ন অধিবাসীরা এ ধরনের ‘বদমাইশ’ লালন করত এবং তাদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধকর্ম করিয়ে নিজেদের আড়ালে রাখত।

বাকেরগঞ্জে অজস্র খালের নেটওয়ার্ক। ভাড়া করা খুনিরা খাল দিয়ে নৌকা বেয়ে তাদের সম্ভাব্য ভিকটিমের বাড়ির কাছে গিয়ে রাতের বেলায় ঠাণ্ডা মাথায় অপারেশন চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করত। মারণাস্ত্রধারী হওয়ায় কেউ তাদের তাড়া করত না। প্রকৃত ঘাতক (পরিকল্পনাকারী ও খুনি নিয়োগকারী) এবং ভাড়াটে ঘাতক (পালোয়ান) উভয়ই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যেত।

বংশানুক্রমিক দুশমনি ও প্রতিশোধ স্পৃহা বাকেরগঞ্জে খুনের আধিক্যের অন্য একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ১৮৮৮ সালে রহিম আলী গুলি করে বেশম্বর শাহকে হত্যা করে। রহিম আলী ধরা পড়ে সেশনস কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত হলেও হাইকোর্টে খালাস পেয়ে যায়। ১৮৯০ সালে বেশম্বর শাহের পুত্র গুরুচরণ নিজ হাতে রহিম আলীকে খুন করে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়। পাঁচ বছর পর ১৮৯৫ সালে রহিম আলীর একজন আত্মীয় সুযোগ পেয়ে গুরুচরণকে হত্যা করে।

শত্রুকে ফাঁসাতে বাকেরগঞ্জের মানুষ নিজের কন্যা ও জননীকে হত্যা করতে সিদ্ধহস্ত। বাকেরগঞ্জের এসপি শাহবাদের চার খুনের একটি মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী এভাবে তুলে ধরেন:

A খুন করে B কে

B-এর ছেলে A কে খুন করে

C ঘটনাটি দেখে ফেলে এবং B-এর ছেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়

C অতঃপর খুন হয়

C-এর ছেলে B-এর ছেলেকে খুন করে।

সাদারল্যান্ড তার সমীক্ষায় দেখিয়েছেন বাংলায় এমন কোনো জেলা নেই যেখানে মানুষের জীবনের মূল্য এত কম।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষপ্রান্তে পুলিশ ইন্সপেক্টর কালি কিশোর চৌধুরী বাকেরগঞ্জে এক ব্যক্তির বাড়িতেই ২৯টি বন্দুক পেয়েছেন। বাংলার অপরাধের ইতিহাস রচয়িতাদের কাছে এসব কারণেই সবার আগে উঠে আসে বাকেরগঞ্জের নাম। সেজন্য ১৮৯৫ ও ১৮৯৬ সালে পুরো জেলাকেই নিরস্ত্র করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

 

ইবনে মোতালিব: লেখক