সাহিত্যমাধ্যম হিসেবে বাংলা ছোটগল্পের সাফল্য বিস্ময়কর। এ ভাষায় লেখা হয়েছে অসংখ্য শিল্পসফল ছোটগল্প। এর কোনো কোনোটি আমাদের স্মৃতিতে হানা দেয় প্রতিদিন, কখনো তাত্ক্ষণিকভাবে উঁকি দিয়ে যায় কোনো কাহিনী, কোনোটি দিনযাপনের ভাষ্যকার। তেমন কিছু ছোটগল্প নিয়ে এ ধারাবাহিক—

‘মহাকালের খাঁড়া’ প্রথম পড়ার স্মৃতি এখনো মনে করা যায়। কায়েস আহমেদের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ লাশকাটা ঘরের (১৯৮৭) এ লেখাটা প্রথম পড়েছিলাম প্রায় বছর সাতাশেক আগে। তখন উত্তীর্ণ কৈশোর। আমাদের শহরের লাইব্রেরিতে সবে এসেছে এ বই। প্রচ্ছদে কয়েকটি বর্গাকৃতির খোপ, সেখানে ব্যবচ্ছেদ করা মানুষের শরীর, শিরোনামে লাশকাটা ঘর কথাটা হাতে লেখা, তালব্য-শ একটু যেন ‘বা’-এর মতো হয়ে আছে। এক বন্ধু হাতে নিয়ে ইচ্ছে করেই সেভাবে পড়ল, ‘লাবাকাটা ঘর’।

সেদিন সন্ধ্যার মুখে ঠাণ্ডা বাতাসসহ বেশ বৃষ্টি পড়েছিল। বৃষ্টি থামার পরও চারদিকে ভিজে ভাব, যেন ‘শান্তি খুব আছে’। সন্ধ্যার পর পর ওই বইয়ের প্রথম গল্প ‘পরান’ পড়া হয়ে গেলে এর পরের ‘মহাকালের খাঁড়া’ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পড়তে শুরু করি। ‘পরান’-এ জেলেপাড়ায় ডাকাতি আর সেখানকার মেয়ে আলো রানীর ধর্ষিত হওয়া এবং এর পর ডাকাতদের কাছ থেকে আঁচল লুটিয়ে ধীরপায়ে নিজের বাড়ির দিকে ফিরে আসার বর্ণনা পাঠের বিহ্বলতা তখনো কাটেনি। কিন্তু ‘মহাকালের খাঁড়া’ পড়তে শুরু করেই বুঝি আগের গল্পের জায়গাজমি, মানুষ থেকে এ গল্পের ভূগোল আলাদা। ‘পরান’ বাংলাদেশের যেকোনো জেলেপাড়ার পটভূমিতে, হতে পারে বিক্রমপুর অঞ্চল। ওদিকে মহাকালের খাঁড়া ভূগোল পশ্চিম বাংলার, নকশালবাড়ী আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা।

চোলাই মদের কারবারি ভরত কোলে ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে। সরল ও ছোট ছোট বাক্যে গল্প এগোয়। ভরতের ভয় পাওয়ার কারণ যথার্থ। কিছুদিন ধরেই খবরটা শুনেছে। ‘প্রথম প্রথম খবরের কাগজে, তার পর হোটেল, বাজারে, রেলে, বাসে।’ খবরটা এই: “আলের ধারে ফ্ল্যাগ পুঁতে ধান কেটে নিয়ে যাওয়া, রাস্তার ধারে গলা কেটে রাখা, পুলিশের সঙ্গে পাইপগান নিয়ে সামনাসামনি লড়াই— এসবই শোনা কথা, খবরের কাগজে পড়া। বর্ধমানের সা’ বাড়ির ঘটনাটা তো রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু এমন করে তার দোরগোড়ায় এসে যাবে ভাবতে পারেনি।”

এ সমাচার দোরগোড়ায় এসেছে কালীপূজার ক’দিন আগে। তাদের গ্রামের লালবেহারী ডাক্তারের ভাই পরিমলের মাথাটা কারা যেন তারই বাজারের থলিতে তরিতরকারির ভেতরে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেছে। এজন্য ভরতের ভয় পাওয়া খুব স্বাভাবিক। দুই কামরার মাটির ঘর থেকে এ তিনতলা দালান হয়েছে তার। যে মানুষ বছর বিশেক আগে শ্রীরামপুরে জুতার দোকানে মাস মাইনের চাকুরে ছিল, সে এখন অঢেল সম্পত্তির মালিক। নিজে এক ফোঁটা মদ ছোঁয় না। টাকা করা, সম্পত্তি করাই তার একমাত্র নেশা। শোনাকা, বারুইপাড়া, বাকসা, মণিরামপুর, আদান, জনাই, বেগমপুর, চণ্ডীতলা, গরলগাছা, হাটপুকুর, কুমিরমাড়াজুড়ে তার এ গোপন কারবার কুড়ি বছর ধরে চলে আসছে। এসব কারবারকে সে পাপ মনে করে না। সহকারবারি অনোখীলালের একটা কথাই তার সবসময় মনে থাকে: ‘ভরতবাবু, গরিবের আবার পাপ কি! গরিব হওয়াটাই পাপ!’ বাপের ঋণ মেটাতে প্রথমে মালিকের মাল হাতসাফাই করেছে, তার পর যুদ্ধের বাজারে সুতা পাচার, এর পর চোলাই মদের কারবার আর ওয়াগান ভাঙা মালও সে কালোবাজারে বেচে। সেই মানুষের ‘মাসখানেক আগে গরলগাছার রাস্তার ধারে এক বাড়ির গায়ে আলকাতরা দিয়ে বড় বড় হরফে লেখা ‘শ্রেণী শত্রু খতম চলছে চলবে’ দেখে বুকের ভেতর কলজে লাফিয়ে ওঠা স্বাভাবিক। বাড়ির মাইল চারেকের ভেতরে এমন ব্যাপার এসে পড়ায় ভেতরে ভেতরে সিটিয়ে যায় ভরত। আশপাশের লোকজনের দিকে মুখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারে না, কী জানি কার ভেতরে কী আছে। তাই তার ছেলে সুরেনকে আড়ালে ডেকে সাবধান করে দিয়েছে, ‘খবরদার, কোনো ঝুট-ঝামেলায় যাবি না, খদ্দেরের সঙ্গে রাগ-ঝাল করবি না, আর আড্ডা বসাবি না দোকানে, রাজনীতি ফাজনীতির আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক করবি না।’

একমাত্র ছেলে সুরেনকে নিয়ে যত জ্বালা ভরতের। ইলেভেন ক্লাস পর্যন্ত পড়া ছেলে বাপের সম্পদের সুযোগে আগাগোড়াই বেয়াড়া ও উড়নচণ্ডী। নিজেদের গ্রামের গোপী দত্তের মেয়ে সবিতার সঙ্গে ভাব-ভালোবাসা করে বাপকে বেশ ভুগিয়েছে এরই মধ্যে। তাই রেডিও মেকানিজমে ভর্তি করিয়ে পরে বেগমপুর স্টেশনে রেডিও-ট্রানজিস্টর মেরামতের দোকান দিয়ে দিয়েছে ভরত। তার পর সুরেনকে বিয়েও দিয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় গড়পড়তা কাহিনী। বাংলার কোনো প্রান্তে জনজীবনে এ ঘটনা আর তার বর্ণনা গল্প-পাঠকের জানাই থাকে। তাছাড়া নকশালবাড়ী আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি গল্পে প্রায় এমন কাহিনীই থাকার কথা। কায়েস আহমেদের বর্ণনাও উত্তাপহীন। গল্প এগোয় আর হঠাত্ ভরতের জীবনের পেছনের ঘটনা সামনে আসে। এ গল্প তো ভীষণ ভয় পাওয়া ভরত কোলেরই, যাকে তার কারবারের জন্য পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে আর এর আগে সমাজতন্ত্রওয়ালারা পিটিয়েছে। উত্তাপহীন গতিতে গল্প এগোয়। এমনকি আজ কালীপূজার দিন যখন ভরতের স্ত্রী সরোজিনী তাদের ছেলে সুরেনকে দোকান থেকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলে, তখন পর্যন্ত কোনোভাবেই বোঝা যায় না, গল্প কোন দিকে এগোচ্ছে।

কালীপূজার রাত। ভরতের বাড়িতে পাকা মন্দির। সেখানে খাঁড়া হাতে মূর্তিমান মা কালী। পূজার আয়োজনে কোনো ত্রুটি নেই। এমনিতে ভরতের বাড়িভর্তি আশ্রিত। এখন আত্মীয়স্বজন আর ঢাকের বাড়িতে এমন অমাবস্যার রাত মুখর।

এর ভেতরে কালী পূজার রাত বলেই দোকান আটকে বেগমপুর স্টেশনের কাছে কোথাও সুরেন ইয়ারদোস্তদের সঙ্গে মৌতাতে মাতে। তাতে রাত বাড়ে। সাড়ে ১০টা নাগাদ টলমল পায়ে বাড়ির দিকে রওনা হয় সে। জেলেপাড়ায় আগে সে নেশার ঘোরে সাবেক প্রেমিকা সবিতাকে দেখে যেন তারই অপেক্ষায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় তার পরিচিত যুবক সাইকেল আরোহী ঝন্টু জানতে চায়, ‘কে সুরেনদা?’ তার পর ঝন্টু এগিয়ে যায়। কিন্তু সুরেনের সামনে থেকে সবিতা কোনোভাবেই সরে যায় না। টলমল পায়ে সবিতার শাড়ির আঁচল দেখে সুরেন ডাকে, ‘সবিতা, দাঁড়াও, সবিতা প্লিজ।’

সুরেনের ‘জিভ কৈ মাছের মতো ছটফট করে মুখের ভেতর।’ এই যে বর্ণনা, এ গল্পে বাস্তব আর বর্ণনার পরাবাস্তবতার মিশেলে পাঠককে এক স্বাভাবিক ঘোরে নিয়ে যায়। এমনকি ভরত কোলের এত ভয় পাওয়ার ধারাবাহিকতায় গল্প যেদিকে যাচ্ছিল, সেখানেও যেন থাকল না, পাঠক তা ভেবে নিতে পারে। ভরতের ভয় পাওয়া দিয়ে গল্পের যে আনুমানিক গতি তৈরি হয়, তার সঙ্গে একটু পরের বর্ণনাও দূরবর্তী, একেবারে কল্পনার বাইরে। না, গল্প-কল্পনা নয়, গল্প বর্ণনার কল্পনা। এতক্ষণ গল্প যে বর্ণনায় পড়া গেছে, এখনো গদ্যের গতি তা-ই। শান্ত উত্তাপহীন। কিন্তু এর ভেতরে প্রায় অমানুষিক ও অকল্পনীয়, যেখানে পৌঁছার জন্যে মাঝখানে আরো প্রায় আড়াই পৃষ্ঠা। সুরেন বাড়ির দিকে এগোচ্ছে। এদিকে বটতলায় আশশ্যাওড়ার ঝোপের কাছে অপেক্ষারত সুদীপ, ঝন্টু, অনাদি আর হরি। তাদের একজনের হাতে চটের ব্যাগ, তারা সতর্ক হয়ে রাস্তায় নামে। তার পর এক দৌড়ে পাড় উঁচু বাঁশবাগানে উঠে দ্রুত নিজেদের আড়াল করে ফেলে। এর পর বাঁশপাতায় আওয়াজ তুলে মাতাল পায়ে এগিয়ে আসা সুরেনকে তারা দেখতে পায়। একজন বলে, ‘আরে শ্শালা। গোপাল তুমি এখানে!

এর পর ঝন্টু ড্যাগার চালায়। ঘাইটা সেভাবে জমেনি। সুরেন থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে কান্না ভাঙা গলায় বলে, ‘আমায় মারিস না প্লিজ, তোদের পায়ে পড়ি, আমার বউয়ের বাচ্চা হবে।’ শুনে হরি বলে, ‘তাই নাকি? ঝন্টে, তাহলে তো শালার যন্তরটাই সাবড়াতে হয় আগে।’ সুদীপ সুরেনের মুখে রুমাল গুঁজে দেয়। হরি আর অনাদি তার দুই হাতের ওপর দাঁড়ায়, সুদীপ মুখে রুমাল দেয়।

পাঠক হিসেবে স্নায়ুতে টান পড়ার শুরু। শ্বাস রুদ্ধ। যদিও কায়েস আহমেদের অসাধারণ বর্ণনায় প্রায় উত্তাপ ও উত্তেজনাহীন, কিন্তু চোরাস্রোতে প্রবহমান:

ঝন্টু সুরেনের দুই হাঁটুর ওপর বসে ধুতি খোলে, ড্যাগার দিয়ে দড়ি কেটে আন্ডারওয়্যার নামিয়ে দেয়।

সুরেন গলার দুই পাশের শিরা ফুলিয়ে চিত্কার করে, কিন্তু তার টাকরা পর্যন্ত ঠাসা রুমাল, আওয়াজ বেরোয় না, খুব ক্ষীণ হাওয়া বেরোনোর অদ্ভুত একটা আওয়াজ হতে থাকে, ক্রমান্বয়ে সে মাথা এপাশ-ওপাশ করে। হাত টানে। ওপরে-নিচে কোমর নাড়ে। ঝন্টু আরেকটু সামনে এগিয়ে ঊরুর ওপর আরো চেপেচুপে বসতে বসতে বলে, ‘হাঁ হাঁ, শালা চিত হয়ে মনে মনে বউকে ঠাপা।’

বাম হাতে সে সুরেনের কুঁকড়ে যাওয়া শিশ্ন মুঠো করে ধরে ইলাস্টিকের মতো টেনে লম্বা করে। তার পর ডান হাতের ড্যাগার দিয়ে পোঁচ দেয়। বেশি দিতে হয় না, গোটা দুয়েক পোঁচেই কাজ হয়। তীক্ষমুখী রক্তধারা পিচকারি দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় কি হয় না, সুদীপ সুরেনের ধুতির খুঁট দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরে। ঝন্টুর মুঠোর ভেতরে সুরেনের লিঙ্গ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে।

বুকের ধুঁকপুকানি বাড়িয়ে তোলা উত্তেজনা আপাতত শেষ। এমনকি রুদ্ধ নিঃশ্বাস ছেড়ে দিয়ে ওই অংশ দ্বিতীয়বারও সঙ্গে সঙ্গে পড়া যায় না। এর একটু পর আবার যখন সুরেন ‘আর তেমন দাপাদাপি করে না, ...শুধু একটনা ক্ষীণ গোঙানি আর কোমরের মৃদু মৃদু কাঁপন, কখনো এ পা কখনো ও পা একটু-আধটু টানে। চোখ স্থির। হয়তোবা সুরেনের অজ্ঞান অবস্থায়ই হরি তার গলায় ছুরি চালায়।’ হরি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। অনাদি একটু দূরে প্রস্রাব করতে বসে। সুদীপ উঠে আড়মোড়া ভাঙে। আর ‘ততক্ষণে ঝন্টু একটা শুকনো কঞ্চি কুড়িয়ে নিয়ে তার আগায় সুরেনের কর্তিত লিঙ্গটি গাঁথে। তার পর সুরেনের দুই ঊরুর মাঝখানে কঞ্চিটাকে পুঁতে দেয় মাটিতে।’ সুরেনের ডান কাঁধ দিয়ে ‘গলা কাটা চলছে চলবে’ স্লোগানের লম্বা একটা কাগজ বিছিয়ে দিয়ে তারা স্থান ত্যাগ করে।

গল্প এগিয়ে যায়। সুরেন তো এ গল্পে এসেছে ভরত কোলের অনুষঙ্গে। ফলে গল্প ফেরে ভরত কোলের কাছে। কিছুক্ষণ বাদে ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে নতুন বাঁশের খাটিয়ায় শুয়ে মানুষের কাঁধে চড়ে সুরেন বাড়ি ফেরে।’

তার পর পূজার বাড়িতে ঢাকের বাদ্যি আগেই থেমে গেছে। ‘মণ্ডপের ভেতরে টিনের খাঁড়া হাতে দেবীকে সঙের মতো মনে হয়।’ সেখানে শিকল ছেঁড়া উন্মাদের মতো ভরত কোলে দৌড়ে আসে:

‘আমায় কেন নিলি না মা, আমায় কেন নিলি না।’ ... কোষাকুষি ছিটকে পড়ে, [...] প্রৌঢ় ভরত দেবীর পদপ্রান্তে মাথা ঠোকে: আমি মহাপাপী... আমি মহা পা-পী-ই-ই... ভরত কোলে মাথা দোলায়: ‘আমিই রাক্তবীজ মা, আমিই অসুর... আমিই অসুর... ও হো হো হো হো... আমায় কেন...’ তার কণ্ঠস্বর ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ‘বা বা সু রে ন রে-এ-এ-এ... ও হো-হো-হো-হো।’...

গল্পের শেষটুকু তাই মহাকালের অন্তর্গত করে দিতেই যেন কায়েস আহমেদ লিখলেন, ‘মানুষ নিসর্গ, রাত্রিকাল— সমস্ত চরাচরকে ছিন্নভিন্ন করে এ লবণাক্ত চিত্কার মহাশূন্যতায় মিশে যেতে থাকে।’

প্রথম পড়া থেকে আরো অনেকবার, প্রতিবারই এ গল্প পাঠের প্রবল উত্তেজনাময়তা কোনোভাবে ভোলা যায় না। সেদিনের ‘শান্তি খুব আছে’র সেই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা, তার পর রুদ্ধশ্বাস বিহ্বলতার ভেতর দিয়ে রাতের দিকে ঢুকে যায়। সুরেনের শেষ মুহূর্তের আর্তআস্ফাালন চোখে ভাসে, ভরতের মাতম কানে লাগে। কায়েস আহমেদের উত্তাপহীন নিস্পৃহ কলমের সক্ষমতা বোধে গেঁথে থাকে। মহাকালের সে খাঁড়া অদৃশ্য হয়েও দৃশ্যমান!