ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলাবতী নাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে উপমহাদেশে, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গে, ব্রিটিশ বা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে এবং নারী জাগরণের আন্দোলনে যে নারীরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে লীলা নাগ, (বিবাহোত্তর পদবি ‘রায়’) অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন মহান সমাজ সংস্কারক, কট্টর নারীবাদী এবং একজন বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী। তিনি উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি নারী সাংবাদিক ও ‘জয়শ্রী’ পত্রিকার সম্পাদক। নারী জাগরণের কিংবদন্তি  লীনা নাগ তার সময়ের অন্য অনেক মেয়ের কাছে ছিলেন সাহস, প্রত্যয়, নিষ্ঠা ও ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বলাবাহুল্য, উপমহাদেশের স্বাধীনতা ও নারী মুক্তির অগ্রদূত এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা লীলা নাগ সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই হয়তো ভালো ধারণা নেই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী তথ্যটি বাদে তার বর্ণাঢ্য জীবন অনেকটাই আলোচনার বাইরে।

এ লেখার উদ্দেশ্য বিপ্লবী লীলা নাগকে তুলে ধরা। বিশেষ করে তার ঘটনাবহুল সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং তত্কালীন পূর্ববঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী বৈপ্লবিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার ঘটনা।

লীলা নাগের জন্ম ১৯০০ সালের ২ অক্টোবর তত্কালীন আসামের গোয়ালপাড়ায়। মা-বাবা তাকে আদর করে ‘বুড়ী’ নামে ডাকতেন। তার পিতৃপুরুষের বাড়ি বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে। তবে তাদের আদিনিবাস ছিল ঢাকা জেলার ‘বারদি’ গ্রামে। পরিতাপের বিষয় বর্তমানে পাঁচগাঁও গ্রামের তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী পৈতৃক বাড়ির স্মৃতিচিহ্ন মুছে যাওয়ার পথে।

লীলা নাগের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু বিহারের এক অখ্যাত স্কুলে। তারপর তিনি কলকাতার এক ব্রাহ্ম বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকার ইডেন হাই স্কুল থেকে ১৯১৮ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পাস করে কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯২১ সালে বিএ পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণপদক লাভ করেন। কলকাতা থেকে ফিরে এসে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন এবং ১৯২৩ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য, তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ছাত্রী এবং তার হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার সূচনা হয়েছে। লীলা নাগ ১৯৩৯ সালে সহযোদ্ধা ও বিপ্লবী কর্মী অনিল রায়কে বিয়ে করেন এবং বিয়ের পর তার নাম হয় লীলাবতী রায় (সংক্ষেপে লীলা রায়)।

লীলা নাগের স্বাস্থ্যহানি ঘটতে থাকে ১৯৬৬ সাল থেকেই। তাকে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ দিন পর তার জ্ঞান ফিরে এলেও বাকশক্তি আর ফিরে আসেনি। ডানদিক সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। একই বছর আগস্টের শুরুতে সেরিব্রাল আক্রমণে তার সংজ্ঞা পুরোপুরি লোপ পায়। দীর্ঘ সময় সংজ্ঞাহীন থাকার পর অবশেষে ১৯৭০ সালের ১১ জুন কলকাতায় এ মহীয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মায়ের প্রভাবে কিশোরী লীলা নাগের জীবনে ত্যাগ ও মানব সেবার মহান আদর্শ অঙ্কুরিত হয়। তার মা ছিলেন স্বাদেশিকতার মন্ত্রে দীক্ষিত। কৈশোর থেকেই মেয়েদের সম্পর্কে বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে লীলা নাগের মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কেননা সমাজে মেয়েরা অবহেলিত, মর্যাদাবোধ ও শিক্ষার অভাবে তাদের ওপর সামাজিক নির্যাতন তার হূদয়কে বেদনার্ত করে তুলেছিল এবং মেয়েদের জন্য কাজ করার তীব্র আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের পরে তিনি শুরুতেই অবহেলিত নারী সমাজের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃত্ত করেন। মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সমান গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে মাত্র ১২ জন সহকর্মী নিয়ে তিনি ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে মহিলাদের জন্য ‘দীপালি সংঘ’ নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সমিতির মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার অবহেলিত মহিলাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতাকে উৎসাহিত এবং নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ প্রদান ও স্বাবলম্বী করা। পরবর্তী সময়ে ‘দীপালি সংঘ’ নারী সংগঠন থেকে বিপ্লবী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছিল। জানা যায়, সুপরিচিত বিপ্লবী নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের সেই সংঘ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

লীলা নাগ ১৯২৪ সালে দীপালি সংঘের সহায়তায় ‘দীপালি স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই স্কুলের সহায়তায় তিনি আরো ১২টি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের নানাবিধ শিক্ষা ও বয়স্কা মহিলাদের সাক্ষরতা লাভের ব্যবস্থা ছিল। তিনি ১৯২৮ সালে ‘নারী শিক্ষা মন্দির’ ও ‘শিক্ষা ভবন’ নামে আরো দুটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানসহ ঢাকায় কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপন করেন। এ হোস্টেল বিপ্লবী নারীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল।

বলা হয়, লীলা নাগ চিন্তা ও চেতনায় ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢাকায় তার প্রতিষ্ঠিত দীপালি স্কুল মুসলমান নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। এছাড়া ১৯২৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়ে তিনি অক্লান্ত চেষ্টায় ঢাকায় হিন্দু-মুসলমান মহিলাদের সংগঠিত করে বিশাল শান্তি মিছিল বের করেছিলেন।

লীলা নাগের কাছে রাজনীতি ছিল বন্ধনমুক্তির এক অন্তহীন যাত্রা। ১৯২০ সালে কলকাতার বেথুন কলেজে অধ্যয়নের সময়ই অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাব পড়ে তার জীবনে। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন হন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়েছিলেন। তার কারণও ছিল। ‘জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী আন্দোলন (১৮৮৬-১৯৪৭)’-এর চতুর্থ স্তরে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের অনেক মেয়ে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করেছিলেন। লীলা নাগ ছাড়া অন্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হেলেনা গুণ, বনলতা সেনগুপ্ত, শান্তিসুধা ঘোষ, প্রমীলা গুপ্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ইন্দুসুধা ঘোষ, কল্যাণী দাশ, বীণা দাশ প্রমুখ। তাদের প্রত্যেকের বাবা ছিলেন সাধারণ প্রশাসনের উচ্চপদে চাকরিরত কর্মচারী কিংবা সম্মানিত শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত।

১৯২৮ সালে বাংলার বিপ্লবী দলগুলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর চারপাশে সমবেত হতে থাকে। বিপ্লবী সহকর্মীদের সঙ্গে অনিল রায় ও লীলা নাগ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। লীলা নাগ তখনো বিপ্লবী দলের নেপথ্যে কাজ করতেন। যাহোক, নিখিল ভারত মহিলা সম্মেলনে বাংলার নারী আন্দোলনের ইতিহাস উপস্থাপনের সময় লীলা নাগ মঞ্চে ওঠার মধ্য দিয়ে তার বিপ্লবী দলে যোগদানের পথ সুগম হয়।

লীলা নাগ ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য করে সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময় ঢাকায় আশালতা সেনের সঙ্গে ‘মহিলা সত্যাগ্রহ কমিটি’ গঠন করে কাজ করেন। তখন তিনি বিপ্লবী দলেরও নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিলেন। একই বছর বাংলার সব বিপ্লবী দলের নেতৃস্থানীয়দের ইংরেজ সরকার একযোগে গ্রেফতার শুরু করলে অনিল রায় ও তার কয়েকজন সহকর্মী গ্রেফতার হন। তখন শ্রীসংঘের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন লীলা নাগ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, লীলা নাগ কারণে অকারণে অনেকবার কারাবরণ করেছেন। ১৯৩১ সালের এপ্রিলে কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুজন তরুণী জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তত্পর হয়ে ওঠে এবং একই বছরের ডিসেম্বরে দীপালির প্রদর্শনীর কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স অ্যাক্টের আওতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ সময় কারাগারে বন্দি জীবন কাটানোর পর তিনি ১৯৩৭ সালের অক্টোবর মুক্তিলাভ করেন। সেই সময় তিনি সমগ্র বাংলার সব বিপ্লবী এবং দেশপ্রেমিক নারী-পুরুষ জনতার কাছে ‘কল্পলোকের রানী’ হিসেবে প্রশংসা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে আরো অনেকবার কারাভোগ করতে হয়েছে। ১৯৩৮ সালের জুলাইয়ে বিপ্লবী নেতা অনিল রায় ও লীলা নাগকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আগস্টে মুক্তি পান। উল্লেখ্য, মুক্তি লাভের পরেই দুজনে তাদের বামপন্থী সহকর্মীদের নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং নেতাজির সহযোগী হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নেতাজি কর্তৃক বামপন্থীদের নিয়ে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ গঠনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে মার্চে লীলা নাগকে নিরাপত্তা বন্দি হিসেবে কারাগারে আটক করা হয় এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান ১৯৪৬ সালে। উল্লেখ্য, লীলা নাগ ভারতবর্ষে বিনা বিচারে আটক প্রথম নারী রাজবন্দি।

কংগ্রেসের সভাপতি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৩৮ সালে ‘জাতীয় পরিকল্পনা কমিটি’ গঠন করলে কার্যকরী কমিটির মহিলা সাব-কমিটির সদস্যা হিসেবে লীলা নাগ যোগ দেন। এ দলের সঙ্গে থেকেও পরে তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে তিনি পুনরায় নেতাজির পথ অনুসরণ করেন এবং বিয়ের পর একই বছর তিনি স্বামী অনিল রায়ের সঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগ দেন। হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনে তারা দুজনেই ১৯৪০ সালে গ্রেফতার হন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে লীলা নেতাজির পরামর্শে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব লাভ করেন।

‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সময় ১৯৪২ সালে পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি একই বছরের ৯ ডিসেম্বর বাংলা থেকে ভারতের গণপরিষদে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলার একমাত্র মহিলা সদস্য, যিনি বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ভারত ভাগের প্রতিবাদে কয়েক মাস পরে তিনি তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

লীলা নাগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত ঢাকা ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও তিনি বিভিন্ন উপলক্ষে সিলেটসহ সেকালের পূর্ব বাংলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছেন, যেমন ১৯৩০-৩১-এর উত্তাল আইন অমান্য আন্দোলন ও গোপন সশস্ত্র বিপ্লবী সংগ্রামের সময় তিনি সিলেটে যান। শ্রীহট্ট মহিলা সংঘের (জাতীয় কংগ্রেসের মহিলা শাখা) সুরমা উপত্যকা সম্মেলনে যোগদান করা ছিল তার সেই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

‘অনন্য বিপ্লব-সাধক জীবনশিল্পী’ খ্যাত লীলা নাগ ছিলেন আজীবন বিপ্লবী। তার কর্মজীবন ছিল বিচিত্র ও দুঃসাহসী। তার দীর্ঘ ৫০ বছরের কীর্তিময় সংগ্রামী জীবনের এমন অনেক ঘটনাই আছে, যেসব ঘটনার জন্য ইতিহাস কখনই তাকে ভুলবে না। তিনি মূলত ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তা সত্ত্বেও তত্কালীন ভারতবর্ষের নারীদের সামাজিক অবস্থানের উন্নতির জন্য তার যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। তবে এ কথা স্বীকার করতেই হয়, রাজনৈতিক, ক্ষমতায়ন, সামাজিক উন্নয়ন এবং নারীর স্বাধীকারের বিস্তারে অন্যান্য নারী কর্মীর সঙ্গে লীলা নাগের অবদান নির্ণয়ের বিষয়টি খুবই তত্পর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, লীলা নাগ তার সপ্তদশ জন্মদিন উপলক্ষে (অর্থাৎ ১৯১৭ সালের ২ অক্টোবর) পিতা গিরীশচন্দ্র নাগকে একটি চিঠি লিখেছিলেন এবং তাতে তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক চিঠির আংশিক উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি এই লেখা।

লীলা নাগ লিখেছিলেন, ‘আমার ক্ষুদ্র শক্তি যদি একটি লোকের উপকার করতে পারত, তবে নিজেকে ধন্য মনে করতুম। সত্যি বলছি—এ আমার বক্তৃতা নয়, এটা আমার প্রাণের কথা। এই আমার Ideal।...’

 

তথ্যসূত্র:

অজয় রায় (সম্পাদিত), লীলা নাগ: শতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা।

সুতপা ভট্ট (গুহ), ২০১৭, বিভাগ-পূর্ব ও পূর্ব বাঙলার রাজনীতিতে তিন জাতীয়তাবাদী নেত্রীর ভূমিকা ও অবদান (লীলা নাগ-রায়, ফুলরেণু গুহ, বীণা দাস ১৯৩১-৭৭), পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, ইতিহাস বিভাগ, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা।

শ্যামলী গুপ্ত (সম্পাদিত), শতবর্ষের কৃতি বঙ্গনারী, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রা. লি., কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ২০০১।

Mahvish Shahab, 2018, Leela Roy: Bengal’s Only Woman In The Constituent Assembly, Published in the ‘Feminism In India’ Weekly Newsletter, August 14, 2018.

 

ফজল হাসান: লেখক ও অনুবাদক