বাকেরগঞ্জের বর্তমান
যে অবস্থান,
তার অতীত
ইতিহাসের দিকে
নজর দিলে
সেখানকার এককালের
স্বাধীন শাসকদের
হদিস পাওয়া
যায়। বর্তমান
অবস্থানের কথা
উল্লেখ করা
হলো কেননা
মধ্যযুগের ইতিহাসে
বাকেরগঞ্জকে পাওয়া
যায় না—পাওয়া
যায় চন্দ্রদ্বীপকে।
কিন্তু স্থান
হিসেবে দুটো
ভিন্ন হলেও
বৃহত্তর অর্থে
একই। তাই
বারোভুঁইয়াদের ইতিহাসে
চোখ বোলালে
চন্দ্রদ্বীপের বারোভুঁইয়ার
রোমাঞ্চকর ইতিহাসে
চোখ আটকায়।
সেখানকার ভুঁইয়ারা
এককালে বর্তমানের
ভিত গড়েছিলেন।
তাদের স্থাপিত
রাজধানী, মন্দির
থেকে শুরু
করে রেখে
যাওয়া সামাজিক
নিয়মের ভিত্তিতেই
বহুদিন এ
অঞ্চলের মানুষ
জীবনযাপন করেছে।
বাকেরগঞ্জ অঞ্চলের
ইতিহাস তাই
বারোভুঁইয়ার ইতিহাস
ছাড়া পূর্ণতা
পায় না।
চন্দ্রদ্বীপের বারোভুঁইয়া
হিসেবে কন্দর্পনারায়ণ
সর্বাধিক পরিচিত।
তবে তারও
আগে চন্দ্রদ্বীপ
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন
দনুজমর্দন বসু।
কেউ কেউ
তাকে দনুজমর্দন
দেব আবার
কেউ দনুজমর্দন
রায় বলেও
উল্লেখ করেন।
দনুজমাধব/দনুজদমন
বলেও তিনি
পরিচিত। তবে
সোনারগাঁর দনুজমাধব
এবং চন্দ্রদ্বীপের
দনুজমর্দন এক
ব্যক্তি নন।
দনুজমর্দনের শাসনকাল
সম্পর্কে কৈলাসচন্দ্র
সিংহ স্পষ্ট
কোনো সময়
উল্লেখ করেননি।
তবে তার
উত্তরপুরুষের যে
ধারা পাওয়া
যায় তাতে
বলা যায়
এ ব্যক্তি
কন্দর্পের কয়েকশ
বছর আগে
জীবিত ছিলেন।
কৈলাসচন্দ্র সিংহ,
নগেন্দ্রনাথ বসু,
দীনেশচন্দ্র সেন
প্রমুখের উপস্থাপিত
নানা তথ্য
ও যুক্তি
অনুসারে ধারণা
করা যায়,
দনুজমর্দন মোটামুটি
লক্ষ্মণ সেনের
সমসাময়িক। দনুজমর্দনের
রক্তধারার আরো
চার পুরুষ
চন্দ্রদ্বীপ শাসন
করেন। এ
বংশের পঞ্চম
রাজা জয়দেব
রায় অপুত্রক
মৃত্যুবরণ করায়
তার দৌহিত্র
পরমানন্দ রায়
চন্দ্রদ্বীপের অধিকারী
হন।
পূর্বপুুরুষের সময়
সম্পর্কে সন্দেহ
থাকলেও কন্দর্পনারায়ণ
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে
চন্দ্রদ্বীপের অধিকার
লাভ করেন
বলে সবাই
মত প্রকাশ
করেছেন। আনুমানিক
ওই বছরই
কন্দর্পের পিতা
জগদানন্দ রায়ের
মৃত্যু হয়।
জগদানন্দের মৃত্যু
সম্পর্কে একটি
লোককথা প্রচলিত
আছে। কথাটি
হলো তিনি
শক্তির উপাসনায়
একজন সিদ্ধ
পুরুষ হয়ে
উঠেছিলেন। তিনি
গঙ্গার (চন্দ্রদ্বীপে
অবশ্যই গঙ্গা
ছিল না,
তবে যেকোনো
নদীকে গঙ্গার
সঙ্গে তুলনা
করা একটি
স্বাভাবিক রীতি)
কাছে প্রার্থনা
করেছিলেন যেন
অন্তকালে তাকে
প্রাপ্ত হন।
একবার গঙ্গা
তার বাড়ির
দরজা পর্যন্ত
এলে তিনি
কৃতাঞ্জলিপুটে গঙ্গাকে
আশ্রয় করেন।
ডাক্তার ওয়াইজের
বর্ণনায়ও বিষয়টি
এভাবেই এসেছে।
লোককথার সঙ্গে
বাস্তবের যোগসূত্র
খুঁজতে গেলে
দেখা যায়
সে সময়ে
বাংলার উপকূলে
একটি মারাত্মক
জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।
কৈলাসচন্দ্র সিংহের
মতে, সময়টি
১৫০৫ শকাব্দ।
আইন-ই-আকবরীতে
এ জলোচ্ছ্বাসের
উল্লেখ রয়েছে
এবং ব্লকম্যানের
অনুবাদে সময়টি
১৫৮৩ খ্রিস্টাব্দ
বলে উল্লেখ
করা হয়েছে।
চন্দ্রদ্বীপের এ
জলোচ্ছ্বাসেই জগদানন্দের
মৃত্যু হয়।
কন্দর্পনারায়ণ তার
কিছু সঙ্গীসাথি
নিয়ে মন্দিরের
চূড়ায় উঠে
আত্মরক্ষা করেন
এবং আরো
কিছু লোক
নহবতখানায় অশ্রয়
নিয়ে জীবন
বাঁচায়। জলোচ্ছ্বাস
হঠাৎই এসেছিল
এবং ৫
ঘণ্টার বেশি
সময় ধরে
তাণ্ডব চালিয়ে
তা শেষ
হয়। আবুল
ফজলের মতে,
এ জলোচ্ছ্বাসে
দুই লাখ
মানুষ মৃত্যুবরণ
করে। পাশাপাশি
চন্দ্রদ্বীপের প্রভূত
ক্ষতি সাধিত
হয়। ওয়াইজের
মতে, জগদানন্দের
মহল ছিল
কচুয়ায়। তেঁতুলিয়া
নদীতীরের কচুয়া
এ জলোচ্ছ্বাসে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
পিতার মৃত্যুর
পর স্বাভাবিকভাবেই
কন্দর্পনারায়ণ তার
স্থলাভিষিক্ত হন।
শাসন কেন্দ্রের
এ অবস্থা
দেখে তিনি
রাজধানী পরিবর্তনের
সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথমে তিনি
বাসুরিকাঠিতে রাজধানী
স্থাপন করেন।
জগদানন্দের সময়
থেকে চন্দ্রদ্বীপে
শাসন, চাষাবাদ
থেকে শুরু
করে সমাজরীতির
নিয়মে কিছু
পরিবর্তন এসেছিল।
জলোচ্ছ্বাসে মহল
ও সম্পদের
ক্ষয়ক্ষতি হলে
কন্দর্পনারায়ণ পুনরায়
সুশাসনের ব্যবস্থা
গ্রহণ করেন।
বারোভুঁইয়াদের অধিকৃত
অঞ্চল সম্পর্কে
স্পষ্টরূপে বলা
কঠিন। তাদের
রাজ্যের সীমানা
নির্ধারণে সমস্যার
অন্যতম কারণ
প্রথমত, বারোভুঁইয়া
বলে পরিচিত
নৃপতিরা সবাই
এক সময়ে
রাজত্ব করেননি।
দ্বিতীয়ত, এদের
নিজেদের মধ্যে
যুদ্ধবিগ্রহের কারণে
বহুবার রাজ্যের
সীমানা বদল
হয়েছে। কন্দর্পনারায়ণের
রাজ্যের বিস্তৃতি
হিসাব করতে
গেলে বর্তমান
খুলনা জেলার
বাগেরহাট থেকে
ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ,
কোটালীপাড়া এবং
পূর্বে হাতিয়া-সন্দ্বীপ
পর্যন্ত তার
অধিকারে ছিল
বলে মনে
হয়। রাজ্যের
সীমান্ত নিয়ে
ভুলুয়ার লক্ষ্মণমাণিক্য
ও শ্রীপুরের
চাঁদ রায়-কেদার
রায়ের সঙ্গে
তার সংঘর্ষ
হয়েছে। তবু
কন্দর্পকে আমরা
বাকেরগঞ্জের ভুঁইয়া
বলতে পারি,
কেননা ১৮৬৩
সালে বাগেরহাটকে
মহকুমা করার
আগে কচুয়া
মূলত বাকেরগঞ্জের
একটি প্রশাসনিক
ইউনিট ছিল।
কন্দর্পের পরবর্তী
সময়ের রাজধানী
মাধবপাশা থেকে
বর্তমান বাকেরগঞ্জ
উপজেলার দূরত্ব
অনধিক ৩৫
কিলোমিটার।
ভাটি অঞ্চলের
বারোভুঁইয়া বলে
যারা পরিচিত,
তাদের মধ্যে
কন্দর্পনারায়ণের নাম
উল্লেখ করেননি
এমন ইতিহাসবিদ
নেই। সবাই
নিশ্চিত করেছেন
তার শাসনকাল
১৫৮৪-৯৮
খ্রিস্টাব্দ। শাসনকালের
সূচনা সম্পর্কে
নিশ্চিত হতে
জেসুইট মিশনারি
র্যালফ ফিচের
দ্বারস্থ হওয়া
যায়। তিনি
১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে
বাকলায় অগমন
করেন (বাকেরগঞ্জ
মূলত বৃহত্তর
বাকলার অন্তর্গত)।
ফিচ দিল্লি
থেকে জলপথে
সাতগাঁও এবং
পরবর্তী সময়ে
বাকলায় আগমন
করেন। কন্দর্পনারায়ণ
সম্পর্কে তিনি
বলেছেন, বন্দুক
চালনায় এ
অঞ্চলের রাজার
হাতযশ ভালো।
বাকলার সমৃদ্ধি
সম্পর্কেও তিনি
উল্লেখ করেছেন।
ফিচ লিখেছেন,
‘From chatigam, in Bengala, I came to Bacala, the king where of
is a gentile (i.c Hindu) a man very well disposed and delighteth much to shoot
in a gun. His country is very great and fruitfull and hath store of rice, much
cotton cloth, and cloth of silk. The houses be very fair and high builded he
streets large, the people naked except a little cloth about their waist. The
woman was great store of silver hoops about their necksa and arms and their
legs are reinged about whith silver and copper and tings made of elephants
teeth.’
কন্দর্পনারায়ণের সময়ে
হোসেনপুর নামক
স্থানে যবন
গাজী বা
গাজী নামে
কোনো মুসলমান
তার প্রভাব
বিস্তার করেছিল।
কন্দর্পনারায়ণ এ
গাজীর সঙ্গে
যুদ্ধ করে
তাকে পরাজিত
করেন। পরাজিত
করে তিনি
হোসেনপুরের দখল
নেন। কন্দর্পের
যুদ্ধবিদ্যা এবং
বীরত্ব সম্পর্কে
সে সময়ের
ঘটককারিকায় উল্লেখ
রয়েছে। এমনকি
ফিচের বিবরণ
থেকে স্পষ্টই
বোঝা যায়
কন্দর্প বন্দুকবাজ
ছিলেন। অর্থাৎ,
তিনি অস্ত্রশস্ত্র
রাখতেন এবং
তা ব্যবহারেও
তিনি সাবলীল
ছিলেন। ফিচের
বর্ণনায় বাকলার
যে চিত্র
অঙ্কিত হয়েছে,
সেখান থেকে
কন্দর্পনারায়ণের সুশাসনের
পরিচয় পাওয়া
যায়। ফিচ
স্পষ্ট করেই
বলেছেন, রাজার
রাজ্যে ধান-চাল
ও পোশাকের
যথেষ্ট মজুদ
ছিল।
কন্দর্পনারায়ণের সঙ্গে
প্রতাপাদিত্যের সম্পর্ক
ছিল অম্লমধুর।
প্রতাপাদিত্য ছিলেন
বাকলার গুহ
পরিবারের রামচন্দ্র
নিয়োগীর প্রপৌত্র।
প্রতাপাদিত্যের পিতৃব্য
বসন্ত রায়
কন্দর্পনারায়ণের বোন
কমলাকে বিয়ে
করেন। সেকালে
উপকূলে মগ
দস্যুদের অত্যাচার
চরমে উঠেছিল।
কন্দর্প এবং
প্রতাপ উভয়েই
মগ দমনের
নিমিত্তে মৈত্রী
করেন। কথা
ছিল প্রতাপাদিত্য
সৈন্য দিয়ে
কন্দর্পকে সহায়তা
করবেন। এসব
আনুমানিক ১৫৯০
খ্রিস্টাব্দের ঘটনা।
পরে কন্দর্প
নারায়ণের পুত্র
রামচন্দ্র রায়ের
সঙ্গে প্রতাপাদিত্যের
কন্যার বিয়ের
সম্বন্ধ হয়।
এ বিয়ে
নিয়ে প্রচলিত
কথা হলো
প্রতাপ মূলত
রামচন্দ্রকে হত্যা
করে বাকলা
দখল করতে
চেয়েছিলেন। হত্যাচেষ্টা
এবং পরবর্তী
ঘটনা আরেকটি
ভিন্ন ইতিহাস।
বাংলার ইতিহাসে
বারোভুঁইয়াদের খ্যাতির
অন্যতম কারণ
মোগলদের বশ্যতা
স্বীকার না
করা। কখনো
কখনো চুক্তিতে
গেলেও রাজ্যে
তা কার্যত
স্বাধীন ছিলেন।
১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের
দিকে সম্রাট
আকবর তার
সেনাপতি মানসিংহকে
ভাটির ভুঁইয়া
দমনে পাঠালে
এ সময়
কন্দর্পনারায়ণ মানসিংহের
সঙ্গে চুক্তি
করেন। গৌড়
থেকে আগত
পাঠানরা বাংলার
নিম্নাঞ্চলে আশ্রয়গ্রহণ
করেছিল এবং
মানসিংহ এদের
দমনে সচেষ্ট
ছিলেন। কন্দর্পনারায়ণ
তার নিজ
রাজ্য ত্যাগ
না করে
এদের বিরুদ্ধে
মানসিংহকে সহায়তার
চুক্তি করেন
এবং চুক্তি
অনুসারে কন্দর্পনারায়ণ
সসৈন্য এদের
আক্রমণ করেন।
হোসেনপুরের এ
যুদ্ধ ১৫৯৮
খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত
হয়। যুদ্ধে
উভয় পক্ষের
প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি
হয়। কন্দর্পনারায়ণ
গুরুতর আহত
হন। ধৃত
পাঠানদের মানসিংহের
কাছে পাঠিয়ে
তিনি ক্ষুদ্রকাঠিতে
নিজের প্রাসাদে
চিকিৎসা শুরু
করেন। কিন্তু
সব চিকিৎসার
অতীত হয়ে
এ বছরই
তিনি মৃত্যুবরণ
করেন।
কন্দর্পনারায়ণের শক্তিমত্তা
বা তার
অস্তিত্বের বহু
প্রমাণ পাওয়া
যায়। ঘটককারিকায়
আছে—
কন্দর্পোপকন্দর্পো জগদানন্দকাত্মজঃ।
মহাধনুর্ধরো মানী
মহারথো মহাশূরঃ।।
অক্ষৌহিণীপতির্বীরঃ সব্যসাচিসমো
রণে।
যুদ্ধপ্রিয়ো মহাচক্রী
যবনারির্মহাবলঃ।।
যবনাধিপতিং গাজিং
রণে ব্যাপাদয়ৎ
কিল।
মহাবীর্য্যাং তথা
খর্ব্বমকরোৎ স
নৃপোত্তমঃ।।
ঘটকরা সেকালে
রাজাদের শংসাগীত
করতেন, তা
আমরা মেনে
নিয়েও বলতে
পারি এর
কিছু অন্তত
সত্য। পরবর্তীকালে
কন্দর্পনারায়ণের সময়কার
একটি কামান
পাওয়া যায়
যার দৈর্ঘ্য
পৌনে আট
ফুট। কামানের
ওপরে বাংলা
অক্ষরে কন্দর্পনারায়ণের
নাম লেখা
দেখা যায়।
কামান নির্মাতার
নাম রূপিয়া
খাঁ, সাং
শ্রীপুর। মাধবপাশার
রাজবাড়ীতে (কন্দর্প
একসময় এখানে
রাজধানী সরিয়ে
আনেন) আরেকটি
কামান ছিল,
যেটির নির্মাতা
হিসেবে জনৈক
গোবিন্দচন্দ্রর নাম
মুদ্রিত ছিল।
কন্দর্পনারায়ণের পর
পিতার রাজ্য
রামচন্দ্র রায়
প্রাপ্ত হন।
বারোভুঁইয়া হিসেবে
যারা পরিচিতি
বা ইতিহাসবিদরা
যাদের বারোভুঁইয়া
বলে উল্লেখ
করেছেন, রামচন্দ্র
রায়ও তাদের
মধ্যে একজন।
বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের
ভুঁইয়া হিসেবে
পিতা-পুত্রের
নাম পাশাপাশি
উল্লেখ করা
হয়। রামচন্দ্র
রায়ও নিজ
যোগ্যতার পিতার
রাজ্যে সুশাসন
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ
বা বাকেরগঞ্জের
এ দুই
ভুঁইয়ার সময়ের
প্রায় সবকিছুই
নদীতে বিলীন
হয়ে গেছে।
তবে ১৮৭৪
খ্রিস্টাব্দে এইচ
বেভারিজ যখন
বাকলা পরিদর্শন
করেন, তখনো
সেখানে কিছু
ভাঙা মন্দির
ও স্থাপনা
ছিল। এর
পরও ব্রিটিশ
আমলে মাধবপাশার
জমিদারবাড়িতে অতীত
স্মৃতি বহনকারী
কিছু চিহ্ন
ছিল। তবে
কন্দর্পনারায়ণ, রামচন্দ্র
রায় এখন
কেবল ইতিহাসের
পাতায়ই সীমাবদ্ধ।
মাহমুদুর রহমান: লেখক





