ভারতীয় উপমহাদেশের
এ পোশাক
আগে পরিচিত
ছিল মুজরা
নাচের পোশাক
হিসেবে, কিন্তু
আনারকলির গায়ে
ওঠার পরে
তার স্মরণে
সেটার নাম
হয়ে যায়
‘আনারকলি’।
মোগল আমলের
পোশাকটি পরবর্তীকালে
এমন জনপ্রিয়
হয়ে ওঠে
যে এখন
আর কাউকে
আলাদা করে
চিনিয়ে দিতে
হয় না
আনারকলি পোশাক
কোনটি। এত
যুগ পরে
এসেও উৎসব-অনুষ্ঠানে
পরার জন্য
এ অঞ্চলের
নারীদের অনেকেরই
পছন্দের তালিকার
শীর্ষে থাকে
আনারকলি। র্যাম্প
শোগুলোতে তো
বটেই, বিয়ের
পোশাক হিসেবেও
অনেকে বেছে
নিচ্ছেন আনারকলিকেই।
পোশাকটির ইতিহাস
নিয়ে কথা
শুরুর আগে
জেনে নেয়া
যাক পোশাকটির
ধরন সম্পর্কে।
সাধারণত একটি
লম্বা কুর্তা
আর চুড়িদারকে
একত্রে বলা
হয় আনারকলি।
পোশাকটি লম্বায়
কতটা হবে
তা নির্ভর
করে যিনি
পরবেন তার
পছন্দের ওপর।
এখন মেঝে
ছোঁয়া আনারকলিরই
চল। আবার
কারোবা পছন্দ
হাঁটু পর্যন্ত।
সাধারণত কুর্তাটির
বুকের অংশ
শরীরের মাপেই
বানানো হয়
আর নিচের
দিকে ছাতার
মতো কতগুলো
স্তর থাকে।
তাতেই পোশাকটির
সৌন্দর্য বেড়ে
যায় বহুগুণ।
লম্বা ফ্রক
ঘরানার এ
পোশাকের নিচের
দিকে সাধারণত
কয়েকটি স্তর
দেখা যায়।
প্রচলিত একটি
মত অনুসারে,
আনারকলি ছিলেন
নর্তকী। ঘটনাক্রমে
তার ঠাঁই
হয় সম্রাট
আকবরের হারেমে।
তিনি ছিলেন
কানিজ ফারসি
ভাষায় দাসীদের
বোঝাতে এ
শব্দ ব্যবহূত
হয়। তার
কাজ ছিল
রাজকীয় উৎসবগুলোতে
গান গাওয়া
ও নাচ
প্রদর্শন করা।
সম্রাট জালালউদ্দিন
আকবরের সময়ে
রাজদরবারে নাচ
প্রদর্শন করতেন
তিনি। পরে
তার রূপে
মুগ্ধ হয়ে
তার প্রেমে
পড়েন আকবরের
ছেলে সালিম
(পরবর্তী সময়ে
যার নাম
হয় সম্রাট
জাহাঙ্গীর)।
সালিম আর
আনারকলির প্রেম
এখনো ইতিহাসপ্রেমীদের
মুখে মুখে
চর্চিত। ষোল
শতকের সে
প্রেমকাহিনী যেমন
এত বছর
পরেও আবেদন
হারায়নি, তেমনি
আনারকলির পোশাকও।
আকবরের সময়ে
মুজরা নাচ
ছিল খুবই
জনপ্রিয়। মোগল
রাজদরবারে অনেকেই
তখন মুজরা
নাচ নাচতে
আসতেন। মুজরা
নাচতেন যারা,
তারা যে
পোশাক পরতেন
সেটাকে বলা
হতো মুজরা
পোশাক। পরে
বিখ্যাত নাচিয়ে
এবং অমর
প্রেমকাহিনীর আনারকলির
স্মরণে সে
পোশাকটার নাম
হয়ে যায়
আনারকলি। বলিউড
অভিনেত্রী মধুবালার
হাত ধরে
১৯৬০ সালে
মুক্তি পাওয়া
মুঘল-ই-আজম
সিনেমার মধ্য
দিয়ে বর্তমানের
ফ্যাশন দুনিয়ায়
আনারকলির প্রবেশ।
মধুবালা অভিনয়
করেন আনারকলির
চরিত্রে। তার
পরিহিত পোশাকের
নামও আনারকলি।
আধুনিক জমানায়
এই হলো
আনারকলি পোশাকের
পুনরুত্থান। পরে
একসময় আবার
হারিয়ে যায়
সে ধারা।
মাঝখানে কিছুদিন
বিস্মৃত থাকলেও
২০১২ সালে
ফ্যাশন দুনিয়ায়
পুনরায় ফেরে
আনারকলি। একুশ
শতকে দক্ষিণ
এশিয়ার নারীদের
অনেকের প্রিয়
পোশাক হয়ে
উঠেছে আনারকলি।
আনারকলি পোশাকটি
এখনো ফ্যাশন
দুনিয়ায় একইভাবে
রাজত্ব করার
কারণ পোশাকটি
একই সঙ্গে
ঐতিহ্যবাহী ও
আধুনিক। উজ্জ্বল
রঙ আর
অভিনব সব
ডিজাইনে সে
সময়ে পোশাক
পরতেন আনারকলি।
সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে সেগুলোই
হয়ে উঠেছে
আনারকলির সিগনেচার
ধারা। এখনো
আনারকলি পোশাকগুলো
বানানো হয়
রঙ আর
ডিজাইনের সে
ঐতিহ্যবাহী ধারা
মেনেই।
প্রচলিত লোককাহিনীর
বরাত দিয়ে
ক্রিভা ব্লগে
বলা হয়,
আনারকলি সবাইকে
মুগ্ধ করেছিলেন,
বিশেষ করে
শাহজাদা সালিমকে।
কিন্তু তাদের
গল্প শেষ
হয়েছিল দুঃখের
মধ্য দিয়ে।
কথিত আছে,
সালিম-আনারকলির
প্রেমে ক্ষুব্ধ
হয়ে সম্রাট
আকবর আনারকলিকে
দুটি দেয়ালের
মধ্যে জীবন্ত
কবর দিয়ে
দেন। যদিও
এ তথ্যের
কোনো সত্যতা
কোথাও মেলেনি।
কিন্তু সালিম-আনারকলির
প্রেমকাহিনী অমর।
টিকে আছে
তার পোশাকটি,
তার নামেই।
মোগল আমলের
নারীরা পোশাকটি
পরতেন কারণ
পোশাকটি খুব
দামি কাপড়
দিয়ে তৈরি
করা হতো।
পোশাকটির নারীদের
সৌন্দর্য বাড়িয়ে
দেয়ার ক্ষমতাও
ছিল প্রবল।
বর্তমানে শিফন,
জর্জেট, সুতি
ও ক্রেপ
কাপড় দিয়েও
আনারকলি পোশাক
তৈরি করা
হয়।
সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে এ
পোশাকে বিবর্তন
এসেছে ব্যাপকভাবে।
কখনো সেটা
ছিল মেঝে
ছোঁয়া আবার
কখনো হাঁটু
বরাবর। আনারকলি
কুর্তার নিচের
লেয়ারেও এসেছে
বিবর্তন। আবার
চুড়িদার পাজামার
বদলে অনেকে
বেছে নেন
স্কার্ট, পালাজ্জো
বা প্যান্ট।
বর্তমান ফ্যাশন
ট্রেন্ড অনুসারে
আধুনিক করে
তুলতে কেউ
কেউ সেটার
সঙ্গে নিচ্ছেন
জ্যাকেটও।
রুমানা চৌধুরী
ইয়াসমিন নাতাশা
তার ইনফ্লুয়েন্স অব
ওয়ার্ল্ড’স ফ্যাশন
ইন বাংলাদেশী ফ্যাশন ট্রেন্ড ফ্রম ১৯৫০
টু ২০১৮
শীর্ষক
এক গবেষণাপত্রে
লিখেছেন, সংস্কৃতি
ও প্রথারীতির
দেশ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের নারীরা
ফ্যাশনসচেতন হতে
শুরু করে
আশির দশকে।
নব্বইয়ের দশকে
বাংলাদেশী ফ্যাশন
ধারা মোগল
যুগে প্রবেশ
করে। সে
সময়ের ফ্যাশনসচেতন
নারীদের কাছে
আনারকলি ও
লম্বা ধরনের
পোশাকগুলো জনপ্রিয়
হয়ে ওঠে।
ইন্টারনেটের অভাবও
এত পরে
নারীদের কাছে
এ ফ্যাশন
আসার একটি
বড় কারণ।
তবে সেসব
ছাড়িয়ে বর্তমান
যুগের ফ্যাশনপ্রেমীদের
কাছে ঐতিহ্যবাহী
পোশাক হিসেবে
পছন্দের নাম
‘আনারকলি’।
সূত্র: ডেইলি এশিয়ান এইজ, ক্রিভা ডটকম





