নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’কে পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী বলা যায়? জবাব ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটোই হতে পারে। হ্যাঁ— কারণ তিনি যে সময়টাকে ধারণ করতে চেয়েছেন; শৈশব থেকে শুরু করে ২৭ বছরের কারাবন্দি জীবন এবং মুক্তি— তার পুরোটাই কমবেশি এতে লিখেছেন। না— এটি অসমাপ্ত, সে কারণেই নেলসন ম্যান্ডেলা ‘কনভার্সেশন উইথ মাইসেলফ’ প্রকাশ করতে হয়েছে। অপরাহ উইনফ্রেকে দেয়া সাক্ষাত্কারে আরো কিছু কথা বলতে হয়েছে। কারামুক্তির পর সদ্য স্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকাকে একটি শক্তিশালী স্টেট হিসেবে দাঁড় করিয়ে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে থেকে কত দ্রুত নিজেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরিয়ে নিতে হয়, সেসব কথার আভাস হয়তো রয়েছে কিন্তু আত্মজীবনী হিসেবে চিহ্নিত ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ গ্রন্থে এ বিবরণী আসেনি, আসার কথাও না। না বলা আরো কথার একই রকম আরো একটি গ্রন্থ যোগ হলে হয়তো পূর্ণাঙ্গ মনে হতো। তিনি বলেছিলেন:

‘আমি যখন কারাগার থেকে বের হই আমার উদ্দেশ্য ছিল অত্যাচারিত এবং অত্যাচারী উভয়কে মুক্তি দেয়া। কেউ কেউ বলে থাকেন তা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু এখন আমি জানি ব্যাপারটা তা নয়। সত্য কথাটি হচ্ছে, আমরা এখনো মুক্ত হইনি। আমরা কেবল মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছি, অত্যাচারিত না হওয়ার অধিকার পেয়েছি। আমাদের এই যাত্রাপথে শেষ পদক্ষেপ দেইনি— আরো দীর্ঘ ও দুর্গম সড়ক অতিক্রম করার এ কেবল প্রথম পদক্ষেপ। শিকল ছিঁড়ে ফেলাটাই স্বাধীনতা নয়... স্বাধীনতার সেই দীর্ঘ পথ আমি পেরিয়ে এসেছি। আমি হোঁচট না খাওয়ার চেষ্টা করেছি, পথে পথে আমি ভুল পদক্ষেপও নিয়েছি, কিন্তু যে গোপনীয় ব্যাপারটি আমার কাছে আবিষ্কৃত হয়েছে তা হচ্ছে, একটি বড় পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার পরই কেবল বোঝা যায় আমাদের আরো অনেক পাহাড়ে ওঠার এখনো বাকি। একটুখানি বিশ্রাম নেয়ার জন্য আমি একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি, আমাকে ঘিরে থাকা গৌরবময় দৃশ্য-পরম্পরায় এক নজর বুলিয়ে এবং যে পথ আমি পেরিয়ে এসেছি পেছন ফিরে তাকেও একটুখানি দেখে নিতে চাই। কিন্তু আমার বিশ্রাম এক মুহূর্তেরই; স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও এসে যায়। আমার আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। কারণ আমার দীর্ঘপথ তো এখনো শেষ হয়নি।’

পেছনের খানিকটা পথ স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার কারণে কিংবা সামনের দীর্ঘ পথ সম্পর্কে আগাম লেখা সম্ভব নয় বলে প্রায় সব আত্মজীবনীই অসমাপ্ত।

আরো একটি আত্মজীবনী, ধ্বংসযজ্ঞ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পাওয়া এবং অপ্রত্যাশিতভাবে আত্মজীবনীকারের কন্যার হাতে পৌঁছা— বাস্তবিকই অসমাপ্ত— যে জীবনের ব্যাপ্তি ও কীর্তি নিয়ে উচ্চকণ্ঠে কথা বলা যায়, তারই ক্ষুদ্র একাংশ মাত্র উঠে এসেছে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে। তাঁর কীর্তির গৌরবময় অংশ যা একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, তা রয়ে গেল অলিখিত; ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র অধিক্ষেত্রের বাইরে।

২.

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ উপলক্ষ করে লিখিত এই নিবন্ধটি মূলত সাহিত্যের আত্মজীবনী শাখার ওপর একটি নাতিদীর্ঘ আলোচনা, যেহেতু স্মৃতিকথা এবং ডায়েরিতে আত্মজীবনীরই প্রতিফলন ঘটে থাকে, আলোচনায় তা অন্তর্ভুক্ত হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সাক্ষী মেনে সাহিত্য-বিষয়ক প্রবন্ধ রচনার সুবিধাটা আমিও নিতে চাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আত্মজীবনীর গোড়ার দিকটা লিখে এর নাম দিলেন ‘ছেলেবেলা’, তারপর যোগ হলো ‘জীবনস্মৃতি’। রবীন্দ্রনাথ শুরু করলেন তার জন্মকালের সময় ও পরিসর নিয়ে:

‘আমি জন্ম নিয়ে ছিলুম সেকেলে কলকতায়। শহরে স্যাকরা গাড়ি ছুটছে তখন ছড়ছড় করে ধুলো উড়িয়ে, দড়ির চাবুক পড়ছে হাড় বের করা ঘোড়ার পিঠে। না ছিল ট্রাম, না ছিল বাস, না ছিল মোটর গাড়ি। তখন কাজের এত বেশি হাঁসফাঁসানি ছিল না, রয়ে-বসে দিন কাটত।’

অটোবায়োগ্রাফি এমনই। ব্যক্তি তার সময় ও পরিসরে নিজেকে স্থাপন করে নিজের ব্যক্ত ও অব্যক্ত কথাগুলো সাজান, তার কালের কথা বলেন, তার চারপাশের ঘটনাবলির যেগুলোর সঙ্গে নিজের যোগসূত্র আছে তা তুলে আনেন— এমনও হয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বেমালুম এড়িয়ে যান, তুচ্ছ ঘটনায় রঙ চড়িয়ে নিজেকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। কোনো ব্যক্তিকে ভেতর ও বাইরে থেকে জেনে, তার মুখ ও মুখোশ আবিষ্কার করে তার সম্পর্কে লেখার মতো যোগ্য ব্যক্তি তিনি ছাড়া আর কে হবেন। স্যামুয়েল জনসন সেজন্যই বলেছেন: No man is better qualified to write his life than himself.

আবার এটাও বলা হয়, মানুষ সম্পর্কে ভালো কিছু পড়তে চাইলে আত্মজীবনী পড়ুন। ধূর্ত মানুষ নিজের মন্দটা এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল জানে। অটোবায়োগ্রাফি শোনার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত আমাদের কাল পর্যন্ত অনেকেই মনে করেন ‘অটোবায়োগ্রাফি অব অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান’-এর কথা। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির শীর্ণদেহ ইংলিশ হ্যাটধারী খাস বাঙ্গাল ক্যামব্রিজে বসে ঢাউস এই গ্রন্থটি লিখেছেন। সাহিত্যের আত্মজীবনী ধারায় নীরদ সি চৌধুরী নিঃসন্দেহে

একটি স্মরণীয় নাম।

ইংরেজি সাময়িকী ‘দ্য মান্থলি রিভিউ’তে ১৭৯৭ সালে উইলিয়াম টেইলর, সেকালের খ্যাতিমান ব্রিটিশ বহুভাষাবিদ, পণ্ডিত ও প্রবন্ধকার প্রথম অটোবায়োগ্রাফি শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি যে সাহিত্যের একটি ধারা হতে পারে এবং অটোবায়োগ্রাফি যে ব্যক্তির নিজের জবানিতে নিজের জীবনী, তা প্রথম বোঝা যায় ১৮০৯ সালে উইলিয়াম টেইলর ও স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের বন্ধু কবি রবার্ট সাউথের লেখায়। রবার্ট সাউদে (১৭৭৪-১৮৪৩) স্বল্পখ্যাত ব্রিটিশ কবি, তবে ১৮৩১ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ব্রিটেনের

পোয়েট লরিয়েট ছিলেন। আত্মজীবনীর আলোচনায় এটাও উঠে এসেছে যে, স্মৃতিকথা এবং আত্মজীবনী কিংবা ব্যক্তির ডায়েরির সংকলন মূলত আত্মকথনই। ফ্লাভিয়াস জোসেফাসের আত্মপ্রচারণামূলক গ্রন্থ ‘জোসেফি ভিটা’ প্রকাশিত হয় ৯৯ খ্রিস্টাব্দে। লাইবেনিয়াম (জন্ম ৩১৪—মৃত্যু ৩৯৪) ‘ওরেশন ওয়ান’-এ ৩৭৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে তাঁর স্মৃতিকথা লিপিবদ্ধ করেন। ধ্রুপদ যুগে ইতিহাস ও আত্মকথন একাকার হয়ে গেছে। যেমন হিস্টরিজ অব হেরোডোটাস, জেনোফেনের ‘অ্যানাবেসিস’ কিংবা জুলিয়াস সিজারের ‘কমেন্টারিজ’। জুলিয়াস সিজারের বইটির পুরো নাম ‘কমেন্টারিজ অন দ্য গেইলিক ওয়ার্স’, এতে নয় বছর মেয়াদি যুদ্ধের ইতিহাস, তার ভূমিকা এবং স্মৃতির বিবরণ রয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৯-৪৮ অব্দের গণযুদ্ধ নিয়ে তার স্মৃতিকথা কমেন্টারি অন দ্য সিভিল ওয়ার।

রোমান শাসক পাবলিয়াস রুটিলিয়াস রুফাস (জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ১৫৮ অব্দ—মৃত্যু খ্রিস্টপূর্ব ৭৮ অব্দ) এবং রোমান কনসাল মার্কাস এমিলিয়াস স্কাউরাস (জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ১৬৩ অব্দ—মৃত্যু খ্রিস্টপূর্ব ৮৯ অব্দ) আত্মজীবনী লিখেছিলেন বলে গবেষকরা মনে করেন কিন্তু এ দুজনের আত্মজীবনীর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

আধুনিক ধারণার অটোবায়োগ্রাফির অনেকটা কাছাকাছি মার্কাস অরেলিয়াসের ‘মেডিটেশনস’ খ্রিস্টজন্মের পর দ্বিতীয় শতকে লেখা। প্রথম পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী বিবেচনা করা যায় চতুর্থ শতকে লিখিত সেইন্ট অগাস্টিনের (৩৫৪-৪৩০) ‘কনফেশন্স’কে; একই নামে দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জ্যাঁ জাক রুশো তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশ করেন অষ্টাদশ শতকে। রুশোর ‘কমফেশন্স’কে বলা হয়েছে ফিকশনাল অটোবায়োগ্রাফি। অগাস্টিনকে অনুসরণ করে দ্বাদশ শতকে পিটার আবেলার্ড সেকালের শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনীটি লেখেন। এর নাম ‘হিস্টোরিয়া ক্যালামিটাটুম’। এলোইসের সঙ্গে প্রেম তার জীবনে যে দুর্ভাগ্য ডেকে আনে তার বিবরণ তিনি দিয়েছেন। একাদশ শতকে গ্রানাডার মুসলমান বাদশাহ আব্দুল্লাহ ইবনে বুলুগিনের আত্মজীবনী মুসলমানদের লেখা প্রথম আত্মজীবনী হিসেবে সমাদৃত। কোনো নারীর প্রথম আত্মজীবনী স্প্যানিশ সম্ভ্রান্ত মহিলা লেনর লোপেজ দ্য কর্দোবার ‘স্মৃতিকথা।’ ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর দিনলিপি নিয়ে প্রকাশিত বাবুরনামা (১৪৯৩ থেকে ১৫২৯-এর মধ্যে লিখিত) কালোত্তীর্ণ গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত। ‘হুমায়ুননামা’ কিংবা ‘আকবরনামা’ আত্মজীবনী নয়, বাবুরকন্যা গুলবদন বেগম লিখেছেন ‘হুমায়ুননামা’ আর পণ্ডিত আবুল ফজল লিখেছেন ‘আকবরনামা’।

রেনেসাঁ যুগের অন্যতম ভাস্কর বেন ভেনুতো সেলিনি (১৫০০-১৫৭১) ১৫৫৬-৫৮ সময়কালে তার আত্মজীবনী লিখেছেন, নাম ‘ভিটা’—ইতালীয় শব্দে ভিটা মানে জীবন। সেলিনি বলেছেন, কারো যদি কোনো কীর্তি থেকে থাকে, তার আত্মজীবনী লেখার অধিকার রয়েছে। নিজের জীবনকাহিনী তাদের নিজ হাতে লিখতে হবে। তবে বয়স চল্লিশ হওয়ার আগে এমন দুঃসাহসী কাজে হাত দেয়া ঠিক হবে না।

হেনরি ডেভিড থোরো ‘ওয়াল্ডেন’ আরণ্যক জীবনের স্মৃতি, ১৮৫৪-তে প্রকাশিত হয়। ওয়াল্ডেন ম্যাসাচুসেটসে অরণ্যঘেরা ২৫০ একরের একটি পুকুর। থোরো পুকুরের পাড়ে একটি কুটির নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করেছিলেন। সেই স্মৃতি নিয়ে থোরো লিখেছেন, ‘ওয়াল্ডেন অর লাইফ ইন দ্য উডস’।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘জীবনস্মৃতি’। শুরুটা এমন:

‘স্মৃতির পটে জীবনের ছবি কে যে আঁকিয়া যায় জানি না। কিন্তু যেই আঁকুক সে ছবিই আঁকে। অর্থাত্ যাহা কিছু ঘটিতেছে তাহার অবিকল নকল রাখিবার জন্য সে তুলি হাতে বসিয়া নাই। সে আপনার অভিরুচি অনুসারে কত কি বাদ দেয় কত কি রাখে। কত বড়কে ছোট করে ছোটকে বড় করিয়া তোলে। সে আগের জিনিসকে পাছে এবং পাছের জিনিসকে আগে সাজাইতে কিছুমাত্র দ্বিধা করে না। বস্তুত তাহার কাজই ছবি আঁকা, ইতিহাস লেখা নয়।’

জুডিথ ব্যারিংটনের কথা: ‘মেমোয়ার্স হচ্ছে এক ধরনের খেরোখাতা, যার ওপর টুকরো টুকরো জীবন আঠা দিয়ে লাগানো থাকে।’

স্মৃতি প্রতারণাও করে। স্মৃতি বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়, আবার ধুলোবালি সরিয়ে তুলেও আনা যায়। ‘আমার এই “ভবঘুরে” জীবনের অপরাহ্ন বেলায় ইহারই একটি অধ্যায় বলিতে বসিয়া আজ কত কথাই না মনে পড়িতেছে।’ শ্রীকান্তকে স্মৃতি-তর্পণের সুযোগ দিয়ে শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার মুখ দিয়েই নিজের কথাগুলো বলিয়ে নিচ্ছেন, অতল থেকে তুলে এনে ঘটনার কোলাজ সৃষ্টি করেছেন।

স্মৃতিই আত্মকথা, আত্মজীবন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লেভ তলস্তয়, ম্যাক্সিম গোর্কি এবং আরো অনেকেই আত্মজীবনীর প্রথম অংশটা শৈশবস্মৃতি হিসেবেই লিখেছেন।

অষ্টাদশ শতকের হইচই তোলা স্মৃতিকথা ‘ক্যাসানোভা মেমোয়ার’, ইতালির রমণীমোহন অভিযাত্রী ক্যাসানোভা (১৭২৫-৯৮) ১২ খণ্ডের স্মৃতিকথা রেখে গেছেন, তার পরও মনে হয় অসম্পূর্ণ। কোনো রাখডাক না করে তিনি খোলামেলাভাবে নিজের কথা বলে যেতে চেয়েছেন। ক্যাসানোভা বলেছেন: ‘যোগ্য হোক কী অযোগ্য, আমার জীবনই আমার লেখার বিষয়। আমার বিষয় হচ্ছে আমার জীবন।’

তিনি লিখেছেন: ‘আমার স্মৃতিকথার পাঠক বুঝতে পারবেন আমার জীবনের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। আমার নিজের পদ্ধতিটাকে যদি পদ্ধতি বলতে হয়, তা হচ্ছে নিরুদ্বেগ হয়ে জীবনের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া, আমি বাতাসকে বিশ্বাস করেছি— যেখানে নিয়ে যায় যাক।’

বিভিন্ন নারীর সঙ্গে ক্যাসানোভা তার সম্পর্কের দুঃসাহসিক পর্নোগ্রাফিক বিবরণ দিয়েছেন। মার্কিন ঔপন্যাসিক গোর ভিডাল তার আত্মজৈবনিক স্মৃতিকথা ‘প্যালিস্পসেস্ট: অ্যা মেমোয়ার’-এ একটি সংজ্ঞা উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন: ‘কোনো মানুষ তার জীবনটাকে যেমনভাবে মনে রাখতে চেয়েছেন তা হচ্ছে সেই মানুষটির স্মৃতিকথা, আর আত্মজীবনী হচ্ছে ইতিহাস— যেখানে গবেষণা আছে, সন-তারিখ আছে, তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। জীবনের একাংশ থেকে আলো ফেলে দেখা ঘটনাগুলো আত্মজীবনীর অংশ বটে, আলাদাভাবে দেখলে এক একটা জীবনস্মৃতি।’

আত্মজীবনী তো ডায়েরিতে লুকিয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের দিয়েছেন ইউরোপ যাত্রীর ডায়েরি, রাশিয়ার ডায়েরি।

লাতিন শব্দ ডায়ারিয়াম থেকে এসেছে ডায়েরি, ডায়ারিয়াম মানে দিনের বরাদ্দ। দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের শেষার্ধে রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের ব্যক্তিগত দিনপঞ্জি (টু মাইসেলফ) এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া প্রাচীনতম দিনপঞ্জি। যে ডায়েরি সভ্যতার মিথ্যে অহঙ্কারের মুখোশ খুলে দিয়েছে তা হচ্ছে, ‘দ্য ডায়েরি অব আ ইয়ং গার্ল।’ এটিই অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরি। ১২ জুন ১৯৪২ থেকে ১ আগস্ট ১৯৪৪— এটুকু সময় ডায়েরিতে ধরা পড়লেও এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের কথাই বলবে। ছোট্ট এই বইটি কি আত্মজীবনীর চেয়েও বেশি নয়।

কয়েকটি আত্মজীবনীর উল্লেখ করা প্রয়োজন:

মেডিটেশন (মার্কাস অরেলিয়াস) ১৭৫

লিবানিয়াম (মেডিটেশনস) ৩৭৪

আল গাজ্জালি (দ্য ডেলিভারার ফ্রম এরোর) ১১৬

ভলতেয়ার (মেমোরিজ অব ভলতেয়ার) ১৭৫৯

ডেভিড হিউম (মাই ওউন লাইফ) ১৭৭৭

টমাস জেফারসন (অটোবায়োগ্রাফি) ১৭৯০

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন) ১৭৯১

জর্জ বার্নার্ড শ (শ. এন অটোবায়োগ্রাফি) ১৯০৭

চার্লস ডিকেন্স (অটোবায়োগ্রাফিক্যাল ফ্র্যাগমেন্টস) ১৮৪৭

জন স্টুয়ার্ট মিল (অটোবায়োগ্রাফি) ১৮৭৪

চার্লস ডারউইন (দ্য রিকালেকশনস অব দ্য ডেভেলপমেন্ট অব মাই মাইন্ড অ্যান্ড ক্যারেকটার) ১৮৭৬

লেভ তলস্তয় (আ কনফেশন) ১৮৮২

ওয়াল্ট হুইটম্যান (স্পেসিমেন ডে’জ) ১৮৮৩

চার্লস ডারউইন (দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব চার্লস ডারউইন) ১৮৮৩

বুকার টি. ওয়াশিংটন (আপ ফ্রম শ্লেভারি) ১৯০১

হেলেন কেলার (দ্য স্টোরি অব মাই লাইফ) ১৯০৩

মার্ক টোয়াইন (অটোবায়োগ্রাফি) ১৯১০

উইনস্টন চার্চিল (মাই আর্লি লাইফ) ১৯৩০

জওহরলাল নেহরু (অ্যান অটোবায়োগ্রাফি) ১৯৩৬

অ্যান ফ্রাঙ্ক (দ্য ডায়েরি অব এ ইয়ং গার্ল) ১৯৪৭

দালাই লামা (মাই ল্যান্ড অ্যান্ড মাই পিপল) ১৯০২

বার্ট্রান্ড রাসেল (আত্মজীবনী) ১৯৬৯

পাবলো নেরুদা (মেমোয়ার্স) ১৯৭৭

মাইকেল জ্যাকসন (মুনওয়াক) ১৯৬৬

নেলসন ম্যান্ডেলা (এ লং ওয়াক টু ফ্রিডম) ১৯৯৫

ফিদেল কাস্ত্রো (মাই লাইফ-আ স্পোকেন অটোবায়োগ্রাফি) ২০০৬

 

আত্মজীবনী রেখে গেছেন মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু। জিন্নাহকে নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে, কিন্তু তিনি আত্মজীবনী লেখেননি। ইন্দিরা গান্ধী লেখেননি। ভুট্টো রেখে গেছেন আধো আত্মজৈবনিক গ্রন্থ। ‘ইফ আই অ্যাম অ্যাসাসিনেটেড’। আমরা পেয়েছি অসমাপ্ত আত্মজীবনী।

 

৩.

‘পার্সোনাল মেমোয়ার্স অব ইউলিসিস গ্র্যান্ট’ ১৮তম মার্কিন প্রেসিডেন্টের আত্মজীবনী। গ্র্যান্ট তখন ক্যান্সারে মৃত্যুশয্যায়। এ অবস্থায় তাড়াহুড়া করে লেখা, কিন্তু এতে গ্র্যান্ট আলোকসম্পাত করেছেন যুদ্ধ ও সামরিক শক্তির ওপর। ১৮৮৫ ইউলিসিস গ্র্যান্টের মৃত্যুর পর পরই মার্ক টোয়াইন দু’খণ্ডের এই আত্মজীবনী প্রকাশ করেন।

মার্ক টোয়াইন নিজের আত্মজীবনী লিখে গেছেন, কিন্তু প্রকাশের অনুমতি তার মৃত্যুর শতবর্ষ পরে। শতবর্ষ পেরিয়ে ২০১০-এ প্রকাশ হয় মার্ক টোয়াইনের আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড। আত্মজীবনী রেখে গেছেন প্রেসিডেন্ট থিউডোর রুজভেল্ট। বেনিতো মুসোলিনিও লিখেছেন ‘মাই অটোবায়োগ্রাফি’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল লিখেছেন ‘মাই আর্লি লাইফ’। (জন্ম ১৮৭৪ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত ঘটনাবলি এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।)

প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান লিখেছেন, ‘অ্যান আমেরিকান লাইভ’। বারাক ওবামার আংশিক জীবন উঠে এসেছে ‘ড্রিমস অব মাই ফাদার: স্টোরি অব রেইস অ্যান্ড ইনহেরিটেন্স’। বিল ক্লিনটন লিখেছেন, ‘মাই লাইফ (২০০৪)’। এতে মনিকা লিউইনস্কি স্ক্যান্ডালের কথা তিনি পাশ কাটিয়ে যাননি। তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের আত্মজীবনী বহুল সমাদৃত। ১৭৭৬-এর স্বাধীনতা ঘোষণা দলিলটি জেফারসনই প্রণয়ন করেছেন। ষষ্ঠ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের আত্মজীবনীটিতে তিনি বলেছিলেন স্মৃতিকথা। অথচ প্রকাশ হলো আত্মজীবনী হিসেবে, কিন্তু অসম্পূর্ণ। চার খণ্ডে বিভক্ত এ গ্রন্থটির প্রথম অংশটি পুত্রের কাছে পিতার পত্র। নিউ জার্সির গভর্নর উইলিয়াম ফ্রাঙ্কলিন বেঞ্জামিন তার অভিজ্ঞতা ও ঠেকে ঠেকে শেখার কাহিনী শুনিয়েছেন। দ্বিতীয় খণ্ডের শুরুতেই পিতা-পুত্রের বৈরিতা শুরু হয়ে যায়, বেঞ্জামিন সমর্থন করেন বিপ্লবীদের; কিন্তু উইলিয়াম রয়ে যান উপনিবেশবাদী ব্রিটেনের পক্ষে— বেঞ্জামিন আত্মজীবনীর ধারা বদলে ফেলেন। বেঞ্জামিনের জীবদ্দশায় এটি প্রকাশ হয়নি। মৃত্যুর এক বছর পর প্রথম খণ্ডটি ফরাসিতে অনূদিত হয়ে ১৭৯১ সালে প্যারিসে প্রকাশ হয়। আর ফরাসি থেকে পুনরায় অনূদিত হয়ে ১৭৯৩ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশ হয়। আরো ২৫ বছর পর ১৮১৮ সালে তিনটি খণ্ড প্রকাশ হয়।

শৈশব-কৈশোর ও যৌবন (বার্ধক্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি)— এ নিয়ে প্রায় পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী রেখে যেতে পেরেছেন লেভ তলস্তয়। বিখ্যাত চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া তার আত্মজীবনীর নাম রেখেছেন ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’— আত্মজীবনীর মতো একটা কিছু।

বিংশ শতকের আয়রন লেডি মার্গারেট থ্যাচার (১৯২৫-২০১৩) এগারো বছর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কোনো রাখঢাক করেননি। বুদ্ধি-বৃত্তির পথ মাড়াননি। তার স্মৃতিকথা কিংবা আত্মজীবনীর নাম দিয়েছেন: ‘দ্য পাথ টু পাওয়ার’— ক্ষমতায় যাওয়ার পথ। তিনি কেমন করে পুরুষশাসিত সমাজে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ লাভ করেছেন এবং প্রতিকূলতার মুখে লৌহমানবী হিসেবে তা ধরে রেখেছেন, সে কাহিনী বয়ান করেছেন।

নেলসন ম্যান্ডেলা তখন রোবেন আইল্যান্ড কারাগারে। প্রবল নিপীড়নের মধ্যে ১৯৭৪-এ তিনি প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে লিখতে শুরু করেন। পুরনো দুই কমরেড ওয়াল্টার সিসুলু এবং আহমেদ কাথরাদা একের পর এক তার স্মৃতি জাগিয়ে তুলছেন, তিনি লিখে চলেছেন, পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি নেলসন ম্যান্ডেলার কাছেই লুকানো ছিল। তিনি ধরা পড়ে গেলেন। বাজেয়াপ্ত হলো পাণ্ডুলিপি। কিন্তু তার দুজন সহবন্দি ম্যাক মহারাজ এবং ইস্যু চিবা মূল পাণ্ডুলিপি গোপনে পাচার করে দেন। তা নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা আবার লিখতে বসেন। শত ব্যস্ততার মধ্যে একপাতা দুপাতা করে ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’— আত্মকথার পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করেন।

লন্ডনের লিটল ব্রাউন অ্যান্ড কোম্পানি ১৯৯৪ সালে বইটি প্রকাশ করে। শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বই হিসেবে লং ওয়াক টু ফ্রিডম বাজার দখল করে নেয়।

এ বইটির সঙ্গে ‘কনভার্সেশন উইথ মাইসেলফ’ মিলিয়ে পড়লে ম্যান্ডেলার বিপ্লবের সড়কটিকে আরো নিবিড়ভাবে চেনা যায়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাওয়ার কাহিনী কম বিস্ময়কর নয়। ভূমিকায় সে রোমহর্ষক কাহিনী বিবৃত।

 

গ্রন্থের শুরুটা এভাবে:

বন্ধুবান্ধবরা বলে, ‘তোমার জীবনী লেখ’। সহকর্মীরা বলে, ‘রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাগুলো লিখে রাখ ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’ আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, ‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী।’ বললাম, ‘লিখতে যে পারি না আর এমন কী করেছি, যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে জনগণের কি কোনো কাজে লাগবে? ...’

নিতান্ত সহজ-সরল নিরহঙ্কার একজন জলকাদার মানুষ মানুষের সঙ্গে নিজেকে তৈরি করেছেন, মানুষকে জাগিয়েছেন। আন্দোলনকে দূরপ্রান্ত থেকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন, আন্দোলন বেগবান হয়েছে। সারল্য তার নেতৃত্বকে সংহত-সমৃদ্ধ এবং তুলনারহিত করে তুলেছে। সেই সারল্যের সাক্ষ্য ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।

 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ ঢাকা জেল থেকে ফরিদপুর জেলে পাঠানোর জন্য তাঁকে বের করা হলো, নারায়ণগঞ্জ থেকে জাহাজে ফরিদপুর পৌঁছলেন ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টায়। জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ও সহবন্দি মহিউদ্দিনকে কারাগারে ঢুকাল আরো কয়েক ঘণ্টা পরে। তিনি অনশনের সিদ্ধান্ত নিলেন। অনশন শেষে শরীর অতিশয় দুর্বল। একুশ ফেব্রুয়ারি এসে গেল। তিনি লিখেছেন: ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমরা উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা নিয়ে দিন কাটালাম, রাতে সিপাহিরা ডিউটিতে এসে খবর দিল ঢাকায় ভীষণ গোলমাল হয়েছে। কয়েকজন লোক গুলি খেয়ে মারা গেছে। রেডিওর খবর। ফরিদপুরে হরতাল হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীরা শোভাযাত্রা করে জেলগেটে এসেছিল। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘বাঙালিদের শোষণ করা চলবে না’, ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’, ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’, আরো অনেক স্লোগান। আমার খুব খারাপ লাগল। কারণ ফরিদপুর আমার জেলা, মহিউদ্দিনের নামে কোনো স্লোগান দিচ্ছে না কেন? শুধু ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’। বললেই তো হতো। রাতে যখন ঢাকার খবর পেলাম, তখন ভীষণ চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়লাম। কত লোক মারা গেছে বলা কষ্টকর। তবে অনেক লোক গুলি খেয়ে মারা গেছে শুনেছি। দুজনে পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে আছি। ডাক্তার সাহেব আমাদের নড়াচড়া করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু উত্তেজনায় উঠে বসলাম। দুজন কয়েদি ছিল আমাদের পাহারা দেয়ার এবং কাজকর্ম করে দেয়ার জন্য। তাড়াতাড়ি আমাদের ধরে শুইয়ে দিল। খুব খারাপ লাগছিল, মনে হচ্ছিল চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। ... অনেক রাতে একজন সিপাহি এসে বলল, ছাত্র মারা গেছে অনেক। বহু লোক গ্রেফতার হয়েছে। রাতে আর কোনো খবর নাই। ঘুম তো এমনিই হয় না, তার পর আবার এই খবর।

 

নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ এবং ‘কনভার্সেশন উইথ মাইসেলফ’ আন্দোলনের একটি সাধারণ ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে:

ক. হুট করে কখনো আন্দোলন হয় না। আন্দোলন দানা বাঁধতে অন্তত দু’বছর সময় লেগে যায়।

খ. কেন্দ্র থেকে আন্দোলন গ্রামগঞ্জে রফতানি করা যায় না। প্রান্তদেশ থেকে আন্দোলন কেন্দ্রের দিকে নিয়ে আসতে হয়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীও হঠকারী আন্দোলনের বিরুদ্ধেই বলেছে। রাষ্ট্রীয় ও অনুরূপ প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনপুষ্ট আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানের জন্ম দিতে পারে না। স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগাতে পারে না। ব্যাপারটা এত সহজ হলে ম্যান্ডেলা কিংবা মুজিবকে বছরের পর বছর কারাভোগ করতে হতো না। অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ করার পর অতৃপ্তি বোধ করেন পাঠকই, কাহিনীটা যে অসমাপ্ত রয়ে গেল, আরো কিছুটা যদি জানতে পারতাম!

 

লেখক: কথাসাহিত্যিক