প্যারাডাইজ ক্যাফে। ৮ বাই ১২ ফুটের মতো ঘর। সেখানে পরবর্তীকালে নানা ক্ষেত্রের মহান মানুষেরা— ঋত্বিক, সলিল চৌধুরী, তাপস সেন, বংশী চন্দ্রগুপ্ত, মৃণাল সেন— মাঝে মাঝে যোগ দিতেন বিজন ভট্টাচার্য কিংবা কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋত্বিক ঘটকের মৃত্যুর তিন-চারদিন পর লেখা মৃণাল সেনের গদ্যে আমরা দেখি, ‘সূর্যের তলা’য় যা কিছু সব নিয়েই তাদের আড্ডা, তর্ক, বিশ্লেষণ। সিনেমা আর সশস্ত্র বিপ্লবের চিন্তা মাথায় সব সময়। সিনেমা যখন করা যাচ্ছে না, স্টুডিও পাড়ায় অসচ্ছল কর্মী, কলাকুশলীদের নিয়ে তৈরি করতে গেলেন ট্রেড ইউনিয়ন, সেখানে স্টুডিওর ভেতরে মদ খাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে ঋত্বিক ঘটক। এ শুরুর সময়টা কেমন? সারা পশ্চিমবঙ্গ আর দক্ষিণে তেলেঙ্গানায় গণজোয়ার। সংগ্রামী মানুষ আর নির্যাতক শাসকের দ্বৈরথ। অহল্যা নামে এক কৃষক রমণী গর্ভের শিশুসহ খুন হলেন। সলিল চৌধুরী লিখলেন অসামান্য কবিতা— শপথ। তারা সবাই মিলে ঠিক করলেন, পালিয়ে কাকদ্বীপ গিয়ে, ১৬ মিলিমিটারে নির্বাক ফিল্ম বানিয়ে কলকাতার কোনো ল্যাবে লুকিয়ে সম্পাদনা করে গ্রামে গ্রামে গোপনে দেখিয়ে বেড়াবেন। সেই গেরিলা ফিল্মের চিত্রনাট্য লিখলেন মৃণাল সেন আর নাম দিলেন ‘সলিল চৌধুরী: জমির লড়াই’। ঋত্বিক কোত্থেকে নিয়ে এলেন ভাঙা এক ক্যামেরা। কিন্তু সেই সময় ইউরোপ থেকে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর গোপন কাগজপত্র পাঠাল দুই বিখ্যাত বিজ্ঞানী মারফত। ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি আর জে ডি বার্নাল এসেছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দিতে। সেসব কাগজ থেকে জানা গিয়েছিল ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলন ভুল পথে চলছে। ফলে কাকদ্বীপ আর যাওয়া হলো না। কিন্তু সিনেমার ব্যাপারটা রয়ে গেল।

ফরিদপুরে ১৯২৩ সালের ১৪ মে জন্ম মৃণাল সেনের। অল্প বয়সেই ফ্রাংকোবিরোধী মিছিলে স্লোগান দিলেন। নিজের ভেতরের বদল টের পাচ্ছেন। জেলও খাটলেন কদিন। প্যারোলে বন্দি সুভাষচন্দ্র বসু পালিয়ে গেলেন, সেদিন ১৯৪১ সালের ১৭ জানুয়ারি। মৃণাল ভাবছেন, একবার তার দাঁতের সমস্যার সমাধান করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। রবীন্দ্রনাথ যেদিন মারা গেলেন, সেদিনই আত্মজের মরদেহ কোলে এক দ্বিধাগ্রস্ত যুবক দেখেছিলেন শ্মশানে, সে ভেবে পাচ্ছিল না কী করবে এবং কী চমৎকারভাবেই না ১৯ বছর বাদে ‘বাইশে শ্রাবণ’ ছবিতে সে ফিরে আসে অন্যভাবে। একজন মহৎ মানুষের মৃত্যু বা জন্মদিনে ঘটতে পারে অনেক অতিসাধারণ মানুষের জীবনের কোনো স্মরণীয়, বেদনার বা আনন্দের ব্যাপার। তিনি সাধারণ হলেও ব্যক্তিগত ইতিহাসে ব্যক্তির কাছে সাধারণ থাকে না তা। এ ছবিতে এক লম্বা শটে ধরা হলো দুর্ভিক্ষ, গ্রামের মানুষ ছুটছে শহরের দিকে। কী সুবর্ণ কাকতাল! ওই ১৯৬০ সালেই পাশাপাশি মুক্তি পেল সত্যজিৎ রায়ের ‘দেবী’ ও ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’। চলচ্চিত্রশিক্ষক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন একবার, বিশ্বচলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নেই বললেই চলে। এবং তিনজনেরই কেন্দ্র চরিত্র নারী!

২.

কলকাতা ফিল্ম সোসাইটির শুরুর দিন থেকেই ছিলেন মৃণাল সেন। শিক্ষিত হয়ে উঠছিলেন অঝোর ফিল্ম দেখায়, বই পড়ায়, থিয়েটারের নিয়মিত অভ্যাসে। রুডলফ আর্নহেইমের ‘ফিল্ম’ বইটি তাকে আক্রান্ত করে এবং তিনি চলচ্চিত্র আন্দোলনের কর্মী হিসেবে প্রবন্ধ লেখা শুরু করলেন। এ সময় ‘নিউ সিনেমা’ কথাটা ব্যবহার করলেন লেখায়। আর তার পর পরই ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমার মুক্তি ও বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া। যদিও মৃণাল মনে করেন, ‘অপরাজিত’ই রায়বাবুর সেরা কাজ।

মৃণাল সেনের প্রথম ছবি ‘রাতভোর’ একেবারেই চলেনি। পরের ছবি ‘নীল আকাশের নীচে’র আগে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে ভালোবাসতেন। চীনের প্রতি সন্দেহের সেসব দিনে এ ছবিতে একজন সাধারণ দরিদ্র চীনা ফেরিওয়ালার চরিত্রে কী অসামান্য অভিনয় ঘটালেন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃণাল বাবু আমাদের অনেকের মতোই ‘নাগরিক’-এর চেয়ে ‘অযান্ত্রিক’ সিনেমাটিকে ঋত্বিকের ভালো কাজ মনে করেন।&dquote;&dquote;

বাংলা ভাষার একজন অনন্য কবি জসীমউদ্দীনের সঙ্গে মৃণাল পরিবারের সখ্য ছিল। মৃণাল সেনের বোন রেবা ফরিদপুরের গ্রামের পুকুরে ডুবে যায়। কারণ জানা যায় না কোনো দিন। পাঁচ বছর হয়েছিল তার। সাত ভাই, পাঁচ বোনের সংসারে বোনেদের মধ্যে সবার ছোট। জসীমউদ্দীন মূলত মৃণাল সেনের সব ভাইয়ের বড় ভাইয়ের বন্ধু। তিনি সব শুনে এলেন। কিছুই খেলেন না। দুপুর-সন্ধ্যা বসে থাকলেন পুকুর ঘাটে। মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। অনেক কথা যা রেবা মারা যাওয়ার মাসখানেক আগে বলেছিল জসীমউদ্দীনকে, মাকে বললেন তিনি। একদিন সারা রাত জেগে রেবা কী করে ভোরের ফুল ফোটে, কীভাবে কখন জলের ছোঁয়ায় ফুলের গায়ে নানা রঙ লাগে— সেসব দেখবে ভেবেছিল। একটা দীর্ঘ কবিতা যা সেদিন ঘাটে বসে লেখা, দিয়ে গিয়েছিলেন জসীমউদ্দীন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মা রেখে দিয়েছিলেন। মায়ের সঙ্গে এ খাতাটিও বাংলার বাতাসে মিশে যায় শেষকৃত্যের পর।

 

৩.

গীতা সেন। উত্তরপাড়ার মেয়ে। কলকাতা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে। আত্মজীবনীতে লিখছেন, ‘যখন আমি গীতাকে প্রথম দেখি ভিড়ের মধ্যে, আমি ওর চোখের সুন্দর একটি চাহনিতে মুগ্ধ হয়ে যাই। অসাধারণ। সেই লজ্জা জড়ানো চোখের দৃষ্টি অথচ কী সুন্দর অভিব্যক্তি। একই চোখের চাউনি, একই রকম অভিব্যক্তি পেয়েছিলাম অনেক পরে আরো একজনের মধ্যে— স্মিতা পাতিল।’ চেকস্লোভাকিয়ার রাজনৈতিক কর্মী জুলিয়াস ফুচিক যাকে হিটলারের নািস বাহিনী ব্যাপক অত্যাচার করে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠায়, তার বই মৃণাল গীতাকে দিলেন, ভালোবাসার প্রথম উপহার। নোটস ফ্রম দ্য গ্যালোজ। ফাঁসির মঞ্চ থেকে।&dquote;&dquote;

হাউজ অব কমন্সের একমাত্র কমিউনিস্ট সদস্য গ্যালাচারের লেখা ‘আ কেস ফর কমিউনিজম’ হাতে চললেন দেখা করতে গীতার সঙ্গে, মৃণাল সেন, তরুণ প্রেমিক। লোকেশন: গঙ্গার উপরের ব্রিজ, সূর্যাস্ত দেখবেন। সেতুর মাঝখানে এলেন দুজন। ঠিক তখন, প্রথমবারের মতন হাত ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা। কিন্তু খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। ঠোঁট গিয়ে পড়ল প্রেমিকার নাকের ওপর আর সেই বই গিয়ে পড়ল গঙ্গাজলে। মৃণাল রচিত বাক্যে, তুমুল উইট: ‘আমার প্রথম চুম্বনের সঙ্গে কমিউনিজমের সপক্ষে গ্যালাচারের যুক্তিজাল গঙ্গায় ভেসে গেল।’

 

৪.

‘ভুবন সোম’ বনফুল রচিত উপন্যাস, আমরা জানি। স্বল্প বাজেটের এ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ফিল্মের চিত্রনাট্যের খসড়া লেখা হলো মাত্র ৩ ঘণ্টায়। কেন না ফিল্ম ফিন্যান্স করপোরেশনকে দেখাতে হবে প্রপোজাল স্ক্রিপ্ট। ইন্দিরা গান্ধী অল্প বাজেটের সিনেমার ভক্ত ছিলেন। ফলে একটা নিরীক্ষামূলক চেষ্টা হিসেবেই কাজটা অনুমোদন পেল আর একমাত্র পুত্র কুনাল সেনের চতুর্দশ জন্মবার্ষিকীতেই পেলেন দুই-তৃতীয়াংশ টাকা। এ ছবিতে প্রথমবারের মতো ‘দেড় থেকে দুই মিনিট’ কণ্ঠ দেন অমিতাভ বচ্চন। আয় করেন ৩০০ টাকা। মাত্র ২ লাখ টাকায় ফিল্মটা হলো। বিষয়: একজন আমলা আর গ্রাম্য যুবতী আর প্রকৃতি। সুহাসিনী মূলের শরীরটাই যেন একটা প্রকৃতি, বিশদ অর্থে।

মৃণাল সেনের আরেক ছবি, যেমন ‘মৃগয়া’। যে সিনেমা মিঠুন চক্রবর্তী করেছেন। ‘ইন্টারভিউ’ ছবিটা যে কেউই বলবেন রঞ্জিত মল্লিকের সেরা সিনেমা। তার আবিষ্কারকও মৃণাল সেনই। যে রঞ্জিত মল্লিক এখন দুরন্ত প্রতাপে অনেক দিন ধরে কোমরের বেল্ট খুলে অপরাধীদের মারতে মারতে ফচকে ছোঁড়াদের কাছে বেল্টম্যান নাম পেয়েছেন, তিনি কী অপূর্ব অভিনয়ই না করেছিলেন! ম্যানিকুইনের শোকেস ভাঙার সময় তার যে ক্রোধ, তার সঙ্গে তুলনীয় খুব বেশি নিম্নমধ্যবিত্ত বাঙালি মুখ তো নেই। একজন সিনেমার অধ্যাপক বলেছিলেন, ইন্টারভিউ দেখার পর ‘দ্যাট ওয়াজ এ নোভেল ওয়ে অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য টাইমস অ্যান্ড হিস্ট্রি’।&dquote;&dquote;

 

৫.

আমার মনে আছে, এক দুপুরে বন্ধু সুব্রত সাহার বাসায় আমি আর রুবেল বিশ্বাস ‘কলকাতা ৭১’ দেখে নতমুখে বেরিয়ে এসেছিলাম। ‘একদিন প্রতিদিন’ আমাদের গল্প। আমাদের যে কারোর জীবনে ঘটনসম্ভব তৃতীয় বিশ্বের বাস্তবতা। আমাদের যে কারোর পরমাত্মীয় স্ত্রী-কন্যা-প্রেমিকার বেলাতেই ঘটতে পারে। বারবার দেখার ছবি, ‘আকালের সন্ধানে’ ফিল্মের ভেতর ফিল্ম। একটি সিনেমা দল আকাল নিয়ে সিনেমা করতে যাচ্ছে, এটা হলো উপরিতলের বিষয়। ছবিটার ত্বক স্পর্শের চেষ্টা করলে আমরা দেখব, ক্ষুধা আর খাদ্য নিয়ে এ মৃণাল সেনের এক ধরনের বিবৃতি। ‘খারিজ’ এ পরিচালকের সবচেয়ে পরিচিত ফিল্ম। সম্ভবত দ্বিতীয়বারের মতো গায়ক, অভিনেতা, নির্মাতা অঞ্জন দত্তকে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা জানি, অঞ্জন দত্তকে অভিনেতা হিসেবে তৈরি করে তুলেছিলেন দুজন মানুষ। মৃণাল বাদে অন্যজন বাদল সরকার। ‘খারিজ’ আদ্যন্ত এক মেনে না নেয়ার গল্প, এ পরিস্থিতি এ সময়, পরিবারে ঘটে চলা অন্যায়কে খারিজ করতে চাইছিল। ‘খণ্ডহর’-এর গল্পটা ভাবুন একবার! শাবানা আজমীকে প্যারালাল ফিল্মে মানুষ চিনতে শুরু করার শুরুর দিকের কাজ এটি। আর সেই ভাঙা বাড়িটা! আমাদের সময়ের মতো, ভাঙা, ছিন্ন। ব্যক্তিগতভাবে আমার অতি প্রিয় ছবি দুটি। ‘মহাপৃথিবী’ আর ‘অন্তরীণ’। পূর্ব ইউরোপের সমাজতন্ত্রের ‘সাময়িক’ বিপর্যয় আর দেশে ফিরে আসছেন একজন মানুষ। আমাদের সময়ের একজন দারুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা অঞ্জন দত্তের গল্প লেখা শুরু হলো এইভাবে, সিনেমার জন্য। একজন লেখক, একা, এক বন্ধুর পোড়োবাড়িতে একা আশ্রয় নিয়েছেন, লিখবেন আর একা থাকবেন বলে। ক্রস কানেকশনে তার কথা হয়ে গেল একজন নারীর সঙ্গে, যে অবরুদ্ধ। এক বড়লোকের সঙ্গে বাধ্যতার বিয়েতে আটকে গেছে &dquote;&dquote;মানুষটা। দুজন মানুষের কবিতার বাক্যের মতো সংলাপ। দুজন মানুষই দুভাবে বন্দি। আমরা দেখব, পোড়াবাড়ির ভাঙা বাড়ির ফাটল ধরা জীর্ণ বাড়ি তার অনেক সিনেমায় আসছে। তিনি সিনেমায় যা বলতে চান, শুকনো ভাঙাচোরা লোকেশনের মধ্য দিয়েই বলেন। তাই খেয়াল করলে দেখা যাবে, ক্যামেরা বারবার ফাটলের দাগ শ্যাওলা বেয়ে উঠছে।

 

৬.

গীতা সেন মজা করে বলতেন, দুই সোম তাকে ভরাডুবি থেকে বাঁচিয়েছে। বাবার বাড়ির পদবি তার সোম। অন্যটি ‘ভুবন সোম’। ইন্টারভিউ, কলকাতা ৭১ আর পদাতিক— তিন বছরে তিন ফিল্ম। বিষয়ে প্রকরণে আলাদা। একাত্তর সালের কলকাতাই কোথাও রিলেট করছে। ২০ বছরের নিথর ছেলের গুলিবিদ্ধ দেহটি ভুলতে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কিছু সময় লাগবে। ‘তবু আমি এখনো কলকাতাকে এলডোরাডো বলে মনে করি। যেন আমি এ অ্যানাটমির অংশবিশেষ।’ আত্মজীবনীতে লিখেছেন পরিচালক। নিজের শহরকে ব্যক্তিগত নারীর মতো প্রেমে আর কে ভালোবেসেছে, তার সমূহ রাজনৈতিক ইতিহাসসমেত, ব্যথার আর প্রতিবাদের প্রতিবেদনসমেত?

অষুধপত্তরের রিপ্রেজেন্টেটিভ একদিনের নোটিসে ফিরলেন প্যারাডাইজ ক্যাফেতে, ছবি করবেন বলে, কলকাতাকে ভালোবাসতেন বলে। কলকাতার মানুষগুলোকে অনেকের সিনেমাতেই আমরা দেখেছি। কিন্তু উদ্দেশ্যমুখীন, রাজনৈতিক প্রেক্ষিত থেকে, আর কে? নিজেকে বলতেন, &dquote;&dquote;প্রাইভেট মার্ক্সিস্ট। পৃথিবীর একমাত্র প্রাইভেট মার্ক্সসিস্টকে নতজানু বিদায় জানাই। হয়তো বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র দর্শক, পৃষ্ঠপোষক, সৎ প্রেমিকারা একদিন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের কাল্পনিক, তাত্ত্বিকনির্মিত দ্বৈরথের হাত থেকে মুক্ত করে আরেকটু গভীরভাবে দেখতে শিখবে মৃণাল সেনের জীবনব্যাপী কাজ সিনেমাগুলোকে। বিমূর্ততার ফাঁদ থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতের মানুষেরা হয়তো আরেকটু বেশি করে গণমানুষের পাশে থাকবেন। এ শিক্ষাটুকুই আজ নেয়ার আছে, সদ্যপ্রয়াত মৃণাল সেনের কাছে। প্রণাম!