লাক্স আর কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের তুখোড় স্পাই মাসুদ রানার মধ্যে মিলটা কোথায়? প্রশ্নটা শুনে কি সোহানাও তড়াক করেই ঘুরে দাঁড়াবে! আবার অনেকের কপালে ভাঁজ পড়তে পারে। হয়তো হেসে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়বেন, বিড়াল আর দুধে মিল কোথায়?

মিলটা অবশ্য খুবই সহজ। বিড়াল আর দুধ—দুজনেই ছানা দেয়। সেই হিসেবে বললে, তারকাদের সৌন্দর্যচর্চার দাবিদার লাক্স একসময় ব্যবহার হয়েছে এ তারকা স্পাইয়ের শরীর থেকে নর্দমার কাদার দুর্গন্ধ তাড়াতে।

স্মৃতি হাতড়ে বলা। ভুলও হতে পারে। ভুলে যাওয়া আমার পুরনো অভ্যাস। কেউ কেউ যাকে বলবে স্মৃতিদৌর্বল্য। বা বলতে পারেন, এ আমার দ্বিতীয় ছায়া। মনে পড়ে, মাসুদ রানার কোনো এক সিরিজে এমনই এক দৃশ্য ছিল। অপারেশনে গিয়ে রানা পড়ে গিয়েছিল নোংরা নর্দমায়। শরীরজুড়ে কাদা, পচা পানির গন্ধ। হোটেলে ফিরে গোসল করতে গিয়ে নতুন একটা লাক্স সাবানের প্রায় বারো আনাই সাবাড় করে ফেলেছিল সে। গোসল শেষে সারা গায়ে লোশন মাখে। তবু নাক থেকে যায় না সেই পচা কাদার গন্ধ। মনে হয়, গন্ধটা যেন শরীরে নয়—মগজে ঢুকে বসে আছে।

বিচিত্র এই পৃথিবী।

সিনেমার নায়িকারা যে সাবান দিয়ে রূপচর্চা করেন, সেই সাবান দিয়েই একজন সিক্রেট এজেন্ট নর্দমার দুর্গন্ধ তাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভেবেছিল রানা। এ বৈপরীত্যই গল্পের মতো লাগে।

আজ লাক্স মানেই আমাদের কাছে রূপচর্চার সাবান—নিদেনপক্ষে গোসলের সাবান। কিন্তু লাক্সের জন্মটা মোটেও এমন ছিল না। লাক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারেই অন্য জায়গা থেকে। কাপড় কাচার সাবান হিসেবে।

সময়টা একশ বছর আগের কাছাকাছি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরের সময়। ইউরোপ তখনো ধ্বংসের ধোঁয়া আর ছাইয়ের গন্ধে আচ্ছন্ন। যুদ্ধ শেষ হয়েছে। ক্ষত শুকায়নি। তবু ঠিক সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই জন্ম নিচ্ছিল নতুন এক স্বপ্ন—পরিষ্কার জীবনের, সৌন্দর্যের, আধুনিকতার স্বপ্ন।

এ সময়েই জন্ম নেয় এক টুকরো সাবান। নাম রাখা হয় লাক্স। ল্যাটিন শব্দ লাক্স মানে আলো। নামের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল ইঙ্গিত। এটা শুধু সাবান নয়, এটা আলো, উজ্জ্বলতা, একটু বেশি ভালো কিছু। সাধারণ কাপড় ধোয়ার সাবান নয়—এমন কিছু, যা ছোঁয়ালে জীবনটাও একটু ঝকঝকে মনে হবে।

এ দেশেও তার ছাপ পড়েছিল। ষাট কিংবা সত্তরের দশকে যারা সংসার সামলেছেন, তারা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন—লাক্স ফ্লেক নামে সাবানের একটা বাক্স। সে সাবান লিভার ব্রার্দাসেরই তৈরি ছিল কিনা তাও মনে নেই। বা আরো সত্যি করে বলতে হয়, সে বয়সে কোনটা কাদের তৈরি মোড়ক দেখে তা পড়ার তাগিদ কখনো অনুভব করতাম না। পাতলা পাতলা কুচির মতো সেই সাবান পানিতে ছুঁতেই গলে যেত। সে সাবান ব্যবহার হতো গরম কাপড় বা উলের পোশাক ধোয়ার জন্য। শাল, সোয়েটার, পুলওভার ধোয়ার পর কখনই পানি চিপে ফেলা হতো না, ঝুলিয়েও দেয়া হতো না। তাতে উলের কাপড় বেঁকে যেত। ধোয়ার পর কাপড় বিছিয়ে দেয়া হতো—খাটের ওপর, চেয়ারের ওপর, কখনো উঠোনের ঘাসের ওপর। তার আগে বালতি বা গামলার কিনারে স্তূপ করে রাখা হতো, পানি ঝরার জন্য। মনে হয়, ১৯৭১-এর পর আর লাক্স ফ্লেক চোখে পড়েনি।

গরম কাপড় ধোয়ার আরেক ভরসা ছিল রিঠা। রিঠা দিয়ে যে কাপড় ধোয়া যায় সে কথা অনেকেই জানেন না। বা রিঠা নামটাও হয়তো শোনেননি কেউ কেউ। কলার ফাতরা বা শুকনা অংশ পুড়িয়ে ক্ষার পাওয়া যায়। তা দিয়েও কাপড় ধোয়ার কাজ চলে। এমনকি গাও ধোয়া যেতে পারে। সে কালে শ্যাম্পু ঘরে ঘরে পৌঁছেনি। চুল ধোয়া হতো রিঠা দিয়ে, কিংবা খইল দিয়ে। শীতকালে খইল ভিজিয়ে রেখে গায়ে মেখে গোসল, এ দৃশ্য তখন খুব স্বাভাবিক ছিল।

3.1

লাক্স সাবানের বিজ্ঞাপনে ওয়াহিদা রহমান

ষাট ও সত্তরের দশকে বিয়ের ডালায় লাক্স থাকতই। কসকো, স্যান্ডালিনা, তিব্বত—সবই বাজারে ছিল, কিন্তু লাক্স মানেই ছিল একটু বেশি ভালো জিনিস। আমাদের শৈশব বা কৈশোরে ঈদের সকাল মানে নতুন জামা, নতুন গামছা, তোয়ালে আর নতুন লাক্স মেখে গোসল করার এক আলাদা আনন্দ। তখনো দেশে হয়তো লাক্স পুরোপুরি রূপচর্চার সাবান হয়ে ওঠেনি। অন্তত আমরা তা জানতে পারিনি। সিনেমা নিয়ে বড়দের সামনে কথা বলাকে বেয়াদবি গণ্য করা হতো। সমবয়সীদের মধ্যে আলোচনা চলত চুপি চুপি। সে আলাপের বয়সের পরিমণ্ডলে তখনো ঢুকিনি।

লাক্সকে তারকাদের সৌন্দর্যচর্চার সাবান বানিয়েছে প্রথমে হলিউড।

হলিউড তখন স্বপ্ন তৈরির কারখানা। সিনেমার নায়িকারা শুধু পর্দার চরিত্র নন—তারাই সৌন্দর্যের মানদণ্ড। গল্পটা এ রকম: হলিউডের এক নায়িকাকে নাকি প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি দেখতে এত সুন্দর কেন? সেই নায়িকা বলেছিলেন, দিনে তিনবার লাক্স ব্যবহারই হচ্ছে তার সৌন্দর্যের গোপন রহস্য। লাক্স তখন এভাবে বিজ্ঞাপনের কথা নাকি ভাবেইনি। কিন্তু নায়িকার জবাবে যে সুযোগ তৈরি হলো লাক্স দেরি না করেই সেই সুযোগ নিখুঁতভাবে কাজে লাগায়। বিজ্ঞাপনে দেখানো হতে থাকে, এ সাবান ব্যবহার করেন তারকারা। ‘দশজনের মধ্যে নয়জন সিনেমা তারকা লাক্স ব্যবহার করেন’—এমন দাবি তখন মানুষের কানে ঢুকে পড়ে সহজেই। ১৯২৮ সালে প্রথম হলিউড নায়িকাদের দিয়ে বিজ্ঞাপন শুরু হয়। মেরিলিন মনরো থেকে শুরু করে এলিজাবেথ টেলর—সবাই লাক্সের মডেল ছিলেন।

১৯২৯ সালে লাক্স ব্রিটিশ উপনিবেশ ইন্ডিয়ায় আসে। প্রথমে বিদেশী মুখ, পরে ধীরে ধীরে দেশী তারকারা জায়গা নেন। প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে লাক্সের বিজ্ঞাপন করেন লীলা চিটনিস। ১৯৪১ সালের কথা। তবে অনেকেরই ধারণা ছিল দেবিকা রানি ছিলেন প্রথম লাক্স তারকা। তারপর একে একে মধুবালা, হেমা মালিনী থেকে শুরু করে হালের শাহরুখ খান পর্যন্ত এ তালিকায় নাম লেখান। লাক্সের প্রথম পুরুষ মডেল শাহরুখ খান। লাক্স যদিও মেয়েদের সাবান হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ২০০৫ সালে শাহরুখ খান প্রথম পুরুষ হিসেবে লাক্সের বিজ্ঞাপনে এসে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালের একটি লাক্সের ক্যালেন্ডারে মীনা কুমারীর সাদাকালো ছবি বেশ সাড়া ফেলেছিল।

একজন অভিনেত্রীর লাক্স বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে ধরা পড়ে তার বদলে যাওয়া পরিচয়। সব পর্যায়ের অভিনেত্রীরা এখানে জায়গা পান। মুম্বাই ছবির প্রায় সব বড় অভিনেত্রীই একসময় লাক্স গার্ল, শুধু নতুন ছাড়া। এমনকি ভ্যাম্পরাও। এ প্রচার যেন এক অঘোষিত পুরস্কার মঞ্চ, যেখানে নানা ধরনের নারী অভিনয়ের স্বীকৃতি পান।

w2

অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকায় লাক্সের বিজ্ঞাপন ছবি: লুইস ব্রুকস সোসাইটি

টেলিভিশনের আগের সময়ের লাক্স বিজ্ঞাপন দেখলে বোঝা যায়, এখানে সাবানের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে তারকাখ্যাতি। বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছে এক ধরনের সাংস্কৃতিক নিদর্শন, যেখানে সিনেমার বাইরেও নায়িকাদের মুখ ঘুরে বেড়ায়।

এখানেই লাক্স কাপড় ধোয়ার সাবান থেকে ধীরে ধীরে রূপচর্চার প্রতীকে বদলে যায়। সাবানটা আর শুধু ময়লা পরিষ্কার করে না—সে নাকি সৌন্দর্য দেয়, আভিজাত্য দেয়, স্বপ্ন দেয়।

আর সেই স্বপ্নের সাবানই একদিন ঢুকে পড়ে মাসুদ রানার নর্দমা ভেজা জীবনে। তারকাদের সৌন্দর্যচর্চার সাবান দিয়ে এক সিক্রেট এজেন্ট গায়ের দুর্গন্ধ তাড়ানোর চেষ্টা করছে—এ বৈপরীত্যই লাক্সকে আলাদা করে তোলে।

বাংলাদেশে একসময় সুবর্ণা মুস্তাফা লাক্স তারকা হয়েছিলেন। লাক্স তারকা হয়েছিলেন (সম্ভবত) শাবানাও। পাকিস্তানি আমলে নীলো বা জিবার মতো কেউ ছিলেন কিনা, ঠিক মনে পড়ে না। নব্বইয়ের দশকে আনন্দ বিচিত্রা আয়োজন করত ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতা। সম্ভবত ১৯৯৫ সালের দিকে। তার দুই বছর পর, ১৯৯৭ নাগাদ, সেই আয়োজনের স্পন্সর হয়ে ওঠে লাক্স—মানে লিভার ব্রাদার্স। তখন লিভার ব্রাদার্সের বিজ্ঞাপন এজেন্সি ছিল এশিয়াটিক।

লাক্সের জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ এর দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধ। এর সুবাস তৈরির জন্য বিশ্বখ্যাত পারফিউমারদের ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে এদের ফরাসি গোলাপ, চন্দন ও অর্কিডের নির্যাস ব্যবহার করার ঐতিহ্য ব্র্যান্ডটিকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।

সাবান যে শুধু পরিষ্কার করার জিনিস নয়—এ কথা আমাদের আজকের চোখে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, একসময় তা ছিল ততটাই অস্বাভাবিক। এ বদলের গল্পই সবচেয়ে গভীরভাবে তুলে ধরেছেন সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদ অ্যান ম্যাকলিনটক। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় তার বই ‘ইম্পেরিয়াল লেদার: রেস, জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়ালিটি ইন দ্য কলোনিয়াল কনটেস্ট’। এ বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে এক টুকরো সাবান ধীরে ধীরে আধুনিকতার ভাষা হয়ে ওঠে।

w1

মুম্বাইয়ের রাস্তায় লাক্সের বিলবোর্ড ছবি: বিহ্যান্স

ম্যাকলিনটক বলছেন, উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাবান ছিল একেবারে ঘরোয়া বস্তু। গৃহিণীদের হাতে, ধোয়ার ঘরে, কাপড়ের দাগ তোলার কাজে সীমাবদ্ধ। সাবান ছিল নীরব, নিরীহ, প্রায় অদৃশ্য। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের পর ইউরোপ যখন কারখানা, রেললাইন আর উপনিবেশে ভরে উঠছে, তখন এ নীরব জিনিসের ভাগ্য বদলে যেতে থাকে।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তখন আফ্রিকা ও এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু সেনা আর প্রশাসন নয়, ছড়িয়ে পড়ছে এক ধরনের কল্পনাও। কে পরিষ্কার, কে অপরিষ্কার—এ বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে খুব সুচারুভাবে। ম্যাকলিনটক দেখান, ঠিক এ জায়গায়ই সাবান ঢুকে পড়ে রাজনীতির মঞ্চে।

ম্যাকলিনটক দেখিয়ে দেন, উনিশ শতকের শেষ আর বিশ শতকের শুরুতে সাবান আর সৌন্দর্য আলাদা জিনিস ছিল না। সাবান ছিল সভ্যতার প্রতীক, মানদণ্ড। এ মানদণ্ড শুধু শরীর ধোয়ার নিয়ম শেখায়নি, শিখিয়েছে কে সুন্দর, কে শুদ্ধ, কে উন্নত। লাক্স এ জায়গায়ই অন্য সব সাবানের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে যায়। অনেক সাবান বলেছে, পরিষ্কার থাকো। লাক্স বলেছে, সুন্দর হও।

লাক্সের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো সে পরিষ্কার আর সৌন্দর্যকে এক করে ফেলেছে। আগে পরিষ্কার থাকা মানে ছিল ময়লা না থাকা। লাক্সের পরে পরিষ্কার মানে হয়ে গেল সুন্দর হওয়া। এ সুন্দর হওয়ার ভেতরে ঢুকে গেল লিঙ্গের রাজনীতি।

লাক্সের আরেকটা বড় দিক হলো তারকাখ্যাতি। তারকা মানে তখন দূরের মানুষ। স্বপ্নের মানুষ। ম্যাকলিনটক দেখান, যখন বলা হয় এ সাবান তারকারা ব্যবহার করেন, তখন আসলে বলা হয় এ সাবান ব্যবহার করলে তুমি একটু হলেও তাদের মতো হবে। এটা এক ধরনের সামাজিক মই। সাবান দিয়ে ওপরে ওঠার আশ্বাস।

লাক্সের জন্ম হয়েছিল গৃহিণীদের কাপড় ধোয়ার সাবান হিসেবে। কিন্তু বিশ শতকের গোড়াতেই তার ভাষা বদলে যায়। বিজ্ঞাপনে ঢুকে পড়ে তারুণ্যের প্রতিশ্রুতি, কোমল ত্বকের স্বপ্ন। লাক্স আর শুধু ময়লা তোলে না—সে নারীকে সুন্দর করে, আকর্ষণীয় করে, আধুনিক করে তোলে। সাবানের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় সিনেমা তারকা, আলো, গ্ল্যামার।

ম্যাকলিনটক যে কথাটা বলেন, সেটাই এখানে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, সাবান বিক্রি করতে গিয়েই আধুনিক বিজ্ঞাপন শিখে নেয় কীভাবে মানুষের প্রয়োজনকে আকাঙ্ক্ষায় বদলাতে হয়। কীভাবে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসকে জীবনের মানে বানিয়ে দেয়া যায়। ‘তুমি কেমন মানুষ’—এ প্রশ্নের উত্তর হয়ে ওঠে এক টুকরো সাবান।

এ কারণেই লাক্স একদিকে সিনেমার পর্দায় তারকাদের শরীরে জায়গা করে নেয়, আবার অন্যদিকে ঢুকে পড়ে মাসুদ রানার নর্দমা ভেজা জীবনে। এ দুই দৃশ্য আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত হলেও ম্যাকলিনটকের চোখে তারা একই ইতিহাসের অংশ। দুটোই আধুনিকতার গল্প—যেখানে পরিষ্কার আর অপরিষ্কার শুধু গন্ধের বিষয় নয়, ক্ষমতারও বিষয়। সব মিলিয়ে লাক্স শুধু সাবান নয়। লাক্স একটা সময়ের গন্ধ, স্মৃতির ফেনা, নর্দমা আর রুপালি পর্দার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো ইতিহাস।

শেষ পর্যন্ত সাবান আর সাবান থাকে না।

সে হয়ে ওঠে সময়ের ভাষা। শরীরের রাজনীতি। পাশাপাশি এমন এক নীরব অস্ত্র—যেটা দিয়ে সাম্রাজ্যও গড়া যায়, অন্যদিকে এক দুর্দান্ত স্পাইয়ের শরীর থেকে নর্দমার গন্ধ তাড়ানোর চেষ্টাও করা যায়।

এখানেই লাক্স আর মাসুদ রানা এক বিন্দুতে এসে মিলে যায়।

সৈয়দ মূসা রেজা: সাংবাদিক ও লেখক