কোনো জনপদের পরিচয় তার আয়তনে নয়, তার স্মৃতির বিস্তারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেই বিরল ভূখণ্ডগুলোর একটি, যার ইতিহাস একই সঙ্গে যুদ্ধের, জ্ঞানের, সাধনার, সংগীতের, সাহিত্যের ও রাজনৈতিক জাগরণের। সরাইলের জলাভূমিতে মোগল প্রতিরোধ গড়ে তোলা ঈসা খাঁ থেকে শিবপুরের মাটিতে জন্ম নেয়া আলাউদ্দিন খাঁ; রামরাইলের ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে গোকর্ণের অদ্বৈত মল্লবর্মণ; কালিকচ্ছের বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত থেকে মোরাইলের কবি আল মাহমুদ—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস যেন একটিমাত্র ধারার গল্প নয়, বরং বহু স্রোতের মিলন।
এ জেলার ভূগোলও হয়তো তার চরিত্র গঠনে ভূমিকা রেখেছে। তিতাস, মেঘনা, সালদা ও অসংখ্য খাল-বিলের জলভূমি, নদীপথের বাণিজ্য, সীমান্তের নৈকট্য এবং বৃহত্তর বঙ্গের সঙ্গে দীর্ঘ যোগাযোগ সব মিলিয়ে এখানে সংস্কৃতি কখনো এক জায়গায় স্থির থাকেনি। বহিরাগত সুর এসেছে, স্থানীয় সুরের সঙ্গে মিশেছে; রাজনৈতিক ধারণা এসেছে, স্থানীয় সমাজে নতুন ভাষা পেয়েছে।
এ বহু স্বরের ইতিহাসের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছেন ঈসা খাঁ। ষোলো শতকের বারোভূঁইয়ার অন্যতম প্রধান নেতা তিনি শুধু বাংলার মোগলবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক নন; সরাইল তার জমিদারি ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল। বাংলাপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, সরাইলেই তার জন্ম এবং এখান থেকেই তিনি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজের ক্ষমতার ভিত্তি গড়ে তোলেন। পরে তার প্রশাসনিক কেন্দ্র সোনারগাঁয় স্থানান্তর হয়। মোগল সাম্রাজ্যের বিস্তারের বিরুদ্ধে স্থানীয় শক্তিগুলোকে একত্র করার যে রাজনৈতিক কৌশল তিনি নিয়েছিলেন, তার ইতিহাসে সরাইলের ভূমিকা তাই অনিবার্য।
কয়েক শতাব্দী পর সেই ভূখণ্ডের পরিচয় বদলে যায় আরেক ধরনের প্রতিরোধে—সংগীতের প্রতিরোধে। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ জন্মেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে তার নাম একটি যুগের নাম। সরোদকে কেন্দ্র করে তিনি যে সাধনার পথ নির্মাণ করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে ‘মাইহার ঘরানা’ হিসেবে বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে জায়গা করে নেয়। তার শিষ্যদের মধ্যে ছিলেন আলী আকবর খাঁ, রবিশঙ্কর, অন্নপূর্ণা দেবীসহ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বহু কিংবদন্তি। তিনি অসংখ্য রাগ সৃষ্টি ও সংগীতের বাদনরীতিতে নতুনত্ব আনার পাশাপাশি পাশ্চাত্য শ্রোতাদের সামনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
আলাউদ্দিনের পরিবারের ইতিহাসও যেন এক স্বতন্ত্র সংগীত-উপাখ্যান। তার ছোট ভাই ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, জন্ম শিবপুরে। তিনি শুধু সরোদ ও সুরবাহারের শিল্পী ছিলেন না, বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ ও উদ্ভাবনেও কাজ করেছেন। ‘মনোহরা’, ‘মন্দ্রনাদ’সহ কয়েকটি বাদ্যযন্ত্রের উন্নয়ন এবং নতুন রাগ সৃষ্টির সঙ্গে তার নাম যুক্ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯৫৪ সালে আলাউদ্দিন সংগীত কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তার ভূমিকা ছিল।
এই একই শিবপুর থেকে উঠে এসেছেন ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ। ১৯২২ সালে জন্ম নেয়া এ সরোদশিল্পী পরবর্তীকালে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যান। মাত্র তিন বছর বয়সে পিতার কাছে সংগীতশিক্ষা শুরু করে কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সরোদবাদক।
তার বোন অন্নপূর্ণা দেবী—আলাউদ্দিন খাঁর কন্যা—ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে এক রহস্যময় অথচ গভীর উপস্থিতি। সুরবাহারের অসাধারণ সাধক হিসেবে তিনি নিজে খুব বেশি প্রকাশ্যে না এলেও তার সংগীতশিক্ষার প্রভাব বহু প্রজন্মের শিল্পীর মধ্যে ছড়িয়ে আছে। ফলে শিবপুরকে কেবল একটি গ্রাম বললে তার সাংস্কৃতিক ভূগোলের প্রতি অবিচার হয়; এটি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এক বিশ্বখ্যাত পরিবারের জন্মভূমি।
কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংগীত কেবল রাজদরবারের শাস্ত্রীয় সংগীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ জেলার আরেক প্রান্তে জন্ম নিয়েছিলেন মনমোহন দত্ত—মরমি সাধক ও মরমি গানের রচয়িতা, যিনি ‘মনমোহন সাধু’ নামেও পরিচিত। নবীনগরের সাতমোড়া গ্রামে তার জন্ম। অল্প বয়সেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথ ছেড়ে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা ও সৃষ্টিশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার গান বাংলা মরমি সংগীতের এক স্বতন্ত্র ভুবন তৈরি করেছে।
এ মরমি স্রোতের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতের যোগও ছিল অদ্ভুত। আলাউদ্দিন খাঁর বড় ভাই ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁ ছিলেন গীতিকার, সুরকার ও বহুবাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী শিল্পী; তিনি মনোমোহন দত্তের গানে সুর দিয়েছিলেন এবং লোক ও শাস্ত্রীয় সংগীতের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা রেখেছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্যও এসেছে এ জলভূমির গভীরতা থেকে। অদ্বৈত মল্লবর্মণ জন্মেছিলেন গোকর্ণে। তার তিতাস একটি নদীর নাম বাংলা সাহিত্যে শুধু একটি উপন্যাস নয়—এটি নদী, জেলে সম্প্রদায়, দারিদ্র্য, সামাজিক পরিবর্তন ও বিলীয়মান জীবন ব্যবস্থার এক অসামান্য দলিল। তিতাসের মানুষের জীবনকে সাহিত্যিক মর্যাদা দেয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আঞ্চলিক বাস্তবতাকে বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর ভূগোলে স্থাপন করেন।
আর মোরাইলের আল মাহমুদ গ্রামবাংলার ভাষা, নদী, প্রেম, মাটি ও লোকজ স্মৃতিকে আধুনিক কবিতার শরীরে নিয়ে আসেন। ১৯৩৬ সালে মোরাইলে জন্ম নেয়া এ কবির কবিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদীমাতৃক ভূগোল বারবার ফিরে এসেছে। তার ভাষা আধুনিক হলেও তার শেকড় ছিল লোকজ বাংলায়।
এ সাহিত্যিক ধারায় আবদুল কাদির ও প্রবোধচন্দ্র সেনের মতো মানুষও গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল কাদির কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক হিসেবে বাংলা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় ভূমিকা রাখেন; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে। তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রবোধচন্দ্র সেন ছিলেন ছন্দবিশারদ, রবীন্দ্র-গবেষক ও ইতিহাসমনস্ক লেখক। সরাইলের চুন্টার সঙ্গে তার জীবন-সম্পর্ক ছিল গভীর। বাংলা কাব্যের ছন্দ নিয়ে তার গবেষণা তাকে বিশ শতকের বাংলা সাহিত্য-সমালোচনার একটি বিশেষ নাম করে তুলেছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি স্তম্ভ ব্যারিস্টার আবদুর রসুল। গুনিয়াউকের জমিদার পরিবারে জন্ম নেয়া এ আইনজীবী বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯০৬ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেন এবং পরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দেন। তার জীবন দেখায় তখনকার বাংলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ধর্মীয় পরিচয়ের সরল বিভাজনে আটকে ছিল না।
আর নবাব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা—নাসির নগর উপজেলার গোকর্ণের সন্তান—ছিলেন আইন, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও রাজনীতির এক অসাধারণ সমন্বয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শাস্ত্রে অধ্যাপনা থেকে বঙ্গীয় নির্বাহী পরিষদে দায়িত্ব, সংবাদপত্র প্রকাশ থেকে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের নেতৃত্ব—তার কর্মজীবন ঔপনিবেশিক ভারতের বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এ রাজনৈতিক ধারাই একসময় এসে মিশেছে ভাষা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, রামরাইলের সন্তান, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নেন। আইনজীবী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তার দীর্ঘ জীবন শেষ হয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে হত্যার মধ্য দিয়ে। ভাষার অধিকারের জন্য তার সেই সাংবিধানিক লড়াই বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের একটি প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আরেক ভাষাসৈনিক অলি আহাদ জন্মেছিলেন বিজয়নগরের ইসলামপুরে। ছাত্ররাজনীতি, ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদকদের একজন এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।
স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক সন্তান আবদুল কুদ্দুস মাখন সামনে আসেন। ১৯৭০ সালে ডাকসুর জিএস এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখেন। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের ঘটনায়ও তিনি ছিলেন অন্যতম নেতা।
তারও আগে ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের আগুন জ্বালিয়েছিলেন উল্লাসকর দত্ত। সরাইলের কালিকচ্ছের বাঘবাড়িতে জন্ম নেয়া এ বিপ্লবী যুগান্তর ও স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলিপুর বোমা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও পরে তার সাজা যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে রূপান্তর হয়। আন্দামানের কারাজীবন তার জীবনের দীর্ঘতম অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি।
উল্লাসকরেরই সহযোদ্ধা প্রজন্মের অখিলচন্দ্র নন্দী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নিয়ে বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে তার রাজনৈতিক জীবন মার্ক্সবাদী ধারায় প্রবাহিত হয়। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লব থেকে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার যাত্রা উপমহাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের একটি প্রতিচ্ছবি।
এ জেলার ইতিহাসে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চারও শক্তিশালী ধারা রয়েছে। আল্লামা তাজুল ইসলাম, ফখরে বাঙ্গাল, নাসিরনগরের ভুবন গ্রামের সন্তান, ছিলেন বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী শিক্ষাবিদ। দারুল উলুম দেওবন্দে শিক্ষালাভের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ায় দীর্ঘকাল শিক্ষকতা ও নেতৃত্ব দেন। তার চার দশকের বেশি সময়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ব বাংলার ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে কসবায় খেওড়া গ্রামের সন্তান আনন্দময়ী মা ধর্মীয় ইতিহাসকে আরেক ভুবনে নিয়ে যান। জন্মনাম নির্মলা সুন্দরী দেবী; ১৮৯৬ সালে এ গ্রামেই তার জন্ম। পরবর্তী জীবনে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম পরিচিত হিন্দু সাধিকা হয়ে ওঠেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে তার জন্ম এ জেলার ধর্মীয় ইতিহাসকে বহুধারায় সমৃদ্ধ করেছে।
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিসরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান বিস্তৃত। অন্নদাচরণ রায়ের মতো স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন। আ ক ম আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; তিনি ছিলেন লেখক, গবেষক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসমনস্ক জ্ঞানসাধক।
সবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে হয়তো একটি সংজ্ঞায় বাধা যায় না। এখানে ইতিহাসের শুরুতে তলোয়ার আছে, পরে আছে বই; একপাশে বিপ্লবীর বোমা, অন্যপাশে সাধকের গান; কোথাও সরোদের তার, কোথাও তিতাসের জলের শব্দ; কোথাও রাষ্ট্রভাষার দাবি, কোথাও মুক্তির পতাকা।
এ কারণেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেবল একটি জেলা নয়; বাংলার ইতিহাসে এক বহুস্বরের ভূখণ্ড। ঈসা খাঁর প্রতিরোধ থেকে আলাউদ্দিন খাঁর সাধনা, উল্লাসকর দত্তের বিপ্লব থেকে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষার দাবি, অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস থেকে আল মাহমুদের কবিতা—সব মিলিয়ে এ জনপদের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ।
তাদের কেউ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, কেউ অজ্ঞতার বিরুদ্ধে; কেউ বন্দুক হাতে নিয়েছেন, কেউ সরোদ; কেউ লিখেছেন কবিতা, কেউ লিখেছেন ইতিহাস; কেউ রাষ্ট্রভাষার জন্য লড়েছেন, কেউ মানুষের আত্মার ভাষা খুঁজেছেন।
একটি ভূখণ্ডের সাংস্কৃতিক মহত্ত্বের শেষ পর্যন্ত আর কিইবা পরিচয় হতে পারে, তার মাটিতে জন্ম নেয়া মানুষ কতদূর পর্যন্ত সেই মাটির নামকে নিয়ে যেতে পেরেছেন।
তুহিন সাইফুল ইসলাম: কবি ও সাংবাদিক










