রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে ভ্রমণ একটি বড় অধ্যায়। জীবদ্দশায় তিনি বিদেশের পাশাপাশি নিজের দেশও ভ্রমণ করেন। সেই ভ্রমণের অংশ হিসেবে ১৯২৩ সালের মার্চে তিনি করাচি সফর করেছিলেন। ১৯ মার্চ করাচি পৌঁছলে স্থানীয় বাঙালিরা তাকে সাদরে বরণ করে। সেখান থেকে রবীন্দ্রনাথকে করাচির মেয়র জামশেদ এন আর মেহতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় জনতার পক্ষ থেকে তাকে বার্নস গার্ডেনে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আয়োজনের প্রধান গুলামালি চাকলা তাকে স্থানীয় রেশমে মোড়া একটি মানপত্র প্রদান করেন। সে সময় রবীন্দ্রনাথ বলেন, কবি হিসেবে আমি আপনাদের সমপর্যায়ের একজন মানুষ হতে চাই। যখন আপনারা আমাকে আমন্ত্রণ করেন, আমাকে উচ্চাসনে বসাবেন না।
রবীন্দ্রনাথকে দেয়া এ স্মারক এবং ২৫১ রুপিসহ একটি ‘পার্স’ রবীন্দ্রভবনে রাখা আছে। ২০ মার্চ করাচি মিউনিসিপ্যালিটির পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথকে একটি মানপত্র দেয়া হয় এবং জুওলজিক্যাল গার্ডেনে তার সম্মানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে করাচি মিউনিসিপ্যালিটি প্রায় দুই হাজার রুপি খরচ করে। এখানে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ভারত দেশটি অনেক কবি তৈরি করেছে এবং তারা নিজেদের কাজও করেছে। এখন বর্তমান সময়ের কবিদের দায়িত্ব, পূর্ববর্তী সেই কবিদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
এই কাজ সম্পর্কে কবি বলেছেন, প্রেম ও একতার সঙ্গে দেশকে একত্রিত করা এবং ভারতকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্ত করা।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কেও রবীন্দ্রনাথ ধারণা রাখতেন। ডি জে সিন্ধ কলেজে বক্তৃতার সময়, কিছুদিন আগে স্যার মার্শাল এবং রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো খননের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, এখান থেকে ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে অসাধারণ কোনো আবিষ্কার হতে পারে। ২২ তারিখে পার্ল অপেরা হাউজে তিনি ‘A vision of Indian History’ শিরোনামে বক্তৃতা দেন। ২৪ তারিখ থিয়োসফিক্যাল সোসাইটি হলে এ সংঘের নারীদের সামনে একটি বক্তৃতা করেছিলেন। ২৪ তারিখেই এ সফর শেষ করে রবীন্দ্রনাথ গুজরাটের পোরবন্দরের উদ্দেশে রওনা করেন। করাচিতে রবীন্দ্রনাথের সফরের এই হলো সারসংক্ষেপ।
সূত্র: sesquicentennial.blogspot.com





