ইয়োস। তর্জমা: রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

[ইয়োস ওরফে হোসে মিগেল সাঞ্চেস সমকালীন কুবার অন্যতম সেরা লেখক। লেখেন প্রধানত কল্পবিজ্ঞান ও দূরকল্পনাভিত্তিক ঘরানার ফিকশন। এ পর্যন্ত তার ২০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে জন্ম নেয়া ইয়োস থাকেন কুবার রাজধানী লা আবানায়। হেভি মেটাল ব্যান্ড তেনাস্-এর প্রধান গায়কও তিনি। ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত লিট ফেস্টে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইয়োসের কাছ থেকে ই-মেইলে পাওয়া এ গল্পটি মূল এস্পানিয়ল থেকে তর্জমা করা হয়েছে]

 

লম্বা-পাতলা লোকটি, তবে যার পেটটি থলথলে ও বেরিয়ে আসা, চুপিসারে দরজার কাছে এসে তিনবার টোকা দেয়।

ছোট জানালাটা খুলে গেল এবং একটি ভাঙা গলা বলল: ‘পাসওয়ার্ড?’

‘ত্রিপানোসোমা গামবিয়েনেস’—ফিসফিসিয়ে বলল সে এবং তাকে ঢুকতে দেয়া হলো।

‘একটু দেরি হয়ে গেল আসতে, কারণ এই রাস্তার মোড়ে সাদা ব্রিগেডের সদস্যরা আমাকে আটকে দিয়েছিল’—সে ব্যাখ্যা দিল, নিজের ভুঁড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে পরে এই কথা আরো জুড়ল ঝাঁঝের সঙ্গে: ‘কুত্তার বাচ্চারা আমার সবেমাত্র বের হওয়া মেদের জন্য আমাকে ৩০০ পেসো জরিমানা করেছে। কোথায় যে যাচ্ছি কে জানে’—সে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ‘এ কথা হলফ করে বলা যায় ... আপনাদের উচিত আরো অস্বাভাবিক কোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা’—ভেতরে তার জন্য অপেক্ষারত যুগলকে সে বুদ্ধি দেয়। অনেককেই সেতেস মাছি এবং নিদ্রারোগের কথা বলতে শুনেছে।

তোমার মতে তাহলে কী পাসওয়ার্ড রাখা উচিত? লুপুস এরিতেমাতোসো? কোরসাকোভ সিনড্রোম? সার্কোইডোসিস? বিরক্তির সঙ্গে বাড়িওয়ালা বলল, গোলাপি গালের এক মক্কেল, যে অনবরত কাশতে থাকে, সাংঘাতিকভাবে নিষিদ্ধ একটি ‘তুপামারো’ সিগারেটে আগুন ধরাতে ধরাতে। ‘ডাক্তার বাড়ি’ সিরিজের ২০ সিজনের পুনঃপ্রচার আমাদের জীবনকে বরবাদ করে দিয়েছে। যেনবা আমাদের যথেষ্ট রকমের সমস্যা নেই, এখন সবাই এত রকমের ডাক্তারি নাম-ধাম-শব্দ জানে যে বিরক্ত লাগে ...

‘হ্যাঁ, গত সপ্তাহে আমাদের কাছে তিনজন সিমুলেটর এসেছিল। প্ররোচক, ছদ্মবেশী সাদা ব্রিগেডের এজেন্ট, আমি নিশ্চিত’—লোকটির স্ত্রী বলল, এক বুড়ি মহিলা যার পেছনটা এমন কৌণিকভাবে বাঁকানো যে যা এমনকি না-ইউক্লিডিয়ো জ্যামিতিকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। ‘ভেবে দেখো, বাছা: একজন তো কসম খেয়ে বলল যে তার স্পাইনা বাইফিদা আছে। আর বলল তো বলল আমাকে, যে কিনা ১০০ মিটার দূর থেকেও নকল এস্কোলাইওসিস চিহ্নিত করতে পারি! ফ্যামিলি ডাক্তারের কাছে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি, বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাকে এত সহজে পটানো যাবে না।’ মহিলা তার দিকে তাকাল, আড়চোখে। ‘সে যাক, তোমার কী সমস্যা?’

 

‘ডিমে অ্যালার্জি, লম্বা ও বেখাপ্পা লোকটি বিড়বিড়িয়ে বলল, চাপা স্বরে এবং এমনভাবে যেন তার ভোগান্তির আপেক্ষিক অর্থহীনতায় সে লজ্জিত। আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়, আমার চামড়ায় ফোস্কা পড়ে এবং গলা বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি একবার ওরা আমাকে বাধ্য হয়ে ট্রাকেওটোমি করেছিল...’     

‘অবৈধ?’ তত্ক্ষণাৎ কাশি দেয়া বুড়ো লোকটি জিজ্ঞেস করল, তার মুখের ওপর বিষাক্ত নিকোটিনের ধোঁয়ার এক সন্দিগ্ধ কুণ্ডলী ছাড়তে ছাড়তে।

‘অবশ্যই গলায় ট্রাকেওটোমি করা লোকটি ডাঁটের সঙ্গে বলল, কাশতে কাশতে, প্রমাণ করার জন্য গলায় সাদাটে একটি ক্ষত দেখিয়ে, ঠেলে বেরিয়ে-আসা কেলোয়েডসহ। “এটা আমার চাচাতো ভাই করেছে রান্নার ছুরি দিয়ে এবং টিউব হিসেবে ব্যবহার করেছে বলপেনের কার্ট্রিজ। সবটাই তাত্ক্ষণিক: এমনকি গরম পানিতে সিদ্ধ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি সে। সেপ্টিসেমিয়ায় আমি প্রায় মরতে বসেছিলাম, একই সঙ্গে চিরদিনের জন্য ঋণী হয়েও থাকলাম। আমি যদি পারিবারিক ডাক্তারের চেম্বারে যেতাম, তবে এই নিরাপত্তা বিধানের কালে নির্ঘাত চিরদিনের জন্য আমাকে অসুস্থদের দ্বীপে পাঠিয়ে দেয়া হতো। আমার পৌরসভাকে অ্যালার্জিমুক্ত ঘোষণা করা হয় সেই ২০৩৬ সালে। একবার ভেবে দেখুন ...’

‘বেচারা। এই অবস্থাটা বিরল আর মোট কথা অস্বস্তিকর। কিন্তু আমাদের কাছে প্রেডনিসোন, বেনাড্রিলিন, সব রকমের অ্যান্টি-হিস্টামিন আছে, যা তুমি চাও .... এবং কোনো কোনোটার এমনকি এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি, বুঝলে?’ ছোটখাটো বুড়ি মহিলাটা সংহতি জানায় এবং এরপর আবার জেঁকে বসে: ‘আর তোমার এই চাচাতো ভাইকে সঙ্গে আনলে না কেন, বাছা? একজন চোরাগোপ্তা সার্জন আমাদের ভালোই কাজে আসত। আমরা সংখ্যায় এত কম...’

‘প্রায় দুই মাস হয় সাদা ব্রিগেডের লোকজন ওকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। ও নিজের একটা আঙুল কেটে ফেলেছে এবং বাধ্যতামূলক ট্রান্সপ্লান্ট করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেখো ওকে বলেছিলাম যে গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং তার বাধ্যতামূলক অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচি নিয়ে এত খোলাখুলিভাবে প্রশ্ন না করতে...’ লম্বা ও বেখাপ্পা লোকটি বলল নিরপেক্ষ স্বরে, নিজ পরিবারের একমাত্র সহযাত্রীকে হারিয়ে ফেলার ব্যাপারটা এখনো মানতে না পারা কারো মতো করে। তারপর সে জিজ্ঞেস করে: ‘একমাত্র আমরাই? আর কেউ আসবে না?’

‘হ্যাঁ, অবশ্যই,’ বুড়ো লোকটি দেমাক দেখায়, রেলের ইঞ্জিনের মতো বিরামহীনভাবে সিগারেটে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে। ‘আমরা একটি বড়সড় সেল। এই পাড়া কেবল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার ভান করে... আর সবার মতো, হা! বাকি আছে কেবল আজ রাতের বক্তা, অনেক দূর থেকে আসছে। আর আমরা অপেক্ষা করছি জনাব হেপাটাইটিস ও জনাব অর্কাইটিসের জন্য।’

 

‘এবং বেগম ডায়াবেটিস ও তার দুই সন্তান: অ্যাজমা ও ভিটিলিগো। আবার কেউ দেখে না ফেলে এভাবে এখানে আসাটা বেশ ভোজবাজির’—কুঁজো বুড়িটি বলল। ‘তার স্বামী ও কন্যা স্বাভাবিক, স্বাস্থ্যবান। শত্রুর সঙ্গে একই ছাদের নিচে বাস করাটা অবশ্যই কঠিন। যে যা হোক, বাছা মোর: এখানে সুস্বাগতম। আমাকে জীর্ণ হাড়ের দাদিমা নামে ডাকতে পারো, কিংবা যদি তোমার ভালো লাগে, ওস্টেওপোরোসিস।’

‘বেশ বেশ,’ লম্বা ও বেখাপ্পা লোকটি বলল। ‘আমার নাম এদু ...’।

‘তা আমরা জানতে চাই না,’ বুড়ো লোকটি থামিয়ে দিল। ‘বিচ্ছিন্নতা, বুঝেছ? সব ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক নিয়ম। এখানে তুমি হলে ডিমে অ্যালার্জি। আমি যেমন এম্ফিসেমা। আমি সেলের প্রধান।’ সে তাকে একটি সিগারেট দিল, বন্ধু ভেবে: ‘একটু টান হবে নাকি? এক দরদি লোক এনে দেয় আমাকে। বুয়েল্তাবাহোতে এখনো তার তামাকের অবৈধ ব্যবসা আছে এবং নিজ হাতে বানায় সে।’ ‘ভালো লাগল। ওস্টেওপোরোসিস, এম্ফিসেমা ... বেশ লাগছে আপনাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে’—বলল ডিমে অ্যালার্জি, দ্বিধাহীনভাবে সিগারেটটি নিয়ে এবং আনন্দচিত্তে ধোঁয়া ছেড়ে, ওর মালিককে ওটা ফিরিয়ে দেয়ার আগে। ‘লোকটি পশু, এহ্ ? সেকেলে পপুলারেস মার্কার মতোই খারাপ।’

এরপর সে ছোট রুমটায় কোথায় বসবে, তা খুঁজতে থাকে।

তার চোখে পড়ল একটা কাঠের চেয়ার, দেখে মনে হয় না আরামের হবে, এবং আরো আছে একটা বড় সোফা ... হাস্যোজ্জ্বল বডিবিল্ডারের বিশাল একটা পোস্টারের নিচে। বডিবিল্ডারের প্রদর্শিত দেহের মাংসপেশিগুলোকে কোনো শরীর সংস্থানবিদ্যার বইয়ে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে, এতটাই ফুলে-ফেঁপে ওটা যে মনে হয় বিকলাঙ্গ। মাথার ওপর সাইন বোর্ড লেখা: ২০৫০ সাল নাগাদ সবার জন্য স্বাস্থ্য।

ডিমে অ্যালার্জি, যার বেরিয়ে-আসা প্রাথমিক পর্বের পেট দেখেই প্রশ্নাতীতভাবে বলে দেয়া যায়, তার জীবনের গত সাড়ে ৪ দশকে ১ মিনিটের জন্যও ব্যায়ামের ধারেকাছেও সে ছিল না, চেয়ারটায় বসল এবং হাইপার-স্বাস্থ্যবান হারকিউলিসের দিকে কোণ চোখে তাকিয়ে, তার কর্তাব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য ছোড়ে: ‘এই ব্যাপারটা নিয়ে তাদের দেখি মাথা খারাপ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ওদের ওই প্রচার-প্রচারণা দেখতে দেখতে অসহ্য লাগে না? কী জঘন্য!’

‘ক্যামোফ্লেজ,’ এম্ফিসেমা স্পষ্ট করে, সিগারেটের শেষ অংশে টান দিতে দিতে টেলিভিশনটা ছাড়ে। ‘কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থাই কম নয় সাদা ব্রিগেডকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য; এই কংগ্রেসের পর হয়রানির মাত্রাটা তারা সাংঘাতিক রকম বাড়িয়েছে। আর সময় যত যেতে থাকবে, তুমি এমনকি এটাও বুঝতেও পারবে না যে ওটা ওখানে ঝুলে আছে।’

টেলিভিশনের পর্দায় এক দল বাচ্চা, যাদের গোলাপি গাল থেকে চুইয়ে পড়ছে সুস্বাস্থ্য উৎসাহ নিয়ে দাঁত মাজছে, টুথপেস্টের ফোম নিয়ে হাসছে আর খেলা করছে, যখন একটি নেপথ্য কণ্ঠ দাঁতের ক্ষয় এবং দাঁতের অন্যান্য সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রতিদিন দাঁত মাজার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পর্দার নিচে আবার লেখা ওঠে ২০৫০ সাল নাগাদ সবার জন্য স্বাস্থ্য।

‘বন্ধ করো ... বা অন্তত চ্যানেলটা পাল্টাও,’ ডিমে অ্যালার্জি মিনতি জানায়।   

‘এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে আমার দাঁতের মাড়িতে ব্যথা করে। আমার বরং ভালো লাগে পুরনোগুলো, সেগুলোয় আহ্বান করা হতো আমরা যেন ১ মে প্লাসাতে যাই, যেন ঠিকমতো ভোট দিই এবং বাসে যেন বয়স্কদের দেখলে সিট ছেড়ে দিই।’

‘হ্যাঁ, স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের এই ভাবাবেগ অনেক দূর চলে গেছে,’ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ওস্টেওপোরোসিস এবং চ্যানেলটা বদলিয়ে অন্য আর একটা দেয় যেটাতে দেখায় বাচ্চা, বড় এবং বয়স্করা তাই চি অনুশীলন করছে ... ২০৫০ সাল নাগাদ সবার জন্য স্বাস্থ্য অপরিহার্য ব্যানারের নিচে।

‘সত্য এই যে সবটা শুরু হয়েছিল গত শতকে বিপুল সংখ্যায় শিশুমৃত্যুর ফলে,’ নস্টালজিয়ায় আসক্ত এম্ফিসেমা গজগজ করে, প্রথমটার শেষ অংশ দিয়ে পরের সিগারেটটি ধরিয়ে।’ শিশুমৃত্যুর হারটা সারা দুনিয়ার সবচেয়ে কম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওরা উঠেপড়ে লাগল। আমরা সবাই এর জন্য দায়ী। আমাদের উচিত ছিল তখনই ওদেরকে থামানো।’

‘আমাদের উচিত ছিল আরো অনেক আগে ওদেরকে থামানো এবং আরো অনেক কারণে ... কিন্তু আমরা তা করিনি এবং এখন আর কোনো উপায় নেই। আমার একটি মেয়ে আছে,’ স্বীকার করল ডিমে অ্যালার্জি, আবেগজনিত কণ্ঠে। ‘তার নাম এবা। আর আপনাদের কাছে একটা স্বীকারোক্তি করি? ওর জন্মের এক মাস পর ওরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল, ও জীবিত। শুনলেন তো; এমনকি আমাকে ওর নামও রাখতে দিল না ওরা, বলা তো যায় না। আমার পৌর এলাকায়, নিদেনপক্ষে পরিসংখ্যান অনুসারে, ১২ বছর হয়ে গেছে কোনো শিশু মারা যায়নি।’

‘আমি জানি না না-সূচক সংখ্যায় শিশুমৃত্যুর হারটা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সন্দিহান না হয়ে কী করে থাকে,’ ওস্টেওপোরোসিস তাকে সমর্থন জানায়, যে দুই হাতে দুই গ্লাস নিয়ে, বৈঠকখানায় এক কলামের এক গোপন আড়াল থেকে একটি পুরনো রামের বোতল বের করে, একটি গ্লাসে ঢালে এবং পুনরায় কথা বলার আগে একটি দীর্ঘ চুমুক দেয়। ‘জন্মের তুলনায় বেশিসংখ্যক শিশু কীভাবে বেঁচে থাকে? উদ্ভট। এক চুমুক হবে, বাছা?’ ডিমে অ্যালার্জিকে সে সুরাপানের আহ্বান জানায়।

‘ধন্যবাদ, কিন্তু খালি পেটে খাব না,’ উত্তরে জানায় মেহমান এবং এর পরপরই যোগ করে: ‘এটা উদ্ভট হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত, এই দেশে যেখানে তোমার একটি আঙুল কাটা গেলে যদি তুমি বাধ্যতামূলক ট্রান্সপ্লান্ট না করাও, তাহলে তোমাকে জেলে পাঠানো হবে রাষ্ট্রীয় শ্রম বাহিনীর বিরুদ্ধে আঘাতের জন্য।’

‘যেখানে স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়াটা অপরাধ, আর তোমাকে নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে বাধ্য করা হয় সপ্তাহে যেন তিনবার ব্যায়াম করো ...’ এম্ফিসেমা আবার যোগ করে, সিগারেটের দুই টানের ফাঁকে।

‘যেখানে চুরির নাম হলো ঘাটতি ...’ ওস্টেওপোরোসিস বলে চলে।

দরজায় টোকা পড়ে।

ওস্টেওপোরোসিস বোতলটা লুকিয়ে ফেলে; এম্ফিসেমা লুকায় সিগারেট, এরপর সে দরজা খোলে।

পুনরায় পাসওয়ার্ড দেয়া হয়, এবং একটি পুরুষ ও দুটি শিশুসহ এক নারী ঢোকে, যারা হাস্যোজ্জ্বল বডিগার্ডের পোস্টারের নিচে অবস্থিত সোফায় বসে পড়ে।

সেলের প্রধান সম্প্রতি আসা সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেয়: ডিমে অ্যালার্জি, এই হলো পুরো দল। হেপাটাইটিস বি, অর্কাইটিস ... ইনি হলেন বেগম ডায়াবেটিস এবং তার সন্তান অ্যাজমা ও ভিটিলিগো।

‘হেপাটাইটিস বি ও অর্কাইটিসকে স্বাস্থ্য-সবল মনে হলো। কিন্তু ডিমে অ্যালার্জি অবাক হলো না: যারা দৃশ্যমান রোগে আক্রান্ত ছিল, তারা সবাই অনেক বছর আগে উধাও হয়ে গেছে। গা ঢাকা দিতে ওস্তাদ যারা, সেই ধুরন্ধরেরা সেই সময় পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছে।

সে আবার তাকায় বেগম ওস্টেওপোরোসিসের দিকে। তার মেরুদণ্ডের প্রচণ্ড বিকৃতিকে তিনি ঢেকে রাখতে পেরেছেন কীভাবে? একবারের জন্যও বাড়ি থেকে বের না হয়ে, হয়তো? উপায় একটা থাকেই, যদি কেউ খোঁজে ...

এরপর সে তাকাল মা ও তার সন্তানদের দিকে। মহিলাটির শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক আছে, শিশুদেরও তাই... কিন্তু ভিটিলিগো পড়ে আছে আগাগোড়া স্পাইডারম্যানের পোশাক, মুখোশসহ।

বেগম ডায়াবেটিসের চোখ এড়ায় না তার দৃষ্টি এবং ব্যাখ্যা করে বলে, হাসিমুখে: ‘ভাগ্য ভালো যে স্কুলে আর ইউনিফর্ম পরে যেতে হয় না। প্রথমে ছিল ব্যাটম্যান, এরপর ফ্ল্যাশ, কিন্তু সবার সেরা হলো স্পাইডারম্যান। অন্তত যতদিন না আয়রনম্যানের পোশাক বিক্রি শুরু হলো। এভাবে তার বাবা ও বোনকে থামানো গেছে তার ত্বক যেন দেখতে না পায় ... এবং যখন না দেখিয়ে আর উপায় ছিল না, আমরা এমন ব্যবস্থা করেছি, যেন তা সবচেয়ে নোংরা অবস্থায় থাকে। সমুদ্রসৈকতে তার শরীরে আমি রঙিন সানস্ক্রিন মেখে দিয়েছি ... কিন্তু আমি জানি না আমি কী করব, যখন ও আর একটু বড় হবে,’ মহিলা হাত কচলায়, হতাশায়। ‘অসুস্থদের দ্বীপে ওকে পাঠিয়ে দিলে আমি ওটা নিতে পারব না। লোকজন ওই জায়গা সম্পর্কে ভয়ানক সব কথাবার্তা বলে।’

এরপর এক অদ্ভুত নীরবতা।

ব্লাড ব্যাংকে আমার এক বন্ধু আছে যে আমার কাছে ডোনার কার্ড বিক্রি করে,’ জনাব হেপাটাইটিস বি স্বীকার করে, বিষয় বদলে কথা বলার স্পষ্ট চেষ্টায়। ‘এতে প্রচুর কনডম, অবশ্যই’

‘আমি এখন ভালো আছি ... এবং খারাপ,’ অর্কাইটিস অসন্তোষ জানায়, নিজের কথা প্রসঙ্গে। ‘আমার কোনো কার্ডের দরকার নেই ... কিন্তু কনডমসহ বা ছাড়া, বহু বছর হয় কোনো মহিলার সঙ্গে আমার আর থাকা হয় না, এমনকি সব আলো নেবানো অবস্থায়ও, এই ভয়ে যে আমার অতিকায় অণ্ডকোষটা দেখে ফেলে। এটা আসলেই কঠিন।’

‘আমি কল্পনা করতে পারি, সত্যি।’ ডিমে অ্যালার্জি আঙুল দিয়ে দেখায়, সবেমাত্র পা রাখা তৃতীয় ব্যক্তিটিকে, এক দুর্বল পাতলা, ক্লান্ত-শ্রান্ত লোক। ‘আর ইনি? হূিপণ্ডে সমস্যা?’

‘তিনি এসেছেন কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে, জানো? আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিই। ইনি হলেন জনাব এইডস। দেশের শেষ এইচআইভি-পজিটিভমুক্ত রোগী।’

উপস্থিত সবার মধ্যে একটা মুগ্ধতার মৃদু মধুর ধ্বনি ধ্বনিত হয়। অর্কাইটিস, ওস্টেওপোরোসিস এবং হেপাটাইটিস বি সান্ধ্যকালের নায়কের কাছে এগিয়ে যায়, যাতে খুব কাছ থেকে তাকে দেখতে এবং সাদর সম্ভাষণ জানাতে পারে। ‘আমি জানতাম আমরা যৌনরোগের সহকর্মী,’ গর্বের সঙ্গে বলে হেপাটাইটিসের রোগী।

ফ্যাকাশে দুর্বল মেহমানটি সবাইকে চুপ করতে বলে, নাটকীয় ভঙ্গিতে হাতগুলো তুলে এবং উদ্দীপনামূলক বক্তব্য শুরু করে সাবেকি আড়ম্বরপূর্ণ ভাষায়, কিন্তু একই সঙ্গে যা ফলপ্রসূ:

 

‘দুর্ভাগা ভাইয়েরা, আপনাদের দেখে কী যে আনন্দ হচ্ছে! একই সঙ্গে কী দুঃখজনক পরিস্থিতিতে আমরা আজ এখানে জড়ো হয়েছি! আমরা লুকিয়ে থাকছি বেইজমেন্ট আর চিলেকোঠায়, সন্ত্রাসীর মতো, অচ্ছূতের মতো, যখন আমাদের একমাত্র দাবি হলো রোগ-বালাইয়ের ব্যাপারে অবিচ্ছেদ্য মানবিক অধিকার। কোথায় গেল সেসব সুন্দর দিন, যখন প্রতিটি ডাক্তারের চেম্বার ছিল মুক্ত ফোরাম, যেখানে আমরা সবাই নির্ভয়ে কথা বলতে পারতাম, আমাদের রোগশোক ও ডাক্তারি রিপোর্টগুলো তুলনা করতে করতে? সেই দিনগুলো কই, যখন প্রতিটি ডাক্তার ছিল ধৈর্যশীল শ্রোতা ও উপকারী ব্যক্তি, যে করত না কোনো বিচার বা শাস্তির ব্যবস্থা।’

‘মানব আত্মা থেকে করুণার অস্তিত্ব লোপ পেয়ে গেছে নাকি? কী সাংঘাতিক রূপান্তরের কারণে এককালের দয়ালু স্বভাবের ডাক্তাররা, যারা উঠে পড়ে চাইত বুঝতে ও সারিয়ে তুলতে, আজ পরিণত হয়েছে নিষ্ঠুর জল্লাদে, যারা রোগীদেরকে অভিযুক্ত করে অত্যাচার চালায় এবং নির্বাসনে পাঠায়? এবং তাদের এককালের অপরিহার্য সহকারী, নার্সদের এ কি পরিবর্তন হয়েছে, যারা আজ নির্দয় সাদা বিগ্রেডের সদস্য হয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের বাড়িতে আক্রমণ চালায় সামান্যতম অসুস্থতার লক্ষণের খোঁজে এবং দুর্ভাগাদের তাদের পরিবার ও সমাজ থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয় অসুস্থদের দ্বীপে? দুনিয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্য-সবল ও কল্যাণকর জাতি হিসেবে খ্যাতি অর্জনের এটাই কি উপায়? গালিচার নিচের ময়লা ঝাট দিয়ে বের করাটাই কি বাসা পরিষ্কার করার সেরা উপায়? তাই যদি হয়, তবে রক্ত, বমি ও পুঁজে মাখামাখি এই সম্মানের নিকুচি করি!’

‘দুনিয়ার সব রোগী এক হই! দুর্দশা এবং লজ্জা ছাড়া আমাদের আর কিছু হারাবার নেই। ভয়ের চোটে আঁধারে লুকিয়ে থাকা আর নয়। এবার আলোয় বেরিয়ে পড়া যাক, গর্বের সঙ্গে দেখানো যাক আমাদের টিউমার, বিকৃতি ও পুঁজভর্তি ঘা! চলুন দুনিয়াকে দেখাই যে নিখুঁত স্বাস্থ্য সব রোগের সবচেয়ে বাজে রোগ, কারণ এটা আভাস দেয় অসহিষ্ণুতার বিষয় তাদের আত্মাকে বিষাক্ত করে, যারা ওটা চায় ও দাবি করে! তাদেরকে আমরা এটা মনে করিয়ে দিতে চাই কোনো একদিন তারাও আমাদের মতো হয়ে যেতে পারে, যেমনটা আমরা নিজেরাই একদিন ছিলাম ...’

এরপর লাথির চোটে দরজা আর কিল-ঘুষির চোটে জানালাগুলো ভেঙে গেল, সব একসঙ্গে। আলো নিভে গেল। চিৎকার, চেঁচামেচি এবং শব্দ হলো মেঝেতে শরীরগুলোর পড়ে যাওয়ার, অচেতন।

ভাঙা কাচের বৃষ্টি, পর্দার ঝাপটা এবং বুট জুতার ঝড়ের মাঝে, সাদা ব্রিগেডের পালোয়ান কমান্ডোরা, তাদের তুষার সাদা বায়োহ্যাজার্ড পোশাকে দ্ব্যর্থহীন, ছোট ঘরটায় ঝোড়ো আক্রমণ চালায়। সেলের একজন সদস্যও পার পায় না।

তাদেরকে যখন উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, অন্য বন্দিদের কাছে, যারা ধিক্কার জানিয়ে বারবার বলার চেষ্টা করছিল যে তাদেরকে ভুল বোঝা হয়েছে, এই দাবি তুলে যে তারা স্বাস্থ্য-সবল এবং আইন মেনে চলা নিরপরাধ এবং গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাজ্ঞ নীতিমালার আকুল অনুসারী, কমান্ডো বাহিনীর ক্যাপ্টেন এগিয়ে আসল ডিমে অ্যালার্জির কাছে, যে দুজন বড়সড় তরুণের মাঝে নিশ্চল হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল।

এরপর এক ঝটকায়, সে তার হেলমেটের হুড খুলে ফেলল এবং ওই দুই তরুণই হাসিতে ফেটে পড়ল, যোগসাজশে। সাদা ব্রিগেডের দুই তরুণ, যারা ডিমে অ্যালার্জিকে বশে আনার ভান করল, তারা তাকে ছেড়ে দিল যেন সেও ওই অট্টহাসিতে যোগ দিতে পারে এবং এর কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখা গেল তিনজন কমান্ডো এরই মধ্যে তাদের অস্বস্তিদায়ক ও অসুবিধাজনক বায়োহ্যাজার্ড স্যুট খুলে ফেলেছে।

‘ভেবেছিলাম যে তোমরা কখনো এখান পর্যন্ত এসে পড়বে না,’ স্বীকারোক্তি জানায় ডিমে অ্যালার্জি, নরম সিলিকনের চিটচিটে কৃত্রিম প্রোসথেসিস থেকে নিজেকে মুক্ত করে, যা তার হূষ্টপুষ্ট চারকোনা তলপেটকে ঢেকে রেখেছে এবং যার কারণে একটি নিখুঁত কুঁড়ের বাদশা ভুঁড়ি দৃশ্যমান এবং এরপর কেলোয়েডের গোপন লোকেটরকে টেনে ছিঁড়ে ফেলে তার গলার নকল দাগ থেকে যার কারণে তার সাথীরা খুঁজে পেয়েছে যে অতিগোপনীয় সভাটা কোথায় হচ্ছে এবং এর পরিণতিতে বিধ্বংসী কর্মতত্পরতার রোগীদেরকে ধরতে পেরেছে।

‘বেশ, সেই পলায়নপর এইচআইভি-পজিটিভ রোগীকে ধরা গেছে, অবশেষে। কিন্তু কঠিন ছিল, তাই না, বাছা?’ স্যুটহীন অবস্থায় ক্যাপ্টেনকে অনায়াসে সোফার উপরের পোস্টারের বডিবিল্ডার বলে চালিয়ে নেয়া যেতে পারে। ‘গোপন মিশন বরাবরই এই রকম। এবং শুধু সংক্রমণের ঝুঁকির কারণেই নয়; তাছাড়া ওটা হ্রাসের জন্য তো টিকার ব্যবস্থা আছে। ব্যাপারটা আসলে কী জানো তোমার মনে হবে ... নোংরা, অসুস্থ,’ সে কবুল করে, এক অদ্ভুত হাসি দিয়ে। ‘বহু বছর আগে আমি নিজেই এই রকম একটি সেলে চুপিসারে ঢুকে পড়েছিলাম ... এবং কয়েক মাস পর তখনো আমি ভোরবেলায় ঘুম ভেঙে উঠে পড়তাম, এই ভাবনায় যে আমার স্ক্যাবিজ, ক্যান্সার, কুষ্ঠরোগ কিংবা আরো খারাপ কিছু হয়েছে ... আমার ধারণা ওটা ছিল অনুশোচনাজনিত জটিলতা।’

ব্রিগেডের আরেকজন লোক, আপাদমস্তক এখনো ওই বিশেষ স্যুট পরা, এসে উপস্থিত হলো এটা বলার জন্য, হেলমেট ও হুডের কারণে তার কণ্ঠস্বর ভাঙা ভাঙা: ‘ক্যাপ্টেন, কী অবাক কাণ্ড! বুড়ি মহিলাটির কিছুই ছিল না। তিনি যে সার্কাসে শরীর বাঁকিয়ে নানা রকম অঙ্গভঙ্গি করে দেখাতেন ...।’

‘ঘু এবং মেটাস্টাসিস,’ গজগজ করে ডিমে অ্যালার্জি। ‘এক হাইপোকন্ড্রিয়াক সিমুলেটর ... এবং খুব কাবিল। এখন ওকে ছেড়ে দিতে হবে আমাদের, যদিও সে তার স্বামীর মতোই যথেষ্ট বিপজ্জনক হতে পারে।’

‘মুক্তি?’ ক্যাপ্টেন হাসে। প্রশ্নই ওঠে না। অসুস্থদের দ্বীপে সে যাবে না, হায়। কিন্তু তাকে আমরা ঠিকই আটকে রাখব, অবৈধ রোগ এবং গণস্বাস্থ্যে বাধার মতো দুষ্কর্মে সহায়তা করার জন্য।’

‘এবং সুরাসক্তিতে মদদ দেয়ার জন্য,’ নিষ্ঠুরতার স্বরে যোগ করে ডিমে অ্যালার্জি। ‘সে আমাকে রাম খাওয়াতে চেয়েছিল।’ সে থামে এবং আবার বলে: তাদের একজন বনে গিয়ে ভণিতা করা, সিগারেট খাওয়া, দৈহিক ব্যায়ামকে নিয়ে নেতিবাচক ভাব দেখানো এবং আমাদের চমকপ্রদ শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের কার্যক্রম বা বাধ্যতামূলক ট্রান্সপ্লান্টকে নিয়ে প্রশ্ন করা— এগুলোর কোনোটাই এতটা কঠিন ছিল না আমার জন্য, যতটা কঠিন ছিল ওই জনাব এইডসের বাগাড়ম্বরপূর্ণ থু থু-মেশানো বক্তৃতা শোনাটা।’ তার চোখজোড়া জ্বলজ্বল করে ওঠে উগ্র সন্তুষ্টিতে যখন সে আরো বলে: ঈশ্বরের কৃপা যে সে আর বিষ ছড়াতে পারবে না ওই অল্প সময়ে তার জীবনে যতটুকু বাকি আছে এবং এটাই ছিল শহরের শেষ সেল। ২০৫০ সাল নাগাদ সবার জন্য স্বাস্থ্য কংগ্রেস দুনিয়াময় মস্ত সম্মান কুড়াবে, যার স্বপ্ন আমরা সবসময়ই দেখছি। কিন্তু আমাদের বিশ্রাম নিলে চলবে না, লরেল পাতার মালায় ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না, দুনিয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্য-সবল দেশ হিসেবে আমাদের সুখ্যাতিকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং ... এবং ...।’ সে হাঁচি দেয়।

অনুতপ্ত এবং বিস্মিত হয়ে সে সাদা ব্রিগেডের সহকর্মীদের দিকে তাকায় এবং দোষ স্বীকারসূচক হাসি দেয় নাক চুলকাতে চুলকাতে: ‘এটা ফ্লু হতে পারে না; ক্যাপ্টেন তো বলেই দিয়েছে, টিকা আমাকে রক্ষা করবে ... আমি নিশ্চিত যে এটা ওই এম্ফিসেমার দেয়া সিগারেটের কারণে হওয়া অ্যালার্জির বেশি কিছু নয়; আমি ওকে নিষেধ করতে পারেনি অন্যথায় ওরা আমাকে সন্দেহ করত, আর তামাক যে কী ক্ষতিকর ...’ সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয়।

কিন্তু দেরি যা হওয়ার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় হাঁচিটা বের হয়, অনিয়ন্ত্রিত।

এক মুহূর্ত পর এবং চিৎকার দিয়ে, ‘ডাক্তারি সতর্কতা!’ ক্যাপ্টেন এবং তার দুই লোক, যারা এরই মধ্যে হেলমেটের হুড পরে নিয়েছে, তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ...

২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০০৯

(ইয়োস ওরফে হোসে মিগেল সাঞ্চেস সমকালীন কুবার অন্যতম সেরা লেখক। লেখেন প্রধানত কল্পবিজ্ঞান ও দূরকল্পনাভিত্তিক ঘরানার ফিকশন। এ পর্যন্ত তার ২০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে জন্ম নেয়া ইয়োস থাকেন কুবার রাজধানী লা আবানায়। হেভি মেটাল ব্যান্ড তেনাস্-এর প্রধান গায়কও তিনি। ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত লিট ফেস্টে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইয়োসের কাছ থেকে ই-মেইলে পাওয়া এ গল্পটি মূল এস্পানিয়ল থেকে তর্জমা করা হয়েছে।)