লক্ষ্মী প্রসাদ দেবকোটা
অনুবাদ: মাজহার জীবন
১.
সন্দেহ নেই সাথী, পাগল আমি
এমনই আমার হাল!
২.
আমি শব্দ দেখি,
দৃশ্য শুনি
আমি গন্ধের স্বাদ নিই,
আকাশ ছুঁতে না পেরে
স্পর্শ করি পাতালের বস্তুনিচয়,
যাদের অস্তিত্ব মানুষ বিশ্বাস করে না
যাদের আকার জানে না জগৎ।
পাথরকে দেখি আমি যেন ফুল
চাঁদের আলোয়
জলে কোমল হয়ে জলের কিনারে শুয়ে রয়,
যেন স্বর্গের মায়াবিনী আমার দিকে চেয়ে হাসে,
তারা পাপড়ি মেলে
তারা ঋজু হয়
তারা ঝলমল
তারা থরথর করে
বোবা পাগলের মতো তারা জেগে ওঠে
তারা যেন ফুল— কোনো চাঁদ-চাতক ফুল
আমি তাদের সাথে কথা বলি, তারা বলে আমার সাথে
বন্ধু, সে ভাষা এমন
যা না যায় লেখা, না যায় ছাপা, না যায় বলা
যে ভাষা না যায় বোঝা, না যায় শোনা।
তাদের কথা-জ্যোত্স্না গঙ্গার তীর থেকে
হিল্লোলে হিল্লোলে
ভেসে আসে
সন্দেহ নেই সাথী, পাগল আমি
এমনই আমার হাল।
৩
তুমি চতুর, বাচাল
তোমার গণিত সূত্র নিয়ত ঠিক, খুবই সঠিক
কিন্তু আমার গণিতে যদি এক থেকে এক নিয়ে যাও তুমি
তারপরও অবশিষ্ট রয়ে যাবে এক।
পঞ্চ ইন্দ্রিয় তোমার
তবে বন্ধু, আমার আছে ষষ্ঠ
তোমার আছে বুদ্ধি
আমার আছে হূদয়।
গোলাপ তোমার কাছে গোলাপই— আর কিছু নয়
আমি তাতে পাই হেলেন আর পদ্মিনী।
তুমি আওড়াও কঠিন গদ্য
আর আমি সরল পদ্য।
তুমি যখন জমে যাও, আমি গলতে থাকি
তুমি যখন স্বচ্ছ, আমি ঘোলা জল
তুমি যখন সঠিক, আমি তার বিপরীত
তোমার জগৎ নিরেট
আমার বায়বীয়।
তুমি স্থূল আর আমি সূক্ষ্ম
তোমার ভাবনা পাথর কঠিন
নিরেট কঠোর তোমার বাস্তবতা।
আমি স্বপ্নের সীমান্ত খুঁজে ফিরি
শীতল অর্থকড়ির মিষ্টি গোলাকার সত্যকে যখন আঁকড়ে ধরো
আমার জন্য তখন কাঁটার তীক্ষতাই সত্য।
আমার ষড়রিপুর বেগ কাঁটার মতো সাথী
তুমি তখন মজে থাকো সোনা আর হীরায়।
তুমি পাহাড়কে মনে করো মূক
আমি তাকে বলি বাচাল।
সন্দেহ নেই সাথী!
আমার নেশাতেই মুক্ত আমি
এই তো আমার হাল।






