[‘দ্য এম্পেরর অ্যান্ড আই: আব্বাস কিয়ারোস্তামি মিটস আকিরা কুরোসাওয়া’ শীর্ষক রচনাটি ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিনের শরত্ ১৯৯৩ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। লেখাটি সিল্করুটের পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন এম এ মোমেন]
আকিরা কুরোসাওয়া প্রায়ই যে কথাটি বলতেন বলে উদ্ধৃত হচ্ছে তা হলো: ‘সত্যজিত্ রায় যখন মৃত্যুবরণ করলেন, আমি খুব হতাশ হয়ে পড়লাম। কিন্তু কিয়ারোস্তামির ছবি দেখার পর আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলাম, কারণ সত্যজিতের জায়গাটি নেয়ার মতো সঠিক লোক তিনি আমাদের দিয়েছেন।’ ১৯৯৩-এর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে টোকিওতে বিশ্বখ্যাত জাপানি চলচ্চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়ার সঙ্গে আব্বাস কিয়ারোস্তামি ও শোহরেহ গোলপারিয়ান আড়াই ঘণ্টার একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠক নিয়েই এ লেখা।
কুরোসাওয়ার কন্যা দরজা খুললেন, আমরা দেখলাম লম্বা শক্তিমত্ত গোলাপি ও বাদামি পোশাকের কুরোসাওয়া। আমরা পরে জানলাম জাপানি চলচ্চিত্রের এই মহারথী তার প্রিয় বহুবর্ণ টি-শার্ট বাদ দিয়ে অধিকতর আনুষ্ঠানিক পোশাক গোলাপি জামা পরতে সম্মত হয়েছেন। তিনি যখন ওপর তলায় তাঁর পড়ার ঘরে কালো চামড়া মোড়ানো আসবাব, মৃদু আলোকসজ্জা ও অস্কার মূর্তি দেখালেন, আমরা তাঁর জৌলুসে উদ্বেলিত হলাম। এ কক্ষের অন্যান্য সজ্জার মধ্যে কিছু ইরানি তামার দ্রব্য, কুরোসাওয়ার স্ত্রীর ছবি ও দেয়ালে জাপানি পেইটিং।
আলাপ কুরোসাওয়াই শুরু করলেন:
আমি যখন কান চলচ্চিত্র উত্সবে, আপনিও সেখানেই। অবশ্য তখন আমি আপনার ছবি দেখিনি।’
আব্বাস কিয়ারোস্তামি বললেন: কান চলচ্চিত্র উত্সবে আমি আপনার ‘মাতাদায়ো’ ছবিটি দেখার সুযোগ পেয়েছি। আপনি আমার দুই সারি সামনে বসেছিলেন। একই সঙ্গে সেটা আপনাকে এবং আপনার ছবি দেখার একটি দুর্লভ সুযোগ ছিল। আমার দেশ ইরানে আপনি যে কতটা জনপ্রিয়, আপনি হয়তো তা জানতে নাও পারেন। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা যেমন, সাধারণ মানুষও তেমনি আপনার কাজ পছন্দ করে। আসলে ইরানে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুজন চিত্রনির্মাতার একজন হলেন আলফ্রেড হিচকক, অন্যজন আপনি। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের কর্তাব্যক্তিরা একবার বলেছেন, ইরানি শিল্পকলা যে মূল্যবোধ শাসিত তার সঙ্গে বিদেশী চিত্রনির্মাতাদের মধ্যে কেবল আপনার ও তারকোভস্কির সিনেমাগুলো খাপ খায়। ইরানের অন্যদের সঙ্গে নিয়ে যদি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারতাম!
কুরোসাওয়া বললেন: আমি ছিলাম তারকোভস্কির বন্ধু। আমি একবার মস্কো সফরে যাই, তখন থেকে আমাদের বন্ধুত্বের শুরু। তেহরান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে জুরি হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য এক দশকেরও বেশি সময় আগে আমি দুবার ইরানে যাওয়ার নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। ছবি বিচারের কাজটা আমার ভালো লাগে না। এটা আমার জন্য কঠিন কাজ। ইমাগাতা উত্সবে তো আপনিও জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন, কাজটা কি কঠিন নয়?
‘হ্যাঁ, অবশ্যই। বিশেষ করে যখন বিচারের মানদণ্ড নির্দিষ্ট করা না থাকে। যতবার আমি জুরিদের একজন হয়ে বসেছি, আমি নিজেকে বলেছি আর কখনো এ কাজ করব না। কিন্তু যেকোনো দাওয়াত নতুন লোভের সৃষ্টি করে... আর যখন কোথাও বেরিয়ে পড়ার জন্য লোলুপ, তখন এই লোভ সংবরণ করা অসম্ভব। কেউ সাধারণত যা করে থাকে তার চেয়ে ভিন্নধর্মী কিছু করাটা বেশ মজার। আর আমি সে সুযোগগুলো হাতছাড়া করিনি।’
কুরোসাওয়া বললেন: আমি আপনার সঙ্গে একমত। কিন্তু কোনো সফরে বের হওয়াটা আমার জন্য খুব কঠিন কাজ। আমার পায়ে ব্যথা। আর দাফতরিক সফরগুলোয় অনেক বিধিনিষেধ আরোপিত থাকে। আপনার কর্মসূচি যা প্রণয়ন করা থাকে, আপনাকে তা-ই কবুল করতে হবে। আসলে আপনার নিজের আর সফর করা হয় না। তারা এক জায়গা থেকে আপনাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।
কিয়ারোস্তামি প্রতিশ্রুতি দিলেন, তিনি যদি বেরোতে সম্মত থাকেন, তাহলে তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবে পরিকল্পনা করা হবে। কিন্তু তার ইরান সফরের সম্ভাবনা তেমন নেই। তবে ইরান সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ‘আমি নিশ্চিত ইরানে অনেক ভালো চিত্রনির্মাতা রয়েছেন। আপনার ছবির সরলতা ও বহমানতা আমার ভালো লেগেছে— যদিও এসবের বর্ণনা করা খুব কঠিন কাজ। ছবি দেখতে হয়।’
কুরোসাওয়া বললেন: এটা বেশ অদ্ভুত ব্যাপার— আপনি অপেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কেমন করে কাজ করেন? বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজ?’
কিয়ারোস্তামি বললেন: আপনার প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো উত্তর হচ্ছে, কেমন করে করি তা আমি জানি না। আমি এটা আপনার কাছে শিখেছি। আর গত টোকিও চলচ্চিত্র উত্সবে আপনার বক্তৃতা শোনার পর থেকে এটা আরো সহজে করতে পারছি। মাঝে মাঝে অপেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রীর কাজ আমাকে বিস্মিত করে। এটা ঠিক, সবকিছুরই সুনির্দিষ্ট কিছু বিধিবিধান আছে; কিন্তু আমরা যা চাই, তার সবটাই বিধিবিধানের অবদান নয়।
কুরোসাওয়ার মনে করেন ব্যাপারটি খুব আগ্রহী-উদ্দীপক, একই সঙ্গে কঠিনও। তিনি বলেন: যদিও পেশাজীবীদের সঙ্গে কাজ করা খুব সহজ কিছু নয়— প্রতিটি ছবিতেই তাদের গুঁড়ো করে আবার নতুন করে নির্মাণ করতে হয়। সেজন্য পেশাজীবীদের সঙ্গে কাজটা বরং কঠিন।
কুরোসাওয়ার শেষ ছবিতে তিনি প্রধান অভিনেতার সঙ্গে কী আচরণ করেছেন কিয়ারোস্তামি তা শুনেছেন; সবাই বুড়োর স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
কুরোসাওয়া হেসে উঠলেন, বললেন: আমার তো এছাড়া আর করার কিছু ছিল না। একজন অভিনেতার কাছ থেকে চমত্কার কাজ পেতে হলে তার পুরনো ব্যক্তিত্ব ছেঁটে ফেলতে হবে। আর সে কাজটা করার জন্য আমাকে কিছুটা সহিংস হতে হয়েছে। তাদের ওপর চাপ দিতে হয়েছে। আপনি কি কখনো পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করেছেন?’
‘আমার শেষ ছবিটিতে পেশাজীবীদের নিয়ে আমার নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। আপনি যেমন বললেন, তারা তাদের পুরনো ভূমিকাই ধরে রাখতে চান। এই বিপদের হুমকি আমিও পেয়েছি। কখনো কখনো আমরাও আমাদের পুরনো ছবির কোনো আইডিয়া ব্যবহার করতে চাই। কিন্তু তার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হই। কেউ একজন বলেছেন, কেউ যদি তার অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যেতে পারেন, তাহলে তিনি বুড়ো হবেন না। আমরা যদি আমাদের অভিজ্ঞতা ভুলে যেতে পারি, তাহলে সিনেমাগুলো ভুলভ্রান্তিমুক্ত নাও হতে পারে। কিন্তু তা অবশ্যই সতেজ হবে। বর্ষীয়ান অভিনেতারা শক্তিশালী অভিজ্ঞতার অধিকারী, কিন্তু হায়! তারা তো আর সতেজ নন, তাদের বিশ্বাসের মানবিক অনুভূতিতে তাদের ফেরত পাঠানো খুব কঠিন ব্যাপার।’
আকিরা কুরোসাওয়া নিশ্চিত করলেন তাকেও একই সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে। আর “একাত্মকরণের এ অনুভূতি রক্ষা করতে আমি থিয়েটারের স্টাইলে লং টেক নিয়ে থাকি, এমনকি যখন আমার খুব সংক্ষিপ্ত একটি অ্যাকশন ধারণ করা প্রয়োজন তখনো। সিনেমাতে এটা ‘কাটিং’এর ব্যাপারটা কঠিন করে তোলে। কখন সমস্যাটির উদ্ভব হয়? যখন দুজন অভিনেতা পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করতে পারছেন না, যখন একজন সত্যিই ভালো অভিনয় করেন তা অন্যজনের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আর দ্বিতীয় জনের যখন উন্নতি ঘটে প্রথম জন তখন খুব ক্লান্ত। একজন অভিনেতাকে নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে, তার ঠিক সামনের অভিনেতা কী বলছেন তা শুনতে চান না। তিনি নিজেকে পরের কথোপকথনের জন্য তৈরি করছেন। অভিনেতা কি দেখছেন বা শুনছেন আপনি সাধারণত এর প্রতিক্রিয়া তার চেহারায় দেখতে পান না। আমি তাই একাধিক ক্যামেরায় তার ‘লং টেক’ ধারণ করি। অভিনেতারা সাধারণত জানেন না কোন ক্যামেরা তার ছবি নিচ্ছে, যে ক্যামেরা তার ক্লোজ শট নিচ্ছে, তিনি তখন আর সে ক্যামেরার প্রতি সংবেদনশীল নন। ফলে তাদের অভিনয় অধিকতর স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।”
অন্যদিকে কিয়ারোস্তামি অবাক হয়ে বললেন, তাঁর সিনেমাগুলো স্বভাবিক মনে হওয়ার কারণে কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সমালোচকরা বিশ্বাস করেন মঞ্চ ও পর্দা হচ্ছে পূতপবিত্র, এখানে কারোরই সাধারণ কিছু করা উচিত নয়। তাদের চোখে স্বাভাবিকতা বড্ড সাদামাটা বিষয়। তারা বলেন সবকিছুরই বাড়াবাড়ি রকম প্রকাশ ঘটতে হবে, তারা মনে করে আপনার ছবিতে তাই ঘটে।’
কুরোসাওয়া বিস্মিত হয়ে হেসে ওঠেন, ‘হতে পারে আমার অভিনেতাদের আচরণ আপনার দেশের মানুষের কাছে বাড়াবাড়ি, কিন্তু এখানকার জন্য এটা অবশ্যই স্বাভাবিক। সাংস্কৃতিক ব্যবধান কি বাড়াবাড়ি মনে করা ঠিক হবে না। আমাকে সততার সঙ্গে বলতেই হবে, আমি আপনার তৈরি ছবি খুব উপভোগ করেছি। আমি আপনার কাজের যে স্টাইল তার প্রশংসা করি। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আপনি কেমন করে কাজ করেন? শিশুরা আমার ছবিতে কাজ করতে স্বস্তি বোধ করে না। তারা কৌশলে আমাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।’
কিয়ারোস্তামি এর ব্যাখ্যা দিলেন, ‘সম্ভবত তার কারণ আপনি কুরোসাওয়া। যেসব শিশু আমার ছবিতে কাজ করে তারা আদৌ আমাকে চেনে না। যখন সত্যিকার শুটিং শুরু হয় আমি ভান করার চেষ্টা করি, আমি গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই। সাধারণত আমি ক্রুদেরই বলি, তারা যেন শিশুদের অভিনয়ের গুণাগুণ বিচার করে। অবশ্য সবকিছুরই একটি বিশেষ ট্রিক থাকে, কখনো হয়তো গল্পটা ভিন্ন।’
কুরোসাওয়া বললেন, ‘সিনেমাকে সহযোগিতা করা এবং গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। আমার সন্তান ও তাদের সন্তানরা কখনো আমেরিকার সিনেমা দেখে না। তাদের নিজস্ব একটি বয়কট পদ্ধতি রয়েছে। তাতে সহিংস সিনেমা বাতিল হয়ে যায়। আমি চাই মানবিক সিনেমা সব ধরনের অশ্লীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়াক। আমি নিশ্চিত সব জায়গাতেই ভালো ছবি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা পেছন দিকে যাচ্ছে, যেখানে এশিয়ায় ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে এবং তা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে ঠাঁই করে নিতে পারছে। বৈশ্বিক যে পর্দা তা কেবল একটি দেশের সিনেমার জন্য নয়। যে দেশে ছবিটি তৈরি, সে দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামো সম্পর্কে তা দর্শকদের অবহিত করে থাকে। জাতীয় সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে যদি সিনেমাটি তৈরি হয় তা বিদেশে সমাদৃত হবে। আপনার সিনেমা দেখে আমি ও আমার নাতি-নাতনিরা ইরানের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি।
কিয়ারোস্তামি বললেন, ‘আপনি বলেছেন অন্তর দিয়ে সিনেমা বানাতে হবে এবং অন্তর দিয়ে তা দেখতে হবে।’
কুরোসাওয়া বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি বলেছি। দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ জাপানি তাদের মগজ দিয়ে সিনেমা দেখে এবং ভুলভ্রান্তি ধরতে চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে সমালোচকরা এমন সব প্রশ্ন করে, যার জবাব আমার কাছে নেই। কারণ আমি যখন সিনেমাটি বানাই, তখন এ সম্পর্কে ভাবিনি। সিনেমাকে বরং অনুভব করতে হবে। কিন্তু ইদানীংকার সিনেমায় অনুভব করার মতো সামান্যই মিলবে।’
কুরোসাওয়া বললেন, হয়তো চিত্রনির্মাতারা দর্শকদের খারাপ রুচি তৈরি করে দিয়েছে।
তিনি বললেন, তারা দর্শকদের রুচিকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। কুরোসাওয়া বিশ্বাস করেন, লেসার ডিস্কে পুরনো দিনের ছবি দিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছলে তারা স্বাস্থ্যকর সিনেমার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠবেন।
তার পর কুরোসাওয়া নিজের ‘মাতাদিয়ো’ ও কিয়ারোস্তামির ‘হ্যয়ার ইজ মাই ফ্রেন্ডস হাউজ?’-এর উদ্বোধনী দৃশ্য নিয়ে আলাপ করলেন। বললেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে আমাদের দুজনের সিনেমার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।’
কিয়ারোস্তামি আবার জোর দিয়ে বললেন, কুরোসাওয়া অনেক বেশি বিখ্যাত। কুরোসাওয়া বিনয়ের সঙ্গে বললেন, কেমন করে ‘দোদেস’কা-দেন’ সিনেমায় ছায়ার ছবি এঁকেছেন, তার আর্থিক সামর্থ্য ছিল না আবার তাঁর পক্ষে সুদিনের জন্য অপেক্ষা করাও সম্ভব ছিল না।
তিনি বললেন, ‘আমরা দুজনই এমনকি আমাদের ছবি তৈরি শেষ হয়ে গেলেও আমাদের নিজভূমির প্রতি সংযুক্ত রয়ে যাই। প্রতিবারই ছবি শেষ হওয়ার পর প্রধান চরিত্রগুলোকে বিদায় জানানো বড় দুঃখজনক।’
দুজন চিত্রনির্মাতাই স্বীকার করলেন সিনেমার ত্রুটি খুঁজতে গেলে দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
তিনি বললেন, ‘আমার পেইন্টিংয়ের শিক্ষক বলতেন চোখ অর্ধেক বন্ধ করে পৃথিবীকে দেখো। কিন্তু আমাদের সব একসঙ্গে দেখতে হবে, কেবল তা হলেই আমরা সত্যকে দেখতে পাব।’
কুরোসাওয়ার কন্যা এর মধ্যে দুবার চা দিয়ে গেলেন। আমাদের বিদায় নিতে হবে। কিয়ারোস্তামি এই জাপানি গুরুর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।
কুরোসাওয়া বললেন, ‘আমি আপনাদের আর ক্লান্ত করতে চাই না।’ তিনি আরো বললেন, ‘আমাদের সময় থাকলে একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যেতেন। আমরা আশ্বস্ত করি, যত শিগগিরই সম্ভব তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হবে— এ আশা করছি।






