পরমার্থ
শুরু হলো প্রেম
শেষ হলে তোমাকে পাওয়া যেত।
জন্ম যায়, স্বপ্ন যায়,
ধ্রুবতারা মৃত
বৃথা অন্নজল।
অমিয় অসুখ নিয়ে
যাবো না আরোগ্যনিকেতনে।
তোমাকে সঞ্চীয়মান কষ্টে রাখবো না।
শেষের তৃষ্ণায়
মধু দাও প্রিয়তমা।
পর সমাচার
‘পর সমাচার এই যে’,
সময়টাকে পুড়িয়ে দিতে আমরা দুজন
একটি মোমের দুই প্রান্তে দিয়েছি আগুন।
গলে পড়া সাদা জখম
চোখের ভেতর আটকে আছে,
আলোকরেখায় দু’খানি মুখ শূন্যতার প্রস্তর যুগ।
প্রেম ও যৌনতা
পৃথিবীর প্রথম যমজ ভাইবোন
প্রেরণার সুগন্ধিবিলাস
আগুনের পেট
মরুভূমিগান।
বীজের উৎসপ্রভা
আকাশ, মাটির জীবনীকথক।
গান করে ভাঙনের, নিবিড় স্রোতের।
মেঘের বসনে ওড়ে শূন্যতার নীল।
শীতের রাত্রিতে ঘুমহীন তমাল।
নীল বাথটবে
জীবনীয় স্বরে
আনন্দের তরঙ্গ জাল।
নেই ভাইবোন, মৃত সব আয়ুর সবক।
তখনই গোলাপ
অদূরভবিষ্যতে আমরা যদি
এই জল-অচলের লোকালয়ে
আবার প্রেমের
মেঘরৌদ্রের গভীরে পড়ে যাই
কে বলবে আগে?
‘পাপড়িরা ঐক্যবদ্ধ, তখনই গোলাপ।’
ইচ্ছিত
রেশ রয়ে যায়
চিহ্নের ছায়া
জীবিত নৈঃশব্দ্যে।
শীত ফিরে আসে
শুনেছি গল্প পলাশের।
রোদ চলে যায়
ক্রমধারা মেনে
সন্ধ্যা দেখায় উদ্বেগ।
হাত পড়ে ছিল
সাদা জামাটার
বোতামের কালো চন্দ্রে।
ঘুরে ঘুরে রেশ
ফেলে যায় তার যামিনী।
স্রিয়মাণ আঁকে
দাত্রীর চলা
সিঁড়িতে ছায়ার সত্য।
বাতাস বলছে
মুখশ্রীর শীলতা।
তৃষ্ণাকথনে
আয়না মুছি যত্নে।
নাম লিখে রাখি
রাত্রির নক্ষত্রে।
আমি শুধু তার প্রীতিভোজ।
ইস্টোরি তুলিস না কান্দুনি
কী ইস্টোরি কইতে চায় রমজান আলী?
ডাকলে কোকিল
কী সব কষ্টে
তার বউ কাঁদে কেন ?
পড়শিরা ভিড় করে, হাসে।
কৌতূহলের শেকড়ে জল দেয়।
‘ইস্টোরি তুলিস না কান্দুনি’ বলতেই
ঝগড়ার বিদ্যুৎ হঠাৎ নিভে যায়।
কান্দুনির মুখ লাল।
চোখের গভীরে মেঘ।
কেউ কেউ নিজের ঊষরে
রাত্রিদিন বৃষ্টি ঝরায়।
শত্রু
গোলাপখেকো পিঁপড়ের সাথে
কথা বলে জানা গেছে,
সুন্দর ও সুস্বাদু খাদ্য।
তোমার গ্রহণে থাকি
তোমাকে কখনো বলিনি গোলাপ।
আমার বন্ধু পিঁপড়ের জাতক।
মানুষটা দরজায় যায়
যদি রাখো তুমি
আমাকেই তুমি
দৃশ্যবিরোধের বুননে।
পূর্ণতা শেষে
খণ্ডবস্ত্র
ঢাকে নগ্নতা কীভাবে?
একসাথে আছে
ঘুরে ঘুরে থাকে
প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রগতি।
তারই মধ্যে
অন্য সেলাই
তোমার আঙুলে সম্ভব।
সংহতি হবে
বাঁচার প্রহরে
ভালো পরিণতি গ্রহণের।
একটি মানুষ
কড়া নাড়ে
সেতুসত্যের বপনে।
প্রেমকে যখন বানিয়ে ফেলেছি খুনি
এখন আমার খুনের সময়।
কী ছিলাম আমি?
এক পুষ্পবারতা। সঙ্গমাধবী।
ফিরে আসা সুবর্ণ বিদায়।
ছায়াবীথি নীল বনভূমি
বলবার মতো নৈঃশব্দ্যে
মুখোমুখি বসে থাকা জোস্নাপ্লাবিত প্রহর।
কী ছিলাম অবচেতনের জলে?
তোমার নদীর তীরে অবস্থিত নদী।
গুল্মের ভেতর রূপালী ঝিনুক।
অতলে ঘুমন্ত মাছ। জেগে ওঠার সাঁতার।
অন্ধকারে প্রেরণা-পলাশ।
স্বপ্ন দেখা, দেখাবার মন্ত্র।
আমি তো চেয়েছি হতে
আনন্দ আর নীল আলোকের স্থিতি।
শস্যবীজে আকাশহংসীর ছায়া।
মানুষেরা কোনোদিন ছিল না মানুষ।
সাপ বংশের, হায়না-জাতক, রক্তপাহাড়ের উপাসক।
প্রেমের শ্যামল শস্যদিন
প্রেমিক প্রেমিকা করছে ধর্ষণ ।
মানুষের জন্যে মদনের সব পুষ্পতীর শেষ,
সমুদ্রের অন্ধকারে ফিরে গেছে আফ্রোদিতি,
কে আমাকে দেবে হূদিকোণ?
হত্যা করো, মানুষ আমার সত্যকে পোড়ায়।
রক্ত হাতে, রক্ত চোখে কোথায় পালাবো বলো?
মৃতদের হূদয়েও ছিল প্রেম।






