সোনদ্বীপ
বাঙ্গলা হইতে আরাকানের পথের মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরে সোনদ্বীপ। এখান হইতে নৌকায় চাটগাঁ যাইতে দুই প্রহর সময় লাগে। দ্বীপটি লম্বা ৬ দণ্ডের ও প্রস্থে ৪ দণ্ডের পথ। উত্তরে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র একত্র হইয়া সাগরে পড়িয়াছে। চারিদিকে সমুদ্র, তাহাতে প্রত্যহ একবার, কখন প্রবল জোয়ার হয়, বজ্রের মত ভীষণ গর্জ্জন শোনা যায় এবং সমুদ্র জল লম্বা লম্বা গাছ হইতেও উঁচা হইয়া উঠে। নৌকা কি জাহাজ কিছু এই বানে টিকিতে পারে না। একটা ছোট নালা উত্তর দিকে সমুদ্র হইতে পৃথক হইয়া আসিয়াছে। ইহাই দ্বীপে আসিবার একমাত্র পথ। নালার লম্বা দুই তীর যতদূর যায় এবং চওড়া এত কম যে, শুধু দুই খান কুছা নৌকা পাশাপাশি চলিতে পারে। এই নালার মুখে একটি দুর্গ ছিল (বোধ হয় বাঁশের। Stuwart তাহার বাঙ্গলার ইতিহাসে Stockade বলিয়াছেন)। তাহার মাঝ থেকে পাঁচজন বুড়ো বন্দুক চালাইলে হাজার জন জোয়ান যোদ্ধারও সাধ্য নাই যে ঐ নালায় ঢোকে। যুদ্ধপোতগুলি জোয়ার আসার ভয়ে ৩ ঘণ্টার বেশি ঐ নালার বাহিরে সাগরে দাঁড়াইয়া দুর্গ আক্রমণ করিতে পারিত না; কাজেই শত্রুর প্রবেশ ও দুর্গ অবরোধ দুই-ই অসম্ভব ছিল।
দিলাওয়ার
আগে সোনদ্বীপ শুধু হিংস্র জন্তু ও বনজঙ্গলে পূর্ণ ছিল। দিলাওয়ার নামে একজন সাহসী নাবিক ঢাকায় বাদশাহী যুদ্ধপোতের (নওয়ারার) একখান জল্বা নৌকার নেতা ছিল। ইব্রাহিম খাঁর সুবাদারীর সময়ে (১৬১৮-২২ খৃঃ) দিলাওয়ার গোপনে অনেক বাদশাহী প্রজাকে বশ করিয়া, তাহাদের এবং নিজের পরিবার ও কুটুম্ব সঙ্গে লইয়া এই জনহীন দ্বীপে পলাইয়া যায় এবং সেখানে বসতি ও আবাদ আরম্ভ করাইয়া নিজে একটি ছোটখাটো রাজা হয়। বাঙ্গলার নবাব তাহাকে প্রথমে তাচ্ছিল্য করিতেন; এই অবসরে সে দ্বীপের মধ্যে ঐ দুর্গ বানাইয়া, দ্বীপে ঢুকিবার ও বাহির হইবার পথ দৃঢ়রূপে ঘিরিয়া ফেলিল এবং একদিকে বাঙ্গলার নবাব ও অন্যদিকে আরাকানের মগ রাজা দুই হইতেই স্বাধীন হইল। ক্রমে বাঙ্গলার মুঘল কর্মচারীরা তাহাকে মগের মধ্যে গণ্য করিল, কিন্তু সে মগদের মত কখন তাহার পূর্ব প্রভুর দেশ লুট করিত না।
দিলাওয়ারের যুদ্ধকৌশল ও সমৃদ্ধি
একবার আরাকানের রাজা অনেক নৌকা পাঠাইয়া সোনদ্বীপ আক্রমণ করেন। দিলাওয়ারের ইঙ্গিতে ঐ নালার মুখের দুর্গের সৈন্যগণ চুপচাপ করিয়া তাকাইয়া রহিল। মগেরা তখন নালার মধ্যে নৌকা আনিয়া এদিকে কোনো ভয় নাই ভাবিয়া... দিলাওয়ারের বাড়ীর দিকে অগ্রসর হইল। যেই নৌকা হইতে দূরে গিয়াছে, অমনি দিলাওয়ার সৈন্য লইয়া তাহাদের উপর পড়িল এবং দুর্গ হইতেও ঠিক সেই সময় নৌকাগুলির উপর তোপ চালাইতে লাগিল। এই ফাঁদে পড়িয়া অনেক মগ মারা গেল এবং কয়েকখান নৌকা ধরা পড়িল; অবশিষ্ট নৌকা— প্রায়ই ভাঙ্গা— লইয়া মগেরা পলাইয়া গেল। তারপর হইতে আরাকানের মগ ও চাটগাঁর ফিরিঙ্গি জলদস্যু কেহই সোনদ্বীপের কাছে আসিত না।
দিলাওয়ার মহাসুখে ও স্বাধীনতায় রাজত্ব করিতে লাগিল। তার চারিদিকে দৃষ্টি ছিল এবং এমন কড়া শাসন ছিল যে, প্রজারা ভয়ে বাধ্য হইয়া থাকিত। সামান্য অপরাধের জন্য প্রাণদণ্ড করিত অথবা হাত-পা, কান-নাক কাটিয়া দিত।
ক্রমে যুবরাজ শাহ সুজা বাঙ্গলার শাসনকর্ত্তা হইয়া আসিলেন (১৬৩৯ খৃঃ)। দিলাওয়ারকে অধীন করিয়াছি এই নাম করিবার জন্য তিনি নিজ পুত্রকে অনেক উপহার ও মনসব দানের প্রস্তাব সহিত দিলাওয়ারের নিকট পাঠাইলেন। দিলাওয়ার নিজ পুত্র শরীফকে পাঠাইয়া সুজার সম্মান করিল। বাদশাহের অধীনে শরীফ ‘পাঁচশত অশ্বারোহীর নেতা’ উপাধি পাইল।
সোনদ্বীপ জয়ের উদ্যোগ
বঙ্গের নতুন সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৩ই ডিসেম্বর ১৬৬৪ খৃঃ ঢাকায় আসিলেন। চাটগাঁর জলদস্যুদের বাসা ভাঙ্গিয়া দিয়া বাঙ্গলাদেশকে চিরশাস্তি দেওয়া তাহার প্রথম সংকল্প হইল। দেশের চারিদিকে নৌকা তৈয়ার এবং ঢাকায় মাল্লা, খাদ্য ও অস্ত্র সংগ্রহ হইতে লাগিল। সমস্ত ১৬৬৫ খৃষ্টাব্দ এই উদ্যোগে গেল।
দিলাওয়ার এই খবর পাইয়া নিজের পুত্র শরীফকে ঢাকায় পাঠাইয়া নবাবের বাধ্যতা জানাইল। নবাব শরীফকে সুজার আমলের মনসবে আবার নিয়োগ করিলেন। কিন্তু সায়ের-আবের সর্দ্দার আবুল হাসান নামক নবাব সরকারের একজন বিখ্যাত কর্ম্মচারীকে তলে তলে সোনদ্বীপ জয় করার বন্দোবস্ত করিতে ও দ্বীপের পথঘাটের খবর লইতে বলিয়া দিলেন। তখন আবুল হাসান জানাইল— ‘একবার নবাবী নৌ-সেনা লইয়া সায়ের-আব (Cruise, water-patrol) অর্থাৎ জলে চৌকি দিতে দিতে সোনদ্বীপের কাছে গিয়াছিলাম এবং নিজের একজন লোককে পাঠাইয়া বন্ধুভাবে দিলাওয়ারকে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে আহ্বান করি। সে অনেক অকেজো ওজর করিয়া বলিয়া পাঠাইল যে আসিতে পারিবে না, কিন্তু একটা উঁচু উট ও একটা দুম্বা ভেড়া পাইলে সুখী হইবে।’ নবাব এ প্রার্থনায় সম্মত হইলেন। আবুল হাসান আবার সমুদ্রে চৌকি দিতে দিতে সোনদ্বীপের কাছে গিয়া একজন চতুর লোকের সঙ্গে ঐ উট ও ভেড়া দিলাওয়ারের নিকট পাঠাইলেন। সে এই সুযোগে দ্বীপের সব পথ-ঘাট চিনিয়া লইল এবং খবর আনিল যে দ্বীপের সৈন্যগণ শত্রুর প্রবেশের পথ কঠিন জানিয়া সর্ব্বদা অবহেলায় ও অসতর্ক থাকে।
[চাটগাঁ যাইতে পথে সোনদ্বীপ; এটা শত্রুর হাতে থাকিলে মুঘল সৈন্যের পথ (line of communication) নিরাপদ হয় না এবং বাদশাহের হাতে আসিলে একটি বড়ই সুবিধাজনক আড্ডা (base of supplies) হয়। এজন্য শায়েস্তা খাঁ আগে সোনদ্বীপ জয় করা আবশ্যক মনে করিলেন। প্রথমে দিলাওয়ারকে আহ্বান করা হইল যে নোয়াখালীতে আসিয়া মুঘল সেনানীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুক এবং পরে নবাবের নিকট গিয়া বাদশাহের অধীনতা স্বীকার করুক। সে প্রথমে সম্মত হইয়া পরে আসিল না।]
প্রথম আক্রমণ
বৃহস্পতিবার ৯ই নভেম্বর ১৬৬৫ খৃঃ আবুল হাসান সোনদ্বীপ জয় করিতে রওনা হইলেন। নিরাপদে নালার ধারে পৌঁছিয়া তত্ক্ষণাৎ দুর্গ আক্রমণ করিলেন। দুর্গরক্ষকগণ প্রস্তুত ছিল না; একটু যুদ্ধ করিবার পর পালাইতে বাধ্য হইল। আবুল হাসান দুর্গ দখল করিয়া দ্বীপের মধ্যে যেখানে দিলাওয়ারের বাড়ী ছিল সেই দ্বিতীয় গড়ের দিকে অগ্রসর হইলেন। দিলাওয়ার তখন ৮০ বৎসরেরও অধিক বয়সের বুড়ো, কিন্তু বিক্রম কমে নাই। ব্যূহ রচনা করিয়া বীরের মত যুদ্ধ করিতে করিতে মুঘল সৈন্যদের সম্মুখীন হইল। তাহার অনেক সৈন্য মারা গেল, নিজে দুই স্থানে আহত হইয়া বাড়ীর পাছের জঙ্গলে হটিয়া গিয়া সৈন্যসহ লুকাইল— ভয়ে নহে, কৌশলে; আড়ি পাতিয়া থাকিল যে মুঘল সৈন্য দল ভাঙ্গিয়া বনে ঢুকিলেই আক্রমণ করিয়া হারাইবে।
অভিজ্ঞ সেনাপতি আবুল হাসান এই কপট পলায়নের গূঢ় অভিসন্ধি বুঝিতে পারিয়া নিজ সৈন্যদের পশ্চাদ্ধাবন করিয়া জঙ্গলে ঢুকিতে এবং নালা ও নৌকা হইতে দূরে যাইতে মানা করিলেন। তাহার সঙ্গে ঘোড়া আসিয়া ছিল না, মুঘল সোয়ারগণ পায়ে হাঁটিয়া দিলাওয়ারকে ধরিতে পারিবে না জানিয়া তিনি কামান প্রভৃতি উঠাইয়া লইয়া ঐ গড় পোড়াইয়া দিলেন; তারপর প্রথম দুর্গটি (নালার মুখে) ভূমিসাৎ করিয়া দ্বীপ হইতে চলিয়া গেলেন। ইচ্ছা রহিল অশ্ব লইয়া আসিয়া আবার দ্বীপ অধিকার করিবেন।
আবার উদ্যোগ
নবাব শায়েস্তা খাঁ এই সংবাদ পাইয়া যুদ্ধের মহা আয়োজন করিলেন এবং চারিজন সেনাপতিকে সৈন্যসহ নোয়াখালীতে একত্র হইতে বলিলেন।
দিলাওয়ারের ছেলে শরীফ ঢাকায় ছিল। নবাবকে জানাইল, ‘যদি অভয়বাণী পূর্ণ একখানি পত্র আমার হাতে দিয়া পিতার নিকট পাঠান, তবে তাহাকে এখানে আনিয়া উপস্থিত করিব।’ নবাব তাহাই করিলেন। কিন্তু শরীফ সোনদ্বীপে গিয়া পিতার সঙ্গে যোগ দিয়া ভাঙ্গা দুর্গ মেরামত করিতে লাগিয়া গেল।
নবাবের আজ্ঞামত ইবনে হোসেন নৌ-সেনার দারোগা ও মোহাম্মদ বেগ আবাকশ ১৪১ খান নৌকা লইয়া এবং মুনওয়ার খাঁ জমিদার ১ হাজার ৫০০ বন্দুকচী সৈন্য এবং কয়েক খান বড় ‘পাতিলা’ নৌকা (যাহাতে ঘোড়া বহন করা যায়) সঙ্গে নোয়াখালী পৌঁছিল। আসাম যুদ্ধের বিখ্যাত যোদ্ধা ফরহাদ খাঁও তথায় উপস্থিত হইলেন। নোয়াখালী base of operations হইল; এখানে সব সৈন্য, নৌকা ও রসদ জমা হইল। নোয়াখালী হইতে প্রাতে নৌকা ছাড়িলে সন্ধ্যার সময় সোনদ্বীপে পৌঁছা যায়।
ইতিমধ্যে গুজব রটিল যে দিলাওয়ারের প্রার্থনায় আরাকানের রাজা চাটগাঁ হইতে তাহার বিজয়ী নৌ-বল সোনদ্বীপের সাহায্যে পাঠাইতেছেন। মুঘল সেনাপতিদের মধ্যে ইবনে হোসেন ও মোহাম্মদ বেগ আবাকশ কতক নৌকা লইয়া মগদের পথ রোধ করিবার জন্য প্রস্তুত রহিলেন। ফরহাদ খাঁ নোয়াখালীর তত্ত্বাবধানে থাকিলেন।
দ্বিতীয় আক্রমণ
প্রথম অভিযানের ঠিক নয়দিন পরে ১৮ই নভেম্বর আবুল হাসান আবার সোনদ্বীপ আক্রমণ করিলেন (পাঠক, এই সময় দিলাওয়ারের অবস্থা ভাবিয়া দেখিবেন। মুঘলেরা প্রথম যুদ্ধের পর তাহার কামানগুলি লইয়া গিয়াছিল, বারুদ ও অস্ত্রশস্ত্রের যে পুঁজি ছিল, তাহা নষ্ট করিয়া গড় দুটি ভাঙ্গিয়া দিয়াছিল। সাহসী সৈন্যগণও অনেকে হত এবং স্বয়ং আহত হইয়াছিল। একে নিজের বল ক্ষয় হইয়াছে তাহার উপর এবার মুঘলেরা বেশি সৈন্য ও অশ্বারোহী লইয়া আসিয়াছে। এবার জয়ের আশা নাই, তবুও স্বাধীনতার জন্য ৮০ বৎসরের বৃদ্ধ দিলাওয়ার যে ভীষণ যুদ্ধ করিল, তাহাতে মুঘল ঐতিহাসিকগণ আশ্চর্য্য হইয়াছেন)।
শরীফ ইতিমধ্যে নালার মুখের দুর্গটি মেরামত করিয়া গড়খাই কাটিয়া দুর্জ্জয় করিয়া তুলিয়াছিল। সে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ করিল; কিন্তু মুঘলদের বারবার আক্রমণে পরাস্ত ও আহত হইয়া পালাইতে গিয়া ধরা পড়িল। বিজয়ী মুঘলেরা সেখানে রাত্রি কাটাইয়া পরদিন দিলাওয়ারের বাড়ির দিকে রওনা হইল। দিলাওয়ার আবার সৈন্য লইয়া তাহাদের বাধা দিল; কিন্তু অনেকক্ষণ যুদ্ধের পর পরাস্ত হইয়া জঙ্গলে পালাইয়া গেল। তখন আবুল হাসান দ্বিতীয় দুর্গে প্রবেশ করিয়া দিলাওয়ারের ধন সম্পত্তি— ৫২ হাজার টাকা নগদ, কয়েক ঠিকি চাউল, কয়েকটা ছোট কামান বন্দুক ও জম্বুরক অধিকার করিলেন। একদল মুঘল সৈন্য পশ্চাদ্ধাবন করিয়া জঙ্গলে ঢুকিল। দিলাওয়ার নিরুপায় হইয়া ধরা দিল। কোরআন শরীফে আছে ‘যদি কেহ হতাশ হইয়া ধর্ম্মগ্রহণ করিতে চায়, তবে তাহা ঈশ্বরের কাছে গ্রাহ্য হয় না।’ দিলাওয়ারকে শিকলে বাঁধিয়া তাহার আত্মীয় পরিবার ৯২ জন বন্দী ও বন্দিনীর সঙ্গে মুনাওয়ার খাঁ জমিদারের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় পাঠান হইল।
ঢাকার কারাগারে ৮০ বৎসরেরও অধিক বয়সের বৃদ্ধ বীর দিলাওয়ার কয়েক দিন পরে প্রাণত্যাগ করিল। নবাব তাহার বয়োপ্রাপ্ত ছেলেদের বন্দী রাখিলেন, কিন্তু ছোট ছেলেমেয়েদের ভরণ-পোষণের জন্য ঢাকার কাছে কয়েকখান গ্রাম দান করিলেন।
সোনদ্বীপের বন্দোবস্ত
বিজয়ী আবুল হাসান নোয়াখালীতে ফিরিয়া আসিলেন। আবদুল করিম খাঁ সোনদ্বীপের থানাদার হইয়া বাদশাহী ১০০ অশ্বারোহী বর্কান্দাজ ও ৪০০ পদাতিক তোপচি (এবং নবাব সরকারের সেই পরিমাণের সৈন্য) লইয়া তথায় রহিলেন। মোহাম্মদ কাসিম মনসবদার দেওয়ান (রাজস্ব সচিব) হইলেন। প্রজারঞ্জনের বেশ সুবন্দোবস্ত করা হইল— প্রথম বৎসর দিলাওয়ারের সময়ের চেয়ে কম হারে ও পর বৎসর হইতে ন্যায্য পরিমাণে খাজনা ধার্য্য হইল। সোনদ্বীপ বড় উর্ব্বরা; এত ফসল হয় যে দ্বীপবাসীদের খাদ্যের অভাব হয় না। মাটি লোনা। অনেক লবণ তৈয়ারী হয় এবং তাহা রাজস্বরূপে নেওয়া হয়।






