রাজনৈতিক নির্দেশনামূলক বই হিসেবে আজ পর্যন্ত যে লেখাগুলো জনপ্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হয়, ম্যাকিয়াভেলির ‘দ্য প্রিন্স’ তার মধ্যে অন্যতম। ভারতীয় উপমহাদেশে চাণক্য যেমন স্মরণীয়, সমর নীতিতে যেমন চীনের সান জুর কথা বারবার আসে, রাজনৈতিক কূটকৌশলের বর্ণনায় ম্যাকিয়াভেলির এ বইয়ের নামও তেমনি উচ্চারিত। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো চাণক্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ কিংবা সান জুর ‘আর্ট অব ওয়ার’—এর আলোচনা যতটা ইতিবাচকরূপে করা হয়, ‘দ্য প্রিন্স’-এর ক্ষেত্রে তা হয় না। যদিও চাণক্য বহু কূটকৌশলের কথা বলেছেন, সান জু শত্রুর দুর্বলতা খুঁজে বের করার নানা উপায় বাতলে দিয়েছেন, কিন্তু প্রকাশকাল থেকে আজ পর্যন্ত ম্যাকিয়াভেলির উপদেশগুলোকে আলাদা করে ‘কূট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি ম্যাকিয়াভেলির নাম থেকে উত্পন্ন ‘ম্যাকিয়াভেলিয়ান’ বিশেষণ দ্বারা ব্যক্তির কূট বুদ্ধিই বোঝানো হয়। মূলত ‘দ্য প্রিন্স’-কে অনেক ক্ষেত্রে ভুলভাবে গ্রহণ করার কারণেই এমন প্রপঞ্চ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনেক নামজাদা পশ্চিমা গবেষক এমনটাই বলছেন।

এ কথা ভুল নয় যে শাসক হতে চাওয়া মানুষদের জন্য আলোচ্য বইটিতে লেখক নানা অসৎ উপায় অবলম্বনের কথা লিখেছেন। প্রথমেই সহজ একটি কথা তুলে ধরা যেতে পারে। ‘দ্য প্রিন্স’ বইয়ে বলা হয়েছে ‘শাসককে ভালো না হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’ কথাটি এমন অর্থ তৈরি করে যে একজন শাসক (প্রিন্স) হবেন নিষ্ঠুর। তিনি আরো বলেছেন, মিথ্যা ও ওয়াদা ভঙ্গ করে যদি প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা যায়, তবে তা-ই করা উচিত। ম্যাকিয়াভেলি এক পর্যায়ে একজন নতুন শাসককে পুরনো শাসকের বংশসহ হত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেন সামান্য কোনো সংকটের আশঙ্কাও নিঃশেষিত হয়। সাধারণভাবে এসব কথার নেপথ্যের কোনো কারণ পর্যালোচনা না করেই ম্যাকিয়াভেলিকে কূট, অসৎ, নিষ্ঠুর বলে অভিহিত করা যায়। কিন্তু এসব কথার বিপরীত পিঠে ম্যাকিয়াভেলি আরো কিছু ইঙ্গিত রেখেছিলেন যা কম আলোচিত।

‘দ্য প্রিন্স’-এর ১৫তম অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে হয়ত অহংকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে কিন্তু আমার উদ্দেশ্য তাদের জন্য লিখে যাওয়া, যারা আমার লেখা কিছু অন্তত অনুধাবন করবেন। তাই কল্পনার দুনিয়ার চেয়ে বাস্তব সত্যকে তুলে ধরা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।’ সেই সত্যের কথা উল্লেখ করতে গিয়েই বইয়ে জানানো হয়েছে কল্পিত প্রজাতন্ত্র কিংবা সামন্ত রাজ্যের কথিত সততার তুলনায় বাস্তবে একজন যুবরাজকে নানা কূটকৌশলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মূলত তার পূর্ববর্তী কালে প্রচলিত প্লেটো, অ্যারিস্টটল, অ্যাকুইনাসের তত্ত্বে যে শিক্ষিত, সৎ, ধার্মিক, ন্যায়পরায়ণ শাসকের কল্পিত চিত্র তৈরি করা হয়েছে, তার বিপরীতে গিয়ে ‘দ্য প্রিন্স’, শাসককে বাস্তববাদী হতে বলেন, যিনি প্রয়োজন অনুসারে সংকটের মোকাবেলায় তার শিক্ষাকে ব্যবহার করে নিজেকে নিষ্ঠুর হিসেবে হাজির করতে সক্ষম।


যুবরাজের কেবল গদি দখল করলেই চলবে না, তাকে সর্বসাধারণের সমর্থন লাভ করতে হবে। এ সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে যদিও ‘দ্য প্রিন্স’ শাসককে রাজনৈতিক শিক্ষা দিতে চায় কিন্তু এর পেছনে কোনো না কোনোভাবে সর্বসাধারণের কথাও লেখক বলেছেন। বইটির গড়পড়তা আলোচনায় ম্যাকিয়াভেলি উল্লিখিত ‘প্রয়োজনে অসৎ উপায় অবলম্বন’, ‘ক্ষমতাসীনদের তোষণ’ নিয়েই আলোচনা হয়। কিন্তু ‘দ্য প্রিন্স’ বলে, ক্ষমতাসীন মিত্রদের তোষণের চেয়ে জনগণের সমর্থন আদায় করা জরুরি। কেননা অভিজাত, রাজনৈতিক নেতা, সামন্তদের অতিরিক্ত ক্ষমতা, অর্থ, পদ, সম্মান প্রদানে তারা নিজেকে যুবরাজের সমকক্ষ হিসেবে ভাবতে শুরু করে এবং এখান থেকে বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। কিন্তু যুবরাজ যদি নিজের জনগণের সমর্থন আদায় করেন, তবে জনতাই তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে। জনগণের এ সমর্থন আদায়ের জন্য কী করা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে ‘দ্য প্রিন্স’-এ ম্যাকিয়াভেলি বলেন, জনগণ মূলত নিজেদের এবং পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবন এবং সে জীবনের নিরাপত্তা কামনা করে। শাসক যদি ‘কাছের লোক’দের ভূমি, অর্থ প্রভৃতি প্রদান করে জাতীয় সম্পদ নষ্ট করার চেয়ে জনতার কল্যাণের জন্য পরিকল্পনা করে, তবেই জনতার সমর্থন লাভ এবং ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব।

কিন্তু মধ্যযুগে শাসকদের ক্ষমতার অন্যতম খুঁটি ছিল তাদের আশপাশে জমা হওয়া এ নানা ধরনের অভিজাত সম্প্রদায়। এদের তুষ্ট রাখাও একজন শাসকের অন্যতম কর্তব্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ম্যাকিয়াভেলির মতে অনেক ক্ষেত্রেই যুবরাজ নিজে এ অভিজাতদের তৈরি করেন। যিনি তৈরি করতে পারেন, তিনি সে ক্ষমতা হরণ করতেও সক্ষম। তাই অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে জনগণের মতামত আমলে নেয়া প্রয়োজন। কেননা জনতা সবসময়ই স্বাধীনতা পছন্দ করে। ম্যাকিয়াভেলিকে ‘স্বৈরশাসকের শিক্ষক’ বলা হলেও তিনি মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন। যুবরাজ বা শাসক বরাবরই শাসন করতে চাইবেন এবং শাসন মানেই স্বাধীনতাকে নিপীড়িত করা। কিন্তু এক্ষেত্রে উপযুক্ত চতুরতার মাধ্যমে শাসন এবং স্বাধীনতার স্বাদ পাশাপাশি বজায় রাখা সম্ভব। ‘দ্য প্রিন্স’-এ তিনি দুটি ধারার কথা বলেছেন—একটি মানবিক, যা আইনের মাধ্যমে করা যায়; অন্যটি পাশবিক, যা জবরদস্তি ও প্রতারণার মাধ্যমে করা হয়।

এক্ষেত্রে ফ্রান্সের ব্যবস্থার কথা উল্লেখিত হয়েছে, যেখানে শাসনের পেছনে একটি ‘আইনসভা’ ভূমিকা রাখত। রাজতন্ত্রে সাধারণত রাজার কথাই আইন এবং তার নিকটস্থ অভিজাতরা সে আইনের ধারক-বাহক হয়ে জনতার ওপর ছড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে এক সময় নিজেদের রাজার সমকক্ষ জ্ঞান করে রাজারই বিরুদ্ধাচরণ করত। কিন্তু এ আইনসভা একাধারে জনতার মতামতের গুরুত্ব প্রদান করত। ফলে রাজার পক্ষে পুরোপুরি একনায়ক হওয়া সম্ভব ছিল না। আবার একইভাবে রাজ্যের অভিজাতদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে প্রজারা প্রশ্ন করার অধিকার রাখত বলে অভিজাতদের অধিক ক্ষমতাশীল হয়ে রাজার বিরুদ্ধে হঠাৎ কোনো ষড়যন্ত্র করতে সক্ষম হতো না। ফলে রাজার নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছিল। এখান থেকেই ‘দ্য প্রিন্স’ এমন একটি শাসন ব্যবস্থা তৈরির কথা বলেছিল যাকে আমরা আজ ‘সাংবিধানিক রাজতন্ত্র’ বলি।

ম্যাকিয়াভেলির ‘দ্য প্রিন্স’-এ কোন কথাটি কেন বলা হয়েছিল তা জানা খুব জরুরি, কেননা তিনি ব্যতীত সমসাময়িক আর কোনো তাত্ত্বিক সেকালের রাজনৈতিক অবস্থাকে এভাবে বিশ্লেষণ করেননি। পাশাপাশি মনে রাখা প্রয়োজন, ম্যাকিয়াভেলি নিজে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে বহুদিন কাজ করেছেন এবং ফ্লোরেন্সকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা হুমকি থেকে মুক্ত রেখেছেন। ফ্রান্সের দ্বাদশ লুইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রার পর সিজার বোর্গিয়ার দরবারে গিয়ে বছরভর তাকে বুঝিয়ে ইতালি আক্রমণ থেকে বিরত করেন। এ কারণে বোঝা যায় তার উদ্দেশ্য মূলত ছিল ফ্লোরেন্সের সুরক্ষা এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘দ্য প্রিন্স’ যেভাবে একজন যুবরাজ বা শাসককে কাজ করার উপদেশ দেয়, তা মূলত রাষ্ট্রকে রক্ষা করার উপায় হিসেবে বিধৃত হয়েছে।

ফ্লোরেন্সের তত্কালীন শাসন এবং অন্যান্য অবস্থা লক্ষ করে স্বৈরাচারী শাসকের চরিত্র এবং এর ফলাফল সম্বন্ধে ম্যাকিয়াভেলি নিশ্চিত হয়েছিলেন। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মানুষের অর্থাৎ জনতার স্বাধীনতা, স্বাধীন ইচ্ছা প্রভৃতির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘দ্য প্রিন্স’ বলে মানুষের মধ্যে তীব্র বৈষম্যই মূলত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে। মার্ক্সের ‘শ্রেণী-বৈষম্য’ কথাটি সরাসরি না এলেও ‘দ্য প্রিন্স’-এ উল্লিখিত বৈষম্য বিষয়টি মূলত অভিজাত-তোষণ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকেই চিহ্নিত করে। সেখানে আরো বলা হয়েছে, ‘মানুষ এতই সরল যে প্রতারক সবসময়ই এমন কাওকে খুঁজে পাবে যে সহজেই প্রতারিত হয়।’ এ কথা থেকে মনে হতে পারে লেখক প্রতারণা করার উপায় বলে দিচ্ছেন বা প্রতারণাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কিন্তু আদতে তিনি এর বিরুদ্ধেই বলছেন। ম্যাকিয়াভেলি তার জীবনের শেষাংশে এক বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘আমি মানুষকে নরকের চিত্র দেখাতে চাই, যেন সে নিজেকে নরকের পথ থেকে সরিয়ে নিতে পারে।’

ম্যাকিয়াভেলির বহুল চর্চিত বই ‘দ্য প্রিন্স’ও মূলত সে প্রকারেরই একটি চেষ্টা। কিন্তু সেই গভীর বার্তাগুলো চিহ্নিত হয়নি। আলোচ্য বইটি বাদ দিয়ে একই লেখকের ‘ডিসকোর্সেস অন লিভি’-তে দৃষ্টি দিলে বরং সেসব বিষয় আরো স্পষ্ট নজরে আসে, যদিও ম্যাকিয়াভেলির বইটি সামান্য চর্চিত। কিন্তু এমনকি ‘দ্য প্রিন্স’ও নানাভাবে শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতাকে বিদ্রূপ করে। যেমন ম্যাকিয়াভেলি আরাগোর ফার্দিনান্দ কথা লিখেছেন। ফার্দিনান্দ মূলত যুদ্ধ এবং অন্যান্য উপায়ে তার অভিজাতদের ব্যস্ত রাখতেন। তার শাসনে নানা সময়ে তিনি ধর্মকে সামনে এনে মানুষের কাছে সবকিছুর ওপরে ধর্মকে তুলে ধরার একটি চেষ্টা করেছেন। ফার্দিনান্দের উদাহরণ দিয়ে ম্যাকিয়াভেলি লিখেছেন, ‘এভাবেই তিনি মহৎ কাজ করে তার প্রজাদের তুষ্টি সাধন করেছেন এবং তার এসব মহৎ কর্ম পরবর্তী অনেক মহৎ শাসক অনুসরণ করেছেন।’

‘ম্যাকিয়াভেলিয়ান’ কথাটি আজ এমন একটি ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে এ লেখাটুকু ম্যাকিয়াভেলির, এ কথা বলা হলে ধরে নেয়া হয় যে ম্যাকিয়াভেলি পরবর্তী ‘যুবরাজ’দের ফার্দিনান্দের মতো হতে বলছেন কিন্তু আমরা যদি স্বাধীনভাবে ওই অংশটুকু পাঠ করি, বিদ্রূপটুকু সহজেই চোখে পড়ে। মূলত ওই কাজগুলোকে অনুসরণ করতে বলা হয়নি, বরং মানুষকে ফার্দিনান্দের প্রতারণার স্বরূপটি দেখানো হয়েছে। ‘দ্য প্রিন্স’ নানা ক্ষেত্রে শাসককে চাতুরির আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়, একই সঙ্গে বলে থাকে এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের কিংবা শাসকের দীর্ঘ সময়ের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বলা হয় ম্যাকিয়াভেলি মূলত মেডিসি পরিবারের জন্য ‘দ্য প্রিন্স’ লিখেছিলেন। বইটি আদৌ তাদের হাতে পৌঁছেছিল কিনা এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান কিংবা সম্ভাব্য শাসকের করণীয় সম্পর্কে উপদেশ প্রদান, যেন তারা ক্ষমতা সুসংহত রাখতে সক্ষম হয়। তাদের উদ্দেশ্য করে ‘দ্য প্রিন্স’ বলে, একজন শাসক চাইলে বিভাজন নীতি প্রয়োগ করে জনতাকে বিভক্ত করে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সবাইকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নিজেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার ইচ্ছা জেগে ওঠে এবং তা হওয়াও সম্ভব। এর পর পরই সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, যেসব মানুষ নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শাসিত হতে চায় এবং স্বাধীনতা কামনা করে, তারা কখনো স্বাধীনতার স্বাদ ভুলতে পারে না। কোনো না কোনোভাবে তারা সেই স্বাধীনতা বজায় রাখতে চায় এবং প্রয়োজনে ‘যুবরাজ’কে উত্খাতের আন্দোলনে পথে নামতেও দ্বিধা করে না। তাই ম্যাকিয়াভেলি বলেন, ‘উঁচু উঁচু দেওয়াল তুলে রাজত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়। মূলত স্বৈরাচার, বৈষম্য, আইন-শৃঙ্খলার অভাবে অপশাসন তৈরি হয় এবং এসব কারণই সেই শাসকের ব্যর্থতার কারণ হয়ে ওঠে।’

ম্যাকিয়াভেলির ‘দ্য প্রিন্স’-কে এতকাল ‘শাসক’ হয়ে ওঠার নির্দেশিকা হিসেবে পাঠ করা হয়েছে। কিন্তু নিবিড় পাঠ কিংবা নতুন করে ভাবনার ক্ষেত্রে একে জনতার যুবরাজ (The Prince of the people) হয়ে ওঠার নির্দেশিকা হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হতো ম্যাকিয়াভেলির এ লেখা স্বৈরশাসকদের জন্য কিন্তু দেখা যাচ্ছে ‘দ্য প্রিন্স’ খোদ সামন্ত্রতন্ত্রের তুলনায় প্রজাতন্ত্রকে উত্তম শাসন হিসেবে চিহ্নিত করে। শাসনের প্রধান ব্যক্তি তথা শাসকের নীতি নৈতিকতার মাধ্যমে শাসনকে না দেখে, ওই শাসনে সামষ্টিকরূপে মানুষের জন্য কতটা ভালো বা মন্দ বয়ে আনে তা লক্ষ করতে বলা হয়েছে। জনতার সমর্থন লাভ করার উপদেশ, ফ্রান্সের আইনসভার উদাহরণের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকেও কিছুটা সমর্থন দিয়েছেন কিন্তু ম্যাকিয়াভেলি গণতন্ত্রে পুরোপুরি বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু তিনি কখনই তার যুবরাজকে পুরোপুরি একনায়ক হতে বলেননি, বরং মানুষের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে মানুষের সমর্থন আদায় করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রজাদের কল্যাণ সাধনের মধ্য দিয়ে যুবরাজ তার ক্ষমতা ধরে রাখবেন। অর্থাৎ ‘দ্য প্রিন্স’ কেবল নিজের ও কাছের মানুষের সুখ-সুবিধা নিশ্চিত না করে জনতার সুখ-সুবিধা নিশ্চিত করে মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠবে, যেন তারাই তাকে ‘দ্য প্রিন্স’ বা ‘আমাদের যুবরাজ’ বলে গ্রহণ করে।

 

মাহমুদুর রহমান: লেখক