বিশ শতকের
গোড়া থেকে
ভারতবর্ষজুড়ে স্বাধীনতাকামী
মানুষের মধ্যে
যে চেতনার
স্ফুলিঙ্গ দেখা
দিতে শুরু
করেছিল, কোথাও
কোথাও সেটা
দাবানলে পরিণত
হয়ে ঔপনিবেশিক
শাসনতন্ত্রের ভিত
কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
১৯২১ সালে
কেরালার মোপলা
বিদ্রোহ ছিল
সে রকম
একটি ঘটনা।
নয় শতক
বা আরো
আগে থেকে
যেসব আরব
বণিক মালাবার
উপকূলে বাণিজ্য
এবং বসতি
গড়ে তুলেছিল,
তাদের পরবর্তী
বংশধরই মাপিলা
হিসেবে পরিচিত।
ষোল শতকে
ভারত মহাসাগরে
পর্তুগিজ আধিপত্য
শুরু হওয়ার
পর মাপিলাদের
বাণিজ্যিক শক্তি
ক্ষুণ্ন্ন হতে
থাকে। তবু
মোগল আমলে
সমগ্র মালাবার
উপকূলে মাপিলাদের
প্রাধান্য ছিল,
যা টিপু
সুলতানের আমলেও
অব্যাহত থাকে।
কিন্তু ব্রিটিশদের
সঙ্গে যুদ্ধে
হেরে টিপু
সুলতানের শাসনের
অবসান ঘটলে
মাপিলাদের গুরুত্ব
একেবারেই নেমে
যায় বাণিজ্য
ও ভূরাজনীতিতে।
মালাবার অঞ্চলের
মূল আয়
লবণ, মসলা
ও ভূমি
রাজস্ব। লবণ
ও মসলা
ব্যবসা ব্রিটিশরা
সরাসরি নিয়ন্ত্রণে
নেয়ার পর
ভূমি রাজস্ব
আদায়ে কঠোর
হতে শুরু
করে ভারতের
অন্যান্য অঞ্চলের
মতোই। পূর্ববঙ্গের
মতো মালাবারেও
জমিদার শ্রেণী
ও কৃষক
শ্রেণীর মধ্যে
যে বিভেদরেখা
তৈরি হয়,
সেখানে ধর্ম
ঔপনিবেশিক শক্তির
অন্যতম অস্ত্র
হয়ে ওঠে।
অধিকাংশ জমিদার
হিন্দু সম্প্রদায়ের
হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ
কৃষক ছিল
মুসলমান। চাষীদের
কাছ থেকে
খাজনা আদায়ে
বেশির ভাগ
জমিদারই কঠোরহস্ত
ছিলেন। এ
জমিদাররা বরাবরই
ব্রিটিশদের হাতকে
শক্তিশালী করে
রেখেছিলেন। জমিদার
ও ব্রিটিশ
শক্তির ওপর
মুসলমানদের পাশাপাশি
ক্ষুব্ধ ছিল
নিম্নবর্ণের হিন্দু
সম্প্রদায়ও। ঐতিহাসিক
Stephen
Dale বলেছিলেন,
“For
whereas the lower Hindu castes were part of a hierarchy in which an oppressive
Nambudri landlord was also a social and religious superior, the Mappillas as
Muslims would identifz the same Nambudri as an unbeliever and could invoke
Islamic tenets to justifz a challenge to his authority.”
উনিশ শতকের
গোড়া থেকেই
অত্যাচারী জমিদার
ও ব্রিটিশদের
বিরুদ্ধে সাধারণ
কৃষকদের মধ্যে
অসন্তোষ জেগে
উঠতে থাকলেও
সেটা ততটা
প্রবল ছিল
না। ব্রিটিশরা
সহজেই তা
দমন করতে
পেরেছিল। কিন্তু
বিশ শতকের
বাস্তবতা ছিল
ভিন্ন। ততদিনে
ভারতবর্ষ জুড়ে
ব্রিটিশবিরোধী চেতনা
ছড়িয়ে পড়েছে।
একদিকে মহাত্মা
গান্ধীর অসহযোগ
আন্দোলন, অন্যদিকে
মুসলমানদের খেলাফত
আন্দোলন। এ
দুই আন্দোলনের
নেতারা যখন
একাট্টা হয়ে
ব্রিটিশ শক্তির
বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
ভারতবর্ষকে স্বাধীনতার
স্বপ্ন দেখাতে
শুরু করেছিল,
তখনই কেরালার
পুকোত্তুর গ্রামের
ঘটনাটি ঘটে।
মাপিলা সংখ্যাগরিষ্ঠ
পুকোত্তুর গ্রামের
অবস্থান কেরালার
মানজেরি শহরের
ছয় মাইল
উত্তর-পশ্চিম
দিকে। ১৯২১
সালে সেই
গ্রামে মাপিলাদের
সংখ্যা ছিল
২ হাজার
১৭০, হিন্দুর
সংখ্যা ছিল
৯৯৩। গ্রামের
মোট জমির
পরিমাণ ৭৬৮
একর। সেই
জমির পত্তনি
ছিল ৯৬
জনের হাতে।
এদের মধ্যে
২৬ জন
উচ্চবর্ণের হিন্দু।
যাদের কাছে
ছিল গ্রামের
৮৩ শতাংশ
জমির মালিকানা।
মাপিলাদের ৫৮
জনের অংশ
ছিল মাত্র
১২২ একর।
যার মধ্যে
মাত্র আটজনের
জমি ছিল
পাঁচ একরের
বেশি। অধিকাংশ
মাপিলার জমির
পরিমাণ এক
একরের কম।
জমির মালিকানা
বেশি থাকলেও
হিন্দু জোতদাররা
নিজেরা চাষাবাদ
করত না।
মাপিলারাই সব
জমির চাষাবাদের
কাজে নিয়োজিত
ছিল।
আর দশটি গ্রামের মতো জোতদার ও চাষীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে যে সমস্যা থাকে, পুকোত্তুরেও তা-ই ছিল। সেটা গুরুতর কিছু নয়। দেশের ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতির হাওয়া পুকোত্তুর গ্রামেও এসে পৌঁছে, যখন খেলাফত আন্দোলনের সদস্য হতে থাকে এখানকার মানুষ। ১৯২১ সালের মাঝামাঝিতে খেলাফত আন্দোলনের একটা বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ওই গ্রামে। সেই জনসভার পর মাপিলাদের চেতনায় একটা বড় রকমের পরিবর্তন ঘটে। তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠে। ব্রিটিশবিরোধী চেতনার কারণে গ্রামের মানুষের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের সৃষ্টি হয়।
১৯২১ সালের
১ আগস্ট
সামান্য একটা
চুরির অভিযোগের
ভিত্তিতে কেরালার
পুকোত্তুর গ্রামের
কালাথিঙ্গাল মোহাম্মদের
বাড়িতে তল্লাশি
চালায় স্থানীয়
পুলিশ। কালাথিঙ্গাল
ছিল স্থানীয়
খেলাফত কমিটির
সেক্রেটারি। ঘটনাটি
ব্যক্তিগত হলেও
কালাথিঙ্গালের রাজনৈতিক
অবস্থানের কারণে
পুলিশ অভিযুক্তের
সমর্থকদের দ্বারা
প্রবলভাবে বাধাপ্রাপ্ত
হয় এবং
তল্লাশি না
করে ফিরে
যায়।
কালাথিঙ্গাল মোহাম্মদ
ছিলেন নিকটস্থ
নিলামবুর শহরের
তিরুমুলপাদ নামের
এক জোতদারের
সাবেক গোমস্তা।
তিরুমুলপাদের বাড়িতে
একটি চুরির
ঘটনার অভিযোগে
পুলিশ তল্লাশি
চালাতে গিয়েছিল
কালাথিঙ্গালের বাড়িতে।
কিন্তু ঘটনা
হলো হিতে
বিপরীত। পরদিন
অভিযোগকারীর বাড়িতেই
দলবল নিয়ে
হাজির হলো
অভিযুক্ত কালাথিঙ্গাল।
সে তার
বকেয়া বেতন
হিসেবে (অথবা
তার বাড়িতে
পুলিশ পাঠানোর
খেসারত হিসেবে)
৩৫০ রুপি
দাবি করে।
তাত্ক্ষণিকভাবে পিঠ
বাঁচানোর জন্য
তিরুমুলপাদ তার
এক প্রতিবেশীর
কাছ থেকে
ধার নিয়ে
দাবীকৃত পাওনা
মিটিয়ে দেয়।
ঘটনা ওখানে
শেষ হয়নি।
ক্ষুব্ধ তিরুমুলপাদ
শহরের থানায়
গিয়ে এ
ঘটনার বিচার
দাবি করলে
এবার পুলিশের
পক্ষ থেকে
কালাথিঙ্গালকে থানায়
তলব করা
হয়। কিন্তু
থানায় ডেকে
পাঠানোর প্রতিক্রিয়াটা
হলো আরো
মারাত্মক।
কালাথিঙ্গালের খেলাফত
সমর্থকরা মসজিদের
নাকাড়া বাজিয়ে
পুরো গ্রামে
ঢোল পিটিয়ে
দিল যে
খেলাফত নেতা
কালাথিঙ্গালকে গ্রেফতার
করতে যাচ্ছে
পুলিশ। তার
বিরুদ্ধে সবাইকে
জেগে উঠতে
হবে। তাই
কালাথিঙ্গাল যখন
থানার দিকে
রওনা দেয়,
তখন চারদিক
থেকে শত
শত মানুষ
তার সঙ্গে
যোগ দিতে
থাকে। কালাথিঙ্গাল
যখন থানায়
পৌঁছে তখন
তার সঙ্গে
ছিল অন্তত
হাজার দুয়েক
সমর্থক। যাদের
বড় অংশ
লাঠি-সড়কি-বল্লমে
সজ্জিত মারদাঙ্গা
বাহিনী।
আসামির সঙ্গে
এত বিপুলসংখ্যক
মারমুখী জনতাকে
দেখে পুলিশের
কর্তা খুব
ঘাবড়ে যায়।
তখন কোনো
উপায় না
দেখে কালাথিঙ্গালকে
সব অভিযোগ
থেকে মুক্তি
দিয়ে ঘটনার
আপাত নিষ্পত্তি
করে, বলা
ভালো আত্মরক্ষা
করে।
ঘটনার এ
প্রতিক্রিয়ায় ঘাবড়ে
গিয়েছিলেন জেলা
ম্যাজিস্ট্রেট ইএফ
থমাসও। তিনি
ব্যাপারটা নিয়ে
তার ভবিষ্যৎ
আশঙ্কার কথা
লিখে মাদ্রাজ
গভর্নরের কাছে
একটি পত্র
পাঠান। এ
রকম ঘটনা
ভবিষ্যতেও ঘটতে
পারে বলে
তিনি জেলায়
অতিরিক্ত বাহিনী
মজুদ রাখার
জন্য সুপারিশ
করেন। কিন্তু
মাদ্রাজ গভর্নর
ম্যাজিস্ট্রেটের চিঠির
সুপারিশকে আরো
গুরুতরভাবে নেন
এবং আরো
বড় রকমের
শক্তি প্রয়োগ
করার সিদ্ধান্ত
নিলেন। যেহেতু
খেলাফত নেতার
ইঙ্গিতে এত
দুঃসাহসী হয়েছে,
তাই কয়েকটা
রাঘব বোয়ালকে
আটক করে
কঠোর সাজা
দিলে উচিত
শিক্ষা হবে।
অতএব কেন্দ্রের
সিদ্ধান্তে একটা
সেনা অভিযান
চালানোর সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়
ওই অঞ্চলে।
তালিকা করা
হয় জেলার
বড় বড়
খেলাফত নেতাকে
গ্রেফতার করার
জন্য। ব্রিটিশ
কর্তৃপক্ষের এ
সিদ্ধান্ত কতটা
প্রাণঘাতী ছিল
পরবর্তী ঘটনাই
তা প্রমাণ
করে।
অভিযানের দিনক্ষণ
কিংবা তালিকা
যদিও গোপন
রাখা হয়েছিল,
তবু সেটা
কোনোভাবে প্রকাশ
পেয়ে যায়
কংগ্রেস নেতাদের
কাছে। কংগ্রেস
নেতাদের একজন
খেলাফত নেতাদের
অভিযানের ব্যাপারে
সতর্ক থাকতে
বলে নিজ
বাড়ি বা
কর্মস্থল থেকে
সরে পড়তে
বলেন। বিশেষ
করে স্থানীয়
খেলাফত কমিটির
প্রধান আলী
মুসলিয়ার এবং
আরো কয়েকজন
শীর্ষ নেতা।
মুশকিল হলো
গ্রেফতারের জন্য
তালিকাভুক্ত ২৯
জনের কেউই
পুকোত্তুর গ্রামের
সে ঘটনার
সঙ্গে জড়িত
ছিল না।
তাদের গ্রেফতারের
সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছিল শুধু
ইংরেজের শক্তি
প্রদর্শনের জন্য।
২০ আগস্ট
১৯২১ ভোররাতে
তিরুরানগাদি শহরের
ঐতিহ্যবাহী মামবুরাম
মসজিদে ফজরের
নামাজ পড়ার
জন্য যেসব
মুসল্লি গিয়েছিল,
তারা দেখল
মসজিদ ঘিরে
রেখেছে পুলিশ
ও সামরিক
বাহিনী। ভেতরে
বুটজুতা পরে
ঘোরাফেরা করছে
পুলিশ কর্তারা।
মসজিদের পাশেই
খেলাফতের দপ্তর।
সেদিন ওই
মসজিদেই অবস্থান
করার কথা
ছিল আলী
মুসলিয়ারসহ আরো
কয়েকজন নেতার।
কিন্তু তারা
খবর পেয়ে
আগেই সরে
পড়ার কারণে
কাউকে আটক
করতে পারেনি
পুলিশ ও
সেনাবাহিনী। কিন্তু
বুটজুতা নিয়ে
পুলিশ মসজিদে
ঢুকে জিনিসপত্র
তছনছ করেছে,
পবিত্র ধর্মের
অবমাননা করেছে
এটা মাপিলাদের
মনে তীব্র
প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি
করে। চারপাশের
গ্রামে ছড়িয়ে
যায় ব্রিটিশ
পুলিশ মসজিদ
আক্রমণ করে
গুঁড়িয়ে দিয়েছে,
পুড়িয়ে দিয়েছে
ইত্যাদি নানা
গুজব। শোনার
পর হাজার
হাজার মানুষ
দেশীয় অস্ত্রে
সজ্জিত হয়ে
ছুটে আসে
মসজিদের দিকে।
পুলিশ জনতার
ওপর গুলিবর্ষণ
করে, তবু
তাদের দমন
করা সম্ভব
হয় না।
পুলিশ মিলিটারির
সঙ্গে সরাসরি
সংঘর্ষ শুরু
হয়। দাঙ্গা
ছড়িয়ে পড়ে
আশপাশের অঞ্চলে।
অবস্থা এত
খারাপের দিকে
চলে যায়
যে বিদ্রোহীরা
থানা, সরকারি
কোষাগার ইত্যাদি
আক্রমণ করে
দখল করে
নেয়। কেউ
কেউ বিচারালয়ে
প্রবেশ করে
হাকিমের চেয়ারে
বসে পড়ে
এবং স্বরাজ
ঘোষণা করে।
শিগগির এ
বিদ্রোহ ছড়িয়ে
পড়ে আশপাশের
জেলা মালাপপুরাম,
মানজেরি, পেরিনথালমান্না,
পানডিকাড ও
তিরুরে। বলা
যায়, ২৮
আগস্টের মধ্যে
ওইসব এলাকায়
ব্রিটিশ শাসনের
অবসান ঘটে
যায়। বিদ্রোহীরা
এরানাদ ও
ভাল্লুভানাদ জেলাকে
নিজেদের স্বাধীন
রাজ্য হিসেবে
ঘোষণা করে।
ক’দিন
পরেই গুর্খা
সৈন্যদের আমদানি
করা হয়
বিদ্রোহ দমন
করার জন্য।
কিন্তু কিছুতে
কিছু হয়
না। দাবানলের
মতো সহিংসতা
ছড়িয়ে পড়ে
সমগ্র মালাবার
অঞ্চলে।
প্রথম দিকে বিদ্রোহীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল ব্রিটিশ সরকার ও তাদের তাঁবেদার জমিদার শ্রেণী। কিন্তু ব্রিটিশরা টিকতে না পেরে বিদ্রোহ দমনের জন্য সামরিক আইন জারি করে এবং হিন্দু সম্প্রদায় থেকে কিছু লোক নিয়োগ করে বিদ্রোহীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার জন্য। এ পর্যায়ে মাপিলা বিদ্রোহীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হিন্দুদের প্রতি। তারা হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করে। তাদের মন্দির ভাঙচুর করে, হিন্দু এলাকায় ধ্বংসলীলা চালায়, কোথাও কোথাও জোর করে ধর্মান্তরিত করানো, নারী নিগ্রহের অভিযোগও পাওয়া যায়। হিন্দুদের ওপর মোপলা বিদ্রোহীদের এমন হামলা-সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন বিআর আম্বেদকর ও অ্যানি বেসান্ত।
কয়েক মাসের
জন্য ব্রিটিশ
সরকার ও
আইন অকার্যকর
হয়ে পড়েছিল
সমগ্র মালাবার
অঞ্চলে। ঐতিহাসিকদের
মতে, বিদ্রোহের
ব্যাপকতা এত
বেশি ছিল
যে ২৮
আগস্টের মধ্যে
মালাপ্পুরাম, তিরুরঙ্গাডি,
সাজেরি ও
পেরিনথালমান্নায় ব্রিটিশ
শাসন পুরোপুরি
ভেঙে পড়ে।
ইতিহাসবিদ রোলান্ড
মিলারের মতে,
মূল শহরগুলোয়
ব্রিটিশের নিয়ন্ত্রণ
থাকলেও মালাবারের
গ্রামীণ এলাকা
সম্পূর্ণভাবে মোপলা
বিদ্রোহীদের হাতে
চলে যায়।
তিন মাস
ধরে মোপলা
বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণেই
ছিল মালাবার।
২২০টি উপজেলার
১০ লাখের
বেশি মানুষ
মোপলা বিদ্রোহে
অংশ নিয়েছিল।
সারা দেশে
প্রবল প্রতিক্রিয়া
হয়। কংগ্রেসের
পক্ষ থেকে
সহিংসতার জন্য
দুই পক্ষকে
দায়ী করা
হয়। কংগ্রেস
বিশেষত মহাত্মা
গান্ধী দুই
পক্ষের কাছে
গ্রহণযোগ্য একটা
অবস্থানে থাকার
চেষ্টা করেন।
ভয়াবহ সেই
গণবিদ্রোহের আগুনে
যখন সমগ্র
মালাবারে ব্রিটিশ
শাসনের ভিত
নড়ে গিয়েছিল,
তখন শুরুতে
ভারতীয় কংগ্রেস
একটা মাঝামাঝি
অবস্থান নিয়েছিল।
তারা সেপ্টেম্বরে
একটা বিবৃতিতে
মোপলাদের সহিংসতার
নিন্দা জানায়,
সেই সঙ্গে
ব্রিটিশ সরকারের
অত্যাচারকেও দায়ী
করে। মহাত্মা
গান্ধী আন্দোলনের
সহিংস রূপকে
মেনে নিতে
পারেননি। তিনি
মোপলা নেতাদের
অহিংস থাকতে
ব্যর্থ হওয়ার
কারণে দায়ী
করেন। তিনি
বলেন, ‘The Mussulmans must naturally
feel the shame and humiliation of the Moplah conduct about forcible conversions
and looting, and they must work away so silently and effectively that such
things might become impossible even on the part of the most fanatical among
them.’
আন্দোলনে উসকানি
দেয়ার অভিযোগে
খেলাফত নেতা
আলী মুসলিয়ার
ও কুঞ্জাহামেদ
হাজিসহ বেশ
কয়েকজন শীর্ষ
নেতাকে গ্রেফতার
করে মৃত্যুদণ্ড
দেয়া হয়।
আন্দামানে দ্বীপান্তর
করা হয়
কয়েক হাজার
খেলাফত কর্মীকে।
অবশেষে ১৯২২
সালে এসে
বহুবিধ সাঁড়াশি
অভিযান, নির্বিচার
হত্যা, গ্রেফতার
নির্যাতন চালিয়ে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আনতে সক্ষম
হয় ব্রিটিশ
সরকার। ততদিনে
অন্তত ১০
হাজার মানুষ
মারা গেছে
যাদের অধিকাংশই
মাপিলা। সরকারি
হিসাবে অবশ্য
২ হাজার
৩৩৭ জনের
কথা স্বীকার
করা হয়েছিল।
ঘটনার ৫০
বছর পর
১৯৭১ সালে
ভারতের কংগ্রেস
সরকার মালাবার
বিদ্রোহীদের মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে সম্মানিত
করেছিল। তাদের
জন্য নির্মিত
হয়েছিল স্মৃতিসৌধ।
সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর
লিখেছিলেন, ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে
জনতার স্বতঃস্ফূর্ত
অভ্যুত্থানের বৃহত্তম
প্রদর্শন। অন্যদিকে
ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ
বলেছিলেন, ভূস্বামীদের
শোষণের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর
হলো মোপলা
বিদ্রোহ। কিন্তু
শতবর্ষ পার
হওয়ার পরও
একটি বিতর্ক
রয়ে গেছে
মোপলা বিদ্রোহ
নিয়ে। মোপলা
বিদ্রোহ কি
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
ছিল নাকি
মুসলমানদের স্বরাজ
প্রতিষ্ঠার আন্দোলন?
প্রশ্নটির আপাতত
কোনো মীমাংসা
নেই। অতীতের
কংগ্রেস সরকারের
কাছে মোপলা
বিদ্রোহীরা মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে সম্মানিত
হলেও বর্তমান
বিজেপি সরকারের
চোখে নেহায়েত
সাম্প্রদায়িক শক্তি।
হারুন রশীদ: সভ্যতা ও ইতিহাস অনুসন্ধানী লেখক





