দুপুর গড়িয়ে আসছে। সূর্যের তেরচা আলোয় রোদেলা কুয়াশার ভেতর ফুটপাতে ঘন হয়ে জমেছে দরদালানের প্রলম্বিত ছায়া। নিকারাগুয়ার লেয়ন শহরের তাবত্ পরিবেশ যেন লাঞ্চের পর ‘সিয়েস্তা’ বা ভাতঘুমে ঝিমাচ্ছে। আমি ওয়াকিং সু পরে ওয়াচ কোটের সঙ্গে ম্যাচ করা ব্যানডেনা কপালে বেঁধে স্ট্রিটে নামি। সিনোরিতা আদ্রিয়ানার দেয়া চিরকুটে রেখাচিত্র এঁকে স্ট্রিটের ঠিকানা পরিষ্কার করে লেখা। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায় লেয়ন শহরের একটি গেস্ট হাউজে— ‘ফিয়াসতা’ বা ডান্স, ডিনার ও পানীয়তে ভরপুর পার্টিতে। ‘হ্যাপি মোমেন্ট’ বলে পরিচিত এ সান্ধ্য পার্টিতে হিসপানিক মিউজিকের সুরে খানিকটা ডান্স করেছি আদ্রিয়ানার সাথে। ফিয়াসতা শেষ হওয়ার মুখে সে জানতে চায়— সিনিওর, তুমি শহরের স্ট্রিটে হেঁটে বেড়াতে ভালোবাসো? লেয়ন শহরে আমি নতুন এসেছি। আদ্রিয়ানার সাথে হেঁটে হেঁটে স্ট্রিটের দৃশ্যপট দেখা যাবে— বিষয়টি আমাকে এক্সাইটেড করে তুলে। তো আমার সম্মতি বুঝতে পেরে চিরকুটে সড়কের মানচিত্র এঁকে সে ক্যাথিড্রাল-দে-লেয়ন অব্দি আসার ডিরেকশন বাতলে দেয়।

সুতরাং ক্যাথিড্রাল-দে-লেয়নের সামনে হেঁটে আসতে আমার অসুবিধা কিছু হয় না। ডিরেকশনানুযায়ী ওখান থেকে আরেকটি গলির মোড়ের দিকে যেতে হয়। তা কয়েক কদম ওদিকে যাই। দেখি সাদামাটা একটি দালানের সামনে সিমেন্টের বাঁধানো ফুটপাতে সুদর্শন এক তরুণ পড়ে আছে সম্বিত হারিয়ে। সমস্ত সড়ক বেজায় নির্জন। ট্রাইভ্যাল নকশার রঙচঙে জ্যাকেট পরে কোঁকড়া চুলের মানুষটি পড়ে আছে পথে। দেখে মনে হয় না সে মৃত, সম্ভবত মাতাল কিংবা আক্রান্ত হয়েছে হূদরোগে।

দালানের সামনে পড়ে থাকা তরুণকে পেছনে ফেলে আমি জোর কদমে চলে আসি গলিটির শেষে।

এখান থেকে ক্যাথিড্রাল-দে-লেয়নের পেছনভাগ পরিষ্কার দেখা যায়। বেশকিছু পুরনো অট্টালিকাকে মনে হয় ঔপনিবেশিক যুগে নির্মিত ক্রিশ্চিয়ান সন্ন্যাসীদের আবাসিক মনাস্ট্রি। এখানেই তো সিনোরিতা আদ্রিয়ানার দাঁড়িয়ে থাকার কথা। কিন্তু তাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে আমি স্থাপত্যকলার শৈলী মনোযোগ দিয়ে নিরীক্ষণ করি।

খুঁটিয়ে দেখি চুনকামে কালচে নোনা ধরা পুরনো দিনের ইমারতগুলো। এদের নির্মাণশৈলীতে একাধিক গম্বুজ এবং বর্গাকৃতির দালানের চার কোণে মিনারেটের আদল স্পেনের আন্দালুসিয়ার মুর স্থাপত্যকলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একটু ঘোরাফেরা করতেই সিনোরিতা আদ্রিয়ানাকে পাওয়া যায়— দাঁড়িয়ে আছে সে গম্বুজময় দেয়ালের ছায়ায়। কাঁধ খোলা সিগ্রিন টপ পরে এসেছে সে। চুলেও কালার কোঅর্ডিনেট করে সমুদ্র-সবুজ বর্ণের রিবনের ফুল বাঁধা। তার দিকে যেতে যেতে মনে হয়, সে যেন মফস্বল থেকে নগরে বেড়াতে আসা লাজুক এক নারী; দাঁড়িয়ে আছে পুরাতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক ইমারতের সামনে, কিন্তু ভেতরে ঢোকার মতো সাবলীল হতে পারছে না। আমি কাছে আসতেই সে লাজুক ভঙ্গিতে গণ্ডদেশ বাড়িয়ে দিলে আমি তার কানের নিচে গ্রীবাতে চুমো খাই।

আমরা সৌজন্যমাফিক কথাবার্তা বলি একটু-আধটু। তার আচরণে কিসের যেন খামতি খেয়াল করি। কাল সন্ধ্যায় হ্যাপি মোমেন্টের পার্টিতে আমার প্রতি তার অন্তরঙ্গতা ছিল ঝলমলে আয়নার মতো। আমি যেন তাতে তার হূদয়ের পরিষ্কার ছায়া দেখতে পাচ্ছিলাম। আজ মনে হয়, আরশিতে চিড় ধরেছে কীভাবে। চোখমুখের দিকে তাকিয়ে কেমন জানি ঝাপসা মনে হয়। আমি তার মনের পরিষ্কার ছবি পাই না। বড়সড় একটি সবুজাভ ঝুড়ি সে ক্যারি করছে। চলো, তোমাকে নিয়ে একটু এক জায়গায় যাই, কিছু মনে করবে না তো?— বলে সামনে হাঁটতে হাঁটতে গ্রীবা বাঁকিয়ে সে আমার সম্মতির জন্য পেছন দিকে তাকালে তার অভিব্যক্তিকে দেখায় শিলাবৃষ্টিতে ডানা বিক্ষত হওয়া হাঁসের মতো।

স্পেল ইট আউট, বিষয় কী খুলে বলো, বি ফ্র্যাংক আদ্রিয়ানা— বলে আমি স্ট্রেইটকাট প্রশ্ন করলে সে দাঁড়িয়ে পড়ে বলে, আমাকে যে এখনই একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ঘণ্টাখানেকের জন্য যেতে হচ্ছে। তুমিও চলো। কোনো অসুবিধা হবে না। গির্জায় গিয়ে বসে থাকবে পেছন দিকের একটি বেঞ্চে। পারবে না?

আমি বিভ্রান্ত হই। তবে না পারার তো কিছু নেই। সে আমাকে অলিম্পিকের দৌড়ঝাঁপে অংশ নিতে বলছে না যে আমার অ্যাথলিটসুলভ যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে তার আমন্ত্রণে আউটিংয়ে এসে কার-না-কার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হাজির হব, আমি তো জানাজায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসিনি। আদ্রিয়ানার আচরণটি নজিরবিহীন। চার্চের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বেজায় সঙ্গিন বোধ করি।

গির্জার সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ফুলের আলগা স্তবক ও সাজিতে ছাওয়া একটি ঘোড়ার গাড়ি। কফিন অলরেডি নেয়া হয়েছে ভেতরের হলকক্ষে। আদ্রিয়ানা নতমুখে এন্টিরুমে ঢুকে ঝুড়ি থেকে বের করে কালো কেইপ-শাল। তা তার সমুদ্র-সবুজ রঙের টপের ওপর জড়িয়ে সে পরে নেয় কৃষ্ণকায় ঘন লেসে বোনা হ্যাট। সে আমার কপালে জড়ানো ফেটি খুলে নিয়ে ভাঁজ করে তা ঝুড়িতে রেখে ফিরোজা পাথর বসানো সিলভারের রেড ইন্ডিয়ান কেতার বলো-টাই টেনেটুনে অ্যাডজাস্ট করে দিতে দিতে বলে, তুমি তো দেখতে খানিকটা নিকারাগুয়েনসে পুরুষদের মতো, ওয়াচ কোট আর বলো-টাইতে তোমাকে ডিগনিফাইড দেখাচ্ছে। হলকক্ষে ঢুকে পেছন দিকে বসে থাকো। আমি অন্যদের সঙ্গে আলাদাভাবে বসছি।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিষয়টি আগে আমাকে জানাওনি কেন, বলে আমি অনুযোগ করলে সে বলে, আমি তো রেগুলার পত্রিকা পড়ি না, ঠিক জানতে পারিনি জ্যাজ মিউজিশিয়ান সিনিওর সিবাসতিয়ান জাপাতার যে হঠাত্ করে মৃত্যু হয়েছে দুইদিন আগে। আজ সকালের ট্যাবলয়েডে খবরটি দেখলাম। তোমার টেলিফোন নম্বর তো আমার কাছে নেই। জানাব কীভাবে? আর সত্যি কথা বলতে, আজকের আউটিং ক্যানসেল করতে চাচ্ছিলাম না, আসলেই তোমার সঙ্গে একটু স্ট্রিটে হাঁটতে চাই। সে এবার গ্রীবা বাঁকিয়ে জানতে চায়, পারবে না আমার জন্য গির্জার বেঞ্চে ঘণ্টাখানেক বসে থাকতে?

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রার্থনানুষ্ঠান শেষ হতেই আমরা গির্জা থেকে বেরিয়ে পড়ি। পেছনে পুষ্পিত অশ্বশকটে তোলা হচ্ছে সিনিওর সিবাসতিয়ান জাপাতার কফিন, কিন্তু আদ্রিয়ানা সমাপ্তি পর্বের জন্য অপেক্ষা না করেই অস্থিরভাবে বেরিয়ে পড়ে ফুটপাতে। আমরা কোনো কথাবার্তা না বলে হাঁটি। লেয়ন শহরের স্ট্রিট যেতে যেতে ইন্টারেস্টিং হয়ে ওঠে। এক জায়গায় দেখি, শিংঅলা মুখোশের দোকানের সামনে বসে এক বাদক মারিমবায় ঝংকার তুলছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে স্প্যানিশ গিটার বাজায় ছানি পড়া চোখের অন্য এক প্রৌঢ়। আমার আগ্রহে আদ্রিয়ানা ওখানে দাঁড়ায় একটু। তবে সে যেন কিছুতে স্বস্তি পাচ্ছে না, এমনভাবে আবার হাঁটতে শুরু করে। আমরা চলে আসি আরেকটি গলিতে, যেখানে ঘণ্টা আড়াই আগে আমি দালানের সামনের বাঁধানো চাতালে রঙচঙে জ্যাকেট পরা এক তরুণকে পড়ে থাকতে দেখেছিলাম। মানুষটি ওখানে আর নেই, ফুটপাতের লোকজন হয়তো তাকে তুলে পাঠিয়ে দিয়েছে হাসপাতালে।

গলির প্রান্তে বাদ্যবাজনা প্রবল হয়ে উঠলে আমার ঔত্সুক্য বাড়ে। ভেসে আসা ড্রাম বিটস রক্তে রীতিমতো ঊর্মি তুলে। মাথায় বর্ণাঢ্য ক্রাউন পরা নৃত্যরতা এক সুস্তনী নারী হাসিমুখে শোভাযাত্রায় লিড দিচ্ছে। তার পেছনে জংলা ছিটের সংক্ষিপ্ত স্কার্ট ও কাঁচুলি পরা মেয়েরা নাচছে লীলায়িত ভঙ্গিতে। তাদের কারো কারো বাহুতে জড়ানো বেগুনি রিবন উড়ছে বাতাসে। এদের গাত্রবর্ণ খয়েরি কিংবা কালো, তাদের নাচের ভঙ্গিও আমার অপরিচিত। শোভাযাত্রা দ্রুত ছন্দে আগ বাড়ে, তাই দুটি মেয়ের হাতে ধরা ব্যানারের লেখাটুকুও পড়তে পারি না। জানতে চাই, এরা নাচছে কেন? ‘ফিয়াসতা’ বা পরবটা কিসের?

আমার কৌতূহলের জবাবে নীরব থাকে আদ্রিয়ানা। সে অন্যমনস্কভাবে সামনে হেঁটে গেলে তার আচরণে মনে হয়, সে যেন ক্রেডিট কার্ড বা জরুরি কিছু হারিয়েছে। তাই অস্বস্তিতে আছে, কিন্তু সংকোচবশত আমাকে সে কথা বলতে পারছে না।

আমরা চলে আসি একটি পার্কের পাশে। তিন চাকার সাইকেল— দেখতে তা অনেকটা বাচ্চাদের ট্রেনিং-হুইল লাগানো বাইকের মতো— চালিয়ে এসে আমাদের পাশে তা স্লো করে ‘বুয়েনাস তারদেস’ বা গুড আফটারনুন বললে আমি ত্রিচক্রযানের আরোহীর দিকে তাকিয়ে চমকে উঠি। পরনে তার ট্রাইভ্যাল নকশার রঙচঙে জ্যাকেট, ঘণ্টাতিনেক আগে তাকে ফুটপাতে মড়ার মতো পড়ে থাকতে দেখলাম না? এ লোক আবার চাঙ্গা হলো কখন? আর শৌখিন কেতার তিন চাকার এ সাইকেলইবা পেল কোথায়? ঢুলু ঢুলু চোখে আরোহী এসপানিওল ভাষায় জানতে চায়, ‘কিয়ারেস উনান বেভিদাস কালিয়ানতেস’ বা খানিকটা উষ্ণ পানীয় চান আপনারা?

এ প্রশ্নে বিভ্রান্ত লাগে। তপ্ত পানীয়ের প্রয়োজন পড়লে আমরা ক্যাফেতে ঢুকে হট কাকাওয়ের অর্ডার করতে পারি। এ বাবদে ত্রিচক্রযানের আরোহীর সঙ্গে বাতচিতের তো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার সঙ্গিনীর মতামত ভিন্ন। সে উষ্ণ পানীয়ের জন্য হাত বাড়ালে সাইকেল-আরোহী স্যাডেল ব্যাগ থেকে বের করে তার হাতে তুলে দেয় দুটি প্লাস্টিকের বোতল। আমি দাম দিতে গেলে আরোহী যে হাতাগজা মূল্য হাঁকে, তা মুদ্রার অংকে ভয়াবহ। আমার বিভ্রান্তি বাড়ছে দেখে আদ্রিয়ানা ফিসফিসিয়ে বলে, ‘লা কোসোসা’। বিষয়টি এবার আমার কাছে পরিষ্কার হয়। সে তার পার্স থেকে টাকা বের করতে গেলে আমি অনিচ্ছায় মূল্য পরিশোধ করতে যাই। দাম খুবই চড়া, তাই আদ্রিয়ানা আবার টাকা দিতে চাইলে আমি তাকে থামাই। এমনিতেই আমার কঞ্জুস হিসেবে নামডাক আছে, নিকারাগুয়ায় এসে এ খ্যাতি বৃদ্ধি করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মূল্য পরিশোধ হলে পর আমরা পার্কে এসে একটি বেঞ্চে বসি।

পার্কে লোকজন নেই তেমন। দূরের একটি বেঞ্চে লাঠির ডগায় পলিথিনের ব্যাগে একগুচ্ছ গোলাপি হাওয়া-মিঠাই নিয়ে বসে আছে কেবল একজন মানুষ। নিঃসঙ্গ লোকটি একা একা হাসছে। তাকে নিরিখ করে তাকিয়ে মনে হয়, সে যেন ভাসছে কল্পনার গোলাপি ফানুসে। এ মানুষকে নিয়ে ‘ওয়ে টু ইউটোপিয়া’ শিরোনামে কবিতা লিখতে ইচ্ছা হয়। এদিকে আদ্রিয়ানা বেশ খানিকটা ‘লা কোসোসা’ গিলে অশোভনভাবে হিক্কা তুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দেয় ক্যাপ খুলে অন্য বোতলটি। লা কোসোসা হচ্ছে শুকনা গুড় ও যবের নির্যাসকে গাঁজিয়ে তৈরি একধরনের মুনসাইন প্রকৃতির মদ। অত্যধিক অ্যালকোহল কনটেন্টের জন্য তার বিক্রিবাট্টা নিকারাগুয়ায় নিষিদ্ধ। আমি স্বভাবে মদ্যপায়ী না হলেও সঙ্গিনীর প্রতি স্রেফ সৌজন্যবশত একটু চাখি। সঙ্গে সঙ্গে এমন এক ধরনের উদ্দীপনা পাওয়া যায় যে মনে হয়, এখনই নেমে পড়ি সামাজিক আন্দোলনে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলে। বিকেলটা বরবাদ করে দেয়ার জন্য আদ্রিয়ানার প্রতি মন বিলা হয়ে ওঠে। ভাবি— কে এ সদ্য প্রয়াত জ্যাজ মিউজিশিয়ান সিনিওর সিবাসতিয়ান জাপাতা? কী সম্পর্ক ছিল আদ্রিয়ানার সাথে তার? নিকটজনের মৃত্যু হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হাজির হওয়ার সামাজিক প্রয়োজন আছে, আমি তা বুঝতে পারি; তবে সদ্য-মৃত মানুষটি সম্পর্কে আমাকে সে বিস্তারিত কিছু বলছে না কেন?

কৌতূহলী হয়ে আমি আদ্রিয়ানার দিকে তাকাই। বসে আছে সে নীরবে নতমুখী হয়ে। চুল থেকে রিবনের ফুল খুলে নিয়ে আদ্রিয়ানা তা হাতে জড়ালে ফায়ার ব্র্যান্ড ডিংকস-পায়ী এই নারীকে ঝড়ে পাপড়ি এলোমেলো হয়ে আসা ফুলের মতো খিন্ন দেখায়।