মরক্কোর ফাতিমার মৃত্যু ৮৮০ সালে আর নাইজেরিয়ার আমিনার মৃত্যু ১৬১০ সালে—৭৩০ বছর পর। দুটি নামই মুসলমানদের কাছে প্রিয়, কারণ আমিনা মহানবী (সা.)-এর জননী এবং ফাতিমা কন্যার নাম।

ফাতিমা আল-ফিহরি

আমাদের আলোচনার ফাতিমা আল-ফিহরির বাস মরক্কোয়, আমিনার জন্ম নাইজেরিয়ার জারিয়ায়। দুটো দেশই আফ্রিকায়—এ কালের হিসেবে দূরত্ব ৪ হাজার ৩৯৯ কিলোমিটার। হাজার বছর আগে দুই অঞ্চল পরস্পরের কাছে অজানাই ছিল। দুজনের কেউই নারীর ঐতিহ্যবাহী সাধারণ জীবন মেনে নেননি। একজন নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন প্রতিষ্ঠান গড়ায়, অন্যজনের আগ্রহ রাজত্ব সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য। তবে জনকল্যাণের প্রশ্নে দুজনই মনে করেছেন, এটাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। একজনের লক্ষ্য ছিল জ্ঞান বিতরণ, অন্যজনের রাজত্ব শক্তিশালী করা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো।

জন্মসূত্রে ফাতিমা সাধারণ পরিবারের মেয়ে, আমিনা রাজকন্যা। ফাতিমার জন্ম এখনকার তিউনিশিয়ার কাইরুয়ান শহরে ৮০০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে। পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তার। পুরো নাম ফাতিমা বিনতে মোহাম্মদ আল-ফিহরি আল-কুরাইশ। নাম থেকেই প্রতীয়মান তিনি কুরাইশ বংশোদ্ভূত। নবম শতকের শুরুতে কাইরুয়ান থেকে মরক্কোর ফেজ শহরে যখন বিপুলসংখ্যক মানুষের অভিবাসন ঘটে সে সময় ফাতিমার পরিবারও চলে আসে। পরিবারটি শুরুতে আর দশটা সাধারণ পরিবারের মতোই ছিল, কিন্তু মোহাম্মদ আল-ফিহরি তুলনামূলকভাবে কম সময়ে একজন দৃশ্যমান সফল বণিকে পরিণত হন এবং তার মৃত্যুর পর অগাধ সম্পদের উত্তরাধিকারী হন তার দুই কন্যা ফাতিমা ও মরিয়ম। ফাতিমার বিয়ে হয়েছিল কিন্তু বিয়ের অল্পদিনের মধ্যেই স্বামী এবং পিতার মৃত্যু হয়। দুই বোনই ইসলামিক আইন ফিকহ ও হাদিস নিয়ে পড়াশোনা করেন। দুজনই ফেজ শহরে দুটি মসজিদ নির্মাণ করেন। ফাতিমার মসজিদ আল কারাউইন এবং মরিয়মের মসজিদ আল-আন্দালুসিইন। সে সময় প্রতিবেশী দেশ ও অঞ্চল থেকে পূর্বদীক্ষিত ও নবদীক্ষিত মুসলমানরা স্থানীয় অমুসলমান শাসকের নিপীড়ন এড়াতে দলবেঁধে পালিয়ে চলে আসে এবং মরক্কোয় অভিবাসী হয়। বিশেষ করে ফেজ শহরে এত বিপুলসংখ্যক মুসলমানের প্রার্থনার পরিসর ছিল না, পাঠ করার মতো বইপত্র ছিল না এবং পড়ানোর মতো শিক্ষকেরও ঘাটতি ছিল।


ঐতিহাসিক ইবনে আবি যার বলেছেন, তিউনিশিয়ায় তার জন্মস্থান থেকে হিজরত করে আসা মুসলমানদের জন্য সে স্থানের নামেই ফাতিমা পিতৃসূত্রে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পদ দিয়ে আল কারাউইন মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু তাতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অন্য একটি মসজিদ ৮৪৫ সালে ক্রয় করে বাদশাহ ইয়াহিয়া ইবনে মুহাম্মদের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণ করান। এটি দ্বিগুণাকৃতির একটি স্থাপনা। ফাতিমা নিজে নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধান করেন। মরক্কোর ঐতিহাসিক আবদেলহাজি তাজি বলেছেন, এ মসজিদ নির্মাণে ১৮ বছর লেগেছে এবং পুরো সময় ফাতিমা রোজা রেখেছেন। মরিয়মের মসজিদটি নদীর তীরে মূলত আন্দালুসিয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্মিত। দশম শতাব্দীর শুরু থেকেই ফাতিমার মসজিদটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলমান এবং ইসলাম ধর্মে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রিয় পাঠ্যস্থান—বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে।

বিরুদ্ধবাদী কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ স্থাপনের কৃতিত্ব ফাতিমাকে দিতে নারাজ। তারা উদ্ধারকৃত একটি ফলকদৃষ্টে মসজিদের নির্মাতা হিসেবে আল ইদ্রিসের কথা বলে থাকেন। এটাও সত্য সে সময় ফেজের শাসক ছিলেন আল ইদ্রিস। সেকালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা উদ্বোধনের অনুষ্ঠান হতো কিনা বলা মুশকিল, হয়তো তার প্রতি সৌজন্য দেখিয়ে ফাতিমার মসজিদে তার নাম ফলক দেয়া হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ করা দরকার ইসলামী শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা ৯৭০ সালে। তারও ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে একজন মুসলমান নারী ফাতিমার হাতে পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন হয়। কালক্রমে এটি ২২ হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষম হয়ে ওঠে। ১৯১২ সালে মরক্কো ফরাসি দখলে চলে গেলে শাসকরা পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম সংকুচিত করে ফেলে। ১৯২২ সালে ছাত্র সংখ্যা হ্রাস পেয়ে ৩০০-তে নেমে আসে। ফরাসি প্রভাবমুক্ত হওয়ার পর ১৯৬৫ সালে এটি আধুনিক পাঠ্যসূচি অনুসারী একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্য—গ্লোবাল হেরিটেজ।


ইতালির প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব বলোনিয়া স্থাপিত হয় ১০৮৮ সালে আর ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১০৯০ সালে। আল কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে খালদুন (১৩৩২-১৩৯৫), ইবনে আল খাতিব, ইবনে হারাজিম, মুহাম্মদ আল ইদ্রিস (মৃত্যু ১১৬৬) প্রমুখ জগত্খ্যাত পণ্ডিত।

গণিত ও মহাকাশবিদ্যা পড়াশোনার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ফাতিমার বিশ্ববিদ্যালয় সমাদৃত হয়। এমনকি পোপ দ্বিতীয় সিলভেস্টারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এখনো পৃথিবীর বহু দুর্লভ পাণ্ডুলিপি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার ও আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের অনেক বিদ্বান, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক মরক্কোয় স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন।

ফেমিনিস্ট আমিনার প্রতিরক্ষা দেয়াল

নিজেদের ফেমিনিস্ট হিসেবে পরিচিত করতে যারা পছন্দ করেন তারা নারীবাদের চরম সাফল্য দেখতে পাশ্চাত্যের দিকে তাকান। বিভিন্ন ধরনের কূপমণ্ডূকতার কারণে আফ্রিকায় ও এশিয়ায় তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় না।

ষোড়শ শতাব্দীতে জারিয়ার রানী আমিনা টানা ৩৪ বছর অবিসংবাদী নেতৃত্ব প্রদান করেননি, আফ্রিকাকে এবং পৃথিবীকেই শিখিয়ে গেছেন কেমন করে নিজের রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে হয়—হাতে-কলমে যে সমরবিদ্যা তার অন্যতম শিক্ষক ছিলেন তিনি। নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশ জুড়ে প্রতিষ্ঠিত জাজ্জাও ছিল আমিনার রাজত্ব।

রানী আমিনাকে নিয়ে ওয়ার্দা আব্বাসের একটি রচনা ‘দ্য লিডারশিপ লিগাসি অব কুইন আমিনা অব জারিয়া’ এবং ওলুডাফেলা এডেবাওয়ালের ‘দ্য মার্ভেল অব কুইন আমিনা অব জারিয়া’ থেকে আমিনার বৃত্তান্ত অনুসৃত হলো।

আমিনার জন্ম ষোড়শ শতাব্দীর তিরিশের দশকে, মৃত্যু ১৬৬০ সালে। আফ্রিকার ইতিহাস লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ বেলোর ‘ইফাক-আল-মেসুর’-এর অংশবিশেষে প্রদত্ত আমিনার বৃত্তান্ত এ কালের ঐতিহাসিকরা সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি বলে মনে করেন।

ঐতিহাসিকদের মতে, যোদ্ধা রানী (ওয়ারিয়র কুইন) আমিনা সারাওনিয়া জাজ্জাওর জন্ম ১৫৩৩ সালে। তার মা বাকওয়া মাতামহের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, নিকাতাও তার বাবা। মা উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস, আমিনার মাতামহ জাজ্জাও নোহির তখন রাজা ছিলেন। রাজত্বের অধিপতি হওয়া ছাড়াও পারিবারিক ব্যবসায় তিনি রাজ্যের ‘সবচেয়ে ধনবান’ ব্যক্তি ছিলেন। তার ব্যবসায়িক পণ্যের মধ্যে ছিল চামড়ার তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, কাপড়, কোলা, লবণ, ধাতব পদার্থ ও ঘোড়া। ১৮০৪ সাল ওসমান ফোজিওর হাতে প্রতিষ্ঠিত সকোতো খিলাফত (এখনকার ক্যামেরুন, বুরকিনা ফাসো, নাইজার ও নাইজেরিয়া অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত) প্রতিষ্ঠার দুই শতাব্দীরও বেশি সময় আগে আমিনা নিজের দেশকে উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাজত্বে পরিণত করেছিলেন। শতবর্ষ আগে ওসমান ফোজিও এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম আনেন, অতিদ্রুত তার অনুসারী সবাই ধর্মান্তরিত হন এবং তারা ধর্মবিস্তারে প্রচারক হিসেবেও কাজ করেন। বাদশাহের নাতনি আমিনার নাম (মহানবীর মায়ের নামও আমিনা) এতই প্রচারিত হয় যে আরব ব্যবসায়ীরা এই মুসলমান নামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ব্যবসায়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জাজ্জাও নোহিরের জীবদ্দশায় তার পুত্রের তিন সন্তানের জন্ম হয়—আমিনা সবার বড়, তার ছোট বোন জারিয়া এবং সবচেয়ে ছোট ভাই কারামা। রাজা জাজ্জাও নোহির আমিনার সাহস এবং নেতৃত্বগুণে মুগ্ধ হয়ে শাসনকার্যে তাকে পাশে পাশে রাখেন। আমিনার তখন আগ্রহ অশ্বারোহী সৈনিক হওয়া। রাজার স্ত্রী মার্কা নাতনিকে তলোয়ার হাতে দেখে অবাক হলেও তার তরবারি ধরার কৌশল পেশাদার সৈনিকের মতো হওয়ায় মুগ্ধ হন। মাতামহের মৃত্যুর পর মা ‘বাকওয়া অব তুরুনকু’ জাজ্জাওর সিংহাসনে আসীন হলেন আর আমিনাকে ঘোষণা করা হলো মাগাইভা—উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস। তার কাছে ন্যস্ত হলো ৪০ জন নারী ক্রীতদাস। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশ কৃষিনির্ভরতা থেকে মুক্ত করে বাণিজ্যের সম্প্রসারণ করেন। ফলে তার প্রতিবেশী দেশগুলো যখন খেয়েপরে বেঁচে থেকে তৃপ্ত জাজ্জাও বাণিজ্যের লাভ দিয়ে দেশের ভৌত উন্নয়ন এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ করায় ব্যস্ত। মায়ের মৃত্যুর পর যোগ্যতা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতায় সিংহাসন তার প্রাপ্য হলেও অভিজাতরা চাইলেন আমিনার ভাই কারামা ক্ষমতাসীন হোক। তিনি মেনে নিলেন এবং ভাইকে সব ধরনের সহয়তা করতে প্রতিশ্রুতি দিলেন।

বাকওয়ার সময়ই রাজত্বের নাম জাজ্জাও বদলে রাজকন্যা জারিয়ার নামে রাখা হয়। তবে ইতিহাসের একটি অনালোকিত অধ্যায় হচ্ছে নিজের নামে যে দেশ পরিচিত, সেই দেশ থেকে রাজকন্যা জারিয়া পালিয়ে যান এবং তার পরবর্তী জীবন ঐতিহাসিকদের অজানা। এটা কি ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত কিনা তাও স্পষ্ট নয়। ১০ বছর রাজত্ব করার পর ভাই কারামার মৃত্যু হলে রাষ্ট্রের অভিজাত মুরব্বিরা আমিনাকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন এবং জারিয়ায় অশ্বারোহী বাহিনীর অন্যতম সেনাপতি হিসেবে তিনি আগেই তার কর্মদক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং সফল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে পারদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন।

রানী আমিনা রাজ্যশাসনে তার লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছেন দেশকে আর্থিকভাবে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে, বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য রাজত্বের বিস্তার ঘটাতে হবে, রাজত্বকে বাইরের শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং সামরিক বাহিনীর শিক্ষা বাড়াতে হবে ও সমরযন্ত্র আধুনিকায়ন করতে হবে। ঐতিহাসিক ম্যাকইভান লিখেছেন, স্রেফ ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে তার নিজের শহর থেকে উত্তরে কাওয়ারাফা এবং দক্ষিণে নিউপ পর্যন্ত জারিয়ার সীমান্ত বিস্তৃত করেন। পশ্চিম সুদানের মধ্য দিয়ে মিসর এবং উত্তরে মালি পর্যন্ত বাণিজ্যের প্রয়োজন বহুসংখ্যক রুট সৃষ্টি করেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক উভয় কারণে তিনি বিজিত সব শহর পুরু সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেন। এ দেয়াল প্রতিরক্ষার প্রশ্নেও বড় ভূমিকা রাখে। হয়তো চীনের প্রাচীরের প্রতিরক্ষা গুরুত্বের সংবাদ তার কাছে পৌঁছে থাকতে পারে। বর্তমান জারিয়ার ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা দেয়াল দুর্গ প্রাচীরের মতো এখনো দাঁড়িয়ে আছে, তা একদিকে যেমন প্রত্নকীর্তির স্বাক্ষর বহন করছে। স্মর্তব্য আমিনার দেয়াল কিন্তু পাথরের নয়, ইট-কংক্রিটের নয় দক্ষ কারিগরি হাতে তৈরি মাটির দেয়াল। তিনি নিজে দেয়াল নির্মাণের সময় উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিতেন। দেয়ালের আড়ালেই থাকত দুর্গ ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা। রণবিদ্যায় সাধারণ ও আণবিক বোমার যুগ শুরু হওয়ার আগে পুরো দেয়ালের আড়ালে সামরিক ঘাঁটিই ছিল গ্রহণযোগ্য বৈশ্বিক এক সামরিক কৌশল। তার নির্দেশনায়ই দেয়ালের মতোই সৈনিকদের উন্নতমানের সামরিক বর্ম দেয়া হয় ও মারাত্মক আক্রমণ প্রতিরক্ষায় সক্ষম করে তোলা হয়।

চির অবিবাহিত আমিনাকে নিয়ে পশ্চিমের লেখকরা কিছু রটনা করেছেন। তিনি বিজিত রাজ্যের সৈনিকের সঙ্গে দেহ সম্ভোগ করতেন এবং পরদিন ভোরের আগেই তাকে হত্যা করে প্রমাণ উধাও করে দিতেন।

৩৪ বছর নিরুপদ্রব রাজত্ব করার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি তার রাজত্বে দারিদ্র্য দূর করার উদ্যোগ নেন, তার উন্নয়ন প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তাকে নিয়ে লেখা হয়েছে ফ্যান্টাসি উপন্যাস কুইন অব জাজ্জুয়া; মালিকা: ওয়ারিয়র কুইন উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের মালিকাই মূলত আমিনা।

 

এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা