‘ঝাঁকে উড়ে আকাশ জুড়ে,
দেখতে কী সুন্দর!
জালালের জালালি কইতর!’
সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হযরত শাহ জালাল মুজাররাদ ইয়েমেনির মাজার এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ন্ত কবুতরের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে সত্তরের দশকের শেষের দিকে অপূর্ব এ গান রচনা করেছিলেন আবদুল হামিদ বয়াতি। ৩৬০ আউলিয়ার প্রধান হযরত শাহ জালালের নামানুসারে মানুষের মুখে মুখে এ বিশেষ প্রজাতির বুনো কবুতরের নাম হয়ে যায় জালালি কবুতর। তবে বৃহত্তর সিলেটের আঞ্চলিক উচ্চারণে সেটি ‘জালালি কইতর’ নামেই ব্যাপক পরিচিতি পায়।
ইতিহাস থেকে এ সাক্ষ্য পাওয়া যায় যে হযরত শাহ জালাল আউলিয়া মোটামুটি চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তার জন্মভূমি থেকে হিযরত করে ভারতবর্ষের দিল্লি হয়ে বাংলা মুলুকে আসেন। অবশ্য তার জন্মস্থান নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তথাপি তার নামের সঙ্গে ‘ইয়েমেনি’ উপাধিটি স্থায়ী হয়ে যায়। অর্থাৎ তিনি ইয়েমেন থেকে এসেছেন বলেই সাধারণের বিশ্বাস। যে সময়টাতে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন, তখন ছিল সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির রাজত্বকাল, আর দিল্লির আধ্যাত্মিক মসনদে তখন আসীন চিশতিয়া তরিকার প্রবাদপুরুষ সুলতানুল মাশায়েখ হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া। কোনো এক শুভক্ষণে এ দুই মহান ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎ ঘটে। এক্ষেত্রে একটি কাহিনী পাওয়া যায় এমন—হযরত শাহ জালাল যখন দিল্লিতে আসেন, তখন তিনি দিল্লির প্রভাবশালী কোনো কোনো ব্যক্তির বাধার সম্মুখীন হন। তারা তার আধ্যাত্মিক কামালিয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে। সে সময়ের পরিস্থিতিতে দিল্লিতে এটি সাধারণ একটি ব্যাপার ছিল। হযরত শাহ জালালের আগে সুফি জালালউদ্দিন তাবরেজিকেও দিল্লিতে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এখানে একটি বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন, জালালউদ্দিন তাবরেজি ও শাহ জালাল একই ব্যক্তি; আবার অনেকের মতে তারা আলাদা। খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়ার অন্যতম শিষ্য খাজা আমির হাসান সিজঝি সংকলিত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মালফুজাত (বাণী সংকলন) ‘ফাওয়ায়েদ আল ফাওয়াদ’-এর বয়ান মতে সুফি জালালউদ্দিন তাবরেজি মামলুক সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুিমশের সময়ে বাগদাদ থেকে দিল্লিতে আসেন। তিনি খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়ার আধ্যাত্মিক পূর্বসূরি খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির সমসাময়িক ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে তিনি যখন দিল্লিতে আসেন, তখন দিল্লির ‘শায়খুল ইসলাম’ ছিলেন নজমউদ্দিন ছুগরা। ইসলামী শাসনে প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে এ উপাধি দ্বারা সম্বোধন করা হয়। এ ধর্মীয় প্রধান আর সুফিদের মধ্যে নানাবিধ কারণে দ্বান্দ্বিক একটি সম্পর্ক ছিল। সাধারণত এর সূত্রপাত ধর্মীয় নেতাদের দিক থেকেই হতো। জালালউদ্দিন তাবরেজির সঙ্গে নজমউদ্দিন ছুগরার বেশ বড় বিরোধ বাধে, যে কারণে তিনি দিল্লি ত্যাগ করে প্রথমে বাদায়ুন, অতঃপর বাংলা মুলুকের পাণ্ডুয়ায় এসে আস্তানা তৈরি করেন। নিজামউদ্দিন আউলিয়ার আরেক শিষ্য রাজকুমার হরদেব ওরফে খাজা আহমদ আয়াজ রচিত ‘চেহেল রুযে’ কিতাবের বরাতে জানা যায়, খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির সঙ্গেও নজমউদ্দিন ছুগরার ঝামেলা লেগেছিল। ছুগরা খাজা কুতুবউদ্দিনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তার অভিযোগ এই ছিল যে, তিনি প্রধান ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও কেন লোকেরা তার কাছে না এসে খাজা কুতুবউদ্দিনের কাছে যায়! তিনি খাজা সাহেবকেও দিল্লি থেকে নির্বাসিত করতে চেয়েছিলেন। তবে আপামর জনসাধারণের মাঝে খাজাজির ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। অবশ্য সুফি জালালউদ্দিন তাবরেজিও চাইলে দিল্লিতে থেকে যেতে পারতেন। কেননা তার বিরুদ্ধে শায়খুল ইসলামের উত্থাপিত সব অভিযোগ তিনি যথাযথভাবে খণ্ডন করেছিলেন। তথাপি তিনি নিজেই আর দিল্লিতে থাকাটা পছন্দ করেননি। এ ব্যাপারে তার বিখ্যাত একটি উক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে আমি সোনা হিসেবে এসেছিলাম, এখানে আমাকে রুপায় পর্যবসিত করা হলো; আরো যদি আমি এখানে থাকি, তবে আমাকে তামায় পরিণত করা হবে!’ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শায়খুল ইসলামের এসব ঝামেলা নিজামউদ্দিন আউলিয়াকেও পোহাতে হয়েছিল। হাল আমলেও ধর্মীয় আলেম ও সুফি সাধকদের মধ্যে নানামুখী বিচিত্র দ্বন্দ্বের নমুনা দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় হযরত শাহ জালালকেও অনুরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ইতিহাস ও লোককথা থেকে জানা যায়, শাহ জালালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা কথা খাজা নিজামউদ্দিনের কানে গেলে তিনি বিরোধিতাকারীদের তিরস্কার করেন। তিনি শাহ জালালের আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার স্বীকৃতি দেন। ফার্সিতে একটি কথা আছে, ‘ওয়ালি রা ওয়ালি শানাসাদ’, অর্থাৎ একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিই আরেকজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিকে চিনতে পারেন। কিংবদন্তি আছে, খাজা নিজামউদ্দিন শাহ জালালকে আতিথেয়তা প্রদান করেন এবং সেখান থেকে বাংলায় আসার সময় তিনি তাকে প্রীতি নিদর্শনস্বরূপ এক জোড়া কবুতর দেন। খাজা নিজামউদ্দিন প্রদত্ত সেই কবুতর জোড়াই হলো জালালি কবুতরের পূর্বসূরি। নিজামউদ্দিন আউলিয়া যে বিভিন্ন জনকে কবুতর উপহার দিতেন, এর প্রমাণ ‘সিয়ার আল আউলিয়া’সহ (নিজামউদ্দিন আউলিয়ার শিষ্য হযরত আমির হাসান খুর্দ রচিত চিশতিয়া তরিকার শায়খদের জীবনী গ্রন্থ) বিভিন্ন কিতাবে এসেছে। বাংলা অঞ্চলে চিশতিয়া নিজামিয়া তরিকার প্রথম প্রচার ও প্রসার হয় নিজামউদ্দিন আউলিয়ার আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি হযরত খাজা আখি সিরাজউদ্দিন উসমানের মাধ্যমে। পশ্চিমবঙ্গের মালদহের সাদুল্লাপুর গ্রামে তার পুণ্যময় মাজার অবস্থিত। দিল্লি থেকে বাংলায় আসার সময় আপন পীরের দরগাহ থেকে তিনি কিছু কবুতর নিয়ে আসেন। তার নামানুসারে এ কবুতরগুলো পরিচিত হয় ‘সিরাজি’ কবুতর নামে। এ সিরাজি কবুতর আর জালালি কবুতর নিয়ে বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রামসহ সমগ্র বাংলায় নানা ধরনের গান ও লোককাহিনী প্রচলিত আছে। ইতিহাস ও কিংবদন্তির এসব বয়ান আমলে নিলে দেখা যায়, সুফি জালালউদ্দিন তাবরেজি ও শাহ জালাল ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন। একই নামের এসব আদি সুফিকে নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবসময়ই একটা ধোঁয়াশা কাজ করে। শাহ বদর আউলিয়া এ রকম প্রকৃষ্ট একটি উদাহরণ। বৃহত্তর বাংলা, আরাকান অঞ্চলসহ বহু স্থানে শাহ বদরের মাজার, পীর বদরের মোকাম, বদরের টিলা এসবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সব স্থানের এসব শাহ বদর একই নাকি ভিন্ন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। যা-ই হোক, শাহ জালাল আউলিয়ার বাংলায় আগমনের সময় মোটামুটি চতুর্দশ শতাব্দীতে ধরলে তখন থেকে এ পর্যন্ত মোটামুটি ৭০০ বছর ধরে এ জালালি কবুতর বাংলার জনজীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
জালালি কবুতর নিয়ে বাংলার লোকসমাজে বেশকিছু মিথ প্রচলিত আছে। বলা হয়, হযরত শাহ জালালের শিষ্যদের মধ্যে এ কবুতর পবিত্র হিসেবে বিবেচিত হতো। তারা এ কবুতরগুলো কখনো খেত না। তাদের কোনো ধরনের আঘাতও করত না। তবে শাহ জালালের ভাগ্নে শাহ পরান নিয়মিত একটি করে কবুতর জবাই করে খেয়ে ফেলতেন। তিনি যেহেতু পীর সাহেবের ভাগ্নে, তাই ভক্তরা তাকে কিছু বলতে সাহস পেত না। এভাবে কবুতরের সংখ্যা অনেক কমে গেলে তা শাহ জালালের নজরে আসে। তখন তিনি ভক্তদের ডেকে এর কারণ জানতে চান। ভক্তরা তখন তাকে সব ব্যাখ্যা করে। শাহ জালাল শাহ পরানকে ডেকে নিয়ে তিরস্কার করেন। উত্তরে শাহ পরান এক কেরামতি প্রদর্শন করেন। তিনি যে কবুতরগুলো খেতেন, সেগুলোর পাখা জমিয়ে রাখতেন। তিনি সেই পাখাগুলো জড়ো করে আকাশের দিকে ছুড়ে দিলে সেগুলো কবুতর হয়ে উড়ে চলে যায়। এটি ছিল শাহপরানের আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার এক নিদর্শন। তখন শাহ জালাল তাকে সেখান থেকে অন্যত্র চলে যেতে বলেন এবং নিজের দরবার খুলতে বলেন। এ লোককাহিনীকে কেন্দ্র করে বয়াতি লতিফ সরকার চমত্কার একটি লোকগীতি রচনা করেন—
‘শাহ
পরান আউলিয়া,
জালালী কইতর
খাইয়া,
জিন্দা করিয়া
দিল পাখা
উড়াইয়া।
শাহ জালাল
কয় শাহ
পরান কইতর
খাইলা ক্যান?
শাহ পরান
কয়, ওগো
মামা ফিরাইয়া
নেন।
যতগুলি পাখা
ছিল,
আকাশে উড়াইয়া
দিল,
জিন্দা হইয়া
ডাকে বাক
বাকুম কইয়া।
শাহ জালাল
কয়, শাহ
পরান এ
কি করিলা!
এত বড়
কেরামতি আমায়
দেখাইলা!’
এ গানের সুর বয়াতি সম্রাট আবুল সরকার রচিত ‘খাজা বাবা খাজা বাবা মারহাবা মারহাবা’ গানের সুরের অনুকরণে করা হয়েছে। অবশ্য লোকগানের ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক। একই সুরে শত শত, এমনকি হাজার হাজার গানও শোনা যায়। শাহপরানের এ কেরামতি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ‘মামার চাইতে ভাগ্নে গরম’ এমন একটি কথা বাংলায় প্রচলিত আছে। বাংলায় ছড়ানো সুফিবাদী মিথগুলোর মধ্যে ‘মামা-ভাগ্নে’ সম্পর্কটি বেশ আকর্ষণীয়। সুফি মামা ও ভাগ্নের মধ্যে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার এক ধরনের উত্তাপ এতে টের পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের অধিবাসীদের মঙ্গে এমনই একটি গল্প প্রচলিত আছে বার আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহবদর ও শাহমোহসেন আউলিয়া সম্পর্কে। বলা হয়, হযরত শাহবদর আরব দেশ থেকে বাংলায় আসার সময়ে তার ভাগ্নে শাহমোহসেন আউলিয়াও মামার সঙ্গে আসতে চান। শাহবদর এতে অস্বীকৃতি জানান। তখন শাহমোহসেন আউলিয়া আরেকটি পাথরে চড়ে মামার পিছু পিছু আসতে থাকেন। (উল্লেখ্য, কিংবদন্তি মতে শাহবদর ও শাহমোহসেন আউলিয়া পাথরে চড়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলায় আসেন। পানিতে পাথর ভাসাকে তাদের কারামাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের পুণ্য নিদর্শন হিসেবে এখনো চট্টগ্রাম শহরের বদরপাতি এলাকায় শাহবদরের মাজারে ও আনোয়ারা উপজেলার বটতলী গ্রামে অবস্থিত শাহমোহসেন আউলিয়ার মাজারে পাথর দুটি সংরক্ষিত আছে। এমনও বলা হয়, পাথরগুলো প্রতিনিয়িত একটু একটু করে ক্ষয় হচ্ছে। যেদিন সম্পূর্ণ পাথর ক্ষয় হয়ে যাবে, সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। যাত্রাপথে পেছন ফিরে ভাগ্নেকে দেখতে পেয়ে শাহবদর ক্ষিপ্ত হয়ে তার দিকে ছুরি ছুড়ে মারেন। মোহসেন আউলিয়া তখন আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বলে সেই ছুরিকে ইশারা করলে সেটি মাছ হয়ে সমুদ্রের নিচে চলে যায়। ছুরি আকৃতির এ মাছ চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষায় ছুরি মাছ নামে পরিচিত।
জালালি কবুতর আর সিরাজি কবুতর নিয়ে জনসমাজে কিছু বিশ্বাস প্রচলিত আছে। আধ্যাত্মিক সাধকদের পুণ্য স্মৃতির বাহক হিসেবে সাধারণ জনগণ এদের ভক্তি করে। তারা এ কবুতরগুলো পালে, তবে এদের ডিম বা গোশত খায় না। এমনও অনেক নজির পাওয়া যায়, যারা কোনো ধরনের কবুতরের গোশতই খায় না। এ কবুতরগুলোর ওপর এক ধরনের অলৌকিকত্ব আরোপ করা হয়। তাই তাদের কোনো ক্ষতি করাকে লোকেরা নিজেদের অমঙ্গল ডেকে আনার শামিল মনে করে। কোনো কারণে কোনো আঘাতের মাধ্যমে এদের অঙ্গ হানি হলে তারা নিজেদের অঙ্গ হানি হওয়ার আশঙ্কা করে। আবার কেউ এদের মেরে ফেললে বা এদের জবাই করে খেয়ে ফেললে তারও ঠিক একইভাবে মৃত্যু বা বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা হবে বলে বিশ্বাস করে। বলা যায়, এ কবুতরগুলোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া চালু আছে বাংলার লোকসমাজে। বাংলায়, বিশেষত সিলেট ও চট্টগ্রামে শৈশব থেকেই অভিভাবকেরা সন্তানদের এসব কবুতরের পবিত্রতা ও অলৌকিকত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন।
সিলেটের হবিগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি গীতিকার ও গায়ক হেমাঙ্গ বিশ্বাসের বিখ্যাত একটি গানের শুরুতে এ জালালি কবুতরের উল্লেখ পাওয়া যায়। গানের প্রথম অংশ এ রকম—
‘হবিগঞ্জের
জালালী কইতর,
সুনামগঞ্জের কুড়া,
সুরমা নদীর
গাংচিল আমি,
শূন্যে দিলাম
উড়া।’
আশির দশকে আশরাফ উদাসের কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘আমার মন না চায় এ ঘর বাঁধিল কিশোরী, চলো না হই উদাসী’ গানে এ জালালি কবুতর চিত্রিত হয়েছে প্রেমের প্রতীক হিসেবে। কথাগুলো এমন—
‘বন্ধুরো বাড়ির জালালী কবুতর
আমারো বাড়ি আসে রে,
কত বুট মসুরী ছিটাইয়া খাওয়াইলাম,
খায় আর বাক বাকুম করে লো কিশোরী,
চলো না হয় উদাসী।’
এভাবেই বিভিন্ন গান ও লোককাহিনীতে পাওয়া যায় হযরত শাহ জালাল মুজাররাদ ইয়েমেনির স্মৃতিবিজড়িত জালালি কবুতরের বিচিত্র উপস্থাপন।
নিজাম আশ শামস: লেখক ও অনুবাদক





