মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ২৮১ রানে হারের পর হ্যামিল্টন টেস্টে লড়াই জমিয়ে তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিন কিউইদের ২৬৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়ে এক উইকেট তুলে নেয় অতিথিরা। আজ শুক্রবার চতুর্থ দিন জিততে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২২৭ রান, প্রোটিয়াদের লাগতো ৯ উইকেট। যদিও তারুণ্যনির্ভর দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিততে দিলেন না কিউই ব্যাটিং মায়েস্ত্রো কেন উইলিয়ামসন। তার হার না মানা সেঞ্চুরি ও উইল ইয়াংয়ের হার না মানা ফিফটি নিউজিল্যান্ডকে এনে দেয় ৭ উইকেটের আয়েশী জয়।

 

এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন উইলিয়ামসন। যথাক্রমে ১১৮ ও ১০৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে বড় জয় এনে দেন তিনি। হ্যামিল্টনেও হাসল তার ব্যাট। প্রথম ইনিংসে ৪৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেললেন তিনি। ২৬০ বলের ইনিংসটা তিনি সাজিয়েছেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কায়। ইয়াংকে নিয়ে ৪৭.৫ ওভারে ১৫২ রানের জুটি গড়েছেন তিনি।

 

আজ সকালে সর্বশেষ রাচিন বরীন্দ্রকে শিকার করেন ডেন পিট। এরপর স্বাগতিক দলের আর কোনো উইকেটের পতন ঘটানো যায়নি। উইলিয়ামসন ও ইয়াংয়ের জমাট উইকেট জুটিতে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন নেইল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন দলটি। প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে মোট ছয়জন খেলোয়াড়ের অভিষেক ঘটে।

 

টানা দুই ম্যাচ জিতে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে শীর্ষে উঠে গেল নিউজিল্যান্ড। ৪ ম্যাচের ৩টি জয় ও ১টি ড্র নিয়ে ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করেছে কিউইরা। ১০ ম্যাচে ৬ জয়, ৩ হার ও ১ ড্র করা অস্ট্রেলিয়া ৫৫ শতাংশ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের দুইয়ে। এরপরই ভারত (৫২.৭৭%) ও বাংলাদেশ (৫০.০০%)।

 

 

প্রথম ইনিংসে ২৪২ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকা কিউইদের ২১১ রানে অলআউট করে দেয়। এরপর অতিথিরা দ্বিতীয় ইনিংসে নাটকীয়তার পর ২৩৫ রান করতে সমর্থ হয়। তাতে নিউজিল্যান্ড পায় ২৬৭ রানের টার্গেট। যদিও উইলিয়ামসনের মতো আয়রনম্যান ছিলেন বলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া হলো না প্রোটিয়াদের।

 

অভিষেক টেস্টেই দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী পেসম্যান উইলিয়াম ও’রুর্কি, আর ৪০৩ রান করে সিরিজসেরা খেলোয়াড় উইলিয়ামসন।   

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৪২ ও ২৩৫। নিউজিল্যান্ড: ২১১ ও ২৬৯/৩ (উইলিয়ামসন ১৩৩*, ইয়াং ৬০*; ডেন পিট ৩/৯৩)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: উইলিয়াম ও’রুর্কি (নিউজিল্যান্ড)। সিরিজসেরা: কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।