পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে শেষ ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৭ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২৩৬ রানের বিশাল লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা অতিথিদের ফলো-অন না করিয়ে নিজেরাই আবার ব্যাটিংয়ে নেমেছে।

 

মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলীর লড়াইয়ে দুশ পার হতে পেরেছে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে ১৭২ বল খেলে ৭০ রান যোগ করেন এ দুজন। তাদের দৃঢ়তায়ই সকালের প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট নিতে পারেনি প্রোটিয়ারা। যদিও পরের এক ঘণ্টায় দারুণ সফলতা পায় ডিন এলগারের দল। এ সময় তারা তুলে নেয় মুশফিক ও ইয়াসির দুজনকেই। এরপর হুড়মুড় করে ভেঙে পরে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯২/৫ থেকে দেখতে না দেখতেই স্কোরটা হয়ে যায় ২১৭/১০।

 

সম্মিলিত বোলিং পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে অলআউট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সাইমন হারমার ও উইয়ান মুলডার প্রত্যেকেই নেন তিনটি করে উইকেট এবং কেশব মহারাজ ও ডুয়ান অলিভিয়ার নেন দুটি করে। 

 

৫ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে আজ সকালে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে দুশর কাছাকাছি নিয়ে বিচ্ছিন্ন হন মুশফিক ও ইয়াসির। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ইয়াসিরকে নিজের করা ফিরতি বলে ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে পাঠান স্পিনার কেশব মহারাজ। আউট হওয়ার আগে ৮৭ বলে ৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৬ রান  করেন ইয়াসির।

 

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ১৮ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মুশফিক। দুর্দল একটি রিভার্স সুইপ খেলতে গয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন মুশফিক। তাকে বোল্ড করেন স্পিনার সাইমন হারমার। ১৩৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫১ রান করেন তিনি। এরপর বোর্ডে আর ৭ রান যোগ করে বাকি তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

 

সকালে মুশফিক ৩০ ও ইয়াসির ৮ রানে অপরাজিত থেকে ব্যাটিংয়ে নামেন। মুশফিক অনেকটা ধীরগতিতে এগোলেও ছুটছিলেন ইয়াসির। সকালে সিংহভাগ রানই তার ব্যাট থেকে এসেছে। ৭০ রানের জুটির মধ্যে মুশফিকের অবদান মাত্র ২১, আর ইয়াসিরের ৪৬!

এর আগে দ্বিতীয় দিন কেশব মহারাজের ৮৪, ডিন এলগারের ৭০, তেম্বা বাভুমার ৬৭ ও কিগান পিটারসেনের ৬৪ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান তুলে অলআউট হয় প্রোটিয়ারা। তাইজুল ইসলাম ১৩৫ রানে ৬টি উইকেট শিকার করেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার।