পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে দলে ৩৯ বছর বয়সী দানি আলভেসও রয়েছেন। আছেন ৩৭ বছর বয়সী থিয়াগো সিলভা। তবে কোচ তিতে দল ঘোষণার পর সবাই ভ্রু কুঁচকেছেন মূলত আলভেসকে নিয়ে। শুধু ব্রাজিলই নয়, সারা বিশ্বেই ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ পায়।

এ নিয়ে তিতের কাছে প্রশ্ন ছোড়া হয়। তিতে ছয় বছরের দায়িত্ব পালনকালে দল নির্বাচন নিয়ে কখনো সমালোচনার মুখে না পড়লেও এবার পড়েছেন। খুব আত্মবিশ্বাসী সুরে অবশ্য উত্তরটা তিনি দিতে পারেননি। খানিকটা অস্বস্তি নিয়ে বলেছেন, অন্য সবার ক্ষেত্রে যে মানদণ্ড ছিল, দানি আলভেসের বেলায়ও তাই। এটা তার স্কিল, ফিটনেস ও মানসিক দৃঢ়তার পুরস্কার বলতে পারেন। ঠিক অন্যদের ক্ষেত্রেও এমনই ছিল।

আলভেসকে নিয়ে বিদ্বেষ কিংবা ঈর্ষা আসতেই পারে। তাই বলে ৩৯ বছর বয়সী এই রাইট ব্যাকের বর্ণাঢ্য অতীত নিয়ে কারো প্রশ্ন থাকতে পারে না। বার্সেলোনায় দুই অধ্যায় ছাড়াও জুভেন্টাস, পিএসজি, সেভিয়া ও সাও পাওলোর মতো নামি ক্লাবের জার্সি গায়ে তুলেছেন তিনি। এক বার্সার হয়েই ছয়টি লিগ শিরোপা ও তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। পিএসজি ও জুভেন্টাসের হয়েও লিগ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আর ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ২০০৭ ও ২০১৯ সালে দুবার কোপা আমেরিকা শিরোপা জয় করেছেন আলভেস। আর সেলেসাওদের হয়ে ২০২০ সালে জিতেছেন অলিম্পিক ফুটবলের শিরোপা।

কিন্তু বর্তমান? শীর্ষ লিগের পাঠ চুকিয়ে তার ক্যারিয়ার এখন গোধূলিলগ্নে। এখন তিনি খেলেন মেক্সিকান লিগের ক্লাব উনামে। গত ২৩ জুলাই উনামের সঙ্গে এক বছরের জন্য তিনি চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু এ লিগে খেলে ব্রাজিল কোচকে আকৃষ্ট করা কঠিনই। তবু আলভেসকে তিনি বেছে নিয়েছেন। কারণটাও পরিষ্কার—রাইট ও লেফট ব্যাক পজিশনে ভালো মানের ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অভাব। আলভেসকে দলে নিয়ে তিতে ব্রাজিলের সেই দুর্বলতাই কি প্রকাশ্যে আনলেন?

বিশ্বকাপ ম্যাচের একাদশে তিতের হাতে সম্ভাব্য সেরা অপশন হলো রাইট ব্যাক পজিশনে দানিলো, যিনি জুভেন্টাসে খেলেন একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে ও লেফট ব্যাক পজিশনে অ্যালেক্স স্যান্দ্রো, চিরাচরিতভাবে একজন ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাকের যে অভিজ্ঞতা থাকে তার কমই আছে এ খেলোয়াড়টির মধ্যে।

দানিলো কিংবা স্যান্দ্রোর কেউই তাদের নিজেদের পজিশনে বিশ্বের অন্যতম সেরা নন, যেমনটি ছিলেন তাদের পূর্বসূরি কাফু, রবার্তো কার্লোস, মার্সেলো কিংবা ১০ বছর আগের আলভেস। আবার এ দুই ডিফেন্ডার ব্রাজিলের ভোগান্তির কারণ হননি কিংবা দলকে লজ্জায় ফেলেননি। দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সেলেসাওরা মাত্র পাঁচ গোল হজম করেছে। আলভেস ও অ্যালেক্স টেলেস খুব সম্ভবত কাতারে বেঞ্চেই অপেক্ষমাণ থাকবেন। এদিকে রাইট ব্যাক পজিশনে খেলার সামর্থ্য আছে এডের মিলিতাও, সেসঙ্গে মিডফিল্ডার ফাবিনহো লেফট ব্যাকে খেলতে পারেন।

ব্রাজিলের সাবেক লেফট ব্যাক ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার জুনিয়র তিতের পরিকল্পনা ও অপশন নিয়ে বলেন, তারা সবাই ঠিক আছে। তারা তো আর এমন খেলোয়াড় নয় যারা সব সময় সামনের সারিতে থাকবেন। তারা অপেক্ষাকৃত বেশি সাবধানি। এর চেয়ে সেরা পছন্দও তো আমি দেখি না।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রাইট ব্যাক পজিশনে যে-ই খেলুক না কেন, তাকে লড়াই করতে হবে ৩৮ বছর বয়সী থিয়াগো সিলভার সঙ্গে। অবশ্য খেলোয়াড়টি চেলসিতে সচরাচর যেমন ফর্মে থাকেন সম্প্রতি তেমনটি ছিলেন না। গত মাসে ব্রাইটনের কাছে ১-৪ গোলে হারের ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল ভয়াবহ। তবে সিলভার অভিজ্ঞতা কাতারে কাজে লাগাতে পারেন তিতে।