ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা পাকিস্তান দুই মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ সফরে এসে সিরিজ হেরে বসে, তা-ও টানা দুই ম্যাচ হেরে। অবশেষে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বরূপে ফিরল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ১৭৯ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়ে ৭৪ রানে জিতেছে পাকিস্তান। এর মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সমর্থ হয় সফরকারীরা।

একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনে বেঞ্চের শক্তি পরখ করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল বিশ্রাম দেয়া হয় ওপেনার প্রথম ম্যাচের নায়ক পারভেজ হোসেন ছাড়াও তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে। যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল খারাপই হলো। বড় হার দিয়ে সিরিজ শেষ হলো স্বাগতিকদের।

মিরপুর শেরেবাংলায় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ ছিল লো-স্কোরিং। গতকাল শেষ ম্যাচেই প্রথম দেখা মেলে বড় স্কোরের। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শোচনীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১০৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। একটি পর্যায়ে ২৫ রানে ৫ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়ে দেয়ার পর পাকিস্তানের বোলাররা বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে নাকাল বানান স্বাগতিকদের। পেসার সালমান মির্জা সুইং ও বৈচিত্র্যময় বোলিং দিয়ে স্বাগতিক ব্যাটারদের ভুগিয়েছেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মাদ নওয়াজ নেন ২টি করে উইকেট।

অষ্টম ওভারে ৪১ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পরই হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর ছিল মান বাঁচানোর লড়াই। ৮১ রানে নবম উইকেট পতনের পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের লড়াইয়ে একশ পেরোতে পেরেছে বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিন ৩৪ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে বাংলাদেশের বোলাররা লড়াই করে পাকিস্তানকে দুইশর নিচে আটকে রাখেন। ২০তম ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মাদ নওয়াজকে ও তৃতীয় বলে ফাহিম আশরাফকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়েছেন অভিজ্ঞ এ পেসার। এতে ২০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৮/৭।

পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৭ রান ও ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৮৬ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতিরোধের মুখে শেষ ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে ৯২ রান যোগ করতে পেরেছে অতিথিরা। পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান ৪১ বলে ৬৩, হাসান নওয়াজ ১৭ বলে ৩৩ ও মোহাম্মাদ নওয়াজ ১৬ বলে ২৭ রান করেন। তাসকিন ৩৮ রানে ৩টি, নাসুম ২২ রানে ২টি উইকেট নেন।

৪১ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৩ রান করা সাহিবজাদা ফারহান হয়েছেন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ এবং বাংলাদেশের জাকের আলী পেয়েছেন প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরস্কার।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘ছেলেরা ভালো ক্রিকেট খেলেছে, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ভালোই ছিল। আমরা তরুণদের সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম এবং ইতিবাচক মানসিকতা দেখতে পেয়েছি।’ সিরিজসেরা জাকের আলী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা দারুণ এক সিরিজ ছিল। ছেলেরা সত্যিই ভালো খেলেছে এবং আমি নিজের সেরা চেষ্টা করে গেছি।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭৮/৭ (ফারহান ৬৩, হাসান নওয়াজ ৩৩, মোহাম্মাদ নওয়াজ ২৭; তাসকিন ৩/৩৮, নাসুম ২/২২)। বাংলাদেশ: ১৬.৪ ওভারে ১০৪ (সাইফউদ্দিন ৩৫*, সালমান মির্জা ৩/১৯, মোহাম্মাদ নওয়াজ ২/৪, ফাহিম আশরাফ ২/১৩)। ফল: পাকিস্তান ৭৪ রানে জয়ী। সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান)। প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: জাকের আলী (বাংলাদেশ)।