বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর রাউন্ডে খুলনা টাইগার্সকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য খুলনার প্রয়োজন লাগে ১৬ রান। উইকেটে সেট ব্যাটার আন্দ্রে ফ্লেচার ও থিসারা পেরেরা থাকলেও মেহেদি হাসান মিরাজের ওভার থেকে ৯ রানের বেশি তুলতে সক্ষম হয়নি তারা।
চ্যাডউইক ওয়ালটনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথমে ব্যাট করা চট্টগ্রাম নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায়। জবাবে ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানে ইনিংস থামে খুলনা টাইগার্সের।
১৮৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার মাহেদি হাসান ২ ও ওয়ানডাউনে নামা সৌম্য সরকার ১ রানে সাজঘরে ফেরেন। তৃতীয় উইকেটে আন্দ্রে ফ্লেচার ও মুশফিকুর রহিমের ৬৪ রানের জুটি খুলনাকে ম্যাচে ধরে রাখে। ২৯ বলে ৪৩ রান করে আউট হন মুশফিক। চারটি ছক্কা ও একটি চারে সাজান ইনিংস। একপ্রান্ত আগলে রাখে ফ্লেচার তুলে নেন ফিফটি। ইয়াসির আলী রাব্বিকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান ক্যারিবিয়ান তারকা। ২৪ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইয়াসির। চারটি ছক্কা ও দুটি চারে সাজান ইনিংস। শেষ দুই ওভারে তারে লাগে ২৪ রান। কিন্তু পেরেরা-ফ্লেচার শেষ কাজটা করতে পারেননি। ৫৮ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন ফ্লেচার। চারটি ছক্কা ও ছয়টি চারের বাউন্ডারি ছিল ইংিসটিতে। চট্টগ্রামের হয়ে দুটি উইকেট নেন মিরাজ।
এর আাাগে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে চট্টগ্রামকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান খুলনার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো করতে পারেনি চট্টগ্রাম। দলীয় ১৬ রানের মধ্যেই ওপেনার জাকির হাসান ও অধিনায়ক আফিফ হোসেনকে হারায় তারা। এরপর চ্যাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে আরেক ওপেনার কেনার লুইস জুটি গড়েন। তবে ভালো খেলতে থাকা লুইসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাবিল সামাদ। ৩২ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৯ রান করেন লুইস।
এর পর ব্যক্তিগত ১০ রানে ফেরেন শামীম হোসেন। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫৮ বলে ১১৫ রানের ঝড়ো পার্টনারশিপ গড়েন ওয়ালটন-মিরাজ। শেষ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ খালেদ আহমেদের বলে বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। তিনি ৩০ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৬ করেন। অপরদিকে একপাশ আগলে রাখা ওয়ালটন ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এই ক্যারিবিয়ান ৪৪ বলে সাতটি চার ও সমান ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান। খুলনা বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট পান খালেদ।
পরের ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশালের ম্যাচে যে দল হারবে তাদের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সেখানে জিততে পারলে তবে ফাইনালে ওঠা যাবে।










